অনন্ত বাসনার সোনালি আপেল — মিলান কুন্দেরা | ভাষান্তর : তন্ময় হাসান

… তারা জানে না যে তারা তল্লাশ করে যাত্রাটারে, গন্তব্য না।

—ব্লেইস প্যাসকেল।

 

মার্টিন

মার্টিনের এমন সব ক্ষমতা আছে যা আমার নাই। যেমন সে রাস্তার যেকোন মেয়েকেই দাড় করায়ে কথা বলতে পারে। এটা সত্যি যে মার্টিনরে আমি দীর্ঘসময় ধরে চিনি আর তার এই গুণের কারণে ভালোই লাভবান হয়েছি। কারণ মেয়েদেরকে ও যতটা পছন্দ করে ততটা পছন্দ আমিও করি। কিন্তু ওর এই বেপরোয়া দুঃসাহস আমার ছিলো না। আবার মার্টিন তার সম্ভাষণরে আর্টের মত পরিচর্যা করতো আর কোনরকম আফসোস ছাড়াই বলতো যে সে একজন ফুটবল স্ট্রাইকার, যার কাজ নিঃস্বার্থভাবে বলগুলো সতীর্থদের দিকে দেয়া আর যেনো তারা সহজ কিছু গোল দিয়ে সস্তা আনন্দ উপভোগ করতে পারে।

গত সোমবার বিকালে কাজ শেষে আমি ওর জন্য অপেক্ষা করছিলাম ভালকাভ স্কয়ারে আর ইটুরিয়ার সংস্কৃতির উপর লেখা একটা মোটা বইয়ের ওপর চোখ বুলাচ্ছিলাম। ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরির কয়েকমাস সময় লাগছে জার্মানিতে এইজন্য বনিবনা করতে আর সেদিন অবশেষে যখন বইটা আসলো, আমি এইটারে এমনভাবে নিয়া ঘুরলাম যেনো কোন পবিত্র নিদর্শনের ধ্বংসাবশেষ। আমারও বেশ ভালো লাগলো যে মার্টিন আমাকে একা বসায় রাখছে। এখন ক্যাফের একটা টেবিলে বসে আরামে পেজগুলা উল্টায়-পাল্টায়ে দেখতে পারবো।

প্রাচীন কোন ঐতিহ্য বা সংস্কৃতির কথা ভাবতেই নস্টালজিক মনে হইতে থাকে। হয়তবা এইটা অই ধীর আর মিষ্ট সময়ের প্রতি হিংসা। মিশরীয় সভ্যতা প্রায় হাজার বছর টিকে ছিলো। এই যুক্তিতে প্রত্যেক মানুষই মনুষ্য ইতিহাসের নির্দশন হয়ে থাকে। শুরুতে একটা ধীর-স্থির সময়ে নিমগ্ন তারপর আস্তে-আস্তে এর গতি বাড়ে আর বাড়ে। এইতো মাত্র দুই মাস আগেই মার্টিনের বয়স ৪০-এ পড়লো।

 

অভিযানের শুরু

সে-ই আইসা আবার আমার চিন্তক ভাবটারে নষ্ট করলো। হঠাৎ করেই আসলো। ক্যাফের কাচের দরজা দিয়ে ভিতরে ঢুকে আমার দিকে আসতে থাকলো আর অদ্ভুত সব অঙ্গভঙ্গি করে আমার মনোযোগ অদূরে বসে থাকা একটা মেয়ের দিকে ঘুরাইতে বাধ্য করলো। মেয়েটি তার কফি নিয়ে একা বসেছিলো। ওর দিকে চোখ ঘুরায়ে আমার পাশে বসতে বসতে মার্টিন বললো “তো? কি মনে হইতেছে?”

লজ্জায় আমার মাথা হেট হয়ে গেলো। আসলে আমি মোটা বইটারে নিয়ে এতো মুগ্ধ ছিলাম যে মেয়েটিকে দেখার কথা কেবলই মনে পড়লো। এখন দেখার পর মন হইলো মেয়েটা বেশ সুন্দর। মেয়েটাও হুট করে দাঁড়ায় পড়লো আর ওয়েটারের দিকে বিলের ইশারা করলো।

তুমিও তাড়াতাড়ি বিল দাও, মার্টিন আমাকে বললো।

আমাদের মনে হইলো মেয়েটার পেছনে মনে হয় দৌড়ানো লাগবে। কিন্তু কপালজোরে তার দরকার হয় নাই। ওয়াশরুমে শে একটা শপিংব্যাগ ফেলে এসেছিলো আর তা কাউন্টারে আনতে আনতে আমাদের বিল দেয়া হয়ে গেলো। যে লোকটি ব্যাগ খুঁজে দিয়ে গেলো তাকে কিছু টাকা বখসিস হিসেবে দিচ্ছিলো মেয়েটা। মার্টিন আমার হাত থেকে মোটা জার্মান বইটা কেঁড়ে নিলো।

“এইটা এইখানে রাখলেই ভালো ” বলে খুব যত্নসহকারে বইটা মেয়েটার ব্যাগে ঢুকায়ে দিলো সে। মেয়েটারে দেখে খুব বিস্মিত লাগলো, সে বুঝে উঠতে পারলো না কি বলা দরকার। 

“হাতে করে বয়ে বেড়ানো একটি বিড়ম্বনা” মার্টিন বলতে থাকলো। যখন মেয়েটি ব্যাগটা তুলতে গেলো মার্টিন আমাকে ধমকাইতে থাকলো ভদ্রতাজ্ঞান নিয়া।

যুবতী ছিলো একটা হাসপাতালের নার্স। প্রাগে আসছে ঘুরতে আর এখন ফিরে যাবে বলে বাসস্টপের দিক যাচ্ছিলো। ট্যাক্সি পর্যন্ত যাওয়ার দূরত্ব আমাদের জন্য যথেষ্ট ছিলো প্রয়োজনীয় সবকিছু বলার, এই যে শনিবার আমরা এই যুবতীকে দেখতে ‘বি’ নামের শহরে যাবো আর সেখানে তার একজন কলিগ আমাদের সাথে আসবে।

ট্যাক্সি আসলো। আমি মেয়েটিকে ব্যাগ এগিয়ে দিলাম আর সে বইটা বের করতে যাচ্ছিলো। মার্টিন তখন হাত দিয়ে তাকে থামিয়ে বললো যে সেইটার কোন দরকার নাই, বইটা নিতে আমরা শনিবার আসছি আর ততক্ষণে তুমি চাইলে পড়েও ফেলতে পারো। হতভম্ব মেয়েটি মুচকি হাসলো, ট্যাক্সি তাকে নিয়ে চলে গেলো, আমরা হাত নেড়ে বিদায় জানালাম।

কিছুই করার ছিলো না। যে বইটার জন্য এতোদিন অপেক্ষা করে হাতে পেলাম, সেটা আবার চলে গেলো দূরবর্তী এক শহরে। এইটা তুমি ভাবতে শুরু করলে বেশ বিরক্ত মত লাগবে কিন্তু এইরকম পাগলামি আচরণে মজাও পাইলাম।

সময় নষ্ট না করে মার্টিন শনিবার বিকালের জন্য অযুহাত খুঁজতে শুরু করলো (তো ব্যাপার হইলো মার্টিনের বাসায় একজন যুবতী বউ আছে, তারচে খারাপ হইলো মার্টিন তারে ভালোবাসে, আরো বেশি খারাপ হইলো সে তার বউকে ভয় পায় আর সবচে খারাপ হইলো মার্টিন তার বউকে নিয়ে দুঃশ্চিন্তার মধ্যে থাকে।)

 

সার্থক একটা দর্শন

আমাদের এই যাত্রার জন্য ছোট্ট একটা ফিয়াট ধার নিলাম এবং শনিবার দুপুর ২টার দিকে মার্টিনের বাড়ির দিকে গেলাম; মার্টিন আমার জন্য অপেক্ষাই করতেছিলো। তখন জুলাই মাস আর নির্মম রকমের গরম পড়ছিলো।

আমাদের লক্ষ্য ছিলো যত তাড়াতাড়ি ‘বি’ তে পৌছানো যায়। কিন্তু গ্রামের একটা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম দুইটা ছেলে সাঁতার কেটে বাড়ি ফিরতেছে আর তাদের চুলগুলা ছিলো লোভনীয় রকমের ভেজা। আমি গাড়ি থামালাম। লেকটা খুব দূরে না, কয়েক মিনিটের দূরত্ব। আমার একটু ফ্রেশ হওয়া দরকার ছিলো আর মার্টিনও রাজি ছিলো সাঁতার কাটার জন্য। আমরা জামা খুলে সাঁতরানোর প্রস্তুতি নিলাম। আমি দ্রুত সাঁতরায়ে অইপারে পৌঁছায়ে গেলেও মার্টিন মাত্র কয়েকটা ডুব দিলো আর পাড়ে যায়ে বসে থাকলো। আমি সুন্দরভাবে সাঁতার কেটে পাড়ে এসে দেখলাম, সে সম্পূর্ণ নিমগ্ন হয়ে আছে। লেকের পাড়ে বেশকিছু বাচ্চাকাচ্চা চিল্লাচিল্লি করছিলো, একটু দূরে সামনের দিকে কয়েকজন মিলে ফুটবল খেলছিলো কিন্তু মার্টিন তাকায় ছিলো একটা মেয়ের দিকে। আমাদের থেকে হবে হয়তো পনের মিটার সামনে। কোন রকম নড়াচড়া ছিলো না, সে স্থির হয়ে লেকের পানি দেখতেছিলো। আমাদের এখান থেকে দেখা যাচ্ছিলো শুধু তার রোদজ্বলা পিঠ।

“দেখো ” বললো মার্টিন।

“আমি দেখছি “

“তাইলে কি বলছো? “

“আমি কি বলবো? “

“তুমি জানো না এই সম্পর্কে তুমি কি বলবা? “

“সে এইদিকে না ঘোরা পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করা লাগবে ” আমি প্রস্তাব দিলাম।

“মোটেই না। তার ঘোরার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। এখান থেকে যতটুকু দেখতে পাচ্ছি তা আমার জন্য যথেষ্ট”

“হ্যাঁ, কিন্তু তার সাথে কাটানোর মত সময় আমাদের হাতে নাই।”

“দেখা তো দেখাই!” মার্টিন বললো আর ছোট একটা বাচ্চা যে মাত্র সাঁতার কাটতে নামবে তাকে ডাক দিয়া বললো, “তুমি কি অই মেয়েটার নাম জানো?

মেয়েটির দিকে আঙুল তাক করে বাচ্চাটি হালকা কৌতুহল নিয়ে জিগেস করলো, “ওইখানে, অইটা?  “

“হ্যাঁ, অইটাই। “

“ও এখানকার না ” বাচ্চাটি বললো।

মার্টিন তখন একটা ১২-১৩ বছরের মেয়েকে জিজ্ঞেস করলো, “তুমি কী চেনো ওই মেয়েটাকে? ঐ যে লেকের কাছে বসে আছে? “

মেয়েটি খুব বাধ্যমত উঠে দাঁড়ায়ে বললো, “ওই মেয়েটা?”

“হ্যাঁ”

“ওইটা ম্যারি।”

“ম্যারি? ম্যারি কে? “

ম্যারি পেনাক, ট্রেপলিসে থাকে।

মেয়েটি এখনো একইভাবে বসেছিলো, পানির দিকে তাকায়ে। মার্টিন আমার পাশে থেকে উঠে দাঁড়ায়ে বললো, ” মেয়েটার নাম ম্যারি পেনাক, ট্রেপলিসে থাকে, চলো আমরা আগাই।”

মার্টিনকে দেখে সম্পূর্ণ শান্ত আর সন্তুষ্ট মনে হইলো এবং সে রাস্তা ছাড়া আর অন্য কিছু ভাবছিলো না তা বুঝতে পারলাম।

 

একটা ছোট তত্ত্ব।

এইটা মার্টিনের কথায় “সাইটিং” বা দর্শন।  অগাধ অভিজ্ঞতা থেকে সে এইটা উপসংহার হিসাবে নিছে যে সংখ্যাগত দিক দিয়ে একটা মেয়েকে পটানো অতো কঠিন না। আবার এটাও জানা দরকার যে সবাই সবাইকে পটাবে, এমন না।

তাই সে এই মতবাদে আসছে যে, যেখানেই থাকুক, যখনই থাকুক, সব সুযোগেই সে মেয়েদের দেখবে,  যেটা একটা নোটবুক রের্কড করার মত, মেমোরিতে, ঐসব মেয়েদের নাম যারা আমাদের আর্কষিত করেছে এবং যাদের সাথে আমাদের সম্পর্ক হইতে পারতো।

দৈহিকভাবে সম্পর্ক একটা বড় মাপের কার্যক্রম এবং এর মানে অই মেয়েটির সাথে কথা বলতে হবে, জানাশোনা, পরিচয় থাকতে হবে আর তারপর তার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে।

যে অহংকারের সাথে পেছনে তাকায়, তার প্রেমিকার নামগুলো মুখে নিতে বেশ কষ্ট পাইতে হয়। কিন্তু যে সামনের দিকে দেখে, ভবিষ্যতে,  সবকিছুর আগে তার মনে হবে তার দেখার আর ভালোবাসার অগাধ মেয়ে আছে।

বলা যায় দৈহিক সম্পর্ক এই প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ এবং আমি এটা বলতে পেরে খুশি (মার্টিনের পক্ষে) যে, ঐসব মানুষ যারা এই শেষ ধাপের লোভে ছুটে বেড়ায় তারা হতভাগা, বাজে, আদি মনমানসিকতার মানুষ। এদের দেখলে আমার গ্রামের ফুটবল খেলা মনে পড়ে। যেইখানে কোন চিন্তা নাই, কৌশল নাই, শুধু আছে বিপক্ষ দলের বিরুদ্ধে গোল দেয়ার ধান্দা। তারা এইটা ভুলে যায় যে, একটা গোল দেয়া (কিংবা অনেকগুলা) কিংবা জোরে লাত্থি দেয়ার যে ক্ষিপ্ত ইচ্ছা, এটাই সবকিছু না, খেলায় ন্যায়বান আর পদ্ধতিগত হওয়াও জরুরি।

“তোমার কি মনে হয় তাকে খুঁজতে আমরা কখনো ট্রেপলিসে যাবো?” আমি গাড়ি চালাতে চালাতে মার্টিনকে জিজ্ঞেস করলাম।

“বলা যায় না “

“সেইক্ষেত্রে দিনের শুরুটারে বেশ অনুগ্রাহীই বলা চলে। “

 

ক্রীড়া ও প্রয়োজন

ফুরফুরা মেজাজ নিয়ে ‘বি’-এর সেই হাসপাতালে পৌঁছালাম। তখন বাজতেছিলো সাড়ে তিনটা। আমাদের নার্স বান্ধবীকে লবি থেকে ফোন দিলাম। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে সে চিরাচরিত নার্সের ড্রেস পরে নেমে আসলো। লক্ষ্য করলাম সে কেমন যেনো লজ্জা-লজ্জা পাইতেছিলো, যেটা সবসময়ই একটা ভালো লক্ষণ আমাদের জন্য। 

মার্টিন সাথে সাথে কথা বলা শুরু করে দিলো। মেয়েটা জানাইলো তার কাজ শেষ হইতে সাতটা বাজবে আর আমরা যেনো হাসপাতালের বাইরেই তার জন্য অপেক্ষা করি।

“তুমি কি তোমার বান্ধবীর সাথে কথা বলছিলা? ” মার্টিন জিজ্ঞেস করলো।

“হ্যাঁ, আমরা দুজন চলে আসবো ” মেয়েটি মাথা নাড়াইতে নাড়াইতে বললো।

“চমৎকার! আমি আমার কলিগকে হতাশ করতে চাই না।” বলে আমার ঘাড়ে হাত রাখলো মার্টিন।

” অবশ্যই। আমরা চাইলে তার সাথে দেখাও করতে পারি। সে সার্জারি ওয়ার্ডে আছে।”

হাসপাতালের দীর্ঘ করিডোর ধরে হাটতে হাটতে আমি লজ্জা নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম “অই মোটা বইটা কি তোমার কাছে এখনো আছে?” নার্স হ্যাঁ সূচক মাথা ঝাকায়ে বললো যে বইটা হাসপাতলেই আছে। বুকের উপর থেকে অনেক বড় পাথর নেমে গেলো। আমি বান্ধবীকে দেখার আগে অই বইটা চাইলাম।

হ্যাঁ মার্টিনের কাছে এইটা খুবই অনুচিত মনে হইলো যে আমার সামনে এখনই একটা মেয়েকে দেখানো হইতো আর আমি কি না একটা বই চাই আগে! কিন্তু সত্যি বলতে আমি আর পারতেছিলাম না। স্বীকারও করে নিলাম যে এই কয়েকদিন অই ইটুরিয়ার সংস্কৃতি নিয়ে লেখা বইটারে চোখের সামনে না পেয়ে বেশ ভালোই ভুগছি। তবে নির্বিকারভাবে মেনে নিছিলাম চরম আত্নসংযমের মধ্যে দিয়া, কারণ আমি চাই নাই মার্টিনের খেলার কোন অসুবিধা হোক। আর এই খেলা/ক্রীড়ার মূল্য আমি আমার টিনএজ থেকে দিতে শিখেছি এবং এখন নিজের আগ্রহ বা আকাঙক্ষা দ্বিতীয় করে এই খেলায় আমি অংশগ্রহণ করি।

বইটার সাথে যখন আমার একটা আবেগী পুনর্মিলনী হইতেছিলো, মার্টিন তখনও মেয়েটার সাথে কথা বলছিলো আর তারে রাজি করাইলো, কাছেই একটা লেকের পাশে কেবিন রুম ম্যানেজ করতে। আমরা সবাই খুব আনন্দেই ছিলাম। হাসপাতালের যে করিডোর ধরে হাঁটতেছিলাম সেইটা শেষ করে পৌঁছাইলাম ছোট সবুজ বিল্ডিংয়ে, এটাই ছিলো সার্জারি ওয়ার্ড।

একজন  নার্স  আর একজন ডাক্তার আমাদের দিকে হেঁটে আসলো। ডাক্তারটাকে দেখতে আমার বেশ অদ্ভুত মনে হলো। কেমন যেনো লম্বা আকৃতির, সামনের দিকে প্রসারিত কান, এই বিষয়টা আমাকে আরো মুগ্ধ করলো কারণ ঠিক এই সময়ে আমাদের বান্ধবী নার্স আমাকে কনুইয়ে গুতা দিলো; আমি মুচকি হাসলাম। তারা আমাদের পার করে গেলো। মার্টিন আমার দিকে ঘুরে বললো, “তোমার মিয়া কপাল ভালো, এতো সুন্দর মেয়ে তুমি ডিজার্ভ করো না।”

আমার বলতে লজ্জা লাগলো যে আমি শুধুই তার শুকনা লম্বা আকৃতি দেখেছি, তাই আমিও সম্মতি জানালাম। এটা আমার দিক থেকে কোন ভণ্ডামি না। কারণ সত্যি বলতে আমার নিজের পছন্দের চেয়ে মার্টিনের পছন্দে আমার বিশ্বাস বেশি। আমি বিশ্বাস করি, ওর রুচি কোন মহৎ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তৈরি। আমি সবকিছু নিয়মমাফিক ও বস্তুনিষ্ঠভাবে পছন্দ করি, প্রেমের ক্ষেত্রেও। এই কারণে গুরুর মতের ওপর আমার বেশি ভক্তি শিষ্যের তুলনায়।

অনেকের মনে হইতে পারে এইটা আমার দ্বি-স্বভাব যে আমি নিজেকে সমঝদার বলতেছি- আমি একজন ডিভোর্সড লোক যে তার আর কয়েকটা সম্পর্কের মতো এটাতেও জড়াতে যাচ্ছে। তাও আমি দক্ষ না। এরকম বলা যায় যে, মার্টিন যে জীবন-যাপন করে, আমি তার একটা অংশ। মাঝে-মধ্যে আমার এমনও মনে হয় যে এই যে আমার বহুগামিতা এইটা হচ্ছে অন্যান্য পুরুষকে অনুকরণের ফল। আমি অস্বীকার করতেছি না যে এই অনুকরণ আমার মজা লাগে। কিন্তু ভালো লাগার মধ্যেও একটা অনুভূতির পিছ ছাড়ানো যায় না, সবসময়, একটা মুক্ত বিষয়,  ক্রীড়াশীল এবং বাতিলযোগ্য, অন্য একটা দেশে ঘুরতে যাওয়ার মত ব্যাপার অনেকটা বা কোন আর্ট গ্যালারিতে যাওয়ার মত, এমন কিছু যা মার্টিনের কামমূলক জীবনে শর্তহীন বাধা-ধরার মধ্যে না। আবার এই বৈশিষ্ট্যই আমার চোখে মার্টিনকে এতো বিশাল করে তুলছে। কোন নারী সম্পর্কে তার অভিমত আমার কাছে সবচেয়ে ন্যাচারাল মনে হয়, প্রয়োজন নিজেই যেনো মার্টিনের মাধ্যমে আমাকে বলে এইসব।

 

হোম সুইট হোম

হাসপাতালের বাইরে আসার পর মার্টিন ইঙ্গিত করে বললো “সবকিছুই খুব চমৎকার যাচ্ছে আমাদের জন্য এবং আমাদের যা করার দ্রুত করতে হবে। আমাকে নয়টার মধ্যে বাড়ি ফিরতে হবে।”

বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করলাম “নয়টার মধ্যে কেন? তার মানে আমাদের এখান থেকে বের হতে হবে আটটার মধ্যে। কিন্তু তা হইলে আমরা তো কোন কারণ ছাড়াই এতোদূর আসলাম। আমি তো আশা করে আসলাম যে পুরা রাতটাই থাকবো। তুমি কেন আমাদের এই সময়টা নষ্ট করতে চাও? আবার মাত্র এক ঘণ্টার জন্য এতোদূর গাড়ি চালানো এটাই বা কেমন কথা? সাতটা থেকে আটটার মধ্যে তুমি কিই-বা এমন করতে পারবা?

“সবকিছু। লক্ষ্য করলেই দেখতে পাবা যে আমি কেবিন নিয়ে রেখেছি যেনো সবকিছু খুব গোছালোভাবে হয়। এইটা তোমার ওপর নির্ভর করবে তোমার দৃঢ়তা কতটুকু।”

“তবে কেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, তোমারে নয়টার মধ্যেই বাড়ি পৌঁছাইতে হবে? “

“আমি জিরিঙ্কাকে কথা দিছি। আর সে শনিবার রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে রামি (কার্ড গেম) খেলতে অভ্যস্ত।”

“ওহ খোদা!” বলে আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম।

“গতকাল জিরিঙ্কার অফিসে খুব খারাপ একটা সময় গেছে, শনিবারে এইটুকু আনন্দ তারে আমার দেয়া উচিত না?  বলো! তুমি তো জানো, সে আমার জীবনের সেরা নারী, সর্বোপরিই।” একটু থেমে বললো, “তোমার তো খুশি হওয়া উচিত, তোমার সামনে তো প্রাগে ফিরে পুরো একটা রাত পড়ে আছে।”

এইটা নিয়ে আর কোন আপত্তি করা আমার কাছে অনর্থক মনে হইলো। জিরিঙ্কার মানসিক প্রশান্তি সম্পর্কে মার্টিন এর বিভ্রান্তি কখনো শেষ হয় না, এবং প্রত্যেক ঘণ্টা, মিনিটে তার কামসম্ভবনার প্রতি যে অগাধ বিশ্বাস তাও কখনো নড়ানো যায় না কোনকিছুতে।

“চলো, সাতটা বাজতে এখনো তিন ঘণ্টা বাকি!  আমরা নিশ্চয় এতোক্ষণ বসে কাটাবো না।”

 

একটা বিভ্রান্তি

আমরা লোকাল একটা পার্কের রাস্তা ধরে হাটতেছিলাম। আমাদের পাশ দিয়ে হেঁটে গেলো বা বেঞ্চে বসে আছে এমন বেশ কয়েক জোড়া মেয়েকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখলাম, খুব একটা পছন্দ হলো না। মার্টিন অবশ্য তাদের দুই-একজনের সাথে কথাবার্তা বললো এবং তাদের দুই-একজনের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করার ব্যবস্থাও করলো কিন্তু আমি জানি এটার কোন গুরুত্ব নাই, এটা একরকম অভ্যাসবশতই করছে মার্টিন। এইটা তার তথাকথিত বোর্ডিং অনুশীলন, এই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা যাতে হারায়ে না যায় এজন্য প্রায়ই সে এমন অনুশীলন করতো।

সন্তুষ্ট হতে না পেরে আমরা পার্ক থেকে বের হয়ে রাস্তা ধরে হাঁটা শুরু করলাম, যা সব ছোট শহরের মত শূন্যতা আর একঘেয়েমি দিয়ে ভরা।

“চলো কিছু খাই, আমার গলা শুকায় যাইতেছে।” মার্টিনকে বললাম।

একটা বিল্ডিংয়ে ক্যাফে লেখা দেখে ভেতরে ঢুকলাম। টাইলস করা একটা বদ্ধরুম, কেমন যেনো শত্রুর আস্তানার ভাব দিচ্ছিলো। একটা কাউন্টারে গেলাম আর পাতলা একজন মহিলার কাছ থেকে একটা লেবুপানি কিনে টেবিলের দিকে গেলাম। ভেজা-ভেজা টেবিলগুলা যেনো আমাদেের তাড়ায় দিতে পারলে বাঁচে।

“এইসব নিয়ে চিন্তা করো না, মার্টিন বলতে থাকলো, আমাদের আশেপাশে নোংরা, কদর্য এর ইতিবাচক দিকও আছে।  কেউ এখানে থাকতে পছন্দ করে না, ফলত তাড়াহুড়ার মধ্যে পড়ে যায় এবং তাড়াহুড়া থেকেই মানুষের জীবনের বহুল প্রতীক্ষিত গতির উদ্ভব হয়। কিন্তু এটা থেকে আজ আমরা উৎসাহ নিবো না, আজ আমরা সব ধরনের কথা বলবো এই ফালতু দেখতে জায়গার সুরক্ষায়।” অল্প একটু লেবুপানি খেয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করলো “তুমি কি কোনদিন কোন মেডিকেল পড়ুয়া ছাত্রীর উপর চড়েছো?”

“হ্যাঁ ” জবাব দিলাম আমি।

“এবং? সে দেখতে কেমন ছিলো? আমাকেও বলো।”

আমিও তাকে বর্ণনা দিলাম যে মেয়েটি কেমন ছিলো। এই বর্ণনা করা আমার জন্য খুব কঠিন না, যদিও এমন কোন মেডিকেল পড়ুয়া ছাত্রী আমি চিনতাম না।

হয়তো এইটা প্রতারকের মত আচরণ। এই বিষয়টা আসলে এমন যে, আমি তাকে মনে মনে তৈরি করছি এবং তাকে কি করছি তা বলেছি যা পুরাটাই কল্পনা থেকে। এই কাজটা আমি করছি মার্টিনরে দেখানো বা তারে ছোট দেখানোর জন্য না। কিন্তু মার্টিনের জেদটারে কোনভাবেই থামাইতে না পেরে আমি এটা করতে বাধ্য হইছে।

মার্টিন আমার কাজকাম নিয়ে সীমাহীন দাবি-দাওয়া রাখে। মার্টিন মনে করে যে, আমি প্রতিদিন নতুন মেয়েদের সাথে দেখা করি। আমাকে আমার মত দেখতে পায় না সে এবং আমি যদি সত্যি কথা বলে দেই যে এক সপ্তাহের বেশি হলো কোন নতুন মহিলার সাথে পরিচয় হওয়া তবে সে আমাকে বিশ্বাস করবে না বরং ভণ্ড বলা শুরু করবে। এই কারণে কয়েকদিন আগে মেডিকেল পড়ুয়া ছাত্রীর গল্প তৈরি করি। মার্টিন খুব খুশি হয়েছিলো আর আমাকে তার সাথে শোয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলো। এবং আজকে সেই ব্যাপারটার অগ্রগতির খোঁজ নিতেছিলো।

“তো কি মনে হইলো? কোন লেভেলে আছে সে? সে কি….. চোখ বন্ধ করে দুইজনই চিনি এমন মেয়ের নাম খোঁজা শুরু করলো মনে পড়তেই বললো “সে কি মার্কেটা লেভেলে?

“মেয়েটি আরো অনেক বেশি সুন্দর।”

“মজা করছো! মার্টিন অবাক হয়ে গেলো।”

“মেয়েটি পুরো তোমার জিরিঙ্কা লেভেলের” আমি বললাম।

তার নিজের বউ ছিলো এই মানদণ্ডের সর্ব্বোচ স্তরে। মার্টিন এই রির্পোট শুনে খুব খুশি হলো আর আমার করা এই ছোট জালিয়াতি এবারকার মত সফল হয়ে গেলো।

 

একটা সফল বোর্ডিং

শর্ট জ্যাকেট আর কর্ডুরয় প্যান্ট পরা একটা মেয়ে ঢুকলো, কাউন্টারে গেলো, একটা সোডার জন্য কিছুক্ষণ অপেক্ষা কইরা, সোডাটা নিয়ে টেবিলের দিকে গেলো। সে আমাদের পাশের টেবিলের কাছে দাঁড়িয়ে সোডায় গ্লাসটা তার ঠোঁটে রাখলো আর না বসেই তা পান করলো। মার্টিন তার দিকে ঘুরে বললো, “মিস, আমরা এখানে অপরিচিত আর আমরা আপনাকে একটা প্রশ্ন করতে চাই।” মেয়েটি সুন্দর করে হাসলো। সে বেশ সুন্দর ছিলো। মার্টিন বললো, “আমরা প্রচণ্ড গরমে ক্লান্ত এবং আমাদের কি করা উচিত ঠিক বুঝতে পারছি না।”

“সাঁতার কাটতে যাইতে পারেন।”

“এইটাই হবে। এখানে সাঁতার কোথায় কাটবো তাও জানা নাই আমাদের।”

“এখানে পারবেন না। “

“তা কি করে সম্ভব? “

“এখানে একটাই সুইমিং পুল আছে যা কয়েক মাস ধরে ফাঁকা পড়ে আছে।”

“আর নদী?”

“ওখানেও চলছে খোড়াখুড়ির কাজ।”

“তাইলে আপনি কোথায় যান সাঁতার কাটতে?”

“খুব ইচ্ছা হইলে লেক হটারে যাই, কিন্তু সেটা এখান থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে।”

“ব্যাপার না, আমাদের গাড়ি আছে; আপনি আমাদের সাথে গেলে খুব ভালো লাগবে।”

“গাইড হিসেবে” পাশ থেকে আমি বললাম।

“আমাদের পথের আলো হয়ে।” মার্টিন আমাকে সংশোধনের চেষ্টা করলো।

“আমাদের স্টারলাইট”

“আমাদের ভেনাস”

“আপনি আমাদের পুরো নক্ষত্রমণ্ডল এবং আপনার উচিত আমাদের সাথে আসা” বললো মার্টিন।

এরকম পঁচা কৌতুকে মেয়েটি বেশ বিভ্রান্ত হইলেও রাজি হলো আমাদের সাথে যেতে। তবে তার কিছু কাজ আছে যেগুলো করতে হবে আর সুইমিং করার জামাগুলো নিতে হবে: তাই মেয়েটি বললো যে ঠিক এই জায়গায় ১ ঘণ্টা পর দেখা হচ্ছে তাহলে। আমাদের খুশি-খুশিই লাগলো। মেয়েটির যাওয়ার পথ আমরা চেয়ে চেয়ে দেখলাম। কিভাবে তার পেছনের দিক দুলছিলো আর তার কালো কোকড়ানো চুলগুলা লাফাচ্ছিলো।

“দেখো, বললো মার্টিন, জীবন অনেক ছোট, আমাদের উচিত প্রত্যেক মিনিটের সুবিধা নেয়া।”

 

বন্ধুত্বের প্রশংসা

আবার পার্কে ফিরে গেলাম। আবার মেয়েদের দেখতে থাকলাম। এটা হইতেছিলো যে অনেকেই দেখতে ভালো ছিলো কিন্তু এমনটা হয় নাই যে তার সহচর বান্ধবীও সুন্দর ছিলো।” এইটার মনে হয় বিশেষ কোন নিয়ম আছে, আমি মার্টিনকে বললাম, দেখতে তুলনামূলক খারাপ মেয়েটি তার সুন্দর বান্ধবীর সংস্পর্শে থেকে কিছু পাওয়ার চেষ্টা করে; একজন দেখতে সুন্দর নারীর ক্ষেত্রে ব্যাপারটা এমন যে দেখতে খারাপ মেয়েটির আশেপাশে তাকে আরো বেশি সুন্দর দেখাবে। এবং আমাদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টাই, বারবার বন্ধুত্বের বিচারের মুখে দাঁড়ায়। আর এইটার মূল্য আমার কাছে অনেক যে আমরা অই মুহূর্তে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলার এলোমেলোভাবেভাবে বিকশিত হওয়া কিংবা একে অপরের সংঘাতময় সংগ্রামকে বেছে নিবো না; পছন্দটা সবসময় সৌজন্যের, অন্তত আমাদের জন্য। আমরা একে অপরকে অফার করি সুন্দর মেয়েটির কাছে আগে যাওয়ার। এর কারণ আমাদের মধ্যে কেউই সেই ব্যক্তি হতে চায় না যে আগে যায়।”

“হ্যাঁ, মার্টিন খুব আবেগ নিয়ে বললো, তুমি আসলে সত্যিকারের বন্ধু। চলো কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেই, আমার পা ব্যথা করছে।”

এরপর আমরা সূর্যের দিকে তাকায়ে খুব আরাম করে পার্কের বেঞ্চে বসলাম আর আমাদেের চারপাশের সবকিছুকে কোন নজর ছাড়াই আগায় যাইতে দিলাম।

 

গার্ল ইন হোয়াইট

হঠাৎ মার্টিন কিছু না বলে উঠে দাঁড়ালো (রহস্যজনক কিছু আঁচ করে) এবং পার্কের সেই নির্জন ফাঁকা রাস্তার দিকে তাকালো। একটা সাদা জামা পরা মেয়ে আমাদের দিকে হেঁটে আসছিলো। যথেষ্ট দূর থেকে তার শরীর ও মুখের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া গেলেও আমরা দেখলাম যে মেয়েটা বিশেষ রকমের আকর্ষণীয়া ছিলো আর তার আর্বিভাব ছিলো নিশ্চিন্ত বিশুদ্ধতা বা কোমলতায় ভরা।

মেয়েটি আমাদের খুব কাছাকাছি চলে এলো তখন বোঝা গেলো যে সে বেশ কম বয়সের, না শিশু না যুবতী, মহিলা বলা চলে, যা আমাদের দুজনের মধ্যেই একটা দ্বিধার মত অনুভূতির জন্ম দিলো। মার্টিন প্রায় লাফিয়ে বেঞ্চ থেকে উঠে দাঁড়াইলো।

“মিস, আমি ডিরেক্টর ফোরম্যান, সিনেমা বানাই, আপনি একটু আমাদের সাহায্য করলে খুব ভালো হয়।” বলে মার্টিন হাত মেলানোর জন্য এগিয়ে দিলে মেয়েটি হালকা বিস্ময়ের সাথে হাত মেলায়। মার্টিন আমাকে দেখায় বলে “ইনি হচ্ছেন আমার ক্যামেরাম্যান।”

“হ্যালো, আমি ওন্দ্রিসেক” বলে আমরা হাত মেলালাম।

“আমরা একটু সমস্যায় পড়ছি। আমার নতুন সিনেমার জন্য জায়গা দেখতেছি কিন্তু আমার যে সহকারী এই জায়গা ভালো চেনে, সে এখনো আসে নাই। তো এখন আমরা আমরাই এখানে। আমরা এখন ভাবতেছি কিভাবে এই শহর আর আশেপাশে ঘুরে দেখবো। আমার বন্ধু ওন্দ্রিসেক, সবসময় মোটা একটা জার্মান বই পড়তেছি কিন্তু কামের কাম হচ্ছে না কিছু, আমরা কিছুই খুঁজে পাচ্ছি না।” বইটার সংস্পর্শে আমি প্রায় সপ্তাহ খানেক পর আসলাম, আবার তার কথা উঠতে বেশ বিরক্ত লাগলো আমার।

“তোমার যে এই বইয়ের প্রতি কোন আগ্রহ নাই এটা বেশ হতাশাজনক, আমার ডিরেক্টরকে বললাম, ঠিকমত যদি প্রস্তুতি নিতা আর ক্যামেরাম্যানের ওপর সব পড়ালেখা যদি না ছেড়ে দিতা তাইলে তোমার সিনেমাগুলা উচ্চমানের হইলেও হতে পারতো আর আবোল-তাবোল কথাও কম থাকতো। সরি” বলে মেয়েটির দিকে মনোযোগ ঘুরালাম।

“যাই হোক, আমরা আমাদের কাজের বিষয় নিয়ে আপনাকে বেশি বিরক্ত করবো না; আমাদের সিনেমাটা হবে একটি ঐতিহাসিক সিনেমা, বোহেমিয়ার এটুরিয়ার সংস্কৃতি নিয়ে।”

“আচ্ছা” বলে চুপ করে থাকলো মেয়েটি।

“এই বইটা মজার, দেখেন” বলে বইটা আগায় দিলাম, সে খুব যত্নের সাথে বইটা নিলো। তার মনে হইলো আমি চাই সে কয়েক পৃষ্ঠা উল্টায়ে-পাল্টায়ে দেখুক, এজন্য সে কয়েকপৃষ্ঠা উল্টায়েও দেখলো।

“প্যাচেক ক্যাসেল এখান থেকে খুব বেশি দূরে না তাই না? আমি বলতে থাকলাম “অই ক্যাসেল ছিলো এটুরিয়ার মূল কেন্দ্র- আপনি কি বলতে পারেন কীভাবে ওখানে যাইতে পারি?”

“অল্প একটু দূরে” মেয়েটি বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে বললো, কারণ প্যাচেক যাওয়ার রাস্তা সম্পর্কে তার জ্ঞান থাকায় সে এই অদ্ভুত কথোপকথনে প্রথম একটা দৃঢ় ভিত্তি পাইলো।

“হ্যাঁ?, মার্টিন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে জিজ্ঞেস করলো” আপনি চেনেন ওই জায়গা?”

“হ্যাঁ, চিনি তো, ঘণ্টাখানেক লাগবে যেতে।”

“পায়ে হেঁটে?”

“হ্যাঁ”

“যাক ভাগ্য ভালো আমাদের গাড়ি আছে। আপনি কি গাইড হিসেবে আমাদের সাথে যেতে চান?” মার্টিন জিজ্ঞেস করলো। কিন্তু আমি আমাদের প্রথাগত কৌতুক করিনি, কারণ মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ে মার্টিনের চেয়ে আমার ধারণা ভালো। আমার মনে হলো এই ক্ষেত্রে রসিকতা বিফলে যাবে আর আমাদের চেষ্টা সব মাটি হয়ে যাবে। আমাদের মোক্ষম অস্ত্র এখানে গুরুত্ব।

“আমরা কোনভাবেই আপনাকে বিরক্ত করতে চাই না কিন্তু যে জায়গা খুঁজছি যদি একটু সময় নিয়ে আমাদের দেখিয়ে দিতেন তাহলে খুব উপকার হতো- আমরা খুবই কৃতজ্ঞ হতাম।” আমি বললাম।

“অবশ্যই…. কিন্তু, (এতোক্ষণে আমরা মেয়েটির হাতে থাকা শপিং ব্যাগ আর শাক-সবজিগুলো লক্ষ্য করলাম) এগুলো আগে মাকে পৌঁছায় দিতে হবে, বেশি দূরে নয়, আমি এখনই আসছি।”

“হ্যাঁ, আপনি এগুলো দিয়ে আসুন, আমরা এখানেই অপেক্ষা করছি।”

“আচ্ছা, আমার দশ মিনিটের বেশি সময় লাগবে না।” এই বলে মেয়েটি দ্রুত চলে গেলো।

“ওফ!  ফার্স্ট ক্লাস। না? মার্টিন বললো।

“তা আর বলতে! এর জন্য তো অই দুই নার্সকে ছাড়তেও রাজি আমি।”

 

অতিরিক্ত বিশ্বাসের ছদ্মবেশী প্রকৃতি

দশ মিনিট কেটে গেলো,  পৌনে এক ঘণ্টাও কেটে গেলো, মেয়েটি আর ফিরলো না।

“চিন্তা করো না।” মার্টিন আমাকে অভয় দিতে দিতে বললো “যদি কোনকিছু নিশ্চিত হয়, তবে সেটা হচ্ছে এই মেয়েটির ফিরে আসা, মেয়েটি আসবেই। আমাদের অভিনয় খুব ভালো ছিলো এবং মেয়েটার উৎসাহও ছিলো দেখার মতন।” আমিও এ মতের সাথে একমত ছিলাম এবং এরপরে প্রত্যেক সেকেন্ড অপেক্ষার সাথে সাথে তার প্রতি আগ্রহ আরো বাড়তে থাকলো।

এরই মধ্যে, কর্ডুরয় প্যান্ট পরা মেয়েটির দেয়া সময়ও হয়ে গেলো, কিন্তু সাদা জামা পরা মেয়েটা নিয়ে এতো বেশি মেতে ছিলাম যে এখান থেকে যাওয়ার কথা মাথায় আসলো না।

“মার্টিন, আমার মনে হয় মেয়েটা আসবে না।” নীরবতা ভেঙে আমি তাকে বললাম।

“এর ব্যাখা কি আছে তোমার কাছে? মেয়েটা তো সাক্ষাত ঈশ্বরের মত বিশ্বাস করলো আমাদের!”

“হ্যাঁ, এবং এটা আমাদের দুর্ভাগ্যও হইতে পারে। একটু বেশিই বিশ্বাস করেছিলো আমাদের।”

“কি?  তাইলে কি তুমি চাইতা আমাদের বিশ্বাস না করুক?”

“এটা করলে তো ভালোই হতো। খুব বেশি বিশ্বাস কখনো ভালো নয়।” এই চিন্তাটা আমার নতুন ধারণার একটা। এবং ভালোভাবেই এতে জড়ায়ে পড়েছি বলে মনে হয়। কোন আক্ষরিক বিষয়ের উপর বিশ্বাস করলে এটাকে অযৌক্তিকও প্রমাণ করা যাবে। তবে তা ব্যবহারের লক্ষ্য থাকলে তা গোপন করা হয় অনেক পরিশ্রমের পিছনে। রাজনৈতিক বক্তব্য এবং তাদের কুশলীদের অস্তিত্ব নাই, অন্তত বিশ্বাস করার জন্য; বরং তারা অপরাধকালে অনুপস্থিত থাকেন বলে সাধারণ মানুষ একমতে আসে। বোকা কিছু লোক থাকে যারা এদেরকে খুব বেশি গুরুত্বের সাথে দেখে কিন্তু খুব তাড়াতাড়িই তাদের মধ্যের অসংগতিগুলারে আবিষ্কার করে ফেলে এবং শুরু হয় প্রতিবাদ।শেষমেশে কুখ্যাতভাবে ধর্মবিরোধী ও ধর্মভ্রষ্ট নাম নিয়ে শেষ করে। না – অত্যধিক বিশ্বাস কখনোই ভালো কিছু আনতে পারে না – শুধু রাজনৈতিক বা ধর্মীয় ব্যাপারেই নয়, আমরা মেয়েটারে বোঝানোর ক্ষেত্রে যা করছিলাম সেক্ষেত্রেও।

“তোমার কথা আমি আর ধরতে পারছি না। মাঝ থেকে হারায় ফেলছি।”

“এইটা তো খুব সহজ, মেয়েটির কাছে আমরা দুজনই জ্ঞানী ভদ্দর লোক আর সে চেয়েছিলো আমাদের সাহায্য করতে।”

“তাইলে করলো না কেন?  “

“এই যে আমাদের অনেক বিশ্বাস করে, ফলে সে তার মাকে শপিং ব্যাগগুলা দেয়ার সময় আগ্রহ নিয়েই ঐতিহাসিক সিনেমা, বোহেমিয়া আর আমাদের গল্প শুনাইছে। আর তার মা..”

“হ্যাঁ, আর বলতে হবে না, বাকিটা আমার কাছে পরিষ্কার।” বলে মার্টিন আমাকে থামিয়ে দিলো আর বেঞ্চ থেকে উঠে দাঁড়ালো।

 

বিশ্বাসঘাতকতা

ইতোমধ্যে সূর্য শহরের ছাদগুলার উপর দিয়া ধীরে ধীরে নামতেছিলো। হালকা শীতল হয়ে উঠলো চারিপাশ আর আমাদেরও হালকা দুঃখ লাগতে থাকলো।

ক্যাফেতে ফিরে গেলাম এই আশায়, যদি মেয়েটি আমাদের জন্য অপেক্ষা করে। মেয়েটি ছিলো না, অবশ্য থাকার কথাও না। তখন বাজে ছয়টা ত্রিশ। আমরা হাটতে হাটতে গাড়ির কাছে আগায় গেলাম আর হঠাৎ মনে হতে থাকলো যে এই অচেনা শহরে সব আনন্দ থেকে আমাদের নিষিদ্ধ করা হইছে। গাড়ির ভিতর যে জীবন সেখানে ফিরে যাওয়া ছাড়া আর কিছুই বাকি নাই।

“চলো, গাড়ির ভেতর আমাকে উৎসাহ দেয়ার চেষ্টা করলো মার্টিন, এমন মুখ কালা করে রাখছো কেন! কষ্ট পাওয়ার তো কোন কারণ দেখি না। সবচেয়ে যেইটা গুরুত্বপূর্ণ সেইটা তো এখনো বাকি!  “

আমার মনে চাইলো ব্যাপারটা নিয়ে একটু আপত্তি করতে এই যে জিরিঙ্কা আর তার সাথে রামি খেলার জন্য আমাদের এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা এক ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হবে না- তবে করলাম না।

“যাই হোক দিনটা খারাপ যায় নাই, ট্রেপলিসের মেয়েটা দেখলাম, কর্ডুরয় প্যান্ট পরা মেয়েটা পটালাম; যা অবস্থা- এইখানে সব ব্যবস্থাই করা থাকলো শুধু গাড়ি চালিয়ে এখানে চলে আসতে হবে।” মার্টিন বললো।

আমি কোন আপত্তি করলাম না।

মেয়ে দেখা বা পটানো সত্যিই খুব দুর্দান্তরকম চলছিলো, কিন্তু এই মুহূর্তে যেটা আমার মাথায় চলতে থাকলো, যে গত এক বছরে মার্টিন শুধু দেখেই গেলো, এর বেশি আগাতে পারে নাই। আমি তার দিকে এক পলক দেখলাম।সবসময়ের মতই তার চোখের কামুক আভা এখনো আছে। আমার মনে হইলো মার্টিনরে আমার ভালোই লাগে এবং তার জীবন দর্শনও যেটা ছিলো, মেয়েদের প্রতি অনন্ত সাধনা। সময় কেটে যাচ্ছিলো, মার্টিন বললো “সাতটা বাজে ” আমরা গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালের প্রায় ১০ মিটার দূরত্বে দাঁড়ালাম, এমনভাবে, যাতে রিয়ারভিউতে দেখতে পারি কে কে আসছে। 

আমি তখনও মার্টিনের দর্শন নিয়ে চিন্তা করছিলাম।

গত এক বছরে মেয়েদের যে অন্বেষণে আমাদের ব্যস্ত থাকার কথা সেটা গৌন হয়ে গিয়ে, অন্বেষণ সাধনাটাই মুখ্য হয়ে দাড়াইলো। চেষ্টা বিফলে যাবে মেনে নিয়ে যেকোন সংখ্যক মেয়েকে পটানোর চেষ্টা এবং এই সাধনা চালিয়ে যাওয়াও একটা সাধনা অবশ্যই। হ্যাঁ, মার্টিন এই পরম সাধনায় থাকার অবস্থায় পৌঁছায় গেছে।

পাঁচ মিনিটের মত অপেক্ষা করলাম। মেয়েগুলা আসলো না।

খুব একটা হতাশ হলাম না। পুরাপুরি উদাসীনতার বিষয় এটা আমার কাছে এখন। তারা যদি আসে তাদের সাথে এক ঘণ্টার জন্য কেবিনে যাইতে পারবো? ঘনিষ্ঠ হওয়া কি সম্ভব? আবার ভালোবাসা আদায় করে নিয়ে ৮টার মধ্যে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পড়তে পারবো? মার্টিন যখন ৮টার আল্টিমেটাম দিছিলো তখনই আমার এই গেমটারে বিভ্রান্তিকর মনে হইছে। দশ মিনিট পার হয়ে গেলো। মার্টিন বিরক্ত হয়ে বললো, “আর পাঁচ মিনিট দেখবো! তারপর আর কোন অপেক্ষা না!  “

আমি অনেকক্ষণ ধরে লক্ষ্য করলাম তার মধ্যে শিশুসুলভ আচরণটা নাই বেশ কিছুক্ষণ হইলো। সে সত্যিই তার স্ত্রীকে ভালোবাসে!  আর সবার মতই তার বিয়ে, সাধারণ, এটাই বাস্তবতা এবং এখনো এই বাস্তবতার উর্ধ্বে (আবার পাশাপাশি) মার্টিনের তারুণ্য একইভাবে আছে -অস্থির, ভুলো যুবক যে কিনা একটা খেলায় মেতে আছে যা আর কোনদিন বাস্তব জীবনে রূপান্তর করা যাবে না, সত্য হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করা যাবে না। মার্টিন একটা সৈনিক যে প্রয়োজনের দ্বারা বিমোহিত। তাই ভালোবাসার মত বিষয়গুলোকে সে নিরীহ সব খেলায় রূপান্তর করে নিয়েছে। তাই সে বারবার নিজের এই স্ফীত সত্তাকে এর মাঝে লুকায় রাখে।

ঠিকই আছে। আমি নিজেই নিজেকে বললাম। মার্টিন নিজের সাথে প্রতারণায় বন্দী। কিন্তু আমি কে? আমি কী?  আমি কেন তারে এইসব হাস্যকর খেলায় সহযোগিতা করি? সবকিছুই যে একটা বিভ্রান্তি, জেনেও আমি কেন তার সামনে ভান করে থাকি? আমি কী তাইলে মার্টিনের চেয়েও হাস্যকর নই? কেনো এমন ভাব নিবো যে আমার সামনে একটা যৌনসম্ভবনাময় অ্যাডভেনঞ্চার অপেক্ষা করছে, যখন আমি নিজেই জানি যে এই একটা ঘণ্টা আমাকে অপরিচিত মেয়েদের সাথে লক্ষ্যহীনভাবে কাটাতে হবে? 

আয়নায় দেখলাম হাসপাতাল থেকে দুটো মেয়ে হাসিমুখে বেরিয়ে এলো। তাদের মুখের গাঢ় সাজ আমার এখান থেকে বোঝা যাচ্ছিলো। তাদের দেখে মারাত্নক রকমের চালাক মনে হইলো। আর তাদের এই দেরি যে সাজ-গোজের সাথে জড়িত এতে কোন সন্দেহ থাকলো না আর।

“মার্টিন, আর কিছুই করার নাই। এই মেয়েদেরকে ত্যাগ করলাম আমি।”

“দশ মিনিটের বেশি হয়ে গেছে। চলো।”

এবং আমি গাড়ির এক্সেলেটরে পা রাখলাম।

 

অনুশোচনা

আমরা শহর পার করলাম। ছোট ছোট ঘরবাড়ি, ফসলের মাঠ আর জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে আমরা যাইতেছিলাম। লম্বা গাছের মাথায় সূর্য ডুবতে শুরু করলো।

কোন কথা হচ্ছিলো না আমাদের মধ্যে।

আমার মনে পড়লো জুডাস ইস্করিয়াটের কথা। একজন বিখ্যাত লেখক তার সম্পর্কে এমন বলছিলেন যে, এই লোক যিশুর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন কারণ তিনি যিশুকে অন্ধের মত বিশ্বাস করতেন। যিশুর ঐশ্বরিক ক্ষমতা একটা অলৌকিক ঘটনার মাধ্যমে দেখানোর কথা, যার অপেক্ষা জুডাস করতে পারে নাই। জুডাস ইস্কোরিয়াট যিশুর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেন কারণ যেনো তার শক্তি সবার সামনে প্রকাশ পায় আর যিশুর বিজয় আরো দ্রুত হয়।

কিন্তু আমি? আমি আজ মার্টিনের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলাম অনেক ছোট বিষয়ে, আমি এ কাজ করেছি কারণ আমি আর তাকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। (নারী বিষয়ক ক্ষমতাটাকে) আমি জুডাস ইস্কোরিয়াট আর ঐ ব্যক্তি মিলিয়ে একজন যাকে সবাই সন্দেহবাতিক থমাস বলে ডাকতো।

আমার মনে হইলো, মার্টিনের সাথে এই বিশ্বাসঘাতকতার জন্য তার প্রতি আমার সিম্প্যাথি বাড়তেছে আর চোখ ভিজে আসতেছে। নিজেই নিজেকে অপমান করতে থাকলাম।

অনুকরণের বাইরেও হয়তবা আমার জন্য কিছু আছে, নির্বোধ কর্মকাণ্ডের মধ্যে একটা নিরাপদ জায়গা খোঁজার চেষ্টা। এইটা কি আসলেই নিরর্থক? আমি যে জানি এটা কী কোন সমস্যা?  নিরর্থক জেনে কী আমি এতে আর অংশগ্রহণ করবো না? 

আমার পাশে বসে থাকা মার্টিনের রাগ ধীরে ধীরে কমে আসছিলো।

নীরবতা ভেঙে হঠাৎ বললো, “শোন, অই মেডিকেল পড়ুয়া মেয়েটা কী সত্যিই ফার্স্ট ক্লাস?”

“তোমারে বললাম তো, সে জিরিঙ্কা লেভেলের।”

মার্টিন আমাকে আরো প্রশ্ন করলো আর মেয়েটার বর্ণনাও আমি আবার দিলাম। সব শুনে সে বললো, “তোমার হয়ে গেলে আমাকে দিও তাইলে?”

“এইটা একটু কঠিন হবে। তুমি যে আমার বন্ধু এই ব্যাপারটায় সে মাইন্ড করতে পারে আর আর্দশের দিক দিয়েও সে খুব শক্ত।”

“আর্দশ!” মার্টিনের চোখে-মুখে বিরক্তি দেখা গেলো। তাকে তো কষ্ট দেয়ার ইচ্ছা আমার ছিলো না, তাই আমি বললাম, “তোমাকে না চেনার ভান করতে পারি আমি, তুমি নিজেই পরিচয় দিতে পারো।”

“হ্যাঁ,  আজকের মত সিনেমার ডিরেক্টর হয়ে।”

“ফিল্মি বিষয়ে তার আগ্রহ কম। খেলোয়াড় বেশি পছন্দ তার।”

“কেন? এই বিষয়টা সব ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময়।”

এই আলোচনায় আমরা আরো কিছু সময় ব্যয় করলাম। প্রত্যেক মুহূর্তে আমাদের প্ল্যান আরো পরিষ্কার হতে থাকলো আর অল্প কিছুক্ষণ পর তা গোধূলির আলোতে সুন্দর জ্বলজ্বলে সোনালি আপেল হয়ে আমাদের সামনে ঝুঁকে পড়লো। খানিক আলোচনা করে অই আপেলের নাম রাখলাম অনন্ত বাসনার সোনালি আপেল।

শেয়ার করুন

লেখা সম্পর্কে মন্তব্য

টি মন্তব্য

%d bloggers like this: