home কবিতা তুলতুল | লাবিব ওয়াহিদ

তুলতুল | লাবিব ওয়াহিদ

তুলতুল 

 

১.

তুমি হাঁটতেসো
হাঁটতে হাঁটতে হাঁটতে একদিন
দ্যাখো চারপাশে কেউ নাই আর

তুমি ফুটপাথে বসে ভাবতেসো
তুমি ভাবতেসো এমন করে যে
তোমার এইসব ভাবনাগুলিই
কিছু না ভাবার ধান্দার

তোমার পায়জামার ভিতর পিঁপড়া ঢুকে যায়
য্যানো তোমার ভাবনাগুলিই রাস্তার থেকে
উঠে আসে

পৃথিবীর এইসব সংলগ্নতার
কথা তুমি ভেবে ভেবে হাঁটতেসো
হাঁটতে হাঁটতে হাঁটতে একদিন
চারপাশে থাকে না কোনো গাছ

নিজেই তুমি পাতা হয়ে ভাসতেছো
আলো শেষে নির্বাক সাদায় হাওয়া বৃষ্টি
খেলতেছো

 

 

২.

সোনা তুমি বসো
ঘড়ির কাটার টিকটিক শব্দের ভিতর –
কিছু না দেখা যাওয়ার ভিতর

সুইচবোর্ডের লাল সুঁই
একদম টাইনা ধরে সব আন্ধার –
সোনা তুমি বসো সেই আন্ধারে

মনে হয় অনেকদূর রাতের থেকে –
ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে –
উনিশশত পঁচাশি সনে
আসতেছে যাইতেসে ভারী যানবাহন
একটু পরে পরে –
সেই ভুতূড়ে মতো শব্দ আসতেছে
আর গায়ে নরম পরশ পড়তেসে
কুমকুম গরম এই
চুপচাপ পৃথিবীর

সোনা তুমি
সোনা তুমি
বসি থাকো আমার সাথে

 

 

৩.

তুমি যখন ঘুমাও
তখন তোমার গালে
যদি চুমাই, প্রবলেম আছে?

চুমুটা খায়া না হয়
ঠোঁট হালকা ছড়ায়া
একটু হাইসা নিলা

তখনো তুমি ঘুমেই –
কোথাও কড়াইয়ে ফুটে
ত্যালত্যালে হইতেসে আরেক সকাল

আর, আমি আলাদা করতে পারি না
কখন তুমি ঘুমাও, কখন তুমি জাগো

 

 

৪.

তুমি বসি আছো
পাশে বসি আছি আমি
পুতুলা আর পুতুলি –

রোদ পড়ে আর
কোনো পাতা নড়ে না
কোনো কথা নতুন
মাথায় আসে না

তুমি টায়ার্ড বাবু
আমি হা করে নি শ্বাস
কোথাও আমাদের যাবার নাই
পৃথিবীটা কারাবাস

 

 

৫. 

কী য্যানো মনে পড়ে না?

একটা কাক ভাইঙা পড়ে
চারটা প্রতিধ্বনির ভিতর

লৌহ দুপুর

মাথা ধরার
তেলতেলে বিস্মৃতি বেলুন

কই য্যানো যাবার কথা?

নাহ, এমনিই

 

 

৬.

হ, মনে পড়ে তোমারে।

তুমি আর তোমার অনেক সাজ,
কাঁসার গ্লাসে লাচ্ছির মতো মুখ,
ছোটপাখির ডাক –

জীবনভর স্ট্যান্ডিং টিকিট,
ঘুইরা তাকানো
বা না তাকানো –

এইসব আমার চা’র কাপে
দারচিনি হয়ে থাকে।

 

 

৭.

ওরা তোমার মাথা ধরায়
যখন রোদের পাহাড়ে তোমারে
এসে দাঁড়াইতে হয়, আর তুমি
জানো আমাজন পুড়ে যাবে

ওরা তোমারে ক্লান্ত করে
আর সবগুলা বাস চলে যায়
তুমি উঠতে পারো না
ভিড়ের কারণে

অদ্ভূত শক্তিক্ষয়
তোমারে ঘিরে বুদ্বুদের মতো উড়ে
ঢাকার বাতাসে; শতশত অ্যাম্বুলেন্স
পতাকার মতো পতপত করে রাস্তায়

 

 

৮. 

সোনালি মাছের মতো আকাশের
সামনে দাঁড়ায় সান্ত্রীর মতো
রাশি রাশি সাইকাস
এই মন আলুথালু বাতাসবেলায়
ভুইলো না তোমার জমিন
কাইটা খায় লোলুপ প্লাস্টিক
তোমার হাতে পরায়া দেয়
সোনার বালা, আর বেইচা আসে
রোজ তোমারে আদমবাজারে

 

 

৯.

তোমার জন্য একদিন
সকাল এগারোটায়
এক গ্লাস কুলফি আইসক্রিম নিয়ে
রিকশায় পার হয়ে আসবো
মিরপুর রোড

তখন মিরপুর রোড থাকবে
নিরিবিলি কিন্তু উজ্জ্বল
একটা দুইটা কাক ডাকবে
একটা দুইটা ঘা বসবে ইস্পাতে
আইসক্রিম গলে না কখনো
মানুষ বিলুপ্ত হয়ে গেছে

লেখা সম্পর্কে মন্তব্য

টি মন্তব্য