home আলাপচারিতা হারুকি মুরাকামির সাক্ষাৎকার (প্রথম পর্ব) ।। অনুবাদ: পৌলমী সরকার

হারুকি মুরাকামির সাক্ষাৎকার (প্রথম পর্ব) ।। অনুবাদ: পৌলমী সরকার

হারুকি মুরাকামির জন্ম ‘Kyto’-তে, যেটা জাপানের পূর্ব রাজধানী। তাদের মধ্যবিত্ত পরিবারে জাতীয় সংস্কৃতির প্রতি ব্যাপক উৎসাহের কমতি ছিলো না। মুরাকামির বাবা ছিলেন জাপানি সাহিত্যের শিক্ষক, পিতামহ বৌদ্ধ-সন্ন্যাসী। দুই বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে তিনি ‘Kobe’ তে চলে যান। এটি একটি ব্যস্ত পোতশহর- যেখানে সারাবছর বিদেশীদের আনাগোনা লেগেই থাকে (বিশেষত আমেরিকান নাবিকদের)। এই শহর তার অনুভূতিগুলোকে অনেকটাই বাস্তব রূপ দিয়েছিল। জাপানি সাহিত্য, কলা, শিল্পকর্ম ছেড়ে তিনি খুব অল্প বয়সেই জাপানের বাইরের সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হতে শুরু করেন। এমন এক জগৎ যেখানে ছিল জাজসঙ্গীত, হলিউডের সিনেমা আর পুরনো কিছু বইপত্র।

ষাটের দশকের শেষদিকে টোকিওতে ছাত্রজীবন কাটানোর ফলে তার মধ্যে আধুনিক সাহিত্য আর কথাসাহিত্য নিয়ে তার ভেতর ভাল লাগা তৈরী হয়। তিনি ২৩ বছর বয়সে বিয়ে করেন এবং প্রথম উপন্যাস প্রকাশের আগ পর্যন্ত স্ত্রীকে নিয়ে বেশ কয়েক বছর টোকিতে একটি জ্যাজক্লাব চালান। যা তাকে লেখার রসদ যোগাতে সহায়তা করেছে। মুরাকামির ‘Hear The Wind Sung’ উপন্যাসটি ইংরেজিতে অনুদিত হলেও তার বিশেষ অনুরোধে জাপানের বাইরে কোথাও প্রকাশ হয়নি; যদিও এই বইটিই তার পাঠকদের সঙ্গে তাকে পরিচিত করায় এবং তিনি ‘Gunzo Literature Prize’ পান। ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত বাস্তবকেন্দ্রিক উপন্যাস ‘The Norwegian Wood’ মুরাকামিকে সাহিত্যজগতের তারকা বানিয়ে দেয়। শুধু জাপানেই বইটি বিক্রি হয় কয়েক মিলিয়ন কপি। টোকিওর প্রতিটি বাড়িতে এটি একটি পরিচিত নাম। তখন থেকেই মুরাকামি তার নিজের দেশে বিখ্যাত নাম হয়ে উঠতে থাকেন। খ্যাতি থেকে দূরে থাকার জন্যে কয়েক বছর তিনি ইউরোপ-আমেরিকাতেও ছিলেন। তিনি ‘The Wind-Up Bird Chronicle’ লিখেছিলেন Princeton ও Tuft এ পড়ানোর সময়। পরে কখনোই তার ‘The Norwegian Wood’ এর সোজাসাপ্টা কায়দায় তিনি আর ফিরে আসেননি। তারপরও প্রতিনিয়ত সারা দুনিয়ায় তার পাঠক বেড়ে চলেছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মুরাকামিই সর্বাধিক পঠিত জাপানি লেখক। নোবেল ছাড়া সাহিত্যের আর প্রায় সকল পুরস্কারই তিনি পেয়েছেন। তিনি একজন সক্রিয় অনুবাদকও। তিনি বেশ কজন অধুনা বিখ্যাত লেখককে অনুবাদের মাধ্যমে জাপানি পাঠকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। হারুকি মুরাকামি কেবল বহুভাষায় অনুদিত একজন বিতর্কিত জাপানি লেখক নন, তিনি তার বইয়ের অসংখ্য বিক্রয়ের মধ্যে দিয়েও পৃথিবীব্যাপি সুখ্যাত। তার সুবিখ্যাত উপন্যাসগুলি কল্পনা ও বাস্তব, রহস্য এবং কল্পবিজ্ঞানের সীমারেখায় অবস্থান করে। তার ‘Hard Boiled Wonderland and the End of World’ এর ক্ষেত্রে উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, এখানে তিনি এক দ্বিমুখী কেন্দ্রীয় চরিত্রের উপস্থাপন করেছেন এবং এই বইটিকে এখনও অব্দি তার শ্রেষ্ঠ রচনা হিসাবে গন্য করা হয়। ‘The Wind-Up Bird Chronicle’ শুরু হয় এক লোকের তার হারিয়ে যাওয়া স্ত্রীর খোঁজ থেকে – তারপর তা ‘Laurence Stern’ এর ‘Tristan Shandy’ এর এক উৎকৃষ্ট বর্ণনায় প্রবেশ করে। মুরাকামির লেখনি এমন এক রূপকের জগতে থাকে যেখানে যার কিছু চেনা বৈশিষ্ট্য দেখা যায় – একটি শূন্য পাতকুয়ো, একটি পাতালপুরি-কিন্তু সেই সূত্রগুলোর তাৎপর্য পাঠকের কাছে শেষ পর্যন্ত গোপনীয়ই থাকে।

এই সাক্ষাৎকারটি দুটি বিকেল ধরে নেয়া হয়েছে। এ সময়ে তিনি দেখিয়েছেন, তিনি হাস্যরস গ্রহণ ও পরিবেশনে সদাই প্রস্তুত। তিনি ব্যস্ত মানুষ। কিন্তু যখনই আলোচনায় কোন গম্ভীর বিষয় এসেছে আমি তার ভেতরে একাগ্রতা আর মনোযোগের এক ভীষণ ছায়া দেখেছি। তিনি খুব স্বতঃস্ফূর্ত উত্তর দিয়েছেন। দুটি কথার মধ্যে তার দেয়া স্বল্প বিরতি, ধীরে কথা বলা বোঝায় তিনি কতটা যত্নের সঙ্গে প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবার চেষ্টা করেছেন। তবে যখনই জ্যাজসঙ্গীত নিয়ে আলোচনা হয়, তার মধ্যে লুকিয়ে থাকা ২২ বছরের এক তরুণ বা ১৫ বছরের এক কিশোর আজও উঁকি মারে।

– Jhon Wray


বি:দ্র: Jhon Wray প্যারিস রিভিউর জন্য এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন ২০০৪ সালে। এরপর দুনিয়ার অনেক কিছুই বদলেছে। মুরাকামির আরো বেশ কিছু বই প্রকাশ পেয়েছে। তিনি আরো জনপ্রিয় হয়েছেন। প্রিয় পাঠক, সাক্ষাৎকারটি পড়ার সময় ২০০৪ সালের আগের হারুকি মুরাকামির সঙ্গেই আড্ডা দিন।


প্রশ্ন: সদ্যই আপনার নতুন গল্প সংকলনটা পড়লাম, ‍“আফটার দ্য কুয়েক‍”, যে ব্যাপারটা খুব ভালো লাগলো বাস্তবতার নিরিখে গল্পগুলিকে এক বুনটে বেঁধেছেন। যেটা “নরওয়েজিয়ান উড” তেও দেখা গেছে। আবার আপনার ‘দ্য উইন্ড-আপ বার্ড ক্রনিকল’ বা ‘হার্ড বয়েলড ওয়ান্ডারল্যান্ড অ্যান্ড দ্য এন্ড অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’-এর লেখার ধরন কল্পনাপ্রবণ। প্রাথমিকভাবে আপনি নিজে কি এই দুটি ধরনের মধ্যে পার্থক্য খুঁজে পান?

হারুকি মুরাকামি: আমার ধরন, যেটাকে আমি ভীষণভাবে একদমই নিজস্ব বলে মনে করি সেটা অনেকটা হার্ড বয়েলড ওয়ান্ডারল্যান্ডের কাছাকাছি। আমি নিজে বাস্তবঘেঁষা ধরন-ধারন খুব একটা পছন্দ করি না। কাল্পনিক ধরনটাই আমার বিশেষ পছন্দ। তবে ‘নরওয়েজিয়ান উড’ লেখার সময়ে আমি মনস্থির করেছিলাম একটা সম্পূর্ণরূপে বাস্তবঘেঁষা উপন্যাস লিখবো। সেই বিশেষ অভিজ্ঞতারও আমার দরকার ছিলো।

প্রশ্ন: আপনি উপন্যাসটি শুধুই বিশেষ অভিজ্ঞতা লাভের জন্য লিখেছিলেন, নাকি আপনার গল্পটিই এমন ছিলো যা বাস্তবঘেঁষা পথেই সবথেকে ভাল লেখা সম্ভব ছিলো?

হা.মু: আমি যদি শুধুই কাল্পনিক প্লটে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখতাম, তাহলেও আমি খ্যাতি পেতাম। কিন্তু আমি সমকালীন গল্প বলার ধরনের সাথেও কিছুটা পরিচিত হতে চাইছিলাম। আমি নিজের কাছে নিজে প্রমাণিত হতে চেয়েছিলাম যে, আমিও ওরকম বাস্তবঘেঁষা লেখা লিখতে পারি। এটা নরওয়েজিয়ান উড লেখার একটা কারণ বলা যায়। বইটা জাপানের বেস্ট সেলার হয়েছিল, এবং আমি এটাই আশা করেছিলাম।

প্রশ্ন: তার মানে, বিষয়টি পরিকল্পিত?

হা.মু: একদম! নরওয়েজিয়ান উড পড়ে সহজেই বোঝা যায়। পাঠক সহজেই বইটার ভেতর নিজেকে আবিষ্কার করতে পারে। অনেকেই বইটা বেশ পছন্দ করেছেন। অনেকেই আগে থেকেই আমার লেখা অন্যান্য বই পড়েছেন। অনেকে পড়ার ব্যাপারে উৎসাহী হয়েছিলেন। এসব ব্যাপারটাও বেশ সহায়ক হয়েছে।

প্রশ্ন: তার মানে, জাপানি পাঠকরাও আমেরিকার পাঠকদের মতো? তারা সহজ গল্প পড়তে চায়।

হা.মু: ‘কাফকা অন দ্য শোর’ আমার এই নতুন বইটি প্রায় তিনশ হাজার কপি বিক্রি হয়েছে। এটা দুটি খণ্ডে। আমি খুবই অবাক হয়েছিলাম যে, বইটি এত ব্যাপক সংখ্যায় মানুষ কিনেছে। জানেন তো, এটা কিন্তু মোটেই সাদামাটা ব্যাপার নয়! গল্পটি পড়ে বোঝার পক্ষে যথেষ্ট জটিল। তবে আমার লেখনীর ধরন পড়ার পক্ষে খুব সহজ। এতে হাস্যরস থাকে, যথেষ্ট নাটুকেও হয় এবং অবশ্যই বেশ আকর্ষক। তবে এই দুই ব্যাপারের মধ্যে বেশ একটা সামঞ্জস্য থাকে, যেটা আমার সাফল্যের অন্যতম কারণ হতে পারে। তবে সত্যিই, এটা অবিশ্বাস্য রকমের ভালো। আমি প্রতি তিন-চার বছরে একবার উপন্যাস লিখি এবং পাঠকরা তার জন্য অপেক্ষা করে। একবার Jhon Irving-কে আমি ইন্টারভিউ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। তিনি আমাকে বলেছিলেন, ভাল বই পড়া মূলত একটি অভ্যাস। একবার যদি পাঠক আসক্ত হয়ে পড়ে, তারা সব সময়ই অপেক্ষা করে।

প্রশ্ন: আপনি আপনার পাঠকদের নেশায় আসক্ত করতে চান?

হা.মু: এটাই Jhon Irving বলেছিলেন।

প্রশ্ন: দুটি বিশেষ আঙ্গিক- একটি ঋজু, সহজবোধ্য বর্ণনাত্মক বক্তব্যের সাথে একটু জটিল এবং গোলমেলে চিন্তার মেলবন্ধন—এটা কি স্বেচ্ছা নির্বাচিত?

হা.মু: না, সেটা নয়। যখন আমি লিখতে শুরু করেছিলাম, তখন আদতে আমার সেরকম কোন পরিকল্পনাই ছিলো না। আমি কেবল একটি গল্পের জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। নরওয়েজিয়ান উড কিছুটা কঠিন হতে পারে। কারণ আমি এই উপন্যাসটা বাস্তবঘেঁষা ঘরানাতেই লিখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এমনিতে আমি এভাবে বাছতে পারি না।

প্রশ্ন: কিন্তু আপনি কি স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এই বাচনভঙ্গি বেছে নেন? এই নির্বিকার, সহজবোধ্য বাচনভঙ্গি? নিজেই বেছে নেন?

হা.মু: আমি কিছু ছবি পাই। একটার পর একটা ছবি মনের ভেতর জুড়ি, এটাই একসময় আমার গল্প হয়ে ওঠে। তখন আমি সেই গল্প পাঠকদের বলি। আপনাকে যে কোন গল্প বলার সময়ই যথেষ্ট দরদ দিয়ে বলতে হবে। যদি আপনি ভাবেন তা করবেন না, তাতে আপনার অহমিকা প্রকাশ পাবে। সহজ শব্দ এবং সুন্দর রূপক; উপযুক্ত উপমা — এই-ই থাকে আমার গল্পে। আমি গল্প বলি পরিস্কারভাবে এবং খুব যত্ন নিয়ে।

প্রশ্ন: এটি কি আপনার স্বতঃস্ফূর্ততা?

হা.মু: আমি খুব বুদ্ধিমান নই। আমি অহংকারীও নই। আমি ঠিক আমার পাঠকদের মতোই একজন। আমার নিজের একটি ‘Jazz Club’ ও তো ছিলো। সেখানে আমি পানীয়, খাবার বানাতাম। লেখক হবার কোন পরিকল্পনাই আমার ছিলো না। এটা আসলে হয়ে গেছে। এটাকে খানিকটা স্বর্গীয় উপহার বলা যায়। তাই আমার মনে হয়, আমাকে যথেষ্ট বিনয়ী থাকাই উচিত।

প্রশ্ন: কত বছর বয়সে আপনি লেখা শুরু করেন? এটা কি আপনাকে আশ্চর্য করেছিল?

হা.মু: যখন আমি ২৯। হ্যাঁ, এটা অবশ্যই একটা আশ্চর্য ঘটনা ছিলো। কিন্তু আমি খুব তাড়াতাড়ি এর (লেখালেখির) সাথে মানিয়ে নিয়েছিলাম।

প্রশ্ন: শীঘ্র? তার মানে আপনি প্রথম দিন থেকেই স্বচ্ছন্দ্য ছিলেন?

হা.মু: আমি রান্নাঘরের টেবিলে বেশ গভীর রাতে প্রথম লেখা শুরু করি। প্রায় দশ মাস লেগেছিল আমার প্রথম বইটি শেষ করতে। তারপর আমি তা প্রকাশকের কাছে পাঠাই এবং কিছু পুরস্কারও পেয়ে যাই। পুরো ব্যাপারটিই ছিলো স্বপ্নের মতো। আমি যা ঘটতে দেখে খুব অবাক হয়েছিলাম। কিন্তু কিছুক্ষণ পর মনে হয়েছিল, হ্যাঁ এগুলো সত্যিই ঘটছে এবং আমি একজন লেখকরূপে জন্মাচ্ছি; কেমন? এটা এতটাই সরলভাবে ঘটেছিল।

প্রশ্ন: আপনার স্ত্রীর কি প্রতিক্রিয়া ছিল, যখন আপনি লেখা শুরু করেন?

হা.মু: তিনি কিছুই বলেননি। এবং যখনই আমি বললাম যে আমি কিছু লিখছি, তিনি বেশ অবাকই হয়েছিলেন। হয়তো অসম্মানিতও।

প্রশ্ন: কেন অসম্মানিত হয়েছিলেন? তিনি কি ভেবেছিলেন আপনি তেমন ভালো লিখতে পারবেন না?

হা.মু: আমি আমার শৈশব, এমনকী কৈশোরেও খুব বেশি জাপানি লেখা পড়তাম না। ওই সংস্কৃতিকে আমার একঘেয়ে লাগতো। তা থেকে পালাতে চাইতাম।

প্রশ্ন: সম্প্রতি জাপানের কোন লেখকের বই পড়ে উপভোগ্য মনে হয়েছে কি?

হা.মু: হ্যাঁ। বেশ কজনই আছেন। ‘Ryu Murakami’, ‘Banana Yorhimoto’ – উনার বেশ কিছু বই আমার ভাল লেগেছে। তবে আমি কোন সমালোচনামূলক লেখা লিখি না। এর মধ্যে আমি আর নিজেকে ঢোকাতে চাই না।

প্রশ্ন: কেন না?

হা.মু: আমি মনে করি, আমার কাজ হলো মানুষকে লক্ষ্য করা, এবং পৃথিবীকেই। তাদের বিচার করা নয়। আমি সব সময়ই নিজেকে একটা তথাকথিত উপসংহারের থেকে দূরে রাখি। সবকিছুকেই পৃথিবীর সমস্ত সম্ভাবনার সামনে বিস্তৃত করে রাখতেই পছন্দ করি। আমি সমালোচনার চেয়ে অনুবাদের কাজকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। কারণ অনুবাদের সময়ে আপনাকে কোনকিছুর বিচার করতে হয় না। একটার পর একটা লাইন লিখি, এভাবেই আমি আমার প্রিয় কাজটিকে আমার শরীরে, মনে, প্রবাহিত করি। আমাদের অবশ্যই সমালোচকের প্রয়োজন আছে এই সমাজে, তবে এটি ঠিক আমার কাজ নয়।

প্রশ্ন: আপনার বইয়ের প্রসঙ্গে ফিরে আসা যাক। হার্ড বয়েলড আমেরিকান গোয়েন্দাকাহিনীর এক বিরাট সম্পদ। কখন আপনি এই ধারাটির সাথে পরিচিত হলেন আর কেইবা পরিচয়টা করালো?

হা.মু: হাইস্কুলে পড়ার সময়েই আমি অপরাধমূলক গল্পের প্রেমে পড়ি। আমি থাকতাম Kobe-এ, যেটা একটা পোত-শহর আর সেখানেই বহু বিদেশী এবং নাবিকরা আসতো তাদের বই বিক্রি করতে, পুরনো বইয়ের দোকানে। আমি তো গরীব ছিলাম। কিন্তু এভাবে সস্তায় অনেক বই কিনেছিলাম। সেই বইগুলো থেকেই আমি প্রথম ইংরেজি পড়তে শিখি। খুব আনন্দের সময় ছিলো সেটা।

[চলবে]

অনুবাদক:
পৌলমী সরকার। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রী।

 

লেখা সম্পর্কে মন্তব্য

টি মন্তব্য