গ্রাফিতি সংখ্যা সম্পাদকীয়

গ্রাফিতি। বিদেশি ভাষার শব্দ হলেও এখন বাংলাতেও শব্দটা বেশ পরিচিত। বড় পরিসরে শব্দটা ব্যবহৃত হয়। অনেকে আমরা গ্রাফিতির সাথে দেয়াল-লেখাকে এক করে দেখি। কিন্তু গ্রাফিতিতে দেয়াল লেখার বিষয়টা ঘটলেও সকল দেয়াল লেখাই গ্রাফিতি নয়। একইরকমভাবে সব স্ট্রিট আর্টও গ্রাফিতি নয়। যেমন সব চিকাই নয় গ্রাফিতি। তবে এটা বলাই যায়, চিকা একদম এদেশীয় বিষয়। ষাটের দশকে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমে শব্দটি চালু এবং ক্রমশ পপুলার হয়ে ওঠে। তখন পাকিস্তানী সরকার এবং পাকিস্তানী পুলিশ; অই পুলিশ বা এরকম বাহিনীর সামনে এটা একটা কোড নেইম ছিল। তখন এবং পরেও অনেকদিন এর ধার ছিল। চিকা মারতে গিয়ে অ্যারেস্ট হওয়া, শাস্তি পাওয়া খুব কমন ঘটনা ছিল। তাই গ্রাফিতি বলতে মূলত যা বোঝায় চিকা তার মতোনই ছিল, এদেশীয় সংস্করণে। ছিল বলতেছি এ কারণে, চিকার সেই তারুণ্য এখন আর নাই। বুড়া হয়ে যাওয়াতে সেই ধারও নাই। এখন প্রকাশ্যে মোটামুটি কোন ঝামেলা ছাড়াই চিকা মারা যায়। গ্রাফিতিও করা যায়। তবে সব গ্রাফিতি না। কোন কোন গ্রাফিতিগুলা করা যায় না, অইগুলা সম্পর্কেও আমরা জানি। আমরা যে গ্রাফিতিগুলা ‘অবৈধ’; এস্টাবলিশড প্রতিষ্ঠান-কাঠামো যেগুলা এলাউ করে না, আমরা অইগুলা নিয়েই এখানে কথা বলার

চেষ্টা করেছি। চেষ্টা করেছি নানান প্রান্তের নানা রকম ‘গ্রাফিতি’কে একখানে করতে। এ চেষ্টা করতে গিয়ে যাদের সম্পর্কে জেনেছি সেই তাদের  হাজির করার সবচেয়ে ভালো উপায় ছিল তাদের ইন্টারভিউ অনুবাদ করার। সবচেয়ে সহজ উপায়ও। তাই প্রচুর অনুবাদ এখানে। তুলনামূলক মৌলিক লেখা কম। এমনিতে শিল্প বিষয়ক লেখাই কম পাওয়া যায় , তার ওপর বিষয়টা গ্রাফিতি হওয়াতে লেখা পাওয়া প্রায় দুর্লভ হয়ে উঠছিল। ভালো লেখা তো আরো বেশি বেশি দুর্লভ। তাই রিপ্রিন্ট লেখাও রইল। ভালো লেখা বলে। আরেকটা বিষয়, এখানে অনেক লেখা অসম্পূর্ণ। অনেকটা হাফডান গ্রাফিতির মতোন বা একটা গ্রাফিতির উপর আরেকটা গ্রাফিতি যেন। আরো বলা জরুরি, পুরা আয়োজনটাও অসম্পূর্ণ। বাংলাদেশে গ্রাফিতি নিয়ে লেখালেখি খুব বেশিদিন হয় নাই শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ‘সুবোধ’ পপুলার হবার পরই মূলত এখানে এ টার্মটা সুপরিচিত হয়েছে। কয়েকটা দৈনিক বা আরো কেউ কেউ তাদের বিশেষ সংখ্যা করেছে গ্রাফিতি নিয়ে। তারা পপুলারিটির বেশি যাইতে চায় নাই। তাই তাদের কথাবার্তাও ব্যাঙ্কসি বা সুবোধের বেশি আগায় নাই। আমরা চেষ্টা করছি এটা থেকে বের হয়ে নানান দিকে তাকাইতে। যা যা ঘাটতি আছে তা পরের কোন সংখ্যায় হয়তো কমানো যাবে। বা অন্য কেউ, অন্য কোনখানে হয়তো আমাদের না বলা বা বলতে না পারার খামতিটা পূরণ করবেন।

যেহেতু এটা গ্রাফিতি সংখ্যা, তাই প্রায় সব গ্রাফিতিই রাজনৈতিক এবং শিল্পীরাও অজ্ঞাত। তবে সবরকম রাজনৈতিক বক্তব্যই শিল্পীদের নিজস্ব। আমরা গ্রাফিতি নামক শিল্পের এ ধরনটির বৈচিত্রতা এবং আঙ্গিক বোঝানোর জন্যই শুধু এসব ছবি পাবলিশ করেছি। কোন নির্দিষ্ট মতাদর্শের পক্ষে বা বিপক্ষে বলে নয়। তাই কোনো ছবির সাথে লেখক-সম্পাদক বা পত্রিকার কোন সংশ্লিষ্টতা নাই। এছাড়া বেশিরভাগ ছবি সংগ্রহ সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বা হাত ঘুরতে ঘুরতে আসা বলে কোন কোন ছবি কার তোলা সেই তথ্যও আমাদের জানা নাই। কেউ জানলে জানাবেন প্লিজ;  যুক্ত করে নিব। সবশেষে যারা কষ্ট করে লিখেছেন-অনুবাদ করেছেন সবাইকেই অনেক ধন্যবাদ। আপনাদের শ্রম-সময় ছাড়া এ আয়োজন সম্ভব হতো না। পাঠকদেরও অগ্রিম শুভেচ্ছা। গ্রাফিতির সাথে থাকুন।

x

 

নেপালের কাঠমাণ্ডুতে। গ্রাফিতি: ফটো কাঠমাণ্ডু

x

x

x

x

x

x

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

Discover more from

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading