শাহ মাইদুল ইসলামের কবিতা

রোহক


সবজি বাজার

সবজি বাজার এহেন লোমশ—

রোহক, তোমাকে বোঝাবার আশ্লেষে

যাতায়াত করি

শীত ঋতুর গহীনে

ওম পরবশ

টাটকা ও যথাযথ তার রঙ

প্রকট এখানে…

যাই-আসি করি

দিনেদুপুরেও, দেখি

ঢলে যেয়ে পড়ে আর্ত দিন

গুঢ়-রাত্রি তলে

সবজি বন ঘিরে জেগে ওঠে—

নানাবিধ চাঁদ

রোহক, ছড়ানো-ছিটানো ও দিগবিদিক

মনে হলেও, সাঙ্কেতিক

মেলামেশারা ঐ, বহুবর্ণিল এক

লোমশ চাদর হয়ে ওঠে

 

আবেশে গাঢ় হয়ে আসে তোমার

ঘুমের আওয়াজ

 


বৃষ্টিদিনে


ছোট্ এই শহরে বৃষ্টি। একটিও ফুট ওভার-ব্রিজ নেই। ভর-রোদের ভাবনায় জানলা দিয়ে তাকিয়ে থাকা— কারও বাহুসন্ধি ঘামে ভিজে সুস্পষ্ট হয়? এইখানে মনবোঝা বড় দায়, বৃষ্টি দিনে মনমরা হয়ে থাকা! ডিসেম্বরে বৃষ্টিতে সব সবজি ক্ষেতে পানি জমে গেলে আঁশহীন খাবার ও মানসিক রোগে পর্যুদস্ত যুবকেরা আত্মহত্যা শানিয়ে তুলছে— একটিও ফুট ওভার-ব্রিজ নেই এই শহরে।

 


একদিন সংসারপ্রবণ রাতে


বাড়িটির দিকে তুষার ঝরছিলো—

দেখে মনে হয় কতোকাল এই বাড়ি!

ভেতরে আমরা কুণ্ডলী পাঁকিয়ে ছিলাম,

সময় হলেই ঘুমিয়ে পড়বো।

আমরা একাকী ও অনেক মানুষের চলাচল,

চুলোয় ফুটছে অনেক মানুষের আহার—

 

এতক্ষণে জমেই যেতাম না হলে!

 


গ্রামে


চোখে, কনীনিকায় গাঢ় হচ্ছে লেবুঝাড়। চাঁদ দেখে গল্প। বারান্দায় দোল চেয়ারে ঘিরে তোমাকে ব্রহ্মপুত্র বয়ে যায়। নভেম্বর ও শীত উঠে আসে। ভারী ও পলকা, ছলছলে চোখের বাতানে ঘনিষ্ট হয় মাছ, নিভৃতচারী মাছ—

 

গ্রামে কুয়াশায়

অনেক ঘুমন্তর মিশে

নিঃশ্বাসে

ভেসে আসে আংরাখা চাঁদ

নিষ্পলক চোখের তাকায়

 

চতুষ্পার্শে

 


২.


সকাল, ছোট পাখি—

পাতার রাজ্য তূরীয় মনে হয়!

 

শিশুরা, মাছের ঝাঁক

 

অপলক,

তুলোর পালঙ্ক ধরে রাখে।

রাত্রির কঠিন খোলের ভেতর

ও তোমার আত্মাকে অনুসরণ করে:

নীল-শাদা ফুলে

তিসি ক্ষেত বিস্তীর্ণ।

 

ও তোমাকে এগিয়ে দেয় হাত দুখানি:

পাখিটি ডানা ঝাপটায়

ঘুমে, অস্পষ্ট জারুল।

ক্ষুৎপিপাসা, ঊনপঞ্চাশ রাত

টানা জেগে রয়

তোমার ঘুমের পাশে।

 

শিশুরা, মাছের ঝাঁক

নেমে আসে সুদূর পাহাড় ছেড়ে।

 


কবি পরিচিতি

জন্ম: ২০ জুন, ১৯৮৬

প্রকাশিত বই:

ঘোড়া ও প্রাচীর বিষয়ক (২০১৬)

নিখিল গুচ্ছগ্রাম (২০২১)

প্রকাশিতব্য: রোহক ও তেত্রিশটি কবিতা

 

শেয়ার