মীর হাবীব আল মানজুর’র কবিতা

ডিসেম্বর ১৯
(তুহিন খানরে)

আমরা সমুদ্রে যাব, সমুদ্রের সঙ্গে মিলিয়ে পোশাক কিনছি—রাতদিন এক উন্মাতাল প্রখরতার ভেতর, ঠান্ডা আমাদের শিহরণকে নৈকট্য দিচ্ছে—মা’র জন্য এক কার্ডিগান কিনব, তাতে বাবার ঘামের গন্ধ খুজছি—সমুদ্রে যেতে আমাদের যে পথ, তাতে আমরা তুষার দেখছি—আমাদের দুই হাতে দাস্তানা, আমাদের রিদয়গুলোকে উষ্ণ করছি—আগুন জ্বালাতে হবে, আঙারের প্রশমন আমাদের ঠোটে বুলিয়ে দিচ্ছি—আহা সমুদ্র! আমরা সাংগিতিক স্বপ্ন দেখছি—যে দিন পিছে ফেলে রেখে সামনে তাকিয়েছি, তা কি অবসন্নতার রোধে সামনে আসছে!—নতুন সময়ের দিকে দুই হাত তুলে আছি, তা কি ছাই পেরিয়ে অল্প আগুনের উশুম নিয়ে আছে!—বাবা এই শীতে, ঘনভিজা কবরের মাটি—বাবা, আমাদের মাত্র শুরু হওয়া যৌবনের সামনে এক কমা!—এই শীত, জানছোয়া বিবরণ তোমার—তুমি-সমুদ্রের সামনে চারমুখি ভাঙা নক্ষত্রের গুড়া—কী আনন্দ লাগছে আমার, আমার আত্মাকে বারবার পাঠাচ্ছি সমুদ্রের জিয়ারতে—আমাদের মেহন তাবাসসুম রূপ ধরে সম্মুখে, বিপ্লব, লাতিন আর আফ্রিকা তাতে শিহরণ দিচ্ছে—আহা উত্তেজনা! হিংস্রতার হাসির দিকটা দেখি—আহা বিপ্লবের সুশশুড়ি! তাতে যৌনতা একাকার হয়ে যাচ্ছে—চাদর থেকে পা বেরিয়ে গেলে শীত, আর যখন ভেতরে টেনে নিচ্ছি, এক মধুর জৈবস্বপ্ন পাগল করে দিচ্ছে—আহা সমুদ্র! ছোট ছোট সোনালি মাছ আর পাথরের বাষ্প কি রেখেছ আমাদের জন্য!—আহা সমুদ্র! তোমাকে দেখে কারা শরাব নিচ্ছে!
সমুদ্র এক বিশাল পরিখা ধরে রেখেছে ওখানে, রুহ দলিত হবে বুঝি সমুদ্রের সুখে!

২০১৯

কোত্থেকে আসছো?
-স্মৃতি থেকে

যাচ্ছ কোথায়?
-স্মৃতিরই মনজিলে

স্মৃতি কী?
-শতায়ু কাছিমের হাই


মুহাম্মাদপুরের জন্য মর্সিয়া
(কাজি অলিরে)

আমি মুহাম্মাদপুরের জন্য কিছু লিখতে চাই,
আর সেটা আমার পিথিবির গুঞ্জরণ থেকে

আজ ২৭ সেপ্টেম্বর
আমার দূরত্বে শুধু মুহাম্মাদপুরের প্রতি শোক

কী দিন এসেছিল!
আমি এসেছিলাম ফরিদাবাদ আর আমার হৃদয় পড়ে ছিল মুহাম্মাদপুরে!

মিলব্যারাক আর পোস্তগোলার প্রতিটা পথ অল্প চিনেছে আমাকে,
তারা আমার দুইচোখে ২৭ সেপ্টেম্বরের অপেক্ষা দেখেছিল
সেপ্টেম্বরের মহিম দিনটা আসলো
আর আমি মুহাম্মাদপুরের দিকে দ্রুতগামী কোনো যানই পেলাম না

আমার মহল্লার আত্মাটায় মোঘলরা অল্প নিশানা রেখে গেছে
আমার এলাকার সুরভি মোঘলদের দেয়া নাম,
আর যে রান্না হয় তা-ও তারাই শিখিয়েছে,
যার গুড়াগাড়া উপাদান আমার লেখাতে নিয়াসতে পারি

আমার শৈশব কেটেছে মুহাম্মাদপুরে
সেখানে ২৭ সেপ্টেম্বর সংঘটিত হওয়া ছাড়া আমি কিভাবে বাচতে পারি!

আর কত ভালো লাগে আল মমিন রেস্তোরায় যেতে
আর ১৫ টাকায় কলমিশাক কিনে খেতে!
আমিষের অভাব আমাকে সারারাত দূরে ষাড়ের স্বপ্ন দেখায়

এখানে গরম আলুর চপ যতটা আরামের তা কি
সলিমুল্লাহ রোডের পুরির চেয়েও বেশি সুখ দেয়!

আমার জন্ম মহল্লা আমার জন্য আকুলি করে
আর আমি তাকে প্রত্যাখ্যান করি ধূপখোলায়, গেন্ডারিয়ায়

আমি মুহাম্মাদপুর থেকে দূরে আছি
আর আমার কবিতার আত্মা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছি

আমি যদি ফিরে যাই আবার ভেজা মহল্লায়
আর দিনভর হাটি,
মাঝের ছিন্ন সংযোগ কি আবার যুক্ত হবে!

আহা আমার মহল্লা,
শীত নামবে আর আমি হাটব তাজমোহল রোড
আর হুট করে ঢুকে যাব কোনো গলি আবহাওয়ার ভিতর

বৃহস্পতিবার তুমি আসো না যে!
আমি মুহাম্মাদপুরের কাছে যাব
যেখানে আমার মা আর মাশুকার বাতাস ঘেমে আছে


নভেম্বর ২০

তোমাকে লিরিক ভাবি
আর এক থতমত প্রতিতুলনার ভিতর গুছিয়ে আনি

বাহু দেখে প্রজাপতি ভাবি
সুন্দর কী যে! এ ভাবনায় আত্মার গোস্ত ফেটে যায়

এসরাজ এতটুকুও বাজাতে শিখি নাই তাই
আমার আঙুল খালি সব সিনট্যাক্স ভেঙে ফেলে
অথবা
তুমি এক নুরানি চুড়া আর আমার আঙুলেই কেবল এসরাজ ঘেমে যায়!

ও হাওয়া, ওগো পতাকার পতপত
যেন বেলুনের সুন্দর বুঝতে আমাকে শিশু হতে হবে

আজ সারাদিন হেটে হেটে বাতাসে ঘুমাব আমি

পাখি যেভাবেই ডাকে সেভাবেই গুঞ্জরণ হয়
পাখি বসতে বসতে এক মিথ্যার ডাল পাখি হয়ে গেল
পাখির গোপন অভ্যাস মিথ্যা নিপুণ রপ্ত করেছে

কি সুন্দর হাসতাছে লোকে!
যেন এদের জন্যই এরা, এদের জন্যই দুনিয়া

তোমারে গভীর সত্য বললাম পাখি,
এখন কোকিল না কাকের ডাক ডাকো
তাতে আমার কিইবা আসে যায়!!

লাল লাল বলার পর দেখি তুমি সুন্দর হয়ে আছ

কবিতায় বিষ্টির কথা আর কোনভাবে বলা যায়,
যদি তার সাথে আমশি চিবানোর কথা না বলি!

ডিসেম্বর আসতেছে, সবুজ
শীতের শুরুতে আমি চাই কিছু সংকেত রেখে যেতে


কুকুর

বাস জ্যাম খুলতে খুলতে যতগুলা লাইন কাছে এলো
ইতিহাস ধরে নেক কুকুরের ততগুলা ডাক ঘুরেফিরে আসে

কুকুরের সাথে সকাল সকাল কিছু মিমাংসা করে নিই
আমি তোমাকে আমার হাড়ের মজক দিব,
তুমি শুধু গন্ধ শোকার ইন্দ্রিয় আমাকে দিয়ে যাও

আমার মাশুকা বহুদূরে
শুধু পিরিতির লোহাতে ঝালাই দিতে গিয়ে
যে ঘ্রাণের হাওয়া আকাশে উড়ালো
ওগো কুকুর, সেসব শুকে শুকে তোমার নাক সবচেয়ে কাছে চলে যেতে পারে

আবু হানিফাকে কে যেন সুওয়াল করেছিল,
কুকুর নাকি হানিফার অস্মিতা,
নসিবের সোহাগে কোনটা বেশি লেগে আছে!

লোকমান হাকিমকে চেনো,
যে দশটা গুণ বলেছিল কুকুরের স্মৃতি ধরে!

আসহাবে কাহাফের কুকুর,
ওগো জান্নাতি কুত্তা আমার,
তোমার ভাগ্যকে আজ লাভ বাইট দিয়ে যাই

মজনুর কথা মনে পড়ে তোমার,
যে কুকুরের পায়ে চুমু খেয়েছিল তোমার পথের দিকে গিয়েছে বলে!

কুকুরের পায়ে পায়ে চলি
তোমার বাসার ঠিকানা আমি নজানি
শুধু মহল্লার নামটা জানাও, বাবুশকা
আমি ত কুকুরের সাথে আতাত করেছি
মহল্লার মোড়ে গিয়ে সে ইন্দ্রিয় তোমাকে খুজে নিবে


লেখা সম্পর্কে মন্তব্য

টি মন্তব্য

%d bloggers like this: