১
একটা ঘরে, সন্ধ্যার পরে, যা যা হয় তা যদি জানতে, মন ভরে শান্তে। একটা ঘরে, সন্ধ্যার পরে সকলে নামাজ পড়ে । দোয়া দিয়ে ফুঁ দেয় বোতলে, সেই ফুঁতে আছে জ্বালার কারবালা। ফু পর্ব শেষে পান পর্ব শুরু । একটু একটু করে , নিচে না ফেলে, শাফি মাফি বলে, যাবে জঠোরেতে। তারপরে, বাসন কোসন বাজায়ে, দুধ মসলা খুঁজে, হবে চার কাপ চা । একসঙ্গে বসে, সকল গল্প বানায়ে , গেলা হবে চায়ের সাথে, অর্ধেক স্যুডো গল্প গিলেই, জঠোর ভরাট । উঠে পরতে হবে তরাত তরাত ।
২
রক্ত ওসেন ব্লু দুখ্যের ভয়ে নির নির করে, হাত থেকে পায়ে, শীত শীত করে। আকুইরিয়ামে, জল পাল্টাতে গিয়ে, একটা একটা মাছ তার বাসস্থান চেঞ্জ করে । অন্য থালায় গিয়ে ফুরুত ফুরুত করে । কখন দুঃখের ভয়ে তবে রক্ত নির নির করে? যখন সব মাছ শেষে, একা আকুইরিয়ামে, একটা মাছ ছোটাছুটি করে । বেশ ভয় লাগে, পাছে ট্রমা না লাগে তার ছোটটো ছোটটো গায়ে, পাখনায়ে ।
৩
আমি একজন বুড়া, সুখী মানুষ দেখতে পাই, যে সুখী বাতাসে শ্বাস নেয়, সেই বাতাসের রং ওসেন ব্লু, সেই বাতাস এসে তার গায়ে হাগ দেয়, দীর্ঘ-হ্রস্ব হাগ, থেকে-থেকে, বহুবার। সেই বাতাসে গাছ কাঁপে, বড়-ছোট গাছ, ইনডোর, আউটডোর প্লান্ট, সেই গাছের কাঁপুনি দেখে, হ্রস্ব-হ্রস্ব মাছ কাঁপে, জলে। মাছের কাঁপুনিতে, পুকুরের হৃদয় ছলছলে, চাষির চোখ কাঁপে জলে, বড়শি কাঁপে-কাঁপে, মাছস্থলে। একটা মাছ লাল-ফিতা মাথায় আকাশে, কৃষ্ণচুড়া গাছে দোলে।
৪
একটা ছিলো ফুলিশ কন্যা
ঘুমঘোরে ডুবে যায় তার আত্মা
আত্মা যাবে নদীপথে
রিহ্যাবে তার বাবার কাছে
স্বপ্নে ভাবে উঠবে জেগে মরা
৫
ছোটকালে বাবার কোলে, হাফ লেংটা হয়ে
গরমের রাতে আমার সাথে হেঁটে চলে যেই
শুভ্র গোলক, তার নাম চাঁদ। বাবা বলেছিল
পৃথিবীর শেষে আছে এক চাঁদওয়ালা ছাদ
এইখান থেকে হাঁটতে হাঁটতে চলে গেলে সেইখানে
আমাদের সাথে যাবে এই চাঁদ।
চাঁদের সাথে যেতে যেতে পাবো এক জলে স্যাঁতস্যাঁতে দেয়াল
সেইখানটায় পৃথিবীর শেষ ।
শর্ত একটাই হাঁটতে হবে রাতে ।
বাবার কথা মনে রেখে সিদ্ধার্থ জ্যোৎস্না রাতে
হেঁটে ছিলো নির্জন পথে
তার পায় কুল কুল নদী বয়
ঝর ঝরে পাতা ঝড়ে
বায়ু বয় রক্তের মতো শিরশিরে
আজ মহামারির সময়ে জ্যোৎস্না রাতে
চাঁদের উপযোগ নাই
তবুও আমাদের মন পূর্ণ চন্দ্র দেখে মুগ্ধ হয়ে
দাড়ায়ে ভাবে, কেন লাগে কিনকিনে টান
কোন সম্পর্কের সুতা হয়েছে অম্লান?
একদিন, মরণের আগে, সম্পর্ক হবে নিরূপণ
চাঁদের সাথে আমার, বায়ুর সাথে আমার, ভূমির সাথে আমার ।
চাঁদ আমাদের চেনা পরিচিত, মাটি মাটি গন্ধ, মৃদু মৃদু আলো
পথের বনে পাথরকে মোতি বলে মনে হলে
মহামারির সময়ে টাচ টর্চ জ্বালায়ে দেখি শাপ মোতি
মহামারিতে চাঁদ আমার মাঝে পড়েছে ছেদ
তবুও দেখলে থমকে দাঁড়াই
এই চাঁদ মামা আমার কপালে দিয়েছে কাজল কণা
তাঁকে দেখে সমীহ করে চলি
চিনি, সম্পর্কও আছে, হৃদ্যতার তন্তু কিন ।
তবে আজ মহামারি লগ্নে পুরনো তন্তু ধরে আনি
কাল রাতে ঘুমায়ে ছিলাম চাঁদ রূপ নানুর পাশে
চোখ মেলে, উপরে দিয়ে, দেখি
থাই গ্লাসে চাঁদ। প্রতিদিন দেখি তবুও আজ
সরায়ে দিয়েছি গ্লাস।
ত্রাসরেণু মাঝে মোক্ষবাণী দিয়েছে ঢালি চাঁদ
শরীরে মনে, ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ে পড়েছে ছড়ায়ে সব
এখন আমি আর চাঁদ, নাচি বল ডান্স, করি
সেসব গল্প যখন ছিলো না কোনোও বই
স্মৃতি নয়; নসতালজিয়া নয়;
সত্য সত্য হয়।

তাসনুভা তাজিন তুবা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। দ্বিতীয় বর্ষ। এছাড়া ‘পালাই পালাই’ নামক একটা লিটল ম্যাগের সম্পাদক ।
























