home কুকুর সংখ্যা সাথুয়া ।। ফারাহ্ সাঈদ

সাথুয়া ।। ফারাহ্ সাঈদ

কষে একটা লাথি মারতে পারলে ভাল লাগতো। এখন’ই। ঠিক পেছনটায়! এতো জায়গা রেখে কিনা এই প্রতিবেশীর বাড়ির দরজায় হিসু করতে হবে! যাক নতুন চাকরি,তাই কিছুই বলছি না। আবার কোনদিক থেকে এনিমেল রাইটসের লোকজন এসে ঝামেলা করে, বলা তো যায় না। সুন্দর বাড়িটার দরজা ঠেলে বেরুলো এক সুকেশী বালিকা। বালিকা তো নয়, যেন নায়িকা। নাওমির অপকর্মের জন্যে আমি দুঃখিত, এমন চেহারা করে মেয়েটার দিকে তাকাতেই মুখ ফিরিয়ে নিলো নায়িকা।

সেদিন রবিনের কথা শুনে আমিতো থ! এটা আবার কেমন চাকরি? কুকুর হাঁটানো! টাকা-পয়সা তেমন আর কি। চাকরিটা আমার খুব দরকার ছিল। মাসের বাড়ি ভাড়াটা কোন মতে দিতে পারলেই বেঁচে যাই। সেভিংক্রিম তো দূরে থাক, তারপর দুটো খেতে পারলেই হলো। ছোট দুই চাকরিতে  কী করে জীবন চলে তা শুধু আমি জানি।

মিনিট দুয়েক ইন্টারভিউ। নাওমির বাবা সাথে, ফোনে। গাড়ির চাবি আর নাওমি; দুহাতে নিয়ে আমি বেরিয়ে পড়ি বিকেলে। কুকুর হাঁটাতে গিয়ে গাড়ির চাবি নিয়ে আমি কী করবো? প্রশ্নটা করতে গিয়েও করিনি। তবে কুকুরটার নাম আমার খুব পছন্দ হয়ে গেলো; নাওমি!

এই প্রথম আমি ওকে হাতে নিলাম। শান্ত সে। স্থির। কিছু একটা ভাবছে। বড় গেটটা বন্ধ করে দিতে এলো ওর বাবা। কুকুরটাকে সন্তানের মতোই কাছে রাখেন তা বোঝা যায়। শক্ত করে ধরেছি বেল্টটা। চামড়ার গন্ধ পাই, বেল্টটা নতুন হয়তো। কাঁচা গন্ধ। আমার খারাপ লাগে না। রাস্তাটা  পিচ্ছিল। বৃষ্টি হয়ে গেছে একটু আগেই। নাওমি কোন শব্দ করছে না। ও খুব ধীরে হাঁটে। আমি পেছন পেছন যাই। ও আরো ধীরে হাঁটে। আমি থেমে যাই। প্রথম দিন, ও যে কী চাইছে, বুঝতে পারছি না। তবে কি আলিঙ্গন?  আমাকে এখনও চেনা হয়ে ওঠেনি নাওমির।

ঢালু রাস্তা। আমরা হাঁটছি। এ পথ দিয়ে আসার কারণ একটাই। রাস্তাটা আমি ভাল চিনি। পিজ্জার দোকানে কাজ করার সময় থেকেই। নাওমি শ্বাস নিচ্ছে দ্রুত। থামতে হবে বোধহয়। কিন্তু আমি পারছি না। আরো দ্রুত হাঁটতে হবে আমাকে। আরো একটু পরে ঐ নির্জন জায়গাটা। নাওমির দড়িটায় টান পড়লো! আর বোধহয় হাঁটতে পারছে না বেচারী! আমি ইশারা দিলাম। এইতো আর দুমিনিট, তারপর আমার শান্তি। জিপার খুলতে পনেরো সেকেন্ডও লাগলো না। উফ, ওম শান্তি!  ব্লাডার খালি করতে করতে ভাবছি নাওমি কী আমার দিকে তাকিয়ে আছে! ওর কাছে আমার শরমের কিছু নেই। মুখ ফিরে দেখি ও এক পলকে তাকিয়েই ছিল। হাসতে হাসতে বলি- নাওমি, চলো যাই। এবার বুঝলে নিশ্চয়, যেকোন রাস্তায় আমি তোমার মতো দাঁড়িয়ে যেতে পারি না! তাও আবার জিপার খুলে। বুঝলে? এই জন্যে নির্জন জায়গা।

ঘড়ি দেখি। দেড়ঘণ্টা হয়নি এখনও। আমার খিদে পাচ্ছে। রাস্তাটার মোড় ঘুরলেই একটা আইসক্রিমের দোকান। চকলেট-ভেনিলার ডাবলডেকার হাতে নিয়ে হাঁটছি। খাচ্ছি তবু কিছুতেই শেষ হচ্ছে না। দুহাতে আমার গলে গলে পড়ছে চকলেট-ভেনিলা আইসক্রিম। নাওমিকে দেওয়া যেত। ও কি খাবে? নাহ, ওকে এসব খেতে দেওয়া ঠিক হবে না। অদ্ভুত গলে পড়তেই আঠালো ভাবটা বেশ লাগছে আমার। ঠাণ্ডা! কিন্তু শুকিয়ে গেলেই হাতের চটচটে ভাবটা আর ভাল লাগছে না। তাকিয়ে আছে সে। আমি হাত বাড়িয়ে দিই, নাওমি নাক বাড়িয়ে আমার হাত শুঁকতে থাকে। আমাদের কাছাকাছি আসার কারণটা কি শুধুই আইসক্রিম? আমি হাসি। ওকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার সময় ঘনিয়ে আসে। আমরা পৌঁছে গেছি প্রায়। দরজায় ওর বাবা দাড়িয়ে আছেন, হাসিমুখে। গাড়ির চাবি আর বেল্টটা হাতে দিয়ে আমিও এক গাল হাসি নিয়ে ফিরে এলাম। যাক চাকরিটা টিকে গেলো তাহলে।

এভাবেই সোম থেকে শনি, বিকেলটা আমার মন্দ কাটে না নাওমির সাথে। রবিবার আমার ছুটি। সেদিনও আমি ভাবি ওর কথা। আজকাল বিকেলে প্রায় শীত পড়ে, ওকে ডগশপ থেকে একটা সোয়েটার কিনে দেবো ভাবেছি। ওম পাবে নাওমি। মাসের শেষ শনিবার গেলাম ডগগ্রুমিং শপে। সে কী খুশী তার। পুরোটা রাস্তাই লাফাতে লাফাতে এলো। সুন্দর লাগছে নাওমিকে। ওকে কোলে নিয়ে চুমু খাই আমি।

এক’ই রুটিনে চলে আমাদের জীবন। এভাবেই। আমাদের কোন মিল নাই, আবার আছেও। ও অনেকটাই ফ্রেন্ডলি এখন। সোম থেকে শনি, বাবা তাকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দেয়। আমরা হাঁটি অনেকটা পথ। নাওমি ঐ সুন্দর বাড়িটার কাছে গিয়ে করে ফেলে; ঢালু রাস্তাটা পার হলেই আমিও ব্লাডার খালি করি। তারপর আমরা আবার হাঁটি। আইসক্রিমের দোকানে থেমে কখনও ভেনিলা-চকলেট, কখনোবা রেইনবো-কোন খেতে খেতে ফিরে যাওয়ার সময় হয়ে যায়। এখন বাড়ি ফেরার সময় হলেই একবার দৌঁড়ে কোলে আসে ও। নাক-মুখ ঘষে বিদায় নিয়ে বাড়ি ফেরে নাওমি।  রুটিনবন্দী  জীবন হলেও আমাদের বন্ধুতা দিনদিন গাঢ় হচ্ছে বৈকি। আইসক্রিম খেতে খেতে প্রায়শ ভাবি নাওমিকে এক ব্যাগ হাড্ডি কিনে দেবো, আর ডিসেম্বরের শীতে নতুন একটা মেরুন সোয়েটার। ওকে আবার সঙ্গে করে নিয়ে যাবো ডগ-বুটিকশপে।

শনিবার। আজ  বেরুতে ইচ্ছে না করলেও যেতেই যে হবে। দরজার খুলে ওর বাবা দাড়িয়ে আছেন। বেল্টটা আমার হাতে। এখনও কাঁচা গন্ধ। সেকি! তরুণী একটা মেয়ে। নাওমি কোথায়? মেয়েটির গলা পেচিয়ে আছে বেল্ট। নাওমির বাবাকে কিছু জিজ্ঞেস করতে গেলে তিনি হেসে বললেন- কী ভাবছো, নাওমিকে নিয়ে হেঁটে এসো। কথাটা বলতেই মেয়েটা সুরসুর করে দরজা থেকে বেরিয়ে আমার পাশে এসে দাঁড়ালো। মাথাটা কেমন ঘুরছে আমার। কুকুরটাকে আশপাশে খুঁজি। জানালায় উঁকি দেই। না, নেই কোথাও। দড়িটা টেনে লাফিয়ে চলছে সে, নাওমির মতোই! বেল্টটা ছেড়ে  দ্রুত হাঁটতে থাকি। মেয়েটা পিছু নেয়। ঢালুতে থামি, সেও। দ্রুত হাঁটি, দৌঁড়ে পালাতে চাই! মেয়েটা পিছু নেয়। মেয়েটা কেবল’ই আমার সঙ্গে হেঁটে আসে। চাকরিটার কথা ভেবে বেল্টটা হাতে নেই আবার। মেয়েটা এগিয়ে যায়। পেছন পেছন হাঁটি আমি। উঁচু-নিচু রাস্তা পেরুই আমরা। নাওমিকে মিস করি। কোথায় নাওমি? আমি জিজ্ঞেস করি মেয়েটাকে। সে হয়তো বোবা। কোন উত্তর নেই। দুবার জিজ্ঞেস করি। আমার দিকে তাকিয়ে ফের মুখ ফিরিয়ে নেয়। ওরা কী তাহলে নাওমিকে কিছু একটা…! না না, এসব ভাবতে চাই না। মেয়েটা কোন কথা বলে না। লাফিয়ে চলে। ঐ বাড়িটার কাছাকাছি আসতেই এগিয়ে যায় সে। আমি মুখ ঘুরিয়ে ফেলি। ও বসে পড়ে প্রতিবেশীর দরজায়। শব্দ পাই। শেষ হয়ে এলে উঠে আসে। এও কী সম্ভব! এমন একটা মেয়ে এভাবে বাইরে বসে! আশপাশে কেউ দেখলো কি না ভাবি। কিংবা ঐ বাড়ির সুন্দরী মেয়েটি। ভাবছি, কে এই মেয়েটি?

হাঁটতে শুরু করি। আমার তলপেট ভারী হতে থাকে। কিন্তু না, আমি আজ  থামবো না। ঢালু রাস্তাটার পর আমি থামবো না। মেয়েটা শ্বাস নিচ্ছে দ্রুত, নাওমির মতোই। অবিকল ওর মতোই শব্দ করে। তবে কি এটাই নাওমি? ভুল দেখছি কি আমি? ফিরে তাকাই। একটা মেয়ে। কুকুর আদলে হেঁটে চলা একটা মেয়েই তো সে। টান টান পেট আমার ভারী হয়ে আসে। আর হাঁটতে পারছি না। অনেকদিনের অভ্যাস। রুটিনে চলা মানুষ। আমি কী তবে এই মেয়েটার সামনেই! ব্লাডার ফেটে যাবে এখন’ই। ঢালু রাস্তা পেরুতেই আমার চাপ আরো বেড়ে যায়। আমি দৌঁড়ে যাই নির্জনতার কাছে জিপার খুলে ফেলতে। পরমানন্দ! আহা! শেষ হলে চোখ মেলাই না মেয়েটার সাথে। তবে আড়চোখে দেখি। নাওমির মত সেও যে পলক ফেরায়নি আজ । শিট! কালকেই চাকরিটা ছেড়ে দেবো। ফিরে যাবো দেশে। কিন্তু গিয়ে কী করবো? ঢাকায় কে চাকরি দেবে আমায়?  বেকার থাকবো বহুদিন, সেও জানি। বিড়ি কেনার জন্য টাকা লাগবে। হরনাথ ঘোষ রোড। সেই ধোপাবাড়িতে যদি একটা কাজ পাই। এইসব কাজ তো আমি জানি। কাপড় লন্ড্রি করার কাজ। প্রতিবেশীদের মধ্যে শুধু ওরাই যে আমার আপনজন ।

