কবি নির্বাচিত ২৫ কবিতা ।। মজনু শাহ

কবিতার কাজ এমন নয় যে তা বাজিমাত করতে এসেছে, তার একটা অন্তশ্চারী যাতায়াত আছে, তা কোথাও নীরব তীক্ষ্ণ সংবেদী কোনো প্রান্তবাসী মনের সমর্থন খুঁজে ফিরছে মাত্র, আর এই জন্যে তার মধ্যে দিশেহারা হওয়ার কোনো ব্যগ্রতা নাই। অ্যাপেলেসের আঁকা মাদি ঘোড়ার ছবি দেখে বাস্তব জগতের একটা ঘোড়া সঙ্গমোদ্যত হয়েছিল, রসানুসন্ধানীর তরফে, কবিতা কখনো কখনো সেইরূপ যুক্তিহীন …

‘সকল প্রকৃতি জঙ্গলে বসে থাকে’ থেকে কবিতা ।। তালাশ তালুকদার

সূর্যের কপাল কোনো দরকারই নেই নিজের পায়ে কুড়াল মারার তার চেয়ে অফিসের ফাইল আটক করে চোখ রাঙ্গিয়ে; ঐ হারামজাদার মতন ঘুষ খেয়ে ডাবর করো পেট আঙ্গুল ফুলে হও কলা; শক্ত ভিতের উপর তবেই দাঁড়িয়ে থাকবে তোমার কথা চাঁদ তার গা থেকে আলো বের করে দিচ্ছে বাতাস পাল্লাপাল্লি লাগছে গাছের সাথে সূর্য পুড়ে দিতে চাইছে কপাল; …

নির্বাচিত ২৫ কবিতা ।। মুজিব মেহদী

                                            অগ্রন্থিত    ভাড়াটে নতুন ভাড়াটে এল পাশের বাড়িতে মালামাল সব উঠছে ওপরে ট্রাকভর্তি অনেক প্যাকেট   আসবাবের সাথে একটা বিষাদ উঠছে হাঁড়িপাতিলের সাথে একটা কান্না পালঙ্কের সাথে একটা দীর্ঘশ্বাস ওয়ার্ডরোবের সাথে একটা অভিমান …

গুচ্ছ কবিতা ।। তানভীর আকন্দ

ভ্রম স্বচ্ছ জলের বুকে বিদ্ধ করেছ তুমি রূপোলি ছুরির ঝিলিক, কে যেন নেমে আসে মাঠে, দুই হাত প্রসারিত— গাছের সবুজ পাতা ঢেকে গেল রূপোর চাদরে, কোথায় ফুলের ঘ্রাণ! স্বচ্ছ জলের বুকে বিদ্ধ করেছো তুমি কালো বর্শার ফলা, কে যেন উড়ে গেল দূরে, ধূসর পালক খসে যায়, তার উড্ডয়নের স্মৃতিরূপে পড়ে থাকে পালকের নীল ছায়া!   …

দশটি কবিতা ।। খন্দকার নাহিদ হোসেন

মায়া গহনে কাঠের আড়তদার থামায় জিগায়…ও মিয়া, কোন গ্রাম? আমি হাত তুইলা উজান দেখাইলে তার চক্ষু বড় হয়-গপসপে ডাকে… হাটবার হাটবার;   সন্ধ্যায় অঞ্চল জুইড়া সাপের ডর পা চালাইলে…আন্ধারও বাড়ে ভুইলা ভুইলা যাই-পিছনের বেলা কুপির আগুন;   তবু ঘুমাইলে এহনো খোয়াবে শুনি- ‘বুঝলা মিয়া, এইখানেই এই জন্ম অথচ আল্লায়ও জানে-উজানে কাঠের দাম মেলা…!’     …

সোহেল হাসান গালিব ।। ‘তিমিরে তারানা’ থেকে পাঁচটি কবিতা

ডার্কচেম্বার অসুস্থ হলেই ভালো। এখন এমনই মনে হয়। ধীরে সুস্থে, তর্ক-টর্ক ছেড়ে অন্য কারো ভাবনায় ঢুকে পড়া যাবে। ডার্কচেম্বারের পাশ দিয়ে জানি খালি পায়ে হাঁটা প্রয়োজন। যদি ফলস কোনো শব্দে দুপুরের রোদ ওঠে, আই মিন, ওপরের থেকে মেঘগুলি সরে যায়, হয়তো দেখেই ফেলতে পারি একটি পারুল ডাকে ইশারায়, শিস দিয়ে। কাকে? কিছুটা পার্পল, রেড-ভায়োলেট এই …

কবিতাগুচ্ছ ।। সুপ্তা সাবিত্রী

শীতের ডায়েরি আহত পাখির চোখে দেখেছি ক্লান্তিময় প্রস্থান সন্ধ্যার ডানাভাঙা ঘরগুলো যেখানে স্থিরায়ু, বুভুক্ষু- কঠিন মাটির বুক ভেঙে আরো কঠিন উৎরত ছায়াতল  বীজের উত্থান; এই নরম শরীরেরগাঁট জুড়ে বালির গন্ধ যেখানে ভেসে ভেসে আসে জলের বাতাস, মাছের নামতা পড়া দুপুরে ঘুণপোকা আর পাঁচালির সুর। দীর্ঘ বালিয়াড়ি পেরিয়ে ছায়েল দু’খানি ঘর আর জ্যান্ত কই এর ঝাপ্টানো …

কবিতাগুচ্ছ ।। হাসিবুল আলম

বিকেল বেলা   গোল্ডলিফ হাতে নিয়ে বসে আছে একটা কাক- বিকেল বেলা। আগলে রাখার মতোন কোনো ইনবক্স নেই- বিকেল বেলা। পরিত্যক্ত পৃথিবীতে একটা কেউটে সাপ ঘুমায়- বিকেল বেলা। ডানাটা সারাদিন আকাশে উড়ে উড়ে কেটে গ্যালো- বিকেল বেলা।     মঙ্গলরোগ   আমার  দরকার ছিল বুধবার। আজকে ক্যান জানি ‘বুধবার বুধবার’ লাগছে। কিন্তু বুধবার আজকে না।  …

নির্বাচিত ২৫ কবিতা ।। মুজিব ইরম

মুজিব ইরম   সাং নালিহুরী নিজ নামে ডাক দিলে কেঁপে ওঠে অতলান্ত পথের গরিমা। যা কিছু জন্মে পাওয়া…যা কিছু নালিহুরী…যা কিছু নিজনাম…নিজদেশ…নিজস্ব নিয়ম…জেগে ওঠে নিজ কোলাহল। মানুষ কেবলি হাঁটে সীমাবদ্ধ জলে। যদিও বা কেউ কেউ হেঁটে আসে গ্রিস। আরো দূর ছুঁয়ে আসে মাথুউজেলা গাছের বয়স। আমাজান হ্রদের শরীর। অতঃপর স্ট্রবেরি ক্ষেতের পাশে একটু জিরিয়ে নিয়ে …

মিয়ানমার ও অন্যান্য কবিতা ।। নিজাম বিশ্বাস

মিয়ানমার মাছেদের আমি জাতকের পাঁচশ গল্প শোনালাম জলপুরিতে মাৎস্যন্যায় তবু বন্ধ হলো না!     লাল কাঁকড়া সাগর পাড়ের বালু তীরে লাল কাঁকড়াকে অসহায় মনে হয়, কাঁকড়ার পিছে হেঁটে জেনেছি প্রতিটা কাঁকড়ার নিজস্ব গর্ত আছে জলে ধোয়া সমতলে তাদের ধরতে গিয়ে দেখেছি হঠাৎ নাই বস্তুত কেউ অসহায় নয় জল আর মাটির সংস্পর্শে ডুবোচর জেগে ওঠে …