home বই পরিচিতি ‘দীর্ঘ স্বরের অনুপ্রাস’ নিয়ে নুসরাত নুসিন

‘দীর্ঘ স্বরের অনুপ্রাস’ নিয়ে নুসরাত নুসিন

                      পায়ে অবলুপ্ত নাচের ঘুঙুর

কবিতাকে ভেবেছি লীলায়িত গোপন। আর পানশালার সেই চুম্বকত্ব যেখানে আপনি আক্রান্ত হবেন জেনেও অন্ধ বেগে ধেয়ে যাবেন। ঠিক আগুনের দিকে ছুটে যাওয়া পতঙ্গপাপড়ি যে কিনা মৃত্যু সুনিশ্চিত জেনেও গতিতে প্রণয় ওড়ায়। পতিত হতে হতে জেনে যায় মগ্নতা অন্ধত্ব নয়, মৃত্যু নয়, প্রবলভাবে বেঁচে থাকাও।

ফেসবুকে বায়োগ্রাফি বলে যে জিনিসটা থাকে তাতে একদিন লিখেছি, রক্তপথ ধরে পিছলে পড়েছি হঠাৎ। ওটা রক্তধারারও উৎস। আমরা সমপথে গড়াচ্ছি।

চোখ থেকে পৃথিবী কতোটা দূরবিন্দু? হা,হা… আকাশ দেখতে দেখতে প্রসারিত আয়না দেখে ফেলেছি! আর চোখের গহবরে একটাই তো মিলিতবিন্দু-মানুষ। এখানে কে কাকে দেখাবে অন্ধকার! চোখভর্তি ফুটো, বহু বিন্দু, দূরবিন্দু…। যাবতীয় রূপ আয়নাস্বরূপ। ফেনার জাদু!

কিন্তু মানুষ তো সূর্যের মতো- তার প্রদিক্ষণ লাগে পৃথিবীর।

খেয়াল করেছি, কবিতা লেখার প্রাক্কালে আমি কোনো বিস্ময়চিহ্ন, প্রশ্নচিহ্ন দ্বারা তাড়িত হইনি। পৃথিবী, আমি আর যা কিছু অমিলন-সবটুকুকে নিপাট সমতল মনে হয়েছে। কেবল বিদারক চোখের কাছে ফণা ও ফলারা ঝুলে থেকেছে তরমুজ ফলের রঙে। আমি দেখে ফেলেছি, দুঃখ একটা কাচের সাঁকো। আর এমন প্রতিফলনে চোখ রাখা সত্যি পিচ্ছিল। আমার আছে একান্ত আত্মা-তাকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই রক্ত গড়ানো হিম কোনো ক্ষতের ছায়া থেকে। আমি অন্ধকার পান করা মেয়ে- আমার আছে নিজস্ব লণ্ঠন।

ব্যক্তিকে বর্ণনার জন্য দরকার পড়ে ঘটনা, কার্যকারণ, স্মৃতি। কিন্তু আমি কেবল অস্তিত্ব হতে চেয়েছি। অস্তিত্বের সংকট। সংস্পর্শ। আনন্দ। আমার বর্ণনার জন্য দরকার পড়ে তাই কবিতা। জোনাকির ডানার নিচে যে জীয়ন্ত অন্ধকার আর অবধারিত খাদের প্রমাদ- তার সঙ্গে নিজেকে গুলিয়ে ফেলেছি একদা। তারপর সংশয়ের প্রতিটি আঙুল তাক করেছি নিজের দিকে। অবশেষে রক্তের স্রোতের মতো নিজেকে নিক্ষেপ করেছি কবিতায়। আমি কোনো সাজঘরে নির্মিত হইনি। নিজেকে পান করে হতে চেয়েছি নিজের সর্বনাম!

দহনের চূড়ান্ত মীমাংসাকে কবিতা বলা যেতে পারে। এই শূন্যতা ও মর্মান্তিক মর্মের চত্বরে দাড়িয়ে আমি কেবল আক্রান্ত হতে চেয়েছি। তৃষ্ণায় পাপ ছিল কিনা জানি না! পায়ে পূর্বজন্মের অবলুপ্ত একখানা নাচের ঘুঙুর। অজস্র নাচশালা, সুরা ও সুরপথ পেরিয়ে চলেছি। কিন্তু ঘুরে-ফিরে আবিষ্কার করি, আমি নির্দিষ্ট পৃথিবীতে একটি নির্দিষ্ট জায়গার মধ্যেই রয়েছি। খুব স্থির আর খুব নীরব।

                        – নুসরাত নুসিন


                   ‘দীর্ঘ স্বরের অনুপ্রাস’ কাব্য থেকে কবিতা

 

কিরিচের গান

দেখে ফেলা স্বপ্নের দরজায় চাবুকের হিরণ্ময় গান ঝুলে থাকে
অমীমাংসার হাওয়া বেয়ে দিগন্তরেখা চলে গেছে রুঢ় অস্তকালে

এইসব মগ্নদিনে ঈশানের আকাশ ছেড়ে কাফনে মোড়ানো এক তানপুরা ধরেছি। নিজস্ব আঙুলে এমন এক সুুর-এমন মাধুর্য পরিবাহী-এখন খসে পড়া উড়ন্ত পাতাটির হলুদ শিরা বেয়ে নিচে নেমে যেতে পারি আমিও।

নিঃশব্দ পতন বুঝে নেবে নিঃশব্দ পথের ইশারা

একটি সচল ঘোরের রেখা ঘূর্ণিপাক তৈরি করতে করতে গতিশীল যাত্রারাম্ভ করে আর আমি সেই ঘূর্ণায়মান গতির শিকার, বক্র ও বেগের শিকার, স্থিত আবাহন, সুর ও সুরার শিকার। চোখ চক্রকাল ডুবে আছে শীতে-বরফ নিঃসৃত অনিন্দ্য কিরিচ কামনায়।

এইসব মায়াপ্রহরের শীতকাল শেষে কিরিচের গান নিয়ে আমি এখন ফিরে যেতে চাই

 

 

পদ্মানগর

দেহের সামনে পদ্মানগর-

সন্ধ্যা নামলেই প্রায়ান্ধ অন্তঃপুরে গৃহবাসনার মতো জ্বলে ওঠে। ক্রমাগত অনাগত দিক ও উলম্ব ইশারাপথে একাগ্র নিবেদনে ডেকে ওঠে, জলে চরে খাদে এই যে অন্তঃপুরের দরিয়ানগর, মধ্যরাতের দুর্বিনীত বিনয়ের মতো চকচকে চোখের প্রান্তরে যুক্ত হচ্ছে নরম মোমের মতো অনুক্ত আগুনপাঠ, দাহ্য ও দহন, পিপাসা ও প্রাপক এবং আধুনিক প্রতিস্থাপন ছাড়াই আমি কি আশ্চর্য সুতোয় বাঁধা পড়ে যাচ্ছি। আর অস্তরাগের সংবেদনা শেষে জানা গেল, আগুন তার চারপাশে ধারণ করে পরিশীলিত নীল, নীলের বাক্সময় গোপন।

আর এ আগুনময় পাঠ শেষে এখন সমস্ত পরিধিজুড়ে সমস্ত নীল পুড়ে যাচ্ছে-রাত্রির নির্মলেন্দু তরল, ছাইকালো অন্তর্বাস, অন্ধকার পুড়ে যাচ্ছে। নির্দিষ্ট আকার ও অবয়ব হারিয়ে প্রিয় পোশাকের মতো প্রিয় দহন উড়ে যাচ্ছে, অদৃশ্যতর-গহীন, বিলীন অথচ আগুনমোম গলিয়ে আমি একটা নদীই নির্মাণ করতে চেয়েছি। যার নাম হবে দরিয়ানগরের চোরাবালি অথবা আসঙ্গ পদ্মানগর।

 

 

ঘূর্ণনবিদ্যা

পুনরায় বিতাড়িত হলাম গোলকধাঁধার ময়দানে। মোহনবিন্দু মাটিপথ প্রান্ত নাই। বার্ষিকী পাতায় অনুপস্থিতি আর ফলাফলের শূন্য যোগফলে বিতাড়িত হলাম পুনরায়। কেন যে নির্দিষ্ট সিলেবাস থেকে আমার কেবলি সরে সরে যাওয়া, দূরবর্তী নীলনদে এগিয়ে এগিয়ে আসা। আর এখন এই সেই ফিরতি মাহেন্দ্রক্ষণ।

তবু আমি কোনো দীর্ঘশ্বাস মুক্ত করি না। বলি না, ভ্রমণের এই একান্ত পরিভ্রমণকে পরিমাপ করা দরকার, তাহলে সুখপাঠ্য একটা ফলাফল পাওয়া যেতে পারে। অভিকর্ষ কামনা, প্রান্তবিহীন মোহন রহস্য, নীলনদ ও মানুষ, কেন্দ্র, একাকীত্ব… আনমনে খেয়ালের ধ্যান নিয়ে ঘূর্ণনবিদ্যা, ভূকম্পন, পতন… এসব। চোখের ভূগোলে সহস্র দুপুর জমা হয়।

আমি তবু কোনো দীর্ঘশ্বাস মুক্ত করি না। বলি না, বিতাড়িত করার পরও আরেকটি পাঠ পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে…

 

 

ঘাসেদের নিজস্ব আলো নেই

সুপ্ত রাতের পরে সকাল বিন্যন্ত হলো অধিক কুয়াশায়। আলো যেন আলো নয়। আলো আছে-মানুষ যতটুকু আলোয় ছায়ার শরীর নিতে পারে আর জীবগুলো উকভূক প্রেতের। ওরা উদিত সূর্যের দিকে হেঁটে যাচ্ছে, অনির্ণেয় রঙের প্রার্থনায়-

ভোরের অতলবর্তী সংকেত বেজে উঠলেও অবিন্যস্ত গাছেরা নিরন্ত নীরব। সকালকে সান্দ্র সঙ্গী করে দেখেছি, ঘাসেদের নিজস্ব আলো নেই কোনো। আর রাত শেষে আগে আড়মোড়া ভাঙে কেবল জীবেরাই। চরাচরে তার পদধ্বনি বাজে দুরন্ত।

উদীয়মান সূর্যের দিকে রঙের রঙধনু। প্রান্তরে উদ্বর্ত সবুজ, তার উপরে সাদা আর অন্যসব রঙের উপরিক্রম। থেমে যাই-এ কী পরিশ্রুত আলোর সাদা না পরিশীলিত ভ্রমের বিভ্রম! যেখানে ভ্রমবেশে মানুষগুলো ছায়া হয়ে হেঁটে যায়। প্রেতেরা চেয়ে থাকে-আর নিস্তরঙ্গ গাছগুলো একে একে অধিক দূরত্বে দাঁড়ায়।

 

 

ঝিনুকফল

ঝিনুকফলের গল্প শুনি-খোলসে জমা তার পাথরকুচি নিঃশ্বাস। শীত নিঃসৃত রাতদুপুরে একরঙা অবগুণ্ঠন, বরফ বরফ কুসুম ফুটলে রাত ও চোখ ডুবে যায়, হিমমুদ্রা থেকে উঠে আসে ধীবর ভঙ্গিমার নাচ।
উন্মাদনা নিপাট সাদা হলে মুদ্রার ভঙ্গিতে কী কী থাকে? সহজ সহযোগী হয়ে ঝিনুকফলের গল্প শুনি।

২.
সন্ধ্যার সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলে লবণাক্ত খাদ ও চর পেয়ে যাই। ঝিনুকফলের গল্প জমে ওঠে-বুঝলে, তীব্রতায় সন্ধ্যার গা বেয়ে আমরা কই কই চলে যেতাম! নতুন রাস্তার অবদমন ফুরাত না। জলের তাড়ি খেয়ে বিভিন্ন মুদ্রা করতাম আর আমাদের পরোক্ষ অঙ্গগুলি বহিস্রোতের তরঙ্গ শুনে প্রতিধ্বনি করত-তোমাদের ভেতর পৃথিবীর খুব কাছে যেখানে ভৌগোলিক স্পন্দন তার ঠিক নিচে জাদুঘরে সুপ্রাচীন খাদ ও স্মৃতিচিহ্নগুলি জমা আছে। সুযোগ করে দেখে নিও। মুদ্রাখচিত হরফে লেখা আছে ঝিনুকফল।

পুরাতন রাস্তায় ফিরে এলে আমাদের বিভ্রম কেটে যেত। জাদুঘরে যাওয়া হয়নি কোনোদিন। তবে আমাদের প্রত্যেকের ভেতরে পক্ব আর স্পষ্ট হয়ে উঠত লবণখচিত ঝিনুকফল।

 

 

জোনাকি, আগুন

পৃথিবীতে নিরশ্রু আলো ঠিক কোন পথ ধরে আসে? এই পথে শান্তিনগরের কুটির, গুচ্ছ জোনাকগ্রাম কতদূর?

ঘুম ভেঙে আলো আসে তবু

এই প্রশ্ন একদিন নিজস্ব বাতাসে মুহুর্মুহু আছড়ে পড়েছিল। ঈশানের নিশানা ধরে বহুদূর যেতে না যেতেই জানা গেছে, জোনাকির কোলে বসে আছে থইথই অন্ধকার, পথে পথে প্রতিসরণ ছড়িয়ে জেগে আছে তারা-জ্বলে ওঠার, উজ্জ্বলসম আলোর বাসনায়।

ঘাসের অনুজ পাতারাও সমতলে বিছানা বিছিয়েছে উপরিতলে আকাশ দেখবে বলে।
ডানাহীন
নক্ষত্রহীন
ছায়াপ্রতিম
তারাটি জেগে থাকে,
রাত্রির মতো নীরবতায়,
জোনাকির মতো পিদিমগুলো কতটা জাগায় জীবনআগুন!

 

 

প্রস্থানবিন্দু

এইমাত্র খসে পড়া উড়ন্ত পাতাটির হলুদ শিরা বেয়ে কান্না নেমে আসে। ঝলকে ওঠে হঠাৎ
মৃত্যুর উলম্ব ছবি।

এই পাতা কি বয়োঃবৃদ্ধ গাছের আত্মাছবি? সহস্র হলুদ আর্তনাদ! একটি সমতল ভূমি বরাবর এইসব পাতাই কি ক্রমশ সমাপ্তিবিন্দু

আর দুঃস্বপ্নের মতো অবশিষ্ট?

 

 

গোড়ালিব্যঞ্জন

তুমি তো ভেতর, ঝিনুকফল-সুপ্তশিখায় যা কিছু মুহুর্মুহু গোপন। ছড়িতে দুই চোখ রেখে দিকচিহ্নের অনুনয় ভাঁজ খোলে অন্ধ, পায়ের গোড়ালিতে ব্যঞ্জন ছাপ রেখে তুমিও উদগ্র। পথ খণ্ড খণ্ড-তুমি কেমন বিভ্রান্ত হয়ে যাচ্ছ।