মেয়েটা টান দেয় বেল্টে। আবারো হাঁটতে শুরু করি। খিদে পায়। ভ্যানিলা-কোন কিনি দুটো। ওকে খেতে দিই। ও জিভ নাড়ায় শুধু, গোলাপি হাওয়াই মিঠাই রঙের। গাঢ় লম্বা জিভ। তবে খেতে চায় না। আজকের এই প্রচণ্ড গরমে একটা সেক্সি ভ্যানিলা-কোনের কোমরকে কোন মানুষ কী না বলতে পারে! কুকুর হলে পারে বৈকি! মেয়েটাকে কুকুর ভাবতে শুরু করি আমি। এখন থেকে। আমি ইনসেন, নাকি নাওমির বাবা? হয়তো মেয়েটাও। পুরো কুকুরটা কেটে মেয়েটাকে খাইয়ে না দিলে এমন আচরণ করে কী করে সে! এনিমেল-রাইটস কে খবরটা আমি দেবো ভেবে রাস্তা পার হই। আমার চটচটে হাতটা আজ  আমি বাড়িয়ে দিই না। তবুও নাক বাড়িয়ে আমার হাত শুঁকে নেয় মেয়েটা। দ্রুত সরে যাই। আহা কুকুরটা, নাওমি কোথায় তুমি এখন? ভাবতে ভাবতে ওদের বাড়ির কাছাকাছি চলে আসি। ও কাছে আসে। না, আমি চাই না মেয়েটা আমার কাছে আসুক। ঘেমে গেছি অনেকটাই। গোসল হয়নি সকালে। সে দৌঁড়ে চলে আসে। আমি আবার সরে যাই, তাও জড়িয়ে ধরে। ওকে ছাড়াতে চাইলাম। নাক মুখ ঘষে বিদায় জানায়, নাওমির মতন। চোখ, মুখ, শ্বাস কোথাও কোথাও নাওমিকে ভাবালেও এই আলিঙ্গন নারীগন্ধী। বুনো। ভাবায় শুধুই। আমাকে ভাবায়।

রবিনকে সব বলেছি বাড়ি ফিরে। দেশ ছেড়ে আসার পর থেকে এখানে সেই আমার একমাত্র বন্ধু। ওকে বলি- আমার সন্দেহ হয়, ওরা কিছু একটা করেছে কুকুরটাকে! রবিন স্বভাবসুলভ বাকা হেসে বললো অপেক্ষা করতে। রাতভর কুকুরটার কথাই ভেবেছি, মেয়েটাকে অল্পসল্প। পরের দিন বিকেলে আমি ঘণ্টাখানেক আগেই পৌঁছে যাই। আজো মেয়েটাই বেরিয়ে এলো তবে মেরুন সোয়েটার পরে। নাওমিকে কিনে দেওয়া আমার সোয়েটার। বিকেলে শীত পড়ে গেলো হঠাৎ। বুঝতে পারলাম। কিন্তু এটা ও গায়ে পরলো কী করে? ভাবি আর হাঁটি। এভাবে পুরো সপ্তাহ পার হয়ে যায় মেয়েটার সাথে। এবার ঠিক করেছি কুকুরটার খোঁজ নেবো। মাঝে একদিন জানতে চেয়েছিলাম ওর বাবার কাছে, কিছুই বলেননি। রবিবার আমার ছুটি। ধারে কাছে এনিমেল রাইটসের কোন অফিস খুঁজলাম। পেলাম না। রবিবার বন্ধ। ডগশপের ওরাও জানতে পারে। সোমবারের অপেক্ষায় আছি। চাকরিটা গেলে যাক।

বিকেলটা মাটিরঙা। মন ভালো করে দেওয়ার মতো। প্রায় তিরিশ মিনিট আগেই আমি পৌঁছে যাই ওদের গেটে। ওর বাবা গেট খুলতেই দৌঁড়ে আমার কোলে চলে আসে নাওমি। ওকে বলি- এতোদিন কোথায় ছিলি? ও কী অদ্ভুত শব্দে উত্তর দেয়। আমরা সেই আগের মতোই হাঁটি। বন্ধুতা আমাদের। আহা! তারপর বুধ, বুধ থেকে বৃহস্পতি। মেয়েটাকে কখনও কখনও মনে পড়ে আমার। বিশেষ করে নাওমি যখন নাক ঘষে বিদায় নেয়। মনে মনে তাকে খুঁজি। মেয়েটাকে, নারীগন্ধী!  দুএক সপ্তাহ চলে গেলে আমি রবিনকে আবার বলি মেয়েটার কথা। ও হাসতে হাসতে বলে- তুই কী এবার বলবি যে, কুকুরটা আস্ত মেয়েটাকে গিলে খেয়ে ফেলেছে! কদিন আগেই তো বললি যে মেয়েটা কুকুরটাকে পুরো খেয়ে নিয়েছে। তোর মাথাটা গেছে বুঝলি। চাকরিটা ছেড়ে দে। দেখি পিজ্জার দোকানে তোর জন্য কোন কাজ পাই কি না।

হঠাৎ একদিন বিকেলে দরজা খুলতেই মেয়েটা বেরিয়ে আসে। মনটা ফুরফুরে হয়ে যায় আমার। কত্তদিন পরে দেখা। সেদিন ঢালু রাস্তা পেরুতেই আমার আর লজ্জা লাগে না। জিপার বন্ধ করেই ফিরে তাকাই। চোখ মেলাই আমরা দুজন। আমি হাসি। ও কিছু বলে না। আমরা হাঁটি। আমি খুব মরিয়া হয়ে আলিঙ্গনের অপেক্ষা করি, শেষ অব্দি! মেয়েটা জড়িয়ে ধরে আমাকে, আমিও। কথা বলি, উত্তর নেই। উত্তাপ টের পাই। তার পরের দিন, এমনকি পুরো সপ্তাহটাই সে আর আমি ঘুরি, হেঁটে বেড়াই। কুকুরটা আসে, মেয়েটাও আমার কাছে আসে। তবে পালা করে। কেন এক সঙ্গে নয়? শুধু ভাবি। আমি অস্থির হয়ে যাই। ওর জন্যে। নাওমির জন্যে। দুজনকে এক সাথে কাছে পেতে, হাঁটতে ইচ্ছে হয় খুব। তিনজন মিলে উঁচু-নিচু পথ। একটা পোষা কুকুর, আমি আর সে। ঐ কথা না বলা মেয়েটা থাকলোই না হয় আমাদের সাথে। কিন্তু না! ওরা পালা করে আসে, আর যায়। একসঙ্গে চাই ওদের। পাই না। অস্থির লাগে। আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি।

রবিবার। নির্জন জায়গাটায় এসে দাঁড়িয়েছি। একা। খালি হচ্ছি। আর খালি হয়ে যাচ্ছে ব্লাডার।  নিচের দিকে তাকাই। এতো গভীর বন! নিচুখাদ। নিমিষেই চলে যেতে পারি একা। কেউ দেখবে না। কুকুর কিংবা মেয়েটা, কেউ নিষ্পলক তাকিয়ে নেই। আকাশে নাওমির আধখাওয়া হাড় ঝুলে আছে, মেয়েটার মুখের কাছাকাছি। আর বুক-বন্ধ সোয়েটার। আমি ছুঁতে পারছি না কিছুতেই। মেরুন সোয়েটারের বুনো ওম আমাকে ঠেলে দেয় গভীরে। নিচুখাদের নাভিতলে।

লেখা সম্পর্কে মন্তব্য

টি মন্তব্য