নস্টালজিক শব্দটা আমার ভালো লাগে না  ইয়াসমিন জাহান নূপুর | আলাপকারী : মনোরম পলক

ইয়াসমিন জাহান নূপুর ড্রয়িং, বুনন, ভাস্কর্য, দৃশ্য শিল্প, ইনস্টলেশন ও পারফরম্যান্সে বারবার পরিবেশ ও জীবনের সর্বজনীন দিকের  কথা বলেন। ইয়াসমিন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিত্রকলায় এমএফএ শেষ করেছেন। 

ছবিমেলা “শূন্য”, ২০২১  শীর্ষক সঙ্কলনে নূপুর “অফ লিমিট” শিরোনামে এস এম রেজাউর রহমান, তানজিম ওহায়াব এবং সরকার প্রতীকের কিউরেশনে  “টাইম কুড নট কেপ্ট অ্যাট দ্য বে” শীর্ষক কাজটি প্রদর্শন করেন। এ উপলক্ষ্যে মার্চ মাসের তিন তারিখ রাত ১১টায় ভিডিও কলের মাধ্যমে মনোরম পলক কথা বলছেন নূপুরের শৈশব, বেড়ে উঠা ও শিল্প ভাবনার নানা দিক নিয়ে। 

ছবি কৃতজ্ঞতা : ইয়াসমিন জাহান নূপুর

নূপুর – খাওয়া-দাওয়া করলে?

পলক – হ্যাঁ। আপনি খেলেন? আমি তো বোধহয় আপনাকে একটু তাড়াহুড়ার মধ্যে ফেলে দিলাম।

নূ- না! না! আমি একটা টক শুনছিলাম। ৪ তারিখে একটা অকশন হবে। ওই অকশনের টকটা শুনছিলাম যার কারণে দেরি হয়ে গেল।

– কিসে শুনছিলেন?

নূ – ফেসবুকেই শুনছিলাম।

প – আচ্ছা। আজকের দিন কেমন গেল?

নূ – ( কিছুক্ষণ থেমে ) এত কঠিন প্রশ্ন করো না!

(দুইজনই হাসি)

– এইরকম করে বললে তো আরো জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছা হবে।

নূ – দিন তো আসলে কাজে যায়, কাজ করতে করতেই তো সময় চলে যায়। তোমার?

– আমার আজকের দিন ভালো যাচ্ছে।

নূ – শাহবাগে গিয়েছিলা?

– হ্যাঁ। গেলাম ওখানে।

নূ – যাক। ভালোই গেসে।

– তাহলে শুরুতে, আপনার ছোটবেলার কথা একটু বলেন।

নূ – ছোটবেলার কথা? ছোটবেলায় ছোট ছিলাম। ( হি হি হি হি )

– কী ইচ্ছা ছিল? বা কী ধরনের মানুষ ছিলেন? চঞ্চল ছিলেন নাকি শান্ত?

নূ – না। আমাদের তো চঞ্চল হওয়ার কোনো স্কোপই নাই। আমরা তো এত বাঁদর পোলাপাইন ছিলাম না এখনকার মত। বুঝছ?

– তো ট্রাঞ্জিশনটা হলো কখন? হা হা হা।

নূ – হা হা হা। ছোটবেলায় তো আমার চিটাগঙয়েই কেটেছে। আমার জন্ম, বড় হওয়া, ইউনিভারসিটি পর্যন্ত আমি চিটাগঙয়েই ছিলাম। ছোটবেলা ভালোই কেটেছে। মানে আম্মা খুবই স্ট্রিক্ট ছিল। ভয়াবহ রকমের স্ট্রিক্ট ছিল আম্মা। পড়াশোনা খুবই মানে সে চাইত যে আমরা সারাদিনই ২৪ ঘণ্টাই পড়তে থাকি আরকি এরকম। হা হা হা!

–  আপনি কী চাইতেন?

নূ – আমি আবার অত মনযোগী ছিলাম না । আমার দুই বোন খুবই ট্যালেন্টেড ছিল। ওরা দুর্দান্ত ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট ছিল এবং ওরা ক্লাসে ফার্স্ট সেকেন্ডই হত। আমি কোনোরকম ফেল করে করে পাস করতাম।

– তারা আপনার থেকে বড় নাকি ছোট?

নূ – না। আমি সবার থেকে বড়। তিন বোন তো, আমিই সবার বড়। কিন্তু একদম পিঠাপিঠি । এক বছরের মধ্যেই দুইজন এরকম। সো আমি আর আমার মেজোবোন পড়তাম একই ক্লাসে। তো ও মনে করো আমাকে টেনে একদম ইন্টার পর্যন্ত এরকম। আগে তো এম,সি,কিউ ছিল, জিজ্ঞেস করতাম, যে এই নাম্বারের আনসারটা কি? দূরে বসলেও জিজ্ঞেস করতাম। কিন্তু আমরা একটা বড় মাঠ পেয়েছি খেলার, ধরো এখন যেগুলা এখনকার বাচ্চারা পায় না। ধরো তোমরা পাও না সেটা।  আমরা অনেক খেলেছি ছেলেদের সাথে, পাড়া- প্রতিবেশিদের সাথে।  আমরা ছিলাম একটা কলোনির মত। সো কলোনিতে যেটা হয়, মানে সবসময় একটা আদান-প্রদান হতো। মানে ধরো আমার পাশের বাসার নেইবর আমাকে/ আমাদেরকে অন্যের বাচ্চা হিসেবে দেখত না। আবার আমার বাবা- মা তাদের বাচ্চাকে অন্যের বাচ্চা হিসেবে দেখত না।  সো চাইল্ডহুডটা খুব ভালো ছিল আর কি। আমি বলব, খুব দুর্দান্ত সময় গেছে আমার। 

–  শুধু লেখাপড়ার বিষয়টাই একটু সমস্যা করে দিল….

নূ – ওটা আর বলো না, জীবন কয়লা করে দিসে আমার মা। এত পড়াশোনা করাতে চাইতো ….

– তাহলে যখন বোনগুলো ভালো রেজাল্ট করছে তখন কী হতাশ লাগত কখনও? এরকম মনে হতো না যে বোনগুলা আরেকটু কম ভালো করলে রেজাল্ট ভালো হত? তাহলে চাপ কমে যেত….

নূ – না না! ওরা ভালো রেজাল্ট করলে তো আমারই লাভ। আমাকে ওরা টেনে নিয়ে যাবে। বুঝছ না? 

– কিন্তু বাসায় তো চাপ বেড়ে যায়। 

নূ – না। বাসায় জানত আমি একটু ডালই ছিলাম, হা হা বুঝছ? আমি আর আমার মেজোবোন একসাথে পড়তাম তো, একই ক্লাসে পড়তাম। দেখা যেত ওর রোল নাম্বার হত ৩, সেদিকে আমার রোল নাম্বার ২৭-১৭ বুঝছ এরকম।

– ১৭ তো খারাপ না। ১৭ তো ভালোই…. 

নূ – না না! ৩-৪ টা ফেল করে, কোনো রকমে পাশ করে এই আরকি।  

– আপনারা চট্টগ্রামে যেই এলাকাটিতে ছিলেন সেটার নাম কি ছিল ? যেই কলোনিতে ছিলেন….

নূ – আমার গ্রামের বাড়ি হচ্ছে মূলত আনোয়ারা। আমার বাবার বাড়ি। আমার পিতামহ, প্র-পিতামহ তারা সবাই ওখান থেকে আসা। কিন্তু আমার বাবা হলো প্রথম যে কিনা গ্রাম থেকে পড়ালেখা করার জন্য শহরে চলে আসে। মানে এটা হয়ত আগের জেনারেশনে সব বাবাই তাই করেছে। 

– সেজন্য বোধ হয় চাপটা আরো বেশি পড়ল।

নূ – হা হা । আব্বার সময়ে, আমার সময়ে না। আব্বা যখন ইয়াং ছিলেন তখন তিনি শহরে চলে আসেন। পরে আমার তো জন্ম-টন্ম বড় -টরো হওয়া সবই হচ্ছে পূর্ব মাদারবাড়ি নামে একটা জায়গা আছে ওখানে । মাদারবাড়িতেই আমার বড় হওয়া।  মাদারবাড়ি স্কুলেই আমার পড়া। সিটি কলেজেও আমার পড়া। খুব ওই কেন্দ্রিক আরকি। 

– চট্টগ্রাম সিটি কলেজ?

নূ – হ্যাঁ। চট্টগ্রাম সিটি।

– সেখানে পড়ার সময়েও কি আপনাদের যে বাসাটা ছিল কলোনিতে, ওখানেই পুরো সময়টা ছিলেন? নাকি বাসা পাল্টালেন? 

নূ – বাসা পাল্টেছি। আমরা অনেকগুলা বাসা পাল্টেছি, কিন্তু বাসা পাল্টানোর পরেও ওই মাদারবাড়িকেন্দ্রিকই থাকতাম। এলাকার মধ্যেই থাকতাম। যেহেতু বড় হওয়া হয়েছে তো ওখানে। তাই ওখান থেকে বাইরে কখনো যাওয়া হয়নি। কিন্তু আমরা বাসা পাল্টেছি অনেক বছর পর-পর। ধরো আমি যে বাসায় একদম ছোট থেকে, মানে আমি যেই বাসায় গিয়ে স্কুলে ভর্তি  হয়েছি, ৪-৫ বছর বয়সে যখন গিয়েছি কলোনিতে স্কুলে মাত্র ভর্তি হলাম আর যখন ইন্টার পাস করি তখন আমরা ওই বাসাটা চেঞ্জ করি। অনেক লম্বা সময় আমরা ওখানে ছিলাম।

– আর যেই প্রতিবেশী বন্ধুদের কথা বললেন, তাহলে তো তাদের সঙ্গে পুরো সময়টাই মেলামেশার মধ্যেই ছিলেন। 

নূ – হ্যাঁ। আমরা খুব অদ্ভুত একটা পরিবেশে বড় হই, কারণ আমাদের ওই সময় তো ধরো যেহেতু কলোনি ছিল সো অনেক ধরনের লোক ছিল। মুসলিম ছিল, হিন্দু ছিল তারপরে বুদ্ধিস্ট ছিল। খ্রিস্টান ছিল অনেক পরে। মানে আমরা অনেক ধরনের লোকজন একসাথেই বড় হয়েছি। একজনের অনুষ্ঠান মানে আমাদেরও অনুষ্ঠান। এমনি চিটাগাঙয়ে তো সব অনুষ্ঠানই বড় করেই হয় আমি বলব, ঢাকার তুলনায় আরকি। হয়ত বৌদ্ধ পূর্ণিমা খুব বড় করে হচ্ছে কিংবা যেকোনো পুজা খুব বড় করে হচ্ছে। এরকম ছিল সবসময়।

– তাহলে ছোট থাকা অবস্থায় লেখাপড়াটা তো তেমন একটা ভাল হচ্ছে না বা ভাল লাগছে না, তখন কী আর্ট করতেন? বা চিন্তা করতেন আর্ট করব? 

নূ – হুম। আমার মনে হয় আমি অনেক ছোট থেকে ডিসাইডেডই ছিলাম যে আমি আর্টই করব। আমার আব্বা হচ্ছে তোমার আর্কিটেক্ট না কিন্ত উনি আর্কিটেক্টের ড্রয়িংগুলো খুব আন্ডারস্টান্ড করতে পারত। আমি জানি না ওটাকে কী বলে এখন, কিন্তু আগে আব্বাকে সবাই আর্কিটেক্টই জানত। কিন্তু সেই হিসেবে উনার ওরকম পড়াশোনা করা নাই, বা আর্কিটেকচার নিয়ে পড়ে নাই, বা ওরকম কিছু না। কিন্তু উনি সরকারি একজন আসাইনেড ছিলেন আরকি। এরকম থাকে না কিছু যে, এমন ছিল যে বিসিএস টাইপের কি..

– ফরমালি আর্কিটেক্ট পরিচয় ছিল না কিন্তু কাজ উনি ওইটাই করতেন।

নূ – হ্যাঁ। কাজ উনি ওইটাই করতেন। উনি হয়ত ড্রয়িং করতেন। 

– এটা কী সরকারি চাকরি ছিল? 

নূ – সরকারি চাকরি ছিল.. হ্যাঁ। 

– সরকারি চাকরি হলে তো অনেক সময় দেখা যায় যে অনেক বদলি হয়, কিন্তু আপনাদের ক্ষেত্রে সেটা হয়নি?

নূ – না না সেরকম সরকারি চাকরি না। সেটা হচ্ছে যে কিছু আছে না যে তোমার কাজ পায়, সরকার থেকে কাজ পায় এই টাইপের।আমরা অনেক ছোট ছিলাম। আম্মা বলত আরকি, ওই সময়টা আমার খেয়াল আছে আরকি। পরে আব্বার তো ওইটা লস-টস খেয়ে-টেয়ে একাকার অবস্থা। সো একটা গ্রুপ ছিল আরকি। কন্ট্রাক্টর ছিল, আরো অনেকে ওই গ্রুপটা নিয়ে কাজ করত। পরে তো লস-টস খেয়ে একবারে যা-তা অবস্থা, তখন আমরা অনেক-অনেক অনেক ছোট ছিলাম। আর আব্বা যখন ড্রইং করতে বসতো, আমিও বসতাম সাথে। 

– ভালো লাগত খুব?

নূ – হ্যাঁ, ভালো ছিল খুব।

– এটা কীরকম সময়ে থাকতো? সন্ধ্যা বেলা নাকি সকাল বেলা? নাকি টাইম ঠিক ছিল না?

নূ – না কোনো টাইম ঠিক নাই। আর তখন তো ধরো যেমন এখন বাচ্চারা রঙ চাইলে রঙ পাবে, ঠিক না? হ্যাঁ। আমার মেয়েরই তো ধরো ৩-৪ বক্স রঙ তো নষ্টই হচ্ছে। তখন এই বিষয়গুলা ছিল না। ওটা হয়ত কয়েকটা ক্রেয়নের রঙ ছিল মানে ধরো ক্রেয়নের ছোট্ট বক্স থাকত ওইটার মধ্যে ১২টা ক্রেয়ন থাকত। অইটা ধরো একটা ডলা দিলেই ভেঙ্গে যেত। তার পরে ধরো পেন্সিলের কিছু রঙ ছিল। ওইটা কোনোরকম পানি দিয়ে দিয়ে অথবা থুথু দিয়ে দিয়ে রঙ করতাম বুঝছ। হাহাহা। পেন্সিল ছিল। পেন্সিল দিয়ে রঙ করতাম। কিন্তু অইরকম আহামরি আমার রঙ-তুলি নিয়ে হয়ত করা হয়নি।

– ইচ্ছা হতো?  রঙ-তুলি এরকম থাকলে হয়ত বেশি ভালো হতো?

নূ – শোনো, তখন তো ইকুইপমেন্ট চিনতাম না। আশেপাশেও এত মানুষ ছিল না যে এটাকে কালার বলে, এটাকে ওয়াটার কালার বলে, এরকম কেউ ছিল না। কিন্তু আমার মনে আছে আমরা যখন কলোনিতে থাকতাম আমাদের পাশে একজন কাকা ছিল। ওই কাকা ককশিট দিয়ে কেটেকেটে অনেক কিছু বানাতেন। সো উনি ওই টাইপের কাজই করতেন। আমার খুব ভাল লাগত ওইটা দেখতে।  আবার রঙ-টং ওইগুলো দিয়েও অনেক কিছু করতেন।  খুবই আবছা মনে আছে। অইরকম ডিটেইল আমার মনে নাই।

– আপনার যে একটা কাজ আছে – “অ্যা রিলেশনশিপ উইথ আর্কিটেকচার”  এটা কী আপনার বাবার সাথে কাজ চিন্তা করে করা, বা ওইটার  কী একটা ছাপ আছে এরকম? বা যখন “অ্যা রিলেশনশিপ উইথ আর্কিটেকচার” করছিলেন তখন কী ওই সময়গুলোর কথা মনে আসলো? এই ছোটবেলায় যে সময় গুলো কেটেছিল

নূ – না না আমার সেরকম করে মনে আসত না। যেমন আব্বার বেশ কিছু কাজ এখনো আছে। ইভেন আমাদের যে ছোট্ট একটা বাড়ি বানিয়েছে ওই বাড়িটাও আব্বা নিজেই বানাইসে। খুবই ছোট একবারে যা-তা বানাইসে। ওই ড্রইংটা নিয়ে আমি অনেক পরে কাজ করেছি। কিন্তু “..রিলেশনশিপ উইথ আর্কিটেকচার” ওইটা করার সময় আমি অনেক বেশি মোঘল আর্কিটেকচার নিয়ে পড়াশোনা করছিলাম। কিংবা আমার মুঘল আর্কিটেকচারের প্রতি এক ধরনের দুর্বলতা আছে। এবং আর্কিটেকচারের প্রতি একধরনের দুর্বলতা আমার এখনো আছে। ওইটা আমার কাছে খুব ইন্টারেস্টিং লাগে। ওই ফর্মগুলো নিয়ে কাজ করছিলাম যেমন ওই সময় ইসলামিক যে ফর্মগুলো ছিল। ওই সময় বেশ কিছু ড্রইং করেছি। আবার কিছু স্কাল্পচার করার চেষ্টা করেছি, খুব ছোট। বেঙ্গলে একটা শো হয়েছিল ওইটার। ছোট করে স্কাল্পচার নিয়ে। এমনিতেই আমার ওই জায়গাটা তো বেশ ইন্টারেস্টিং লাগে।  শিল্পকলার যেই কাজটার কথা বলছ, তখন আমি ভাবছিলাম, এই আর্কিটেকচারটা কিভাবে বডির সাথে রিলেট করা যায়, সো ওইটা ভাবতে ভাবতে কিংবা একটা অনেক লম্বা সময় মুঘল পিরিয়ড নিয়ে কাজ করার সময় আমার ওই চিন্তাটা আসে। 

আলোকিচত্রী : শিমুল সাহা

– স্কুল-কলেজ শেষ হলে লেখাপড়ার জন্য কী করলেন? 

নূ – আমার স্কুল যখন শেষ হলো ওই যে বলছি কলোনিতে ছিলাম। আমার কলোনিতে অনেকে ছবি আঁকতে যেত, কাছেই একটা জায়গায়।  ওইটা নিয়ে লিখছিলাম আমি সেদিন। আমার ঐ স্যার মারা গেছেন, সেজন্য। সেটা খুব বেশি দূরে না। মনন একাডেমি নামের একটা স্কুল ছিল। ওখানে বাচ্চাদেরকেই পড়াতো আরকি। বাচ্চাদেরকে স্যার পড়াতেন। প্রতি সপ্তাহে একদিন তো, আমার মনে হয় বেতন ছিল ৫০ টাকা নাকি এরকম। আব্বা চাইত না কিংবা আম্মা চাইত না বাড়তি খরচ করা হোক আরকি। তার আগেও স্কুলে যেহেতু আমি একটু ড্রইং-ট্রইং করতাম দেখে আমাকে কম্পিটিশন হলে পাঠাতো। আমার মনে আছে আমি যখন প্রথম কম্পিটিশনে যাই, এখনও পাওয়া যায় ঐ রঙগুলো, কিছু কিছু ছোট ছোট প্লাস্টিকের গোল-গোল রঙ থাকে না? প্লাস্টিকের একটা গ্লাস, প্লাস্টিকের গোল-গোল ওয়াটার কালার। আব্বা ওইটা কিনে দিসিলো আরকি, হা হা হা। ঐটাই প্রথম মনে হয় প্লাস্টিকের ব্রাশ দিয়ে। এরপরে আরো অনেক কম্পিটিশনে গেলাম। কিন্তু ঐ প্লাস্টিকের ওয়াটার কালার যেটা ছিলো অইটাই ব্যবহার করলাম। কি একটা কোম্পানির নাম ছিল। তখন  ম্যাট্রিক পরীক্ষার আগে বড় একটা বন্ধ ছিল আমি একটু বায়না-টায়না করে রাজি করালাম যে আমি স্যারের ওখানে যেতে চাই, পড়তে চাই। আমার একটা মামা ছিলেন, মামা বলতে উনি আমাদের বাসায়ই থাকতেন। আমাদের বাসায় লজিং থাকতেন। তখন তো অইরকম প্রচলন ছিল। ঐ মামা আরকি আমাদের বাসায় অনেক বছর ছিলেন, প্রায় ধরো ১০ বছরের মত। আমরা যখন ক্লাস ৫-এ তখন ঐ মামা আমাদের বাসায় আসেন। মামা আম্মাকে আপা ডাকতো। আব্বাকে দুলাভাই ডাকতো। আমরা উনাকে  মামা ডাকতাম। উনিও তখন পড়াশোনা করতেন ইউনিভারসিটিতে, আমাদেরকেও পড়াতেন। বেতনের কোনো সম্পর্ক ছিল না একদম। থাকতেন, পড়াতেন এমন। তো ঐ মামা আমাদেরকে একদিন নিয়ে গেলো, খুব সুন্দর একটা বাসা ওখানে লেখা আছে মনন একাডেমি। মনন একাডেমির ভিতরে ঢুকে দেখলাম যে অনেক আলো-ছায়ার ভিতর সুন্দর ছিমছাম একটা বাড়ি, স্যার আমাকে নিয়ে নিলেন। বললেন তুমি তো একটু বড়, তুমি দুপুরবেলা আসবে মানে সকালে তো বাচ্চারা পড়বে তাই তুমি দুপুরের দিকে আসবে, তিনটার দিকে। সো আমার থেকে প্রথম শুরু হলো বড়দের তিনটা থেকে ব্যাচ।  তুমি হয়তো চিনো ওনাকে, মনসুর করিম। তিনি কয়েকদিন আগে মারা গেছেন। উনি হচ্ছেন বাংলাদেশের ওয়ান অফ দ্য মডার্ন পেইন্টার। এবং উনি চিটাগঙ ইউনিভার্সিটিতে চারুকলার টিচার ছিলেন। সো উনার কাছে আমি দুই-আড়াই বছর মত শিখি। 

আলোকচিত্রী : মনির মৃত্তিক

– সেই সময়টা আপনার জন্য অনেক ইন্সপায়ারিং ছিল? 

নূ – বুঝিনি আমি… কী বললে? 

– সবসময় যেমন স্কুল-কলেজে পড়তেন, এরপর স্কুল শেষ হওয়ার পর যখন এখানে আর্ট শিখতে গেলেন এই যে দীর্ঘ দুই-আড়াই বছর সময় আর এই যে ভাল একজন শিক্ষক, শুধু শিক্ষক নয় যিনি একজন প্রাক্টিসিং শিক্ষক, যিনি নিজেই প্র্যাকটিস করছিলেন সেটা কী অনেক ইন্সপায়ারিং ছিল? 

নূ – অনেক ইন্সপায়ারিং ছিল । অনেক অনেক। এমনকি সেটা কতটা, সেটা তোমাকে বলে বোঝাতে পারব না।  ধরো স্যারের বাসাটা কেমন ছিল, ওখানে সমস্ত স্টুডেন্ট আসত। ফ্রাইডেতে নিতো ক্লাসটা। মানে ওই সময় মাত্র এসএসসি দিয়েছি, সে সময়ে সবাই কি করত শুক্রবারে স্যারের বাসায় আসতো। সব স্টুডেন্টের এক্সেস ছিল। এমনি স্যারের দরজা সবসময় খোলা ছিল স্টুডেন্টদের জন্য। স্কুলের ছোট প্লাস্টিকের রঙ দিয়ে ড্রইং করতে করতে এক লাফে সিক্স বি, টু বি এগুলো দিয়ে স্কেচ করতাম। কারণ আমাকে তখন আস্তে আস্তে স্যার এগুলো বোঝানো আরম্ভ করলেন। স্যার আমাকে বলতেন স্কেচ করো একটা হয়তো স্টিল লাইফ দিয়ে দিতেন আর বলতেন এটা স্কেচ করো আর আমি বসে বসে করতাম। আমি একটু লম্বা সময় করতাম ধরো তিনটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত করতাম এরকম। পরে তো অনেক সময়ে এমনি মাঝে মাঝে বেশি যেতাম। আর ওই সময়টা আমার খুব অন্যরকম কেটেছে। অন্যরকমভাবেই আমি সময় কাটিয়েছি স্যারের সাথে। 

– এই সময়টা যে কাটাচ্ছেন এটা কী কখনো কাজের মতো লাগতো? 

নূ – কাজর মতো লাগতো না। আমার কাছে মনে হতো এটাই আনন্দ।

– সেটা কী এখনো মনে হয়? আপনি তো এখনো আর্ট করেন। 

নূ – হাহাহাহা!  এটা একটা কঠিন প্রশ্ন! হাহাহাহাহাহা! আনন্দ! আনন্দ! শোনো, একটা ভালোবাসা তো আছেই। তাই না? নিজের কাজকে ভালো না বাসলে তো কাজ করা যেত না। সেটা হয়তো আমি করতাম না কিংবা হয়তো অন্য কিছু করতাম। তো হ্যাঁ,  আমার ভালো লাগে। আমার কাজ করতে ভালো লাগে। তাই আমার ধরো সামহাউ দিনে স্টুডিওতে আসতেই হয়। হয়তো আমি স্টুডিওতে কিছুই করি না। তুমি এখনো দেখো নাই আমার স্টুডিও। বাসার নিচে আমি এখন স্টুডিওতে বসে তোমার সাথে কথা বলছি। সো অনেক সময়ে অনেক কাজ থাকে না হয়তো, গেস্ট থাকে কিংবা হয়তো আমার মেয়েকে অনেক যত্ন করতে হয় মেয়েদের তো অনেক কাজ ছেলেদের তো ততো কাজ নাই। হা হা হা। 

– বাড়িতে আমরা তো ফ্রি ফ্রি থাকি মনে হয়। 

নূ – না না সেটা না.. 

– আমার কাছেই মনে হয় আরকি। 

নূ – ধরো রান্না করতে গিয়ে দশটা কাজ করতে হয়। এক্সট্রা দশটা কাজ করতে হয়,  সামহাউ আমি যদি নিচে না আসতে পারি দেখা যায় যে টেম্পার গরম হতে থাকে সো এমন না যে আমি খুব বেশি কাজ করি বা আমি চাই যে আমি এসে অনেক বেশি কাজ করি। আমার স্টুডিওটা হচ্ছে এরকম ধরো আমি এসে বসে থাকলাম হয়তো কিছুই করলাম না।  শুয়ে থাকলাম কিংবা একটা বই পড়লাম। হয়তো পড়লাম না। মানে আমার আসতেই হয় আমি ইনজয় করি।

– তারপরে অবশেষে চট্টগ্রাম ছেড়ে কবে ঢাকায় আসলেন? 

নূ – চট্টগ্রাম ছেড়ে ঢাকায় আসলাম মনে হয় ২০০৬-এ। আমি তখন স্যারের কাছে পড়তে পড়তে চারুকলার জন্য প্রিপারেশন নিচ্ছিলাম, আমার আব্বা চাইত না যে আমি চারুকলায় পড়ি। অবভিয়াসলি আবার আমার আম্মাও চাইত না এরকম একটা গাধা স্টুডেন্ট তাও চাইতো আমি যেন ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হই। বুঝছো?  হা হা হা হা হা।  তখন নতুন নতুন প্রাইভেট মেডিকেলগুলো আসলো প্রাইভেট কলেজগুলো বের হলো। ভীষণ দাম!  আমার ছোট বোনটা খুব মেরিটোরিয়াস!  ভর্তি হতে পারল না মাত্র ২ নাম্বারের জন্য! টিকতে পারে নাই । আর আমার মতো গাধা স্টুডেন্টকে সে ভর্তি করাতে চায়!  যেটা কখনও হওয়ার নয়। আরকি আমি তো বিশ্বাস করতে পারি না! পরে বললো ঠিক আছে সাইন্স পড়তে হবে বুঝছো।

– পরে মানালেন কীভাবে? 

নূ – ও না মানায় নাই তো। মানানোর তো কিছু ছিল না।  মানানোর কথাই নাই।  মিথ্যা কথা বলছি।  

– মানে এটা নিয়ে কোনো কনভারসেশনই হবে না! মানে কোন কথাই নেই এরকম?

নূ – না কোন কনভারসেশন নাই। কথা নাই।  ঠিক আছে তোমার ভালো লাগে তুমি আর্ট করছো।  শিখেছ? শিখে ফেলেছ।  আর কি এরকম বিষয়টা। আর আমি খুবই সিনসিয়ারলি যেতাম স্যারের কাছে। মানে ওই ড্রইং স্কুলে আর যেতে যেতে আমার স্কেচ খুব ভালো হয়ে গেল। আমার কথা শুনতে পাচ্ছো তুমি, আটকে গেল?  

– আমার এখানে সমস্যা আছে একটা। কিছুক্ষণ পর-পর আমার ভিডিওটা ফ্রিজ হয়ে যায়। কিন্তু শুনতে পাই। 

নূ – (মেয়ের দিকে তাকিয়ে গুড নাইট শুয়ে পড়ো ব্রাশ করেছ না হলে একদম কান ধরে উঠাবো ঠিক আছে যাও) সরি!

– কোনো সমস্যা নেই। 

নূ – তারপর আমি অনেক সহজেই স্কেচটা ধরে ফেললাম। এরপরে আমি ওয়াটার কালারটাও ধরে ফেললাম। তারপর আমাকে ক ইউনিট পরীক্ষা দিতে হলো।  আমার বাবা-মার জন্য।  আমি কেমিস্ট্রিতে পরীক্ষা দিলাম। ফিজিক্সে পরীক্ষা দিলাম।  তারপর আরেকটা কি জানি সমুদ্রবিজ্ঞান ওটাকে যেন কি বলে ও মেরিন সাইন্স, পরীক্ষা দিলাম।  ল’তে পরীক্ষা দিলাম, তারপর আবার চারুকলায় পরীক্ষা দিলাম।  আমি তো কোনোভাবেই কোনোটাতেই কিছুই দেখি নাই। দেখতে চাই নই।  কিন্তু সামহাউ আমি ল’তে টিকে গেছি। মানে ল’য়ের  প্রশ্ন এমন সহজ আসছে, পান্তা ভাতের মত! এভাবে ল’তে টিকে গেলাম। আবার মেরিন সায়েন্সেস খুব পিছনের দিকে আসছে, তো ওখানে আমার হয়ে যেত। আমি বাসায় এসে বলছি কোথাও টিকিনি শুধু চারুকলায় হয়েছে । মানে চারুকলায় তো আমি অবভিয়াসলি টিকবো এটা তো আমি জানি। তারপর কি আর করার, চারুকলায় ভর্তি করাতে হলো। 

– ও আচ্ছা তার মানে তত স্ট্রিক্ট ছিল না অন্তত রিয়ালিটি মেনে নিল। 

নূ – না, ওটা মেনে নিয়েছে। ছোট আব্বা কখনো মেনে নেয় নাই যে ওরকম চারুকলায় পড়ব। আবার আমাকে ওরকম কখনো বাধা দেয় নাই।  চারুকলায় পড়তে  অনেক রকম বাধা দিতে পারতো। চারুকলায় পড়লে তো অনেক রকম বাউন্ডারির মধ্যে পড়ে যেতে হয়, যেমন সময় করে বাসায় ফেরা, তারপর সমস্ত কিছুর সাথে জড়ায় যাওয়া, তো ওখানে পড়ার কারণে এরকম বাউন্ডারি ক্রস করতে হয়েছে আমার অনেকভাবে।  

– এরপর যখন চট্টগ্রাম ছেড়ে আসলেন ঢাকাতে, চট্টগ্রামে তো শুধু আপনার পরিবার ছিল না, পরিবারের বাইরে আপনার অনেক বড় প্রতিবেশীরা যারা এত সময় কাটানোর কারণে আবার পরিবারই বলা যায়,  সব ছেড়ে যখন আসলেন একা হয়ে গেলেন না?