বসন্তপ্রণোদনায় কোকিল নামের পাখিগুলো নির্দিষ্ট মত্ততায় ডেকে ওঠে। এখন তোমার গোড়ালিব্যঞ্জন বসন্তব্যঞ্জনের অধিক। বিভ্রান্তিতে স্বাভাবিক চোখ রেখে সপাসপ হেঁটে চলো।

কে কাকে দেখাবে অন্ধকার? সুপ্ত শিখায় তাই উদগ্র টান। মাছের খলইয়ে প্রত্যাশায় তাকালে কী রকম অবিশ্বাসী করোটি আর চোখ ধেয়ে আসে। এ কেমন আলো? হঠাৎ আলো পড়া কালোর সাদায় চকচক করে! আলো আছে তবু সে আলোকিত নয়। শয়তানের মৃত চোখ মৃত নয়! তার হাত রাবারের মতো দ্রুত বাড়ে।

এইভাবে রাতের নিয়তিতে ভ্রমণ এগোলে তোমার পা ও পথ সম্পূরক হয়ে ওঠে। উদিত সূর্যের পথে অপেক্ষা করো। শয়তানি বারুজের মতো ওইসব চঞ্চলতা ভোরের আগেই দিকচিহ্নহীন ফুরিয়ে যাবে। তোমার চঞ্চল বিভ্রান্তি আরেকটি দিনের আগেই গন্তব্য খুঁজে পাবে।

 

 

বিন্দুবিসর্গ

আমিই মুখাপেক্ষী-আবর্তরেখায় বিন্দুবিসর্গ, অর্ধবৃত্তাচারী। একটি বই ভেবে উন্মুক্ত হলো গাণিতিক চক্রাকার শরীর। গোপন পৃষ্ঠা খুলে উন্মোচন হলো বাৎসায়ন বিদ্যা-এ ভাষা পৌরাণিক, মানুষের জানা। ভ্রমণ হলো কত পথ? কত হাত ঘুরে সময়ের নীল চাষ? অস্বচ্ছ আয়নার ভেতর দিয়ে সোনালি সুড়ঙ্গ খনন! এইখানে নয় অন্যখানে অথবা অনতিদূরে আড়ালপ্রপাত, খুদকণা, ক্ষুধা, শরীর উন্মনা! বৃন্দাবনে প্রেমজ কুটির, ক্ষণকালে দরজা অটুট। অতঃপর আব্রুর এক একটি বোতাম আমিই খুলি-এখনো ধরা দেয় নাই। অর্ধেক পুরুষের মতো-অর্ধেক কল্পনা।

আনমনে খেয়ালের ধ্যান নিয়ে ঘূর্ণনবিদ্যা কতটুকু পেল স্থিরতা? যুগান্তর যাত্রার অমোঘ আহ্বান? অমরত্ব, জলাধার? নাকি পায়ের গোড়ালিতে অন্ধ প্রণোদনা রেখে এতক্ষণে জানা হয়ে গেছে-সকল গন্তব্যরই শীত ও আনন্দ এক। যাওয়া ও আসার পুরাতন রেওয়াজ।

এখন কেন্দ্রীভূত গান। তীর থেকে ক্রমশ সরে যাচ্ছি দূরে। মুখাপেক্ষী আমিই-অর্ধবৃত্তাচারী।

 

 

মায়ামন্দ্র

ভোরের বর্ণিল তোরণ পেরিয়ে ভীষণ একেকটি দিন।
দিনেরও শরীর আছে, তাপ আছে। মৃত্যুমগ্ন খাদ আছে।

তবু সে হাওয়া পেলে ওড়ে। হাওয়ার ভেতরে আড়াল পেলে আরো বেশি বাঁচে আত্মগুণ্ঠনে।

হাওয়া, তোমার অন্ধ কুটিরে মায়ামন্দ্র এ কার মুখ? মুখের অবতলে প্রতিদিন ছায়ায় দেখি তাকে।

আলোয় দেখি না।

লেখা সম্পর্কে মন্তব্য

টি মন্তব্য