home আলাপচারিতা কবিতালাপ ।। মাজহার সরকার

কবিতালাপ ।। মাজহার সরকার

আপনি কবিতা লিখতে শুরু করলেন কিভাবে?

মাজহার সরকার: আমার জীবনের প্রথম কবিতাটা ইংরেজিতে লেখা। স্কুল দেয়ালিকা ‘মৃত্তিকা’য়। আমি তার সম্পাদক ছিলাম। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি তখন। সম্পাদকীয় লেখার পর আমাদের ক্লাস টিচার বললেন, তোমারও তো একটা লেখা থাকা দরকার! তারপর সেটা লিখলাম। আমার বড় বোন ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রী ছিলেন। বাসায় ইংরেজী সাহিত্যের প্রচুর কবিতার বই ও অনুবাদ ছিল। কোনটা ইমিটেট করেছি কে জানে!

আপনার কাছে কবিতা মানে কি?

মা.স: আমার নানী ধার্মিক মানুষ। গ্রামে থাকেন। সেই ছোটবেলায় আমাকে বলা তার একটা কথা এখনও আমার কানে ঢুকে বসে আছে- যহন বই পড়বা জানালা খোলা রাখবা। পড়ার সময় আল্লাহ ও তোমার মইধ্যে কোন দেয়াল রাইখো না। বই পড়া হইলো আল্লাহ ও বান্দার সঙ্গে যোগাযোগ। নানী কোরান হাতে নিয়ে চুমু দেন, আবার পড়া শেষ হলে চুমু দিয়ে রাখেন। এমনকি পানির গ্লাস, হাড়িটা পর্যন্ত তিনি কোমল করে ধরেন। তিনি বলেন, আল্লাহ সব কিছুর মধ্যেই আছেন। পৃথিবীর সব বস্তুই তিনি মমতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। এখনও আমি খোলা জানালার পাশে বসা ছাড়া লিখতে পারি না। পড়তে পারি না ঠিক যেন। আমার কাছে মনে হয় কবিতা তা-ই, চারপাশের কণামাত্র সবকিছুতে ঈশ্বর বা পাওয়ার বা প্রাণ খুঁজে বেড়ানো এবং তাকে যত্ন করে শব্দে তুলে খাতায় লিখে ফেলা।

কবিতায় কোনো বিষয় থাকা কতখানি জরুরী?

মা.স: কবিতায় বিষয় আসে আইডিয়া থেকে। প্রত্যেকটা কবিতা একটা আইডিয়া। কিছুই বলবো না- এই ভেবে তো কবিতা শুরু করা যায় না।

সার্থক কবিতা হয়ে ওঠার জন্য একটি কবিতায় কি কি থাকা জরুরী মনে হয়?

মা.স: সার্থক কবিতা বলতে কিছু নেই, জনপ্রিয় কবিতার ব্যাপারটাকে স্বীকার করি আমি। কবিতা মারাত্মক দ্বিপক্ষীয় শিল্প, কবিতা নিজে আর পাঠক। একটা গান বা একটা পেইন্টিঙের ব্যাপারে শ্রোতা-দর্শকরা যত দ্রুত ঐক্যমতে আসতে পারেন, কবিতায় সেটা সম্ভব নয়। ভালো লাগে না কিন্তু তা জনপ্রিয়- এমন কবিতা তো আছে। তাকে ঠেকিয়ে রাখা যায় না, দরকারও নেই। মানুষের যেখানে যা ভালো লাগে, নিক। তাই বলে পাঠকের কথা মাথায় রেখে লেখার পক্ষপাতি নই আমি। এতে শক্তির অপচয় হয়।

আপনার কোন বই প্রকাশ হয়েছে?

মা.স: হ্যাঁ। কবিতা, ছোটগল্প আর উপন্যাস মিলে সাতটা বই আছে আমার। ২০১৭ কলকাতা বইমেলায় ‘দোসর পাবলিকেশন’ থেকে নতুন কবিতার বই প্রকাশ পাবে, ‘ব্ল্যাক কফি’। ঢাকার বইমেলায় ‘দেশ পাবলিকেশন’ প্রকাশ করবে উপন্যাস ‘পুরুষপুঙ্গব’।

কবিতায় ছন্দ থাকা না থাকার তর্কে আপনি কোন পক্ষে, কেন?

মা.স: ছন্দ ছাড়া কবিতা হয় নাকি! আমরা ছন্দ বলতে ছন্দের বইয়ে যা লিখা তা কেন বুঝি! কবিতা সব সময়ই ক্লাসরুমের বাইরের কিছু ছিল। এখন যারা ছন্দ নিয়ে কথা বলছেন তারা ছন্দকে ঠিক ভালোবেসে কথা বলছেন না, ছন্দ নিয়ে হয়তো ইদানিং কোন বই পড়েছেন বা ছন্দের কোর্স করেছেন, সেটা জানাতে চাইছেন। তাও দোষের কিছু নয়। ছন্দ বলতে আমি বুঝি বশ্যতা। কবিতাটা কবির বশে আছি কিনা, একটা কবিতা পড়লেই বোঝা যায় শক্তির লাস্য কতটুকু। ছবির হাটে যে ছেলেটা প্লাস্টিকের ড্রাম বাজিয়ে গান গাইতো তার অপরিণত আঙুলে যে ছন্দ, সেটা বশ্যতা। আমাদের কানে তা ভালো লাগে। কেন লাগে! ছেলেটার গান গাইবার স্বতঃস্ফূর্ততা।

আপনি কি মনে করেন, বাংলাদেশের কবিতায় পরিবর্তন আসছে?

মা.স:  হ্যাঁ আসছে। এখন অনেকেই ভালো লিখেন, প্রতিদিন নিজেকে উৎরাতে চান। নিজের সময়কে, সময়ের ভাষাকে নিজের কণ্ঠ থেকে কাগজে তুলতে না পারলে পরিবর্তন বলে না তাকে।

একজন কবিকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে কোন বিষয়টি?

মা.স:  ঢাকায় আমি পাবলিক ট্রান্সপোর্টে করে চলাফেরা করি। কিন্তু যানজট একদম সহ্য করতে পারি না। দেখা যায় বাসে উঠলেও বাস যেখানে জ্যামের কারণে আটকে যায় আমি সেখানে নেমে যাই। হেঁটে গিয়ে আরেকটা বাসে কিংবা রিকশায় ওঠি। মাঝে মাঝে হেঁটেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাই। হাঁটতে ভালো লাগে। হাঁটলে নিজেকে সময় দিতে পারি, নিজের সঙ্গে নিজে কথা বলতে পারি। অফিস শেষে মধ্যরাতের যখন শুরু, আমি ঢাকার এক মাথা থেকে আরেক মাথায় হেঁটে যাই। আমার অধিকাংশ কবিতা হেঁটে হেঁটে লেখা। কবিতা আমি প্রথম লিখি মাথায়, মস্তিষ্কের পৃষ্ঠায়। কিছু হয়তো হারিয়ে যায়, কিন্তু অনেক কিছু থাকে। একজন কবি ও তার কবিতার ভেতরে আরও হাজারটা কবি ও কবিতা জীবনের ভেদে হারিয়ে যায়। সেখানে প্রত্যেকে একক, যাপন আলাদা বলেই কবি আলাদা আলাদা, কবিতা ভিন্ন ভিন্ন।

সাহিত্যে রাজনীতি ব্যাপারটাকে কিভাবে দেখেন?

মা.স: এখানে দুটা জিনিস আছে, সাহিত্যের রাজনীতি আর সাহিত্যিকের রাজনীতি। সাহিত্যের রাজনৈতিক ব্যবহার সব সময়ই ছিল। আমরা না চাইলেও এটা হয়। একটা উদারণ দেই। যে নজরুল লিখলেন ‘হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন?’, সে-ই নজরুল লিখলেন, ‘এক আল্লাহ জিন্দাবাদ’। প্রথম শব্দগুচ্ছগুলো যারা নিজেদের অসাম্প্রদায়িক পরিচয় দেন তারা দেদারসে বলেন ও লিখেন, আর ‘এক আল্লাহ জিন্দাবাদ’ তো বাঁশেরকেল্লা টাইপ পেইজে চোখে পড়ে। ‘এক আল্লাহ জিন্দাবাদ’ এর সঙ্গে হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মের লোকেদের দ্বন্দ্ব নেই, কিন্তু মুসলমান উগ্রদের অমিয় এখন এই বাক্য। আবার পড়ে দেখি, এই ফুল ঠিক কেমন ফুল? বারবার ‘ওরা’ বলতে নজরুল কাদের বুঝাচ্ছেন?- ‘ওরা কাদা ছুড়ে বাঁধা দেবে ভাবে, ওদের অস্ত্র নিন্দাবাদ/ মোরা ফুল ছুড়ে মারিব ওদের, বলিব- এক  আল্লাহ জিন্দাবাদ’।

আবার দেখুন, সম্প্রতি গাইবান্ধার সাঁওতালদের ঘর উচ্ছেদ করে সেখানে লাঙল চষে দেওয়া হয়েছে, দেড় হাজারের মতো ঘর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, ঘরগুলো পুড়িয়ে ট্রাক্টর দিয়ে মাটি সমান করে দেওয়া হয় হয়েছে। নাসিরনগরে হিন্দুদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এইসব দেখে যিনি চুপ থাকেন তিনি জনপ্রিয়তার মোহে আছেন, কোন ধরনের পাঠক হারাতে চান না তিনি! দলীয় বা নির্দিষ্ট মতাদর্শিক রাজনীতির পেছনে যাওয়া নয়, অন্তত সত্য বলাটা শিখতে হবে।

বাংলা কবিতায় কলোনিয়াল হ্যাংওভার বিষয়ে আপনার মত?

মা.স: এইতো কয়েকদিন আগে নোবেল বিজয়ী বব ডিলানকে একজন আবেগের চোটে এ সময়ের লালন বলে ফেলেছেন। আমরা নিজেদের শক্তি সম্বন্ধে সন্দিহান, নিজেদের পরিচয় নিয়ে দ্বিধায় ভুগি, নিজেদের সম্পদের প্রতি অনাস্থা। অনুবাদ সাহিত্যের কথা ধরুন। বিদেশি কবিতা বাংলায় অনুবাদ হয়, বাংলা কবিতা ইংরেজি হয় না কেন? অথবা ইংরেজি জানলে ইংরেজিতেই কবিতা লিখুন না! এটাকে অভিনন্দন জানাই আমি। কিন্তু ঢাকায় এখন লিট ফেস্ট হয়, সাহিত্য উৎসব আর লিট ফেস্ট যে এক জিনিস নয় এই দূরত্বটুকুই অপ্রীতিকর।

আপনার প্রিয় কবি সম্পর্কে জানতে চাই। কেন তিনি প্রিয়?

মা.স: আমার কোন প্রিয় কবি নেই। নিজেকেও মাঝে মাঝে ভালো লাগে না, নিজের হাত পায়ের দিকে তাকালে দুঃসহ লাগে। শব্দকে শত্রু মনে হয়। ঘেন্না হয় লিখতে।

সাহিত্যের ওয়েবজিনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আপনার মতামত?

মা.স: কবিতা লিখা প্রশংসনীয়, কবিতাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়াও প্রশংসনীয়। লিট ওয়েবজিন এই কাজটা করে। মোবাইল, ল্যাপটপ, প্রযুক্তিমুখর এই সময়ে ওয়েবজিনের গুরুত্ব বাড়ছে। ফুলে ফেঁপে ওঠা কনজ্যুমার মার্কেটে কেবল কবিতা লিখে আর কবিতা প্রকাশ করে মানুষের মনে ঢুকা সহজ কথা নয়।

 

মাজহার সরকারের পাঁচটি নতুন কবিতা

মানুষের রক্তের দোষে

চিরকাল ভালোবেসে ঘর ভাঙবার প্ররোচনা নিয়ে
আকাঙ্খিত কুসুম যদি জেগে উঠে বলয়ের পারে
আর তার তীর বিদ্ধ করে হিমের দেয়াল
সর্বরিক্ত প্রাঙ্গণ জুড়ে বর্ষার প্রথম কদম
ছড়ায় হাসির ছটা, প্রত্যাশার কাছে ব্যর্থতা তুলে দিয়ে
আমি আর কোন প্রীতি নিয়ে রাস্তায় ঘুরবো?
দুই চোখে ঘুমহীন রাত নিয়ে অসহ সময় গুণে
সোনার কাঠির স্পর্শে খুশির অপেক্ষমাণ বিদ্যুৎ
মানুষের অশ্রুর চোখে, মানুষের রক্তের দোষে
আমি আর কোন সম্ভাবনার প্লাবন এনে অভিষিক্ত হবো?
আমার যা কিছু দেখে হিংসে হয় সব নিয়ে যাও
বিষয়-আশয়, আসবাব, ফুলের বাগান, গৃহের পশু
আকাশের নীল চোখ নিভে যাও যুবতী পাখীর মুগ্ধ বেদনায়।
 
 

উৎসবের কিছুই দেখছি না

এই প্রাপ্তির দিনেও কোন অভিনন্দনের ভাষা খুঁজে পাই না। কী আশ্চর্য, আয়নার উল্টোদিকে চলে যাচ্ছি কোথায়? আমি এই ধাতুর জন্য বুকের ডিমের এতিম চাঁদনি খুলে বসে আছি। এমন যৌথ দুঃখে আজ সারারাত মদ আর গিটার বাজিয়ে কাটাবো, গলায় গলা ধরে কাঁদবো, কান্নার সঙ্গে বুকের গরম রক্ত যেন ছিটকে আসে। এই বিষফলটা আমাকে ডাকছে। কালো চিকন ভ্রমরটা এসেছে। এখন এই ভোরের হাওয়ায় আমি কিছুক্ষণ নাচতে চাই। খট খট করে বলয়ের হাড় তুলে শেষবারের মতো পৃথিবীর ভোরবেলাকে শুভেচ্ছা জানাতে চাই। এখন এই নিঃশ্বাসের আগুন দিয়ে একটা ছায়াপথ তৈরি করবো। এমনই করে হয়তো একদিন বুকের উল্টোপিঠে সূর্য উদিত হবে। আমি এখন সবাইকে উপেক্ষা করে যাবো। এই প্রাপ্তির দিনেও আমি উৎসবের কিছুই দেখছি না। আসলে আজ আমাদের পকেটভরা রাজার মুখ।

 

অগণ্য শ্বেত সিপাহী

খুলে দেখলাম, ভাঁজ করেও দেখলাম
আমি তাকে আগলায় দেখলাম
মুহূর্তের চকিত বিস্ময় জলে চকিত মাছের
রক্তিম নিলয়ে রক্ত ধমনীর পরিখায় ঘেরা
অগণ্য শ্বেত সিপাহী কণিকার
নিবিড় প্রহরী স্নায়ুর মর্মর দূর্গে দেখলাম―দেখলাম
হ্রদের বুক থেকে তাকায় উল্লসিত বাঘ।
পাহাড়ের নখ চিরে বনগাছের তলে
জনপদে, এখন কে আসে সোনালু শস্যের ময়দানে অলস হেমন্তে
কৃষকেরা মাথায় ফসল নিয়ে চলে
খালি পা কৃষাণকামিনী সন্ধ্যার দীপ হাতে আনত কুটীরে
এ সবই প্রাচীণ গঙ্গোত্রীর স্রোত
নিহনন ও নির্মাণের কথা, শুনলাম
ভেতর থেকে আমি তাকে হো হো করে নিয়ে যাবো
তাকে বুঝি হাতের রেখায় তুলে নিবো―আর
আতঙ্কিত বোকা প্রহরী বালুর উপর উর্দ্ধমুখ উট
আমি দেখলাম―মেঘের উপর দিয়ে ধাবমান―ধাবমান

 

আবার কেঁদে ফেলবো

আমার কাঁধে সূর্য, দুই বাহুতে দুই সমুদ্র
বিবৃতির এতো ছড়াছড়ি, প্রত্যয় ঘোষণার এতো কাড়াকাড়ি
অথচ আমাদের হৃৎপিণ্ডে যখন আঘাত তখন আমরা নিশ্চুপ?
আমাদের মিলিত কণ্ঠস্বরও কোথাও এসে দূষিত হয়ে গেছে
সমষ্টি হয়ে গেছে চোরগোষ্ঠীর আঁতাত
দুই তিন জনের বেশি একসঙ্গে দেখলেই এখন সন্দেহ হয়,
আবার কেঁদে ফেলবো, যদি শিশুর মতো ছুঁয়ে দিতে পারো
যদি চোখে চোখ রেখে গেঁথে দাও স্বপ্ন
হাত পা ছড়িয়ে কাঁদতে বসে যাবো
সীমাবদ্ধ মানুষের অনুগত ঝরা পাতার লজ্জায়
বৃষ্টির মতো আরও একবার কেঁদে ফেলবো
চিৎকার করবো যে পর্যন্ত না কেউ শোনে
অকস্মাৎ বধ্যভূমি কাঁপিয়ে নিজের বিরুদ্ধে নিজেই হাসবো
আয়নায় পিতার মুখ দেখে থু থু ফেলবো
সব ক্রোধ ঠিক এইভাবে মাতাল মহিষের মতো ছুঁড়ে দিয়ে
তোমাদের দিকে হেকে উঠবো―শালা বানচোত।

 

সাতটি অসাড় হিম দেহ

দেখো, দিব্য পুরুষের ভোরবেলা আলোর সৈন্য এসে
সামরিক সম্মানে এখানে দাঁড়াবে
ঘোড়ার পিঠ থেকে কেমন তারার
নদী থেকে ফেরা ভেজা গরুর মতো
রাতের খচ্চরগুলো পাহাড়ের উপত্যকায়
শান্তিতে হাওয়া খাবে,
আগুল জ্বলে, আগুল জ্বলে নির্বাক হিমের
নগরের শর্বরী ছড়িয়ে রয়েছে পড়ে সাতটি অসাড় হিম দেহ
লেগে আছে অনুচ্চার শেষ ভঙ্গি ঠোঁটে
হাতগুলো উপরে মুড়ে
আমার কেবলি মনে হয় লাশগুলো জেগে উঠছে না কেন?
কোমর হাতড়ে পকেট থেকে তাদের সোনার মুদ্রা নিয়ে গেছে
সন্ধ্যা শেষে দশটি পয়সায় তবে
একটি গরম রুটি পাওয়া যাবে।
প্রাঙ্গণে সাত সাতটি লালরঙ জমাট নিসাড় দেহ
শুনছে কি কান পেতে অনন্ত পাবকের
অবিনাশ বিনাশী উতরোল জড়িয়ে উঠে সহসা
আমার কেবলি মনে হয় লাশগুলো জেগে উঠছে না কেন?

লেখা সম্পর্কে মন্তব্য

টি মন্তব্য