home বাংলাদেশের সমকালীন ছোটগল্প সংখ্যা দেবাসুর ।। শাশ্বত নিপ্পন

দেবাসুর ।। শাশ্বত নিপ্পন

এখন শরৎ আসলেই নন্দ মালাকার বুঝতে পারে। পঞ্জিকা না দেখে, কিংবা কাউকে না জিজ্ঞেস করেও সে বলে দিতে পারে শরৎ এসেছে কিনা। গভীর ঘুমের মধ্যেও নন্দ বলে দিতে পারে এটা শরৎ না কি শরৎ নয়। ও শরতের গন্ধ পায়; অবচেতন ঘুমে নন্দের বুকের মধ্যে কে যেন হাতুড়ি পেটায়; তার পূর্ব পুরুষ এসে ভিড় করে তার আত্মার মধ্যে। ওরাই নন্দকে বলে দেন শরৎ আসার আগাম সংবাদ। আর লোকে বলে গভীর ঘুমের মধ্যে নন্দ টের পায়, কৈলাশ থেকে স্বয়ং মা দুর্গা নেমে আসেন নন্দের এই গাঁয়ে, সাথে থাকেন অন্য দেবদেবীগণ। হাসে, খেলা করে, আবার কাঁদেও। মাঝে মাঝে ওরা নন্দ মালাকারকেও ডাকেন। দেব-দেবতার গায়ের ঘাম আর চোখের জল শিশির বিন্দু হয়ে গাছের পাতায়, ঘাসের ডগায় শিশির বিন্দুর মতো ছড়িয়ে থাকে যা বড়ই পবিত্র দেখায়। এই ঘটনাগুলো ঘটে শরতের শুরুও দিকে। তখন নন্দ মালাকার ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই ঘাসের শিশির তুলে নিজের চোখে লাগায়। তারপর ভেউ ভেউ করে কাঁদে। যারা নন্দকে চেনে না তারা এই দৃশ্য দেখে মনে করবে লোকটি মনে হয় কোনো দুঃস্বপ্ন দেখেছে! কিন্তু এ দৃশ্য এখানকার পাঁচ গ্রামের মানুষের অজানা নয়। এখানকার লোকেরা লোকেরাও জানে যে সকালে এই পবিত্র দৃশ্যটি ঘটে যাওয়ার আগের রাত্রেই দেবী দুর্গা নন্দ মালাকারকে ডএঁকেছিলেন এবং তখনই নন্দ মালাকার এবার দেবীর মুখের গড়নটা কেমন হবে তার স্থির করে ফেলেছে। আর এসব ঐশ্বরিক ঘটনার বলেই নন্দ মালাকারের প্রতিমা ভুবনসেরা। এবারের শরৎ শুরু পূর্বেই নন্দ ভেতরে ভেতরে টের পায়। এ সময়ে অনেক কাজ তার। বাঁশ, মাটি, খড় সুতালি সবকিছু জোগাড় করতে হয় নিজ হাতে। আর মনোনিবেশ করতে হয় একশোতে এক হাজার। আর তবেই মন ভরে তার। কিন্তু আজ প্রতিমার খাপাচি বাঁধার কাজে কিছুতেই মন বসাতে পারছে না সে। মনের মধ্যে অযথা কিছু ভাবনা উড়ে এসে খাবি খাচ্ছে। থেকে থেকে উদাস হয়ে পড়ছে নন্দ। কাজের সময় এ ধরনের আচরণ সাধারণত সে করে না। বাঁশ চেরা ফাড়া করতে করতে বাসু, দেবাশীষ আর গঙ্গা আড়চোখে নন্দকে লক্ষ্য করে, সাথে সাথে ভয় পায় তারা। নন্দ ঠাকুরের ভর হচ্ছে। কাজেও জোর দেয় সেই সাথে। হঠাৎ নন্দ দুম করে প্রশ্ন করে বসে—আচ্ছা গঙ্গা, বলত এই পাঁচ গায়ের লোকে আমার সম্বন্ধে যা বলে তাকি ঠিক বলে? আপনি হলেন দেবতা কত্তা। বিনয়ের সাথে গঙ্গা উত্তর করে। আমি দেবতা? এ কথা বলতে তোর জিভ  একটুও কাঁপলো না মুখ পুড়ি! নন্দ বিরক্ত হয়ে বলে। মিশমিশে কালো গালে ঢেউ তুলে গঙ্গা হেসে বলে- বিশ্বাসে মেলায় হরি তক্কে…।

বাকিটুকু আর কানে আসে না নন্দ মালাকারের। সে আবার পূর্বের ন্যায় উদাস হয়ে যায়। নিতাই পালের ছেলে নন্দ মালাকার পাঁচ গ্রামের লোকের কাছে ভগবান। ভাবতেই ভয় হয় তার। আবার কিছুটা ভাবও লাগে। এই এক সমস্যা নন্দের। এ অঞ্চলের ধারণা, ঐশ্বরিক যোগাযোগ না থাকলে কেউ ওমন প্রতিমা বানাতে পারে নাকি! নন্দ ঠাকুরের প্রতিমা যে কথা বলে। প্রতিমা যার এত জাগ্রত সেও নিশ্চয় খুব জাগ্রত। বছরে একবার আদ্যাশক্তি মহামায়ার ভর হয় এই মালাকারের ওপর। এই বিশ্বাস কবে কখন জন্ম নিয়েছে তা ঠিক করে বলা মুশকিল। জ্যৈষ্ঠের তপ্ত দুপুরের আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়েছে এই খবর। প্রথমে দু-একজন পরে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই আসে তার কাছে ফুঁ নিতে। এমনকি সাপে কাটে রোগীও নিয়ে আসে রাসুনগরের মানুষেরা। সেদিন সদ্য বিধবা হতে যাওয়া যে কচি বউটা বার বার কেঁদে কেঁদে তার পায়ে পড়ছিল আর অনুