home বই পরিচিতি ‘পৃথিবী একটা নীল বয়াম’ বই থেকে কবিতা ।। মেহেদী হাসান তন্ময়

‘পৃথিবী একটা নীল বয়াম’ বই থেকে কবিতা ।। মেহেদী হাসান তন্ময়

বই: পৃথিবী একটা নীল বয়াম
প্রকাশক: বেহুলা বাংলা
প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি, ২০১৭
প্রচ্ছদশিল্পী: দেওয়ান আতিকুর রহমান

আঙুরক্ষেত
 
মাথার ভেতরে, যেখানে বোধের বিভাস
সারি সারি নিতম্ব দোকান, স্তনের খাঁজ
চেপে বাঁকা চাঁদ! ভাষার
বিভ্রান্তে আঁকছে বিপরীত ছবি
যেন জীবনের কাছে
গড়িয়ে যে ঝরনা
কাম ও কাতরতার কথা বলে—
 
মুহূর্তের রোলকল ভোলে দিবানিশি।
 
অথচ সবার অলক্ষ্যে, চিন্তায় খেলে যে—
মগজের মেঝেতে অন্ত্যমিলের পাপ।
গোপন সংগীতেও তবু
প্রেমিকার মুখ রেখে যায় গোপন।
 
একি পরাবাস্তব শৈলী— দেখাচ্ছ হে তরুণী
অথচ বিপুল তারায় উজ্জ্বল, ছেঁয়ে গেছে আঙুরক্ষেত।
 
 
মা
 
আমি এক তালাবদ্ধ বাক্স; যার চাবি আমি ফেলে এসেছি তোমার গোপনে। তবে এসো, পান করি মাতাল তরঙ্গ। যেখানে সন্ধ্যায় ওঠে কোমল সূর্য; আর আমরা জেগে উঠি অভুক্ত হাঙরের মতো। গোলাপকাননের নিচে, ডেকে আনি চাঁদ— কাঁটাওয়ালা ফুলের আঘাতে উড়ে যায় ঘ্রাণ!
 
এভাবে চাঁদের উদ্যানে ঢুকে পড়ে যে নদী, তার একশ প্রতিচ্ছবি— তুমি নিশ্চয়ই সেই বাক্সের ভেতরে বন্দি! চেয়ে আছ অথচ, ঘুম ব্যতীত কোনোদিন যাইনি যেখানে; তবু এসো, চেতনার ভেতরে পান করি বেদনার শিকড়, যেন গাছ হয়ে ক্রমশ ছুঁয়ে ফেলি আসমান আর শাখা দুলিয়ে সাতরঙা ঘুড়ির মতন ওড়াই হাওয়ার স্পন্দন; আজ এমন বর্ষণে শহরের আর কোনোখানে যাওয়া হলো না বুঝি!
 
 
চিৎকার
(পাওলো কোয়েলহো)
 
চিৎকারের উচ্চতায় চাপা আমাদের শহর, প্রভাতের নীল আকাশ আমাদের অন্তর্গত, উপর করা রুটির মতন ফুলে আছে। ক্রমশ ছড়িয়ে উত্তাপ, অন্ধকার দানব এসে খেয়ে ফেলবে তাকে। যখন আমরা সীমান্ত পার হতে হতে মরূদ্যানে যাই চলে, তখন হুড়মুড় করে অস্পষ্ট রাত ঢুকে আসে আমাদের জীবনে। দেখি— অন্ধ উচ্চতার নিচে ডুবে গেছে পৃথিবী। হাওয়া নেই কোনো; কেবল থই থই অস্বচ্ছ এক নীল বয়ামের ভেতরে বুঁদ হয়ে আছে প্রাণসকল।
 
পৃথিবী এক অন্ধ পাখি, যার দিকে গুলি ছুড়লে উভয়ের মাঝ বরাবর শূন্য চাঁদের দিকে ছুটে যায়। আর আমরা পরস্পরের চোখে তাকিয়ে, অন্ধ পৃথিবীর দিকে হাঁটতে থাকি।
এমন দৃশ্যে ঢুকে পড়ি কোনো এক রমণীর ভেতরে; দেখি— বিকেলের রোদে ছেঁয়ে গেছে গোটা সমুদ্র- কেবল
পরিচিত দৃশ্যের মতন ভেসে ওঠে কেমন বিমর্ষ তোমার মুখ!
 
এমন একটা দিন হাজার শতাব্দীর মতো
যখন টিকটিকি ও তেলাপোকা একই ছাদে শুয়ে
পড়তে থাকে পরস্পরকে। যে ভাষায় লেখা হয় সমস্ত কবিতা—
কবিতাই প্রথম বিজোড় পতিতা, আজীবন ভালোবাসা চেয়েও
খুঁজে পেল না হাত!
 
 
হাওয়ায় দুলে ওঠে পৃথিবী
 
তোমাকে বলতে গেলে, শিশুসুলভ সেলাই করে ঠোঁট; কাকভেজা চোখে চেয়ে থাকে ভোর! যেন প্রতিটি শব্দের গভীরে পৃথিবী দিয়েছে কপালে হাত। মোড়ে তখন ছড়ায় উত্তাপ, তখনি বোধ হয়— সুবাতাস, যেন চলে গেছে কবে!
 
চোখ মেলে দেখি, নিজের ভেতরে ভাঙাগড়া। এমন পিচ্ছিল কালভার্টে আহত হয়ে পড়ে, দেখি—বোকা চাঁদ; আহা! অচেতনে কবে করেছে অস্পষ্ট গ্রাস! টের পাইনি শুধু বুকে হাত রেখে, যেন এত গভীরে হয়েছে প্রয়াণ।
 
চলে গেছে বুঝি শূন্যের ভেতর ঘূর্ণি মেখে— কতটা অসীমে!
 
এমন সময়ে মেঘ মানে ভবিষ্যৎ প্রাক্তন। এমন নয় আমি— আকাশে উড়ছিলাম, যেখানে কেউ নেই বলে নিঃসঙ্গ ঘাসের মতো, হঠাৎ মাড়িয়ে গেলে, প্রার্থনার মতো নুয়ে পড়ি। চেয়ে থাকি আরো অসীমে! অনন্ত অন্ধকারে! তবুও বৃষ্টি এলে, মৃদুল সিম্ফনির মতো ভাঙা বাহু তুলে ঘুম থেকে জেগে উঠি, বলি—
হে বৃষ্টিচ্ছল হাওয়া, বামুনের মতো হাঁটতে হাঁটতে আমি কুঁজো হয়ে গেছি। লজ্জাবতী পাতার মতো তুমি লুকিয়ে থেকো না আর — শব্দের পোশাক খুলে ঢোকাও গোপন বাক্সে, যেন হাওয়ায় দুলে ওঠে পৃথিবীর মতন এক দুঃখের পাথর।
 
 
জুতা চুরি
 
জুতা চুরি করব বলে মন্দিরে যাই
আগের রাতে আমি মাস্টারপ্ল্যান সাজাই।
 
মন্দিরে যেতেই দেখি; উলুধ্বনি, শঙ্খ বাজে
ওড়ে ধোঁয়া। হায়! হায়!
মন্দিরে যাই
একজোড়া জুতা চুরি করব ভেবে
পায়ের সাথে পা মেলাব বলে মন্দিরে যাই।
 
অথচ দেবী তোমার পায়ে কোনো জুতা নাই!
 
 
নিহত পিতার স্মৃতি
নৈরাশ্য রাত্রির নিচে, উন্মাদ পাথার
কখনো কয়লার গুঁড়ো হয়ে ছিটায় রক্তচক্ষু।
নদীদের ঝুলন্ত শার্ট, কখনো তমসার ঝড়ে
নেমে আসে হাভাতে। পায়ে পায়ে কৌতুক
বাতাসের রোদে হাসে, ছাইরঙা ঘর; হলুদ
পাতাবন। তবুও ত্বকের নিচে ত্রাস, যমজ
আত্মার ঘ্রাণে, সমূহ সাগরের ফুল; গহিনে
হাঙরের দাঁত! জেগে আছে প্রেম হতে সুদূরে
প্রবাসী। পরাশ্রয়ী মেঘ— টেবিলের নিচে ঝরা
কখনো পরশ্রীকাতর প্রেমিকার মতো খোলে
চরিত্র, কখনো মানুষের নয়, প্রার্থনা প্রেক্ষিত।
 
অভিনীত বাতাসে ঢঙে, ছড়ায় মায়াবতী ঘুম
প্রান্তরে অসীম ফাটল, দুটি পথ চলে গেছে দুইদিকে।
পাহাড় ও সমুদ্রের ভিড়ে, আমি এক আজন্ম পাথর
সেজে দাঁড়ায়েছি ভুলে, যে কোনো দিকে
মৃত্যু অথবা প্রেমের জন্ম হতে পারে।
 
চেয়ে আছি মাঝামাঝি জীবনে
 
নিহত পিতার স্মৃতি, দূরতম নক্ষত্রের জননী
পাহাড়ের ওপাশে বাড়ি, সকলি দুরূহ ঠেকে
প্রায়শই। মুখ ও মুখোশের ভেতরে
অন্তর্গত দেহ, বিনীত জঘমের ভেতরে— যুদ্ধ।
ক্লান্তক্লিষ্ট বিদায়ের চোখ, সহস্র পথের যাত্রা
যেন গেছে থেমে। হায় চোখ! অদেখা নারীর
নগ্নতা! সুডৌল যৌনঘর, পাশাপাশি অসহায় হয়ে
চলেছে মৃত্যুর ছুটিতে। যেন নিজের চোখ
দেয় ফাঁকি, এমন দুরূহ আসনে বসে; রাত্রি
ঘন কালো পোশাকের বোনের ভাষা, ক্ষুধায়
ব্যথার মোড়কে ফেলে গেছে নগরীর জনপদে।
 
প্রার্থিত পুরনো মদ, গ্লাসে গ্লাসে ঝিলিক
মেরে ওঠে। প্রথম জন্মের পরে
জীবন যেন যেতে চায় চলে, অতীতে
প্রজাপতি ও মাতৃকাননের নিচে, ছায়াঘন
পূর্বপুরুষের কঙ্কাল আমাকে ঘৃণা করুক
আমি চাই, বেদনারা ফুল হয়ে থাক ঘিরে।
 
জীবন, স্বপ্ন ও বন্ধ গলির চোখ
অসুখে বিমারে একাকী পোস্টারে, রাত্রির দেয়াল
ঝুলতে ঝুলতে যাবে সে ছিঁড়ে, একা মাছরাঙা
চুপিচুপি খুলে ফেলবে চোখ।
 
বাসের তলায়, লোকান্তরে, চাকায়
পথের শেষ হতে শুরুতে
কোথাও বিদ্যুৎ
অতিকায় নির্জনতার নিচে
বিষাদের ঘর
হিম প্রপাত
চোখের গহিনে চোখ
মৃত্যুর অধিক মৃত্যু
স্তনের নিচে বুদ্বুদ
কণ্ঠে জমে ওঠা গান
বাতাসে বিলায় প্রস্তাব
শরীরের নিচে আরো
ছায়া ঘেমে আসে
জমে ওঠে ভয়
কখনো নিজেকে ছিঁড়ে খাই
নিজস্ব আত্মায় করে ভর।
 
বিজন্মে থ হয়ে যাই! আত্মহত্যা পাপ
কখনো ছিলো না। যদিও কেউ মরে
যায় যখন শোক নয়—
কান্না নয়—
মানুষের চোখে ফুটে ওঠে কৌতূহল।
আমি ঘৃণা করি এই চোখ
এই রাত্রি, এই বেঁচে থাকার লোভ
বুঝি জন্মান্ধ পরজন্মের শোক
বয়ে বেড়াতে বেড়াতে
পাখি হয়ে উড়ে যাব
একদিন অসুখের ভেতর দিয়ে ছুটব
যত কান্না আছে, আছে যত বিলাপ
ঘুম আছে যত, যত প্রেম আছে
বিলিয়ে হঠাৎ
একটা রোদ হয়ে যাব অপর আকাশে।
 
 
প্রসন্ন
 
প্রসন্ন হৃদয় বুঝি ছিলে নাকি তীর
ঝরনার গান করো ঘন বিস্মৃতির।
 
আহ্ জল, ঘিরে রাখো চাহিদার জাল
বিশ্রামে খুঁজে পেতে চির উষ্ণ আঁচল।
 
নীরবতায় খেতে যত কঠিন শিকড়েরা
স্বপ্ন নয়, হিমে আছে সাদা রাতে ঘেরা।
 
প্রেম তবু গেছে ফিরে ঘুম ফেলে দূরে
ফিরে আসো পাদুকাহীন নগ্ন অসুরে।
 
চোখ যত, ফুল হয়ে ফুটে আছে বুকে
প্রাণে তুমি গান হও, প্রেমেরই অসুখে।
 
আহ্, কত আনারস! কত মনে চোখ
ঘুমের আগুনে পুড়ে, বুকে চেনা শোক।
 
মৃত যত পাতারাশি, বাতাসের ধ্বনি
শব্দেই মুখোশ মেখে ছুটছে তখনি।
 
ঘোড়া তুমি নত হও নিটোল আবেগ
ফুল তুই তারকায়, ঝরে গেছে মেঘ।
 
ঝড়ে বুনে কত রাত, বসে আছে পাখি
মাকড়সার জাল বুনে, তুমি একা নাকি?
 
 
শীত ও নিশীথের কবিতা
 
হৃদয়, ফলভারে অবনত বৃক্ষ, প্রান্তরে— নগরীর তোরণের দিকে। গুনছে, আত্মার কণিকাগুচ্ছ। চেপে ত্বক ও বাক্যের টুঁটি। নগ্নদেহে— আঙুরক্ষেতের ভেতরে ছুটে— পরস্পরকে করছে বৃত্তায়ন, নোঙর ও জাহাজের সংবাদ।
 
ক্ষুধা ও তৃষ্ণা ভেদ করে যা জিহ্বা ও ওষ্ঠকে দিয়েছে ডানা— বায়ুর তরঙ্গে নীড়হীন ঈগল, অতিক্রম করে তীব্র রশ্মি। ভেদ ও বিভেদের মাঝে— ঘুমহীন, মুণ্ডুহীন। ভেতরে অপেক্ষায় বিপুল উপেক্ষা— অশান্ত সমুদ্রে, কখনো অনন্ত বিন্দু ছিটায় প্রাচীরের যন্ত্রণা। অন্ধকারাচ্ছন্ন মেঘদল গীতি, ভর করে মিলায় মলয় বাতাসে। কে পারে— দুঃখ না করে; যন্ত্রণা ও নিঃসঙ্গতা ছেড়ে যেতে, নৈঃশব্দ্যের উত্তরে আত্মারা শব্দহীন।
 
পথে চেয়ে ঝাঁকি মেরে ওঠে প্রাণের নিঃশ্বাস, বস্তুত ঝরনার যাত্রা— অভ্যস্ত আকাক্সক্ষা হয়ে ছুটছে দিগি¦দিক। মুখে ও পায়ে কল্পনার বিস্তৃত রঙে, কে জানে তবু ঘোড়া ও দেয়ালের আত্মলিপি? বিস্মৃত ঋতুতে যে নাটিকা হচ্ছে চয়ন, রাত্রির রক্ষী হয়ে অন্ধকার প্রদীপে, উঠছে জ্বলে।
আগুনের কাছাকাছি তুষার যেমন, প্রজ্বলিত করে রাখে অনুচ্চারিত মর্মরপাথর।
 
নিগূঢ় অর্থ গোপনে— নিদ্রাহীন জননীর বিদায়ের ক্ষণে
স্বপ্ন দিখিয়েছে তবুও জ্যোৎস্নালোক
 
পরদেশি নয়, তবুও মুখ আবৃত নেকাবে
স্নায়ুকে যা আরো ক্ষুধার্ত করে তোলে।
 
সমুদ্রের ঝিনুকেরা তাদের বিচ্ছিন্ন করে না
কাছাকাছি দেখায় চৈতন্যে উৎকর্ষ, সে মুখোশবর্জিত বেদনা।
 
ভালোবাসা ছিল নির্বাক, নীরবতা ঈশ্বরের ভাষা।
আর তুমি, পরমাত্মা হে, বিচরণ করছ মেঘের ছায়া—
সূর্য ও ফুল হয়ে। অনুবাদ করছ স্পন্দন ও ভাষার বিভূতি।
কমনীয় কুমারীর স্লেটে, বিচ্ছেদের অমোঘ ঝড়ে
জানা যায় যার গভীরতা। তবুও দিও না যেতে।
আটপৌরে রাখো, এ শরীরে ছেড়ে যাক মফস্বল ঘ্রাণ!
 
মহত্তর প্রত্যাশার দেশ, স্মৃতির ভূমি, কালহীন মুদ্রাদোষে
হবে ব্যাকুল, নিদ্রার হাস্যধ্বনি দলবেঁধে জমাবে সার্কাস।
নিজস্ব আত্মার ফসিল অভ্যন্তরে যাবে নির্জনে হেঁটে।
মহাকাল, অতিথি পাখির মতো
সদূরের বোধে এসে প্রপাতে— ঢাকবে ব্যথার মোড়ক।
ছুঁয়ে দেখবে অন্ধ যাত্রী—
যেখানে একাকী বসে আছেন ঈশ্বর!
 
পথগুলো রুক্ষ এবং কঠিন
যেহেতু প্রতিটি অনন্তবিন্দুর ভেতরে অনুসরণ করছে তরবারি।
উত্তর বাতাস যাকে ধ্বংস করতে পারে অলীক কাননে।
সবুজ প্রান্তর শিয়রের কাছে ক্ষার হয়ে জন্মাবে বিভ্রান্ত শিকড়ে
ওপাড়ে সূর্য, পাতালে মাটি
ভেতরে আলো ও বৃষ্টির চলন
আকাশ বলে নেই কিছু
ডাল হয়ে কিছু রাত্রি ঝুলে দেবে নাড়া
ইশারায়, খোসামুক্ত হতে— নগ্ন গায়ে চূর্ণ
করে তুলবে শ্বেতশুভ্রপত্র।
নমনীয় করে স্বর
জীবন ও যৌবন— এক টুকরো আচ্ছাদিত করে
হারিয়ে অসীম বলয়ে; সবটুকু তবুও কান্না নয়
মদ ও বিয়ারের মাঝে পূর্ণতা ব্যতীত কোনো বাসনা নেই।
কামনায় গলে জল হয়ে যায় দেহ
উপলব্ধিতে ক্ষরণ নেই
প্রেম কিছু দেয় না, নিজেকে ছাড়া।
 
দূরত্বের ব্যবধান তবুও সায়াহ্নে
মুক্তপক্ষ হয়ে গাইবে বন্দনাগীতি
নাচবে নৃত্যফুল হয়ে…
বিস্মৃত হয়ে ক্লান্ত পথিকেরা
তবুও একাকিত্বের বোধে উঠবে কেঁপে।
আঙুলে ছোঁয়ায় গিটারের
তারগুলো যেমন কাঁপে থরোথরো।
 
স্তম্ভগুলো তবুও বজায় রাখে দূরত্ব
যেহেতু বট ও হিজল পরস্পরের ছায়ায় বৃদ্ধি পায় না
আঙুর এবং বেদানা এক রীতিতে খেয়ে ফেলা যায় না
তেমনি দেহকে করা যায় ধারণ; আত্মাকে নয়।
 
যে আবৃত হয়ে বাস করে আগামীর গৃহে
অথচ তীর হতে বেড়িয়েছে সন্তানদল
যারা করবে দান— আনন্দ নয়, বেদনা নয়, পুণ্য বা পাপ নয়
স্নানীয় জলে গুল্ম হয়ে ছড়াবে সুঘ্রাণ।
 
যে ভাষায় অনুবাদিত হন ঈশ্বর
এবং অন্বেষণ করে ন্যায়, যা মূলত ভ্রম
এবং অন্যায়, যা এখন পর্যন্ত হয়ে আসছে
কাঁটাতার আর দেশে-দেশে।
অথচ মানুষ চাষ করবে সন্তানের
সুহাসিনী আদরে বসন্তে করবে বাস।

লেখা সম্পর্কে মন্তব্য

টি মন্তব্য