home কবিতা গুচ্ছ কবিতা ।। সুবর্ণা গোস্বামী

গুচ্ছ কবিতা ।। সুবর্ণা গোস্বামী

অমরত্বের প্রতি

যেখানেই কান থাকে সেখানেই থাকে
কানপাশাগুলি,
জন্মান্তর! ঢুলি নিজেই জানেনা তার
ঢোলের দ্রিদিম।
হতাশা নোলক হয়ে ফুঁড়ে থাকে
বিবাহ প্রাচীরে।
শেষমেশ হারিয়েও যায় তারা……
উদরের সুবর্ণ মেদ ঝরে ঝরে
ইতিমধ্যে বৃক্ষ। বৃক্ষেরা পাতা তুলে ধরে
মহাকাল সমীপেষু!
চিঠি ভাসে…জলহীন হলুদ চিঠি…

উৎসব! এইসব লোকক্ষয় নক্ষত্রের নিয়মে
লক্ষ বৎসর পর আলো তার পৌঁছায়
নতুন আলোকবর্ষে।
তামাটে কানপাশা সোনা হয়ে ফেরে আবার,
নোলক ফিরে আসে ভালবাসা হয়ে।

 

এবং পরকীয়

এক বিন্দু পারদের মত ছুঁলেই পালিয়ে যাচ্ছে
প্রায়শঃই মাতামুহুরির স্নান,
কুকুরেরা টেনে নেয় লালসার হাড় আর
ভেজানো দরজার এপাশে
ব্যক্তিগত কিছুই ঘটে না;
আজকাল সত্যি কাটি না কোন সাহসের ফিতে।

চলমান সেতুরা হয়ত পৌঁছায়
কোন অরণ্যে একা একা…
জানি আমি,তবুও জানিনা কোথায়
মন্ত্রেরা মন্ত্রমুগ্ধ  ভাবনার জলে।
তোমাকে আগেও দেখেছি কোথাও?
হয়ত মনের ভুল অথবা প্রতিবিম্ব হবে।
তুমি তো এবারই প্রথম এইখানে এলে,
এই তীব্র জালের ভিতরে
তুমিও নিরস্ত্র! আহা! এই নাও বরফের ছুরি।
সুতোরাও জানতে পারে নি
ভোর ভোর বৃষ্টির নীর ছুঁয়ে
কতবার আমরা উড়েছি……
নীড় হতে দহনের প্রতি…

 

সাকার বিস্কুট

সকালে মনোময় মৃত্যুকে লক্ষ্য করে ছুঁড়ে দেন সাকার বিস্কুট।
কুয়াশার লোভ  ছুটে আসে…
বড় ভাল লাগে তার।

যাকে যেখানে রেখেছেন সেখানেই আছে ভেবে
দীর্ঘদিন হাতড়াননি আবোল-তাবোল, বানান বিভ্রাট,
লবণ জলের খোঁড়া নদী…কিংবা স্নায়ুকোষ…
ভাঙতে ভাঙতে ত্রিধান্বিত প্রোটিনের খনি।

একসময় তাকে খুব রোদ পোহাতে দেখতাম
রেডিও বার্তার অনুচ্চারিত তারে,
রোদগুলো ধীরে ধীরে বনে যেতো তার
মায়াবী পোশাক…মৃত্যুরা পোশাকের ধুলো।

হঠাৎ পিঠ চাপরে ঈশ্বর হেসে ওঠেন।
জাদুকর এখন রোদ পোহান না আর,
আলোয় পুড়ে গেছে তার আলোর পোশাক।
দুমড়ে মুচড়ে শরীর ভেঙে ভেঙে…
নেশা হয় তার…
মৃত্যু কামড়ে নেয় সাকার বিস্কুট।

 

কারাবাস

আশার ধূসর মলাটে হাসির পেন্সিল স্কেচ,
পুরনো পাখিদের গায়ে সাদাকালো কান্না ভুলে যাওয়া দিন,
ঘরের দেয়ালে পাশাপাশি ছবিতে অমরত্বের পাশে
যাপনের দীর্ঘশ্বাস …বিবিধ দুঃখের গ্যালারী।
এসব আমারই কেনা…স্বপ্নের কড়ি দিয়ে
রিক্তের কারাবাস।

শুন্যতা হেরে গেলে শুন্যের সাথে রেসে
চুপচাপ কিনে নেয় দু এক পাতা ঘুম
তারপর তিস্তা …
আরও একবার গোপনে ভালবাসা
কোন ক্ষীণকটি তরঙ্গিণীকে…

 

পুনর্বিন্যাস

শ্রাবণের আঁচলে একগোছা চাবি।
একদিন ভুলে যাবো নিঃস্ব ইহকাল,
তোমাকে দেখবো যেন নিতান্তই এক
মেঘের নির্মাণ…
জটিল পেয়ালাগুলি ভেঙে ভেঙে জন্মে
নিরাকার মোহের কলস।
ভুল লিপি?
রক্তিম বিন্যাসের কাছে অযাপিত নয়
কোন ধ্বনি।
আমার বিন্যাস কী দারুন পাল্টাতে তুমি জানো!

জানি তুমি এমনই বাউল,
তাই আড়ে মেলে রেখেছি আজকের রোদ
নিঃসঙ্গ ভঙ্গিমায়-
আমার অপেক্ষাগুলি হতাশায় হতাশায়
কী ভীষণ ওড়াতে তুমি জানো!

 

বিপরীত বিভ্রম

অন্ধকার কমে আসছে
ধী…রে নেমে আসছে আলোর ব্যাল্কনি,
এইখানে যুক্তবর্ণ খানিকটা কম হলে ভাল ছিল
ভাল ছিল উদাসীনতার নেপথ্য প্রস্তাব।

কষ্ট ও মেরুন গোলাপ…সাধ ও স্বাধীনতা…
এইরকম পৃথিবীর সব বিপরীত শব্দেরা
সমার্থক হয়ে ওঠে একা হলে…
একলা হলে… ইদানিং…

আকাশের পুষ্ট পিঠে চেপে
সাদাতুতো মেঘ ‘ঘোড়া ঘোড়া’ খেলছে যত বেশি-
তত অবনত হয়ে যাচ্ছে বুড়োদের ঘাড়,
শিশুদের ভাবী উপাঙ্গগুলি।

অন্ধকার কমে আসছে বলে
নেমে আসছে এত অন্ধকার…
এত এত ওষধি …মাদুলি…

লেখা সম্পর্কে মন্তব্য

টি মন্তব্য