নূ – হ্যাঁ আমি একা হয়ে গেলাম আমার যখন ঢাকায় আসতে হলো। বিভিন্ন এক্সিবিশন-টেক্সিবিশন তারপরে ছবি দেখতে আসা হয়েছে আগে। কিন্তু ওইভাবে কখনো বন্ধুত্ব হয়নি কারো সাথে। চিনতাম অনেককে। এবার ধরো ঢাকায় এসে আমার অন্যরকম এক স্ট্রাগল হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ধরো আমি আগে থেকে লিপি আপা, মাহবুব ভাইদেরকে চিনতাম।  তাদের সাথে আমাদের খুব নিজেদের একটা ভালো সম্পর্ক ছিল।  আর উনারা অনেক ওয়েলকামিং ছিল। তো ওরাই হচ্ছে একমাত্র ভরসা। এরপরে ঘুরতে আসতাম ২০০৬-এর দিকে, কিন্তু ২০০৩-এ তখন এক্সিবিশন দেখতে যেতাম। একটা গ্যাপ ছিল পরে ওটা আসলে স্ট্রাগল বলবো না।  আর কি কাজ করতে হয়েছে কিংবা ধরো আমি এসে এসে ছোট্ট একটা বাসা নিলাম। বাসার পাশে একটা ছোট্ট স্টুডিও নিলাম।  সারা জীবন আমার একটা স্টুডিও কিন্তু থাকতেই হবে। সেটা আমার ইউনিভার্সিটি লাইফ থেকে। মানে সামহাউ আমি আমার বাসায় এত ঠাসাঠাসির মধ্যে দেখা যাচ্ছে যে একটা কোনায় আমার স্টুডিও রুম করতাম সব সাজালে ওইটা সাতদিন কেউ হাত দিতে পারবে না এরকম একটা বিষয় ছিল। তখন ২০০৬-এ আমি একটা সলো করি ঢাকায় এসে, আলিয়ান্স ফ্রান্সেসে।

একটি পাখির ঠোঁটের ভান

– আপনার কাজে স্মৃতি অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়। মেমোরি- স্মৃতিটাকে কী আপনার কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় আর এই স্মৃতিটা কী ব্যক্তিগত স্মৃতি, নাকি পাবলিক মেমোরি নিয়ে কাজ করেন? 

নূ – পাবলিক মেমোরি নিয়ে কাজ করি। মেমোরি তো খুব ইম্পর্টেন্ট একটা জিনিস। মেমোরিটার সাথে আমি বেঞ্জামিনের টাইম থিওরিটাকে খুব মিলাতে চেষ্টা করি কারণ মেমোরি আসলে রিকল হয়। দাদার বাবার দাদার লাইফ হয়তো তুমি এখন লিড করতে পারছো কিংবা অন্যভাবে। তো এটার একটা অন্যরকম আমি নস্টালজিক বলবো না, নস্টালজিক শব্দটা আমার ভালো লাগে না।  ওইটা একটা অন্যরকম ওয়াক থ্রু আছে। মানে আমার কাছে মনে হয় আমি যাচ্ছি, আমি পিছনে দেখছি এরপরে ব্যাক করছি প্রেজেন্ট ডে-তে। তুমি যখন একটা এককভাবে কোথাও যাবে অনেকগুলো কম্বাইন্ড মেমোরি আসলে তোমাকে কাজে দিবে কিংবা তুমি স্মরণ করতে থাকবে মানুষগুলোকে। যেমন ধরো ওরাল হিস্ট্রি,  ওরাল হিস্ট্রি কি আসলে এটাও তো এক ধরনের মেমোরি। যেমন এটা আমরা এখন যেমন লোকগীতিতে বলছে কিংবা অনেক অনেক লোকগানের নাটক আসছে এখানেই ওরাল হিস্ট্রিকে আমরা অনেক অনেক মিথ ভাবি। এই মিথ-টিথ এক ধরনের মেমোরির সাথে কানেক্ট করে। এটা কালেক্টিভ মেমোরি আমার মনে হয়।  পার্সোনাল মেমোরি তো ডেফিনিটলি আছে। 

মেমোরি, সাউন্ড এগুলো তো তোমার একবারে মাতৃগর্ভ থেকেই শুরু হয়।  

– ভূখণ্ড নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

নূ – ভূখণ্ড নিয়ে ওটা তো মনির বলবে।  হা হা হা হা হা।  

– তাও ভাবনা একটা থাকে না, যেহেতু আপনারা একসাথেই সব করেন…

নূ – এটা তো জাস্ট স্টার্টিং।  ওটাকে একটা কো-আর্টিস্ট স্পেস বলছে। এটা এমন না যে আমরা এখনও ঐ স্বপ্ন দেখছি না যে ওটা একটা বিশাল কিছু হবে। এটা একটা অর্গানাইজড ফর্ম হবে। এটা অনেক বেশি স্লো প্রসেস। বুঝতে পারছ? মানে এটা ঢাকার একটু বাইরে আর্টিস্টরা আসবে এমন একটা স্পেস। যে স্পেসে শুধু আর্টিস্ট না, রাইটার কিংবা যে কেউ তার প্রসেস যদি ডেভেলপ করতে চায়, তার কাজের থিওরিটিক্যাল জায়গাটুকু যদি দাঁড় করাতে চায়, সে যদি আসতে চায় ডেফিনিটলি আসতে পারবে। সেটা এক সপ্তাহ থেকে এক মাস একটা রেসিডেন্সি হতে পারবে। তার নিজের মত করে। ওই জায়গাটায় আমরা এখনো কাজ করছি। সেটা কোলাবরেশনও হতে পারে কিংবা আর্টিস্টরা একা হতে পারে আবার এখানে সিরামিকস আছে। সিরামিকসটাও তো কাজে লাগাতে পারে। মনের ভাবনা ছিল ওটাকে আরেকটু ডেভেলপ করা। একটা কো-আর্টিস্ট স্পেসে যা যা দরকার একজন আর্টিস্টের।একটা পেইন্ট প্রিন্টার মেশিন, কিংবা ফটোগ্রাফিক একটা ডার্করুম, কিংবা একটা লাইট সেট সো এগুলো নিয়েও ভাবছি। এটা তো এখনো একেবারে নতুন। এটা জাস্ট স্পেস হিসেবে ওপেন হয়েছে। দেখা যাক ভবিষ্যতে ইনশাল্লাহ!  

– আচ্ছা আমার এটা জুম ফ্রি একাউন্ট তো আমি নতুন একটা লিঙ্ক দিচ্ছি, দুই মিনিট টাইমার দেখাচ্ছে… 

নূ – ক্লোজ হলে এই লিংক মনে হয় 

– সেটা কিভাবে হয় আমার আসলে ধারণা নেই আমি তাই নতুন করে দেই।

নূ – আচ্ছা।  কি করবা এত ইন্টারভিউ নিয়ে? 

– হা হা হা! এই প্রশ্নটা আপনি প্রতিবার করেন কেন?  হা হা হা। 

নূ – না তোমার লেখা খুব সুন্দর। আমার খুব ভালো লাগে। ভীষণ সুন্দর। বই ছাপাবা?

– হ্যাঁ, সেটাই প্ল্যান। আমি তো লিখছি আমার ওই জার্নিটা নিয়ে। বাবার বিষয়গুলো নিয়ে আর কি।

নূ – বাবা কেমন আছে? 

– আছে। শারীরিকভাবে আছে আরকি। বাকিটা যেরকম থাকার কথা। আচ্ছা, এখন আবার প্রশ্নের দিকে যাই। আপনি যেই মাধ্যমগুলো নিয়ে কাজ করেন তার মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় মাধ্যম কোনটি? 

নূ – সবগুলোই প্রিয় মাধ্যম। প্রিয় বলেই কাজ করি।  হা হা হা! 

– সবগুলো তো পছন্দের হওয়ার কথা, প্রিয় তো একটাই… নাকি? হা হা হা!  

নূ – মাধ্যম বলতে তুমি কী বোঝাচ্ছো, কী মাধ্যম? 

– আর্টের মধ্যেই আপনি যেমন পেইন্টিং করেন আবার পারফরম্যান্স আর্ট করেন। 

নূ – আমি পেইন্টিং করি না।  ড্রইং করি। পেইন্টিং আমি অনেক আগেই বন্ধ করে দিয়েছি। আমার অনেক ইচ্ছা করে করতে।  আমার মনে হয়, মাধ্যমটি বলবো না আসলে একটা কাজের সাথে আরেকটা কাজ খুব রিলেট করে। মানে ধরো আমি পারফরম্যান্স করলে আমি ধরো অবশ্যই ড্রইং করি। টেক্সটাইলের কাজ করলেও আমি ড্রইং করি। টেক্সটাইলের কাজ করলেও পারফরম্যান্স করি। সো এগুলোর সাথে অনেক কানেক্টেড মনে হয় আমার কাছে। ধরো টেক্সটাইল ওয়ার্ক অথবা উইভিং বিষয়টাই পারফরমেটিভ, প্রসেসটাই পারফমেটিভ।

আমার কাছে মনে হয় পুরো প্রসেসটাই  খুব ইম্পর্টেন্ট একজন আর্টিস্টের কাছে।

ধরো কোন একটা প্রজেক্টে কাজ করা হয় এক বছর, দেড় বছর ধরে। আমি খুব স্লো পারসন। কিন্তু ধরো এমন না যে আমি ১৫ দিনের মধ্যে একটা কাজ নামাবো। এটা আমার কখনো হয়নি ইভেন আমার ড্রইংগুলোও তাই। ড্রয়িংগুলো খুব স্লোলি কাজ করা।  ছোট ড্রইং করলেও খুব স্লো কাজ করি এবং প্রসেসটাও খুব স্লো। সো আমার কাছে মনে হয় পুরো প্রসেস একটার সাথে আরেকটা খুব রিলেট করে। তাই আমি কোনোটাকে ফেলে বলতে পারব না যেটা থেকে অন্যটা বেশি পছন্দ। আমি একটা পারফরম্যান্স রেডি করছি তার আগে অবশ্যই অবশ্যই আমার ড্রইং করতে হয়। আমার কনসেনট্রেট করতে হয়।  নিজের বডির ওপরে, টাইমের ওপরে। এটা একমাত্র আমাকে ড্রইং হেল্প করে।  কিংবা টেক্সটাইল উইভিং যদি বলো ওইটা আমাকে খুব হেল্প করে।  খুব একটার সাথে আরেকটা…

– মনির মৃত্তিকের সাথে আপনার কোলাবরেশন নিয়ে যদি একটু বলতেন আপনাদের মধ্যে বোঝাপড়াটা কিরকম কাজ করে? 

নূ – আমরা হচ্ছি একদম দুই মেরুর মানুষ। মনির মৃত্তিক একদিকে হাঁটে আর আমি হচ্ছি একদিকে হাঁটি।  দুজন একসাথে হাঁটি না।  হা হা হা! ওর প্র্যাকটিসটা খুব ডিফরেন্ট। আমার প্র্যাকটিসটা খুব ডিফরেন্ট, কিন্তু সামহাউ কোনো কোনো সময় দেখা যায় যে এটা হয়তো একসাথে থাকতে থাকতে মানে অনেক বছর তো একসাথে ভাবনাগুলো খুব শেয়ার না করলেও মিলে যায়। ও কি ভাবছে আমি রিড করতে পারছি। আবার আমি কি ভাবছি ও রিড করতে পারছে। সো দুজনের কাজ, কাজের ধরন আলাদা হলেও মাধ্যম আলাদা হলেও আমরা দুজন দুজনের কথা বুঝতে পারি। হয়তো এবারের ছবিমেলার কথা যদি তুমি বলো ওটা তো পুরাটাই প্যানডেমিক সময় করা,  এই প্যানডেমিক সময় আমার কিছুই করতে মন চাচ্ছিল না। এটা আমি অনেককে বলেছি। অনেকে বলছিল যে কেন এটা তো খুব ভালো সময়। আর্টিস্টরা অনেক লম্বা একটা সময় পেয়েছে, অনেক প্রজেক্ট তৈরি করবে। অনেক কাজ করবে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে খুব প্যাথেটিক একটা সময়। এই সময়ে আমি কোনো কাজ করতে পারিনি।  তখন আমার খুব লেখালেখিটা স্টার্ট হয়। তারপর ওই লেখাগুলোকে কিভাবে আমি ইমেজে ট্রানস্ফার করব,  কিংবা একটা পোয়েমকে আমি কিভাবে ইমেজে ট্রান্সফার করব, একজন কিংবা আমি কিভাবে রিড করবো সেই ইমেজটা? কিংবা একজন ভিউয়ার কিভাবে রিড করবে? তখন ওই ইমেজ ট্রান্সফারের জন্য আমি ওকে বলি আমার ওই ফটোগ্রাফগুলো ওঠানো হয় তখন। আমি হয়তো সেই কিংবা কনসেপ্ট বা হয়ত একটা ড্রইং করে দেই যে কতটুকু ফোকাস করবে কিংবা কোন অ্যাঙ্গেল থেকে করবে। আবার ওর কাজও খুব ডিফরেন্ট।  ও হয়তো ইনফ্রারেড নিয়ে কাজ করে।  মেশিন পার্টস নিয়ে কাজ করে।  ওর ফটোগ্রাফগুলোর মধ্যেও একটা ইন্টারেস্টিং বিষয় আছে যে পারফরম্যান্স ফটোগ্রাফ আছে।  ওর কোনো কোনো প্রজেক্ট খুব ইন্টারেস্টিং। সেটা হয়তো তুমি ওর সাথে কথা বললে বুঝতে পারবা ওর সম্পর্কে।

– আপনাদের কত বছর হলো একসাথে?

নূ – আল্লাহ! এটা বলা যাবে না! হা হা হা.. এটা তো একেবারে ভুল হওয়ার বয়স! অনেক বছর হলো। একুশ-বাইশ বছর তো হবে।  তারও বেশি।  ২২-২৩।  

– পারফরম্যান্স, ফটোগ্রাফি, সফট স্কাল্পচার, ইনস্টলেশন এবং ড্রইং মিডিয়াম নিয়ে কাজ করেন। এগুলোর মধ্যে ফটোগ্রাফি কিন্তু অনেক কমন মিডিয়াম, পপুলার বলেন বা প্রসারিত বা পরিচিত এই বিষয়টা আপনি কীভাবে দেখেন? 

নূ – এটা নিয়ে আমি মনিরকে দেখি তো। ও যে ফটোগ্রাফি কাজটা করে আমি হয়তো এখনো ঠিক করতে পারি না।  আমি কিন্তু এখনও আই এস ও-তাই এস ও এগুলো বুঝি না। লাইট বুঝি না। আমি বুঝছি এদিকে লাইট হবে, এদিকে ডার্ক হবে। ডার্ক লাইটটা এদিক থেকে প্রকাশ হবে।  লাইটটা এইদিক থেকে ফোকাস হবে , লাইটটা এইদিক থেকে আসবে। যেটা হয়, পারফরম্যান্সে খুব কাজে লাগে। আমি পারফরম্যান্সের কোনো একটা কাজ রেডি করি তখন হয়তো অনেক সময় সেটাকে ভাবতে হয় যে লাইটটা কোন দিক থেকে পড়বে। কিংবা লাইটটাকে আমি কিভাবে ফেলবো।  অফকোর্স থিয়েট্রিক্যাল লাইটের কথা বলছি না। প্রতিটা পারফরম্যান্সে যে একটা লাইট লাগে সেটার কথা বলছি।  আন্ডারস্ট্যান্ড করতে পারি এবং ফটোগ্রাফি আমি খুব ইনজয় করি। আমার মনে হয় ঠিক করতে না পারলেও ক্লিক করতে না পারলেও আমি রিড করতে পারি। ফটোগ্রাফি রিডিংয়ের জন্য হেল্প করে হলো মনির। অতো এডিট করে এবং সেটা প্রায় প্রতিদিনই হয় হয়তো একটা এডিট করল এটা ভালো বলল;  বলল যে এটা ভাল লাগছে না, এটা ভালো লাগছে।  প্রতিদিন ওকে বলতে হয় যে না এটা ভালো লাগে নাই, এটা ভালো হয় নাই ওইটা ভালো, এরকম হবে ধরো। সেইম ছবি কোনটায় হয়তো লাইট আছে, কোনটায় ডার্ক আছে, কোনটায় হয়তো ফ্ল্যাশ আছে, কোনটায় হয়তো ক্রপ করতে হবে। কিংবা ওকে যে প্রতিনিয়ত বলছি যে এটা না এটা ভালো,  এই ভালোটা কেন ভালো তখন হয়তো একটু বুঝি-ও, আবার হয়তো একটা বলল যে না এটা এরকম হবে না,  ডিসকাশনগুলো প্রায়ই হয় আরকি। একটা ছবি উঠাইলেই ওটার একটা ডিসকাশন হয়। হয়তো ছবিটা পোস্ট দিবে তার আগে হয়তো বলে এটা, নাকি ওইটা? আমার মনে হয় আমি ফটোগ্রাফিটা খুব তাড়াতাড়ি রিড করতে পারি। এমনিতেই আমাদের এগুলো নিয়ে অনেক কাজ আছে। ইভেন আমি মিডিয়ামটা এনজয় করি। সেটা হয়ত পারফরম্যান্সের কারণেই হতে পারে। 

– আপনার ফটোগ্রাফির কাজগুলোও কিন্তু অনেক বেশি স্কিল্ড, আর টেক্সটাইলের কাজগুলোও অনেক বেশি স্কিল্ড। 

নূ – স্কিল্ড? ফটোগ্রাফির স্কিলটা হয়ত ওর জন্য, আমার জন্য তো না । হা হা হা

– মনে হয় আরকি। এটা এক ধরনের অলিখিতি আনঅ্যানাউন্সড কোলাবোরেশন, জীবনের মতো, আপনাদের যে একসাথে কাজ, এই বিষয়টা।।  

নূ – হতে পারে। কারণ ওর অনেক কাজে হয়ত আমি মডেল দিচ্ছি। আবার বিরক্ত হচ্ছি, মানে একটা প্রজেক্টে তো কিছু মডেল দেওয়াই হইসে। আবার হয়ত এডিট করার সময় হয়ত ঘাড়ের উপর চেপে বসছি। না এটা এভাবে হবে না এটা আরেকটু ডার্ক লাগবে। এটা আমি এভাবে চাই। আবার কি, আমরা দুইজন অনেক বেশি সিনেমা দেখি। বুঝছ। ১২ টা বেজে গেসে তো সিনেমা অন। এটাও একটা বিষয় হতে পারে। অনেক অনেক মুভি দেখার কারণে, যেমন কিছু কিছু ফটোগ্রাফি আছে যে মুভি শট থেকেও নেওয়া। হয়ত কোনো একটা ফিল্ম দেখলাম, মনে হলো আচ্ছা এই শটটা তো খুবই ইন্টেরেস্টিং, তখন হয়ত আমি একটা ছোট্ট করে ড্রয়িং করে বলসি যে আমি এই শটটা নিতে চাই। বা এই লাইটটা নিতে চাই। কিংবা হয়তো কোন একটা কিছু আমি করতে চাই। এই বলতে আমি স্পেসিফিক্যালি এই প্রজেক্টের কথা বলছি। অন্যভাবে অন্য প্রজেক্ট করা হয়েছে, আমার হয়তো ধরো ২০১৯-এ একটা প্রজেক্ট করা হলো ওটা আবার হাদি করেছে। ওই কাজটা ফটোগ্রাফির কাজ। 

– তো মনির ভাইয়ের সাথে যখন কাজ করেন আপনি আবার সাথে যখন আপনার টেক্সটাইলের যে আর্টিজান উনাদের সাথে যখন কাজ করেন পার্থক্যটা কিরকম হয়? টেক্সটাইলের কাজগুলো খুবই স্কিলড, যেগুলো ছিল আরকি এবার।

নূ – পার্থক্য? কি ধরনের পার্থক্যের কথা বলছ?  

– মনির ভাইয়ের সাথে যখন কাজ করেন তখন তো ধরেন যোগাযোগটা এক ধরনের। মূলত যোগাযোগের কথাটাই জিজ্ঞেস করছি । ধরেন মনির ভাইয়ের সাথে তো যোগাযোগটা অন্যরকম। এত বছর ধরে একসাথে থাকা-খাওয়া … এই বিষয়গুলো ম্যাটার করে না, যখন আপনার টেক্সটাইলের আর্টিজানদের সাথে কাজ করছেন? তখন তো হয়তো এই এক্সেসটা থাকে কিংবা থাকে না। এই যোগাযোগের কথা বলছি। 

নূ – না, এক্সেস হয়ত থাকে না কিন্তু অনেকদিন ধরে কাজ করি তো। সেই ধরো ২০০০…… আই থিংক ২০০৯ থেকে আমি উনাদের সাথে কাজ করি। ওই আন্ডারস্ট্যান্ডিং জায়গাটা হয়ে গেসে। আমি হয়ত ফোন করে দিলেই হয়। ধরো এখন আমি আগেই বুঝতে পারি যে কত কাউন্টে আমি কাজ করব। আমি হয়ত বলছি যে আমি একটা কুইক কাজ করতে চাই, আমি ১০০ কাউন্টের কাজ করব। কাউন্ট মানে সুতার কাউন্ট বলছি। তখন উনারা হয়ত বলবে এত কুইক সময়ে এত কাউন্টের কাজ করা যাবে না। তখন হয়তো আরেকটু ডিসকাশনে যাচ্ছি যে তাহলে কি করা যায়। সো উনাদের সাথে আন্ডারস্ট্যান্ডিংটা আমার ভালো অনেকদিন ধরে কাজ করার ফলে। যে কারণে অনেক সহজ হয়। আবার অনেক সময় দেখা যায় আমার চেয়ে উনারা অনেক ভালো বুঝে অনেক কিছু। আমি হয়ত টেকনিক্যাল দিক থেকে বুঝছি না। আমি হয়ত একটা মনে মনে ভাবলাম এরকম-এরকম করে, করে ফেলব, খুব স্বপ্নের মত ভাবলাম। তখন উনারা বলছে, না এটা এভাবে হবে না। এভাবে অনেক কিছু বেটার কিংবা এভাবে অনেক কিছু চেঞ্জ করতে হবে অথবা এভাবে করলে ভাল হবে। এরকম যা হয় আরকি।  ছবিমেলায় কাজ করার সময় যেমন জামদানী উইভাররা ছিলেন দুইজন। আর আমার সাথে সব সময় কাজ করেন একজন এম্ব্রইডারি করেন এমন একজন আপা। সো উনারা তিনজন সব সময় কাজ করেন আমার সাথে। 

– তারা কী আপনার এক্সিবিশনে দেখতে আসে ? আপনার কাজ দেখতে আসেন? 

নূ – আপাটা আসে নাই কখনও, কিন্তু উইভার আসেন।

– এবার ছবিমেলায় আসলেন?

নূ –  না, এবার ছবিমেলায় আসে নাই। এসে “এটা কি করলেন আপনি, কি থেকে কি বানালেন আপনি” এরকম বলে। হা হা হা ! কিংবা আমি ছবি দেখাই। কারণ অনেক সময় দেখা যায় আমি একটা ফ্যাব্রিকের শিট বুনতে দিলাম, এটাকে যখন সফট স্কাল্পচার বলে তখন হয়ত বুঝতে পারে না যে এটা কি আবার। হয়ত ভাবে আচ্ছা বুনতে বলছে, বুনি। অনেক সময় হয়ত ৬ ইঞ্চি বুনতে বললাম একটা দরকার তখন বুঝতে পারে না এটা দিয়ে কি হবে, হয়ত ভাবে আচ্ছা বলছে যখন বুনি। তখন ওইটাই অনেক বলে যে কি বানাইতে বলছেন কি বানাইছেন। সো অনেকদিন ধরে কাজ করার ফলে ওই আন্ডারস্টান্ডিংটা হয়ত আছে।  

– যে উইভার দুইজন বা যিনি এম্ব্রয়ডারি করেন, একই সময়ের দিকে কী উনাদের সাথে কাজ শুরু করলেন নাকি আলাদা আলাদা সময়ে পেলেন।

নূ – অলমোস্ট একই সময়ে। কারণ আমাদের এখানে আসলে ২০০৮-টাটের দিকে ৩টা তাঁত ছিল জামদানিরই। তো এটা আমাদের লক্ষ্যই ছিল আচ্ছা ওরা চলে যাচ্ছে। মানে এখানে কাছেই একটা উইভিং ইয়া ছিল, উইভিং স্টেশন এর মত ছিল। তো অরা সামহাউ তাঁত উঠিয়ে নিচ্ছে বা কিছু। তো মনির বলল যে ঠিকাছে তোমাদের উঠানোর দরকার নাই, তোমাদের সবাইকেই আমি একোমোডেট করবো। পুরো তাঁতটাই আমি কিনে নিচ্ছি, আমার এখানেই বানাও এসে। পরে উনারা তো টোটাল ৬ জন ছিলেন, তো আমরা মোটামুটি ট্রাই করছিলাম এই আরটিজেনটা টিকে থাকুক।  কিংবা ওরা অন্য কোনো প্রফেশনে না যাক। কিন্তু সামহাউ এটা আর হয়নি আরকি। ৫ বছর কিংবা সাড়ে ৪ বছর চলার পরে দেখা গেল উনারা নিজেরাই উনাদের প্রফেশনটা চেঞ্জ করে ফেলে। আমাদের টার্গেট ছিল যে প্রফেশন যেন চেঞ্জ না করে সেই পারপাসে যেন এখান থেকে হয়। এবং ওখান থেকেই মনে হয় ইন্টেরেস্টটা গ্রো হয় আমার। যেহেতু একদম চোখের সামনে থেকে দেখছিলাম, কিভাবে কিভাবে বুনে কি করছে কিভাবে আগাচ্ছে। আর যেহেতু সেম টাইমে টেক্সটাইল নিয়ে কাজ করছিলাম, তাই অনেক কাজ পাচ্ছিলাম আর এম্ব্রয়ডারি নিয়ে কাজ করছিলাম, তো আমিও মানুষ খুঁজছিলাম যে কে এম্ব্রয়ডারি করতে পারে। তো নিজে যেই আপা কাজ করছে সে আমার সাথে আজকে অনেক বছর ধরে কাজ করছে। আনুমানিক ২০১২ থেকে কাজ করছে।

– উনাদের নাম জানা যাবে? 

নূ – আপার নাম হচ্ছে নূর জাহান আর যিনি জামদানী বুনন করে উনি হচ্ছেন খায়ের, আবুল খায়ের। উনার সাথে আরেকজন যে থাকে অ্যাসিস্ট্যান্ট, ও আবার চেঞ্জ হয়। কিন্তু মুল কাজটা খায়ের ভাই করেন।

– আচ্ছা এবারের ছবি মেলায় অ্যাসিস্ট্যান্টের কাজটা যিনি করেছেন তার নামটা মনে আছে? 

নূ – না (চিন্তা করে) না

– আচ্ছা মুলত আবুল খায়েরই হয়ত কাজটা করেন। আপনাদের একটা অলিখিত কোলাবোরেশন লাইফের, জীবনের মত। যেখানে এক পাশ আরেক পাশকে সারাক্ষণ সাইমাল্টেনিয়াসলি এফেক্ট করছে?

নূ – না, এটা তো নিশ্চয় আমার ধারণা যারা কাজ করছে মোটামুটি অফ গ্রিডে কাজ করছে অনেকেরই হয়ত আছে। আরকি হয় না একজনের ওপরে ডিপেন্ড হয়ে যাওয়া। আমি এখন যদি অন্য কারো সাথে কাজ করতে যাই, উনাদের আমার শিখাতে, শিখাইতে তো না উনাদের বুঝাইতেই আমার জান যাবে, আরো ৫ বছর লেগে যাবে। এখন হয়ত উনার কি করতে হবে আমি জাস্ট বলে দিলেই হয়, কিংবা একটা ড্রইং করে দিলেই হয়। যেগুলো টেক্সটাইল বা টেক্স বেজড কাজ, টেক্সট উইভিং করতে হয়, সেটা হয়ত আমি ট্রেসিং করে দেই। কারণ টেক্সটটা উনাদের মিরর ওয়েতে বুনতে হয়, সো ওইটা উনাদের জন্য খুব ডিফিকাল্ট, সো অইটা আমার ট্রেসিং করে দিতে হয়, ট্রেসিং না করলে ওরা তখন পারে না। কারণ টেক্সটটা তো ধরো এখন একটা মোটিফ  হয়ে যায়। আই মিন ধরো একটা লেখা, উনারা তো অইটা তখন অইটা রিড করবে অ্যাজ আ মোটিফ, লেখা হিসেবে না। কয় সুতা গেল কয় সুতা বাদ গেল এরকম একটা বিষয় আছে। 

গোল্ডন নেট
Title: Patterns of a tactile score.
Curated by: Kanika Anand
Solo Exhibition at Exhibit320, Delhi 2018 

– আপনার টেক্সটাইল নিয়ে কাজ করার পিছনে কি নারায়ণগঞ্জ প্রাচ্যের ডান্ডি বলে পরিচিত হওয়ার কোনো প্রভাব আছে? 

নূ – হয়ত আছে, কিন্তু আমার মনে হয় আমার মা খুব এম্ব্রয়ডারি, টেক্সটাইল বেইজ কাজ করত অনেক বেশি। টেক্সটাইল মানে  ধরো বলতে চাচ্ছি, আমরা যখন ছোট ছিলাম আমাদের কাপড়-চোপ্ড় সবই ধরো মা বানাতো। বিছানার চাদর থেকে শুরু করে, টেবিল ক্লথ তারপরে ওয়াল ইমেজ, তারপরে ভাত খেতে বসার আসন, তারপর বালিশের কভার সব কিছুই তো তখন হাতে বানাতো ঠিক না, ওখানে তখন এম্ব্রয়ডারি করত। সারাদিনই দেখতাম কাজ-টাজ শেষ করে ওইটা নিয়ে বসে যাচ্ছে। ওইটাও হয়ত এফেক্ট করে সামহাউ। মানে ডেফিনিটলি আসছে সেটা। আর এখানে এসে মনে হলো যেটা, জামদানীর অনেকগুলো পারসন ছিল।  অনেক দিন ধরে। তো ওই টেকনিকটাও আমার কাছে ইন্টেরেস্টিং লাগে অনেক। আবার ওইটাও আমার কাছে অন্যরকম একটা সেন্স দেয় যে ধরো আসলে জামদানীটা কি। ওইটা  একটা মসলিনের ভার্সন-ই তো। মসলিনটা হিস্টোরিকালি বলো একান্ত ঢাকার কিন্তু! এই টেক্সটাইলটা একান্তই ঢাকার। এটার যে একটা ইতিহাস ছিল এবং এটাকে কিভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হল ওইটা আমার কাছে…… সামহাউ মেনে নিতে পারি নাই আরকি। মসলিনের সাথে অনেক হিস্ট্রি যেমন আছে, যেমন নদীর কথা বলা আছে, ওয়েদারের কথা বলা আছে। তুমি যে জিজ্ঞেস করছিলা না- পাবলিক মেমোরি নিয়ে কাজ করি কিনা? এই কাজগুলো অনেকটা পাবলিক মেমোরির মতই। হ্যাঁ। ধরো মসলিন নিয়েই যদি যাই, এখন ধরো দৃক কাজ করছে মসলিন নিয়ে। ধরো এই তুলাটা নাই, তুলাটাকে আবার রিকল করা। ওই তুলাটাকে আবার ওইভাবে ওই কাউন্টে সুতা উৎপাদন করা, সো এইগুলো তো অন্যরকম একটা, কি বলে, মেটাফর দেয় মনে হয় । এটা আমার কাছে খুব অদ্ভুত লাগে ধরো মিউজিয়ামে যাচ্ছি বাংলাদেশী মসলিন দেখছি। ঢাকার মসলিন দেখছি। অথচ ঢাকায় কোনো মসলিন নাই। এবং তোমার এই টেক্সটাইল হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে ফাইনেস্ট টেক্সটাইল। এত ফাইন, এত ডেলিকেট, এত লাক্সারিয়াস। মানে তুমি একটা কাপড় ঝুলাইলেই বুঝা যায় ওইটার স্ট্যান্ডটা কতটুকু। খুব রিফাইন্ড, খুব পাতলা কিন্তু তার মধ্যেও একটা অন্যরকম বিষয় আছে। তখন মনে হয় এত পাতলা একটা জিনিস পুরা হিস্ট্রিটাকে বহন করে। 

– আপনাকে কী তাহলে ইন্টেরিওর বা ইন্টারনাল বিষয়গুলো বেশি এফেক্ট করে? স্পেস বা এক্সটেরিওরটা হয়ত ততখানি করে না। 

নূ – স্পেস তো ডেফিনেটলি করে। স্পেসের তো একটা অবশ্যই-অবশ্যই বিষয় আছে। কারণ স্পেস অ্যান্ড টাইমের সাথে এত বেশি রিলেট করে এই দুইটা জিনিস।

স্পেস, টাইম অ্যান্ড বডি। এটাই তো মূলত হচ্ছে আমার পুরো পারফরমেন্সের আইডিয়া বলো কিংবা পারফরমেটিভ কাজ বলো আমার কাছে স্পেসটা খুবই ইম্পরট্যান্ট।

কারণ তুমি কোন স্পেসে দাঁড়ায় আছো, তুমি স্পেসটাকে কিভাবে দেখবা, তুমি স্পেসটাকে কিভাবে ক্রিয়েট করবা এই কাজ করতে গেলে অনেক চ্যালেঞ্জিং এবং ডেফিনেটলি স্পেস একটা বড় বিষয়। 

– আপনি ছাড়া বাংলাদেশে টেক্সটাইল আর কোনো আর্টিস্ট কাজ করছে?

নূ – অনেকেই করছে। জলি আপা করেন। তারপর অনেকেই করছে, করছে না সেটা না। চিটাগাঙয়ে বেশ কয়েকটা মেয়ে করে। অনেকে করছে, নিশ্চয়ই করছে।

– আপনি বললেন যে …… সরি কথার মাঝে কথা বলে ফেললাম।

নূ – না না না বলো।

– অনলাইনে ঠিক বোঝা যায় না যে ঠিক কখন কে থেমে যাচ্ছে বা বলছে। সমস্যা তৈরি হয়। আমি জিজ্ঞেস করছিলাম আপনি বললেন আপনার খুব সেন্সিটিভ্লি কেটেছে। মানে এটা কি আইসোলেশনের কারণে?

নূ – প্যান্ডেমিকের সময় বলছ?

– হ্যাঁ। আর তার আগে একটা প্রশ্ন। টেক্সটাইল নিয়ে বাকি আর্টিস্টদের মধ্যে আপনি জলি আপার কথা বললেন। এরপরে চিটাগাঙয়ে বেশ কয়েকজন মেয়েদের কথা বললেন। … … পুরুষরা কী কেউ করেন?

নূ – হুম……

– নাকি এটা একটু জেন্ডারভিত্তিক হয়ে গেল?

নূ – বাংলাদেশে করে কি না জানি না। …… বাহিরে তো অনেকজন করে। আমার কয়েকজন বন্ধুই আছে যারা করে। এই মুহূর্তে তো মনে পড়ছে না। মাহবুব ভাইয়ের কিছু কাজ আছে। কাপড়ের উপরে কিছু কাজ করেছে মাহবুব ভাই। কলম্বো বিয়েনেলের সময়।  

– আমি এখন ওই প্রশ্নে ফিরতে চাই। আপনি প্যান্ডেমিকের সময় বেশ সেন্সিটিভ ফিল করছিলেন। এটা কী আইসোলেশনের কারণে?

নূ – হুম্মম…… আইসোলেশনটা আসলে আমার কাজের জন্য, অনেক সময় এমনি আমি আইসোলেটেড হয়ে যাই। আইসোলেশনটা আমার জন্য নতুন কিছু না। ধরো যেহেতু আমি ঢাকা থেকে বাহিরে থাকি, আমি নিজেই খুব আইসোলেশনের মধ্যে থাকি। হা হা হা! আমার ওই এক্সেসটা নাই যে আমি ঢাকায় যাব, চা খাব, আড্ডা দিবো, এরপর আবার রিকশায় করে বাসায় যাব এই সুযোগটা আমার নাই। আমার জন্য এই কাজটা অনেক লম্বা। আমি নিজে কিছু কিছু সময়ে খুব ডিপলি আইসোলেশনে চলে যাই। সেটা হতে পারে অনেক সময়, মাঝে মাঝে হয় না, ভাবের ডিপ্রেশন হয়ে যায়। হা হা হা। কিন্তু এই প্যান্ডেমিকের সময় যেটা হয়েছে আমার কাছে খুব সেন্সিটিভ মনে হয়েছে টাইমটাকে। এই টাইমটার একটা হিস্ট্রি আছে আমার কাছে মনে হয়। যে রিকল করা। প্যান্ডেমিকও কিন্তু রিকল করা। প্যান্ডেমিকের সময় যখন আমি শুধু প্যান্ডেমিক নিয়েই পড়ছিলাম। ভাবছিলাম যে আচ্ছা, একটু পড়ে দেখি, হিস্ট্রিটা পড়ে দেখি তখন আসলে। পৃথিবীতে এর আগে অনেক অনেক প্যান্ডেমিক হয়েছে। প্রতি শতাব্দীতে হয়তো দুইবার, কোনো কোনো সময় ক্রিয়েট করা। এগুলো তো সব, এমন না ন্যাচারালি প্যান্ডেমিক হচ্ছে, এগুলো সব ক্রিয়েট করা, ওষুধের জন্য হোক। মানে এগুলা একটা পলিসি। এগুলো খুব রাজনৈতিক পলিসির মধ্যে ইয়া করা। এবং এই পলিসির জন্য যে আশে-পাশে অনেক কিছু দেখতে হচ্ছিল। হয়ত আমিই ভাল ছিলাম। কিন্তু আমার বন্ধু কিংবা আমার বন্ধুর মা-বাবা স্ট্রাগল করছিল। কিংবা আরো অনেক কিছু হয়ত স্ট্রাগল করছে। এখানে একটা ছবি ছিল না একটা কালো বাটির মধ্যে দুধ নিয়ে, হাতসহ আমার মেয়ের। 

– হ্যাঁ! 

নূ –  ওই কাজটা যখন করি ওটার আগেই একটা নিউজ পড়ছিলাম।  একটা ১০-১১ বছরের মেয়ে, ওর ক্ষুধা লেগেছে। প্যান্ডেমিকের সময় ওর বাবার তো কাজ নেই। মায়ের কাছে গিয়েছে, বাসায় তো খাবারও নেই। মা ধমক দিয়েছে বলে মেয়েটা সুইসাইড করে। ১০-১২ বছরের একটা বাচ্চা মেয়ে। আমার কাছে এই নিউজগুলা এত শকিং মনে হইসিল যে আহারে, আমার মেয়েটাও তো একই বয়স-ই। ঠিক না? ক্ষুধাটা কেমন? ক্ষুধাটা তো একেক সময় একেক রকম। মানে তোমার ক্ষুধা এক রকম, আমার ক্ষুধা এক রকম। আমি আমার মেয়েকে সারাদিন বকলেও খাবে না। দুধ-ভাত তো দূরের কথা। ওই বিষয়গুলোকে আমার কাছে খুব সেন্সিটিভ মনে হয়। একটা কঠিন সময় পার হলে আমার মনে হয় অনেক স্যাক্রিফাইস বোধহয় আছে। অনেক প্রাণকে হয়ত যেতে হয়। মানে কোনো কিছু ছাড়া কোনো কিছু হয়ত হয় না। এমন অনেক সত্যির মধ্যে দিয়ে যেতে হয় যেগুলো খুব কঠিন আরকি। যার কারণে আমার কাছে খুব প্যাথেটিক মনে হয়। তো ওই সময়টা আমি খুব কাজ করতে পারি নাই। অনেকে অনেক কাজ করেছে। আমার কাছে মনে হয়েছে আমার বডিটা কিভাবে এবসর্ব করবে এই নিউজগুলো। আমি কিভাবে রিয়েক্ট করব। মানে সেটা হয়ত পারফরম্যান্স হওয়ার কারণেই হতে পারে। আমি আমার বন্ধুর সাথেও কথা বলছিলাম, আমি তেমন বেশি কাজ করতে পারি নাই, কেন করতে পারি নাই । আমি অনেক বেশি ফলো করছিলাম, কি হচ্ছিল, হেল্প করা যায় কি না। মানে ঘরে বসে যতটুকু করা যায়। কিংবা যতটুকুতে সেফ থাকা যায়। কেয়ার কিভাবে করা যায়, আরেকটা মানুষের প্রতি। সেজন্যই খুব অন্যরকম একটা আইসোলেশন কাটছিল। 

Time could not be kept at bay 
Chobi Mela,Shunno, 2021 Dhaka. 

– “ছবিমেলা”-কে কীভাবে মূল্যায়ন করেন বাংলাদেশের বাকি সব শোয়ের সঙ্গে তুলনা দিলে ? 

নূ – মারবে ধরে। হা হা হা । এই প্রশ্নের উত্তর দিলে। 

– ধরেন অন্য আর্ট বিয়েনেল, ফেস্টিভ্যাল, সামিট থেকে কী “ছবিমেলা” স্বতন্ত্র নাকি মিমিক করার চেষ্টা করছে? 

নূ – কী মিমিক করবে?

– অন্যান্য যে ধরনের আমরা আর্ট বিয়েনেল, ফেস্টিভ্যাল বা সামিটগুলো দেখে থাকি?

নূ – আহ…… ছবিমেলা তো আসলে… মানে এখন তো একটু অনেক বেশি …… অন্য… মানে একেবারে ফটোকেন্দ্রিক না। ঠিক না? এখন অনেক বেশি মাল্টিডিসিপ্লিনারি কেন্দ্রিক। আর্টের কতগুলো শাখায় যেতে পারে সেটা নিয়েই কাজ করছে। আমার কাছে মনে হয় সেটা খুব ইন্টারেস্টিং একটা বিষয়। অনেকজনের হাতে স্কোপ হতে পারে না? যেমন ধরো, ইভেন ধরো আমার কথা। আমারো তো স্কোপ হলো একটা কাজ দেখানোর। একেবারেই তো কিছু করি নাই। তার মধ্যে একটা কাজ ডেভেলপ করা। স্পেসটা দেখেই কাজটা ডেভেলপ করা। এবং ফটোগ্রাফিটা যেমন, ফটোগ্রাফির সাথে আর কি কি যেতে পারে সেটা চিন্তা করছিলাম । একটা সাউন্ড ডেভেলপ করেছি। যদিও সাউন্ডটা আমি দিই নাই ওখানে। একটা ভিডিও ছিল ১০ মিনিটের.. 

– যে ভিডিওটা আছে ওইটা ছাড়াও?  অন্য ?

নূ – না না। ওইটাই। ওইটাই এই সময়ে করা। এই একটা প্রজেক্টের সাথে কি কি করা যায়। কি কি লিংক করা যায় ওইটা ভাবছিলাম। এটা বেশি ফটোকেন্দ্রিক হয় কিনা। অন্য কিভাবে করা যায় । আমার কাছে এমনি ফটোগ্রাফির প্রতি দুর্বলতা আছে যদিও প্রথমেই বললাম একেবারেই ক্লিক করতে পারি না। মানে ক্লিক করতে দিলে ওইটা কালোই উঠবে, কিচ্ছু উঠবে না। নিশ্চয়ই ওদের আলাদা ভিশন আছে। মানে সামিট তো খুব ডিফ্রেন্ট তাই না? মোর ডিফ্রেন্ট। এবং সামিটে আরো অনেক আর্টিস্ট থাকে। অনেক রকমের আর্টিস্ট এখানে ইনক্লুড হতে পারছে এবং এমন না যে ফটোকেন্দ্রিক সামিট হচ্ছে।

সামিট এত বেশি মাল্টিডিসিপ্লিনারি হচ্ছে, সেটার সাথে হয়ত ছবিমেলা আরেকটু ডিফ্রেন্ট। সো দুইটারি খুব আলাদা আলাদা ল্যাঙ্গুয়েজ আছে।

তোমার কেমন লাগে?

– ইন্টারভিয়ার তো আমি। হাহাহা। আমাকে এই প্রশ্ন এখন করা যাবে না। 

নূ – হা হা হা। 

– আমার কাছে খুব ভালো লাগে। কারণ এইবার যেহেতু আমি একবারে টিমের সাথে থেকে কাজ করলাম তো আমার এক্সপিরিয়েন্সটা পুরাপুরিই ভিন্ন। মানে একটা ভিজিটর হিসেবে দেখা আর টিমের সাথে থেকে কাজ নামানো, পুরাপুরি ভিন্ন একটা এক্সপেরিয়েন্স। 

নূ – এইবারো আমারো প্রথম কাজ করা। আমি আগে কখনও কাজ করিনি। মুনিরের কাজ ছিল। কত ১৬-তে নাকি ১৪-তে মনে নাই আমার।  

– তখন থেকে এখনকার ছবিমেলার যে পার্থক্য এটাকে কী পজিটিভলি দেখেন নাকি মনে হয় যে আগেরটার সময় তো একটু ভিন্নতা ছিল। একটা স্বতন্ত্র হয়ত পরিচয় ছিল?

নূ – কোনটাকে স্বতন্ত্র বলছ? অনেক জায়গায় এক্সিবিশন করা? সেটা তো এখনো পারে।

– এবার হয়ত প্যান্ডেমিকের কারণেই সেটা সম্ভব হয়নি।

নূ – হ্যাঁ, সেটা তো আরো বেশি পারতো। এ বছর তো ছবিমেলা এমনি অনেক ছোট পরিসরে হলো তাই না? সাউথ এশিয়া ফোকাস করা। উনাদের যদি স্পেসের দরকার হয় তাহলে সেটা নিশ্চয় বাহিরেই করবে অবভিয়াসলি। একটা জায়গায় আসে এটার আসলে অন্যরকম একটা প্রাপ্তি আছে না? মানে এত্ত স্ট্রাগলের পরে এতগুলো জিনিসকে একটা জায়গায় আনা, যদিও পুরোনো বিল্ডিংটা খুব ভালো লাগত। তারপরও একটা জায়গায় আনা। একটা ছাদের নিচে দাঁড় করানো এটা একটা অনেক বড় বিষয়।  নিজেদের জায়গা। এর চেয়ে বড় আর কি হতে পারে বলো ? যারা ওখানে পড়বে তাদের  থেকে প্রাউড আর কেউ থাকবে না যে আমাদের নিজেদের জায়গা। 

– সময় ধরেন আসলো আবার চলেও গেলো। আপনি ধরেন সময়ের একটা মুভিং ইমেজ ধরে রেখেছেন। কখনও মনে হয়ছে যে সময়টা হয়তো ধরা যাচ্ছে না। শুধু ইমেজ থেকে যাচ্ছে।

নূ – সময় তো আসলে ধরা যায় না। কিন্তু রেখে দেওয়া যায় আরকি। মানে ধরতে পারা কিংবা স্টপ করে দেওয়া ওইটা তো আর হয় না। হয়ত মাথার ভিতরে রেখে দেওয়া। সময় এবং নদীর স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না এরকম একটা বিষয় আছে না? হা হা হা! সময় তো তুমি হয়তো হোল্ড করতে পারবা না কিংবা জারে ভরে রাখতে পারবা না। কিন্তু আর্কাইভে রাখতে পারবা। এটাই খুব ইন্টারেস্টিং। আর্কাইভ। তুমি চাইলে ফটোগ্রাফি করে করতে পারো। একটা ভিডিও করে করতে পারো। কিংবা এই যে সালটা গুনি আমরা, এটা কতো ইন্টেরেস্টিং না? যে আমার জন্ম এত সালে। পলকের জন্ম এত সালে। পলক এখন এত বছর। বুঝতে পারছ টাইমটা কত ইন্টারেস্টিং। তুমি কি আসলে তোমার শূন্যের বয়স ধরে রাখতে পেরেছ ? কিংবা মনে রাখতে পেরেছ? কিন্তু আর্কাইভ করতে পেরেছ তোমার বডি দিয়ে। তুমি যে গ্রো করছ টাইমের মধ্যে দিয়ে এটা তো আর্কাইভিং এবং তোমার বডির ভিতর দিয়ে এটা থেকে যাচ্ছে। এটার সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছু রিলেট করা যায়। তোমার পারিপার্শ্বিক, তোমার পরিবার। সব কিছু। দেখা, দেখার ভিশন। বোঝার ভিশন। সময়টা খুবই ইন্টারেস্টিং।


A lady and Thorns 
Artist : Yasmin Jahan Nupur 

– আমাদের এই মিটিংটার সময়ও শেষ আসলে। আবার সময়ও প্রায় ১২টার মত বাজে । হয়ত সময় থাকলে আরো কিছুক্ষণ আড্ডা দেওয়া যেত আরকি। কিন্তু রাত দেখে হয়ত সেটাও দিতেন না। সময় দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ। 

নূ – তোমাকেও ধন্যবাদ। বাসায় আইসো।

– চলে আসবো

মনোরম পলক

মনোরম পলক, জন্ম ১৭ নভেম্বর,১৯৯৯; ঢাকা । জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত; “Where Is Kajol?? “এর প্রতিষ্ঠাতা। polokmonorom@gmail.com

লেখা সম্পর্কে মন্তব্য

টি মন্তব্য

%d bloggers like this: