হাবশি রঙের পাখি
বাসিমুখে চৌদ্দ প্রকার পাখি আমার দৃষ্টির ভিতর
কে যে সত্য আর ভ্রম কে
এই ভেবে দূরে হলুদ হয়ে আসা পাতা গুনছি জানালার কাছে সাবলীলভাবে
মনের ভিতর উড়ে চলছে হাবশি রঙের পাখি এক
বিরাট কড়াইয়ে ঢেলে দিচ্ছেন প্রভু রাজহংসীর একটা ডিম
কুসুম তাপে নুন গজাবে, মানুষগুলা ঘুম পোহাবে
আমাকে আর কি’বা করে বিস্মিত করবে পৃথিবী?
এভাবে নিয়মিত চেয়ারের উপর নিজেকে তুলে দিয়ে
বিস্মৃত স্মৃতিতে মাথা দিবো
মনে আছে শুধু পুরান বাসার পাশে
তোমাদের উঠানে ছিলো সবুজ আসমান
সবুজ গোশতের তারা মৌসুমে মৌসুমে ঝুলত
পুকুরে শান্ত পানির নিচে কাঁঠাল-মুচি বলি হল
আর জাহাজের ভেসে থাকা আমাকে
বাতিকগ্রস্ত করতেই পারে কর্ণফুলির বন্দরে অবৈজ্ঞানিকভাবে
পৃথিবীতে এই গুটিকয়েক পাখি ডাকছে
নেহাত এই ডাক ভালো লাগে দুপুরে
ব্যালকনি বেয়ে গোলাপি বাতাস
ভেন্টিলেটরের ফাঁকফোকর হয়ে দরজায়
বাজিয়ে যাচ্ছে মেহেদি হাসানের নরম সুর
দুপুরের খাবার বেড়ে আম্মু ডাকছে
বড়ে গোলাম আলীর ধুয়া বাজে কানে
এরপর আবার লিখতে নিলাম যা ছিলো বাকি
তাহাজ্জুদের ওয়াক্তে কোকিল তুমি ডাকছ
কোন্ রুহের টান তোমাকে এমন হয়রান করে?
তুমি কি পাবে তাকে, তিনি আর লালন যোজন দূরত্বে বাস করে
যদিও বাড়ির পাশে আরশি নগর
মাঝেমাঝে এতো অবসাদ লাগে ‘বেলাল’ পাখি!
আমাদের বাংলা কবিতা মুয়ায্যিনের আযানে আটকে আছে
আমি তো চাইছি কবিতায় রাখি সিজদা
আর ব্যাকুলতর হৃদয়ের ভার কিছুটা তোমাদের দিই
মনের ভিতর মওতের পাখি এক ডানা ঝাপটায়
কে মরবো আগে এই নিয়ে আমাদের মাঝে কথা ওঠে
হাস্যরসের ভঙিমায় আম্মুকে একদিন পয়ত্রিশে
থামার কথা পাড়তে গিয়ে নিজেই কাইন্দা উঠি
ভাবি বালেগ হওয়ার আগ থেকে
যখন ক্লাসরুমে তোমাকে ডাকত আমার নামে
তোমার নামে দুলাত আমাকে ময়ূরপঙ্খি নাচে
বলো! রেখে আসা কঠিন নাকি ‘রাখা’ হওয়া সহজ?
কোন্ পাখির কথা আজ লিখতে বসছি ?
পৃথিবীতে একটা পাখির কয়টা বছর পাংখা থাকে?
মহুয়ার দেশে
হাত করলাম কমলার ঘ্রাণ বসতে চেয়ে
কোন্ ঘাস ছিড়ে, এমন মোহগন্ধ আহা
পারি না ঘাসের নাম
তিরিশ বছর পুরানা এক মসজিদে সিজদা রেখে এসেছি
যেখানে বসে স্বজাতি কোনো ছড়ায়াছে দ্বীনে ইলাহি
ছায়া মেপে ওয়াক্ত জেনে আসরের নিয়ত করলাম
আমার আল্লার জন্য হাত বেঁধে হারাম করি কারবার
দুই পা কত নুর, অস্পৃশ্য আঙুলের মোলায়েম
যেন তোমাকে ছোঁয়ার লোভেই সিজদা দিলাম
তীরের গতির মত পথ, হালকা বৃষ্টিতে যেন শেইভ করা গাল
পুলসিরাতে দাড়িয়ে যেন পিছলে যাবো জাহান্নামে
ঐ চূড়া দূরে বাঁশের জানালায় খেলে জান্নাতি হাওয়া
পাহাড়ি নারীর বুক থেকে বয়সের ভার জমিনের দিকে
ছোট হয়ে লীন হয়ে
আকাশে আমের রস করুণ হয়
এরপর অপরিচিত ইতস্তত নজর আমাদের ঘিরে
এক ঔরসজাত ভাইবোনে পুরা হাট মনে হবে এক পিতার
পরস্পর ডাকাডাকিতে পরখ করে নিবো পরিচয়
পাহাড়ি নারীরা তাদের মাতৃতান্ত্রিক হাতে পেশ করে চা
বনমোরগের লাল ঝোলে পেশ করেছে যে ঝাল থালায় থালায়
উতলি উঠে বাতব্যথা অমাবস্যা-পূর্ণিমায়
আজ এসেছি বন অধ্যুষিত বাতাসের কাছে
আপনাকে চিনি না, জানি না কিছুই
তবু যেন বিরহ হলো আপনাকে হারানো নিয়ে
বিসর্জন বেলেমাটির কাছে জামার সাদা অহম
একযুগ গোলামির চুক্তিতে আমাকে দিতে পারো একটা থামি
আর মহুয়া তৈরির গোপন তালিম
নেশাপানি সিরকা করার তরিকা তো জানা আমার।
এমন আন্ধার দুনিয়ার আলজিভ্ থেকে কোন্ সুরে ডাকো পাখি
পোকা ডেকে ভ্রান্ত হই, কী যে ছোট গড়ন তোমার!
আমরা ত ফিরেই যাবো আর অন্ধকার ঘিরে আছে আমাদের
যে পাখি দেখায় পথ কী নাম তার?
মন চায় থাকি ভূলে আরো কিছুকাল
আমি ‘চিটাগং’ ‘মহসিন’-এ তুমি
আমি টেকনাফ
বর্মা তুমি
মাঝে স্লো স্লো
রিকশার গতি
কি যে শ্লথ
যেন নাফ নদী
আমি মর্নিং
সন্ধ্যা তুমি
তুমি নামলা
আমি নামছি
কৈ মাছ যেন
ঝিরিতে আসি
আমি পদ্মা
মেঘনা তুমি
চাঁদপুর এসে
মিলেমিশে গেছি
আমি এই পার
ঐ পার তুমি
নদী নদী লাগে
স্থলভূমি
আমাদের চলা
ক্লান্ত খুবই
ক্ষয়ে ক্ষয়ে জুতা
রাস্তা চলি
নেমে এসো
আসছি নামি
রাস্তার নাম
দরিয়া রাখি
পালতোলা নৌকা
রিকশার নাম
চলে স্মুথ
বায়বীয় যান
এই মামা খালি!
রিকশার মাঝি
দিমু চল্লিশ
চলো তাত্তারি
করি রিগ্রেট
যত সিক্রেট
নিয়ে একলা
উইথ মাইসেল্ফ
বেলা একটার
বিষম বোঝা
তুমি খুব একা
বন্ধুহীনা
তুমি ঐপাশ
এইপাশে আমি
আমি ‘চিটাগং’
‘মহসিন’-এ তুমি
খোয়াবনামা
ছোট ছোট বরফের নহর দেখতাম আর
দুধের প্রবাহমান নদীগুলা নিস্তরঙ্গ থাকত
এমন এক নদী আমাকে ঘুমাতে দিত না শৈশবে
দেখতাম শিকারে নেমেছে ডোমপাড়ার বাবড়িঅলা
কোথায় যেতো! গা ছমছম, হৃদয় কাঁপত
দৃশ্যের পর দৃশ্য আমাকে কাঁপাত গভীর!
একটা অতি পাতলা অণু দৃশ্যপট তৈরি করত
কেমন ছোট থেকে বড় বড় হয়ে যেত! আমি দেখতাম
বলতাম না, বলি না, বর্ণনার গভীরতর অপারগতা
আমাকে আশৈশব হৃদয় পোড়াত, কত পোড়াত!
এখানো আমার যেখানে হৃদয় কাঁপে ভাষার দূর্বলতা বর্ণনার কাতরতা
দেখে দেখে চোখ কত পোড়ে, লাফ দিয়ে ওঠে
আমার কবিতা, আমার বর্ণনা কোথাও কোনোদিন
পেরেছে কি টেনে টেনে প্রতিটা দৃশ্যপট, আমার শৈশবের
জখম, চলমান ব্যাকুলতা দেখাতে দুনিয়ার কাছে?
আমার স্বপ্নগুলা হাজার বর্গমাইল সময়ের
ছিল একটা সন্তান জন্ম নেয়ার অপেক্ষা বিধুরতা
একদিন জানলাম মানুষ স্বপ্ন দেখে কয়েক মিনিট
একটা সম্ভোগকালে টানটান উত্তেজিত হৃদয়ের চোখ
যতটা উঠানামা করে তার চেয়ে বেশি নয়।
এক যুগ পর স্বপ্ন দেখলাম, একটুও ভয় পাই নাই
হৃদয় কেঁপেছে একটু পরোটার স্বল্প উষ্ণতায়
আমি কাঁপছি আর দৌড়ে যাবার সঞ্চয় ফুরিয়েছে
দেখলাম আতর মাখতে শিশি খালি হয়ে গেল
একটুও ঘ্রাণ আমার হলো না, চোখ খুলে গেল।
সবুজ শৈশব
আহা ধুনফুন দুপুরে বড়ুয়াদের সবুজ কৃষিশ্রম
আমাকে কোদাল চালনার নৈপুণ্য শিখাত
তারা আমাকে দিত মাটির জাফরান
জাফরানের ছিল চুলের ভঙ্গিমা, ছিল সবুজ চুল
গো-ইন্দ্রিয় নিয়ে আমি খুঁজেছি সবজির সবুজ ঘ্রাণ
আহা বড়ুয়াদের সবুজে বৃষ্টি হত আমি ভিজতাম
শৈশবে আম্মুর মুরগিগুলা মারা যেত
আম্মু তাদের নাপা দিত
দিত আদর মেখে বাসি ভাতের পেয়ালা
আমার সুখ হত কত! মুরগির ইহকাল ত্যাগ
আমাকে বড়ুয়াদের খাবার টেবিল ভাবাতো সজ্জিত
আমি সবুজ সাঁতরায়ে বড়ুয়াদের হাতে দিতাম
আম্মুর মনমরা দিন এবং শূন্য খোয়াড়ের ভার
আহা তারা হাসতো আমাকে দিত সবুজ নোট
দিত দোয়েল পাখির ছবি, দিত শেখ মুজিব
আহা শীত পড়ত বড়ুয়াদের সবুজ ভেঙে
আমার হৃদয় ভেঙে যেত, বিলে আসত জুগিরা
তাদের মুখ শুকলে নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে খুব
কালো পাঠার মজাদার গোশতের প্রসাদ
আমাদের বাধা ছিল, আমাদের পড়তে হত
জুগিরা নিয়ে যেত জমির বাদামি পশম
আমার শীতকাল ছিল ছাইরঙা জ্যাকেটে
আবার শীত হত বিকালে, ঠান্ডি ঠান্ডি প্রবাহ
ছাগলের ইন্দ্রিয় নিয়ে জ্যাকেটে হাত ঢুকিয়ে রাখি
ঘাস খাওয়ার আনন্দে একদিন ছাগলের দুধ খাবো
সবুজ শাক চিবানোর শখ হৃদয়ে রাখতাম
আহা শীত পড়ত বড়ুয়াদের সবুজ ভেঙে
আহা বিলে বিলে ভাদ্র মাসের তাজা তাজা রোদ
পুঁটিমাছে বিষ দিয়ে করত শিকার মুসলমানের ছাওয়াল
সাদা ফুলের নিচে গোশতের লাল ঘ্রাণ
বোকাসোকা সাদা ফুল ছেলেগুলা মারত
আমার রোদ থাকত এবং বাতাসের কোণ
এভাবে বারোটার রোদে একা নিমতলা
আম্মু বলত, ‘আসরে পাবে বেলাটা ঠিক না’
আহা বরষা হত, ঋতু ছিল শৈশবের জামায়
আমাদের ভিজা ভিজা হাত ভিজা দুই পা
বান নেমে আসে বড়ুয়ার মেয়ে কাঁদার মত
বড়ুয়ার মেয়েরা ভেসে আসত আমার কাছে
পুতুল রঙের কাসি, নখপালিশের হলুদ ডানা
মানুষ পোড়া ছাইয়ে আমি পেতাম তাদের
বড়ুয়ার মেয়েরা বাতাসে দৌড়ত দক্ষিণে
চন্দন কাঠে ছিল তাদের কলিজা পোড়ার বুদবুদ
বড়ুয়ার মেয়েরা ভেসে আসত আমার কাছে
বাপদাদার পোড়া ছাইয়ে ফুটেছে বড়ুয়াফুল
আহা সবুজ বড়ুয়া! আমার সবুজ শৈশব!
এইসব শীতে
এইসব শীতের বৃষ্টিতে আমি খুব ন্যাকা হয়ে উঠি। পানি রঙের বৃষ্টির ফোটাগুলার দিকে তাকায়া থাকি। এসব দিনে আমি কত একা! সামনে যে বরই গাছটা ঐটা ঝাপসা হয়ে আছে। সারাটাদিন আন্ধার আন্ধার। গায়ে জ্বর আসলে কম্বলের চেয়ে মানুষের সঙ্গ বেশি চাই। মুখ তিতা হয়ে আছে তরকারির ঝোলে। চাটনি, ভর্তা, টেস্টি হজমি মুখরোচক। এইসব শীতকালে বসে আমি বর্ষা আঁকি। আমার সাঁতার না জানা ছোটভাইটারে নিয়ে আম্মু কত শংকিত! আমি দরজা খোলা রাখলে সাপের ভয়ে আম্মু দরজা খিল দিয়ে রাখেন। আমার অসুখ করলে আম্মু বলেন, দুই রাকাত নফল নামায পড়্। আমি খেয়াল করছি এইসব রাতে বেশি মাহফিল হয়। এইসব শীতে বুড়া মানুষগুলা কাঁপতে কাঁপতে ওয়াজ মাহফিলে যায়। আমি তাকায়া থাকি। এবং দূর থেকে ‘হে মুমিন মুসলমান’ শুনে আমি জড়সড় হয়ে যাই। কাঁদোকাঁদো হয়ে যাই। আমার খুব কান্না পায়। এইসব শীতকাল নিয়ে আসে কতকাল! যেখানে দাঁড়িয়ে আমি তারে ভাবছিলাম আমার জিন্দেগি। এইসব শীতেই তো আমাদের দেখা হতে হতে আড়াল হলাম। কতটা দূরের আমরা একে অপরের! এইসব শীতকালে আমার বালেগ হওয়া। এইসব শীতের কসম! আমার আপন বলতে কেউ নাই। একটা মিনিটও আমি তোমারে আলাদা করতে পারি না আমার থেকে।
জ্বর সেরে গেলে, তোমাকে ভূলে যাবো আগামী সব শীতে।
জ্বরের মৌসুম
যখন জ্বরে পড়ি অন্য কোনো অস্তিত্ব ঢুকে পড়ে আমার ভিতর।
যে সময় ঘুমায় না বা শোয় না কোনো মানুষ
আঁটোসাটো হয়ে শরীরটাকে রাখলাম মাটির কাছে
যেখানে পিঠের নিচে সহজ জায়নামাজ।
আমার ভিতর আমি অতটা নরম হয়ে থাকি
যেরকম থাকতে চাই নরম মানুষের কাছে
এমন ধীরে পা ফেলি আর ওযুর দিকে নিয়ে যাই আমাকে!
জবান অত নরম হয়ে থাকে, মিসওয়াকের মাথার মতন।
দাঁতের উপর মিসওয়াক রাখা অতটা শৈল্পিক লাগে,
নিপুণ কদুর বিচি থেকে খুঁটে খুঁটে তুলছি হলুদ আমি এক ডেন্টিস্ট।
খুব লাগে ভালো যখন কেউ করে খোঁজ।
জ্বরে পড়লে আত্মীয় আর যারা আত্মীয়ের মতন অনাত্মীয়
তাদের আত্মার কাছাকাছি বসতে চাই
সুযোগে হাওয়া হয়ে প্রবিষ্ট হবো।
এমন কাতর ভঙ্গিমায় আম্মুকে সালাম করি ফোনে!
কি যে এক তোলপাড়ে পাহাড় ধসে ধসে পড়ে!
রাতারাতি চিরডুব–এ বসত তলিয়ে যাচ্ছে তিনপুরুষের গন্ধ ধুয়ে।
স্বল্পদৈর্ঘ্য আলাপের অভিযোগ কাতরাতে কাতরাতে তুলে নিবো আজ।
কথা যে ফুটে না সে জড়ানো গলার কাছে!
আমাকে দুআ দিও! আম্মু আমার অসুখ খুব!
অর্থহীন কান্না পাবে আব্বুকে নিয়ে।
কীভাবে কেন যে ভিজে যায় বালিশ!
আমাদের নিয়ে ভাবেন তিনি, ফোনে ফোনে টাকা দিবেন।
এই রাতে আকাশে পূর্ণিমা দেখে
বিকাশ করতে গিয়ে আব্বুও কি কাঁদেন?
পৃথিবীটা আজ হাঁটতে গিয়ে বোনের ফ্রকের মতন গোল হয়ে নাচে
শীমের লতার মত এই শীত মৌসুমে
ছোট ছোট ভাইগুলা বোনটাকে জড়িয়ে জড়িয়ে থাকে।
আঁধারে গুটিয়ে শরীর আমি একা হোস্টেলে
কে যেন ডেকে গেল নামাজে পর্দাটা তুলে
এই জ্বরের মৌসুম তোমাকে হাজির করে
পুরা মৌসুম জড়িয়ে থাকি জ্বর আর তোমাদের নিয়ে।
বৃষ্টিতে, রুস্তম আলীর মাঠে
আমি কী করব সোনাই এভাবে বৃষ্টিতে
এভাবে ইয়াদে-স্বরণে বৃষ্টিতে তোমাকে
বৃষ্টি পড়ছে তোমাকে মনে পড়ছে
তোমাকে মনে পড়ছে বৃষ্টি পড়ছে
জ্বর এসে গেল এভাবে চিবুক নাসিকা ধরে
এভাবে শুধু দূরে আর কাছে বাতাস সজোরে
বড়ুয়ার মেয়ে কে যেন সুনসান এভাবে দূরে
হৃদয় নিয়ে রুস্তম আলীর মাঠে পাশারাম খেলে
কারে যেন খুঁজি! হারানো কিয়েক বিমার!
উপশম খুঁজি না তো। কত ব্যথা দাও দেখি।
চিৎ হয়ে আছি বৃষ্টিতে
রুস্তম আলী নামের পাশে
আমার মাতামুহুরি নদী
তুমি মাতামুহুরি নদী সর্পিলাকার
বইছো মাথার ভিতর
ও আমার মাতামুহুরি নদী! আসছো নিয়ে বয়ে তুমি
মিঠা বেদনার মাছ
আমার অঙ্গে অঙ্গে লাল প্রপাতে
তীক্ষ্ণ মধুর বাজ
আমি যেন তোমার পাড়ে
আমার মাথায় এলোমেলো ঘাস
আমার মাতামুহুরি নদী তুমি
আমরা অঙ্গে অঙ্গে জড়াজড়ি
আমার অঙ্গে বইতে বইতে ঝাপ দিয়েছ মহোদধি
আমার মাতামুহুরি নদী
আমি হই জামা তুমি হও কনজিউমার!
মেয়ে হৃদয়ের মত সুন্দর হকার ঝুলে আছে রাস্তার কানে
আমি দেখে দেখে একটা জামা কেবল হইতে চাইছি
আমি যদি হই জামার রঙ
তোমার সাথে লেগে আছি সারাটা দুপুর
নেকবেন্ডের মত ঝুলে আছি গলায় ওড়না আমি
যদি হই রঙের ভিতর পিংক
আসবাব সেজে আছি সংসারে একে একে লুটোপুটি
তোমার সুন্দর থেকে আমাকে দাও একটু
তোমার সবুর থেকে এক টুকরা, মেয়ে!
আমি তোমার সাথে হেঁটে পার হই এই তপ্ত দুপুর
আমি হই জামা তুমি হও কনজিউমার!
———

তানভিরুল হক রাহাতের জন্ম চট্টগ্রামে। থাকেনও চট্টগ্রামে। কবিতা লিখেন ও অনুবাদ করেন।
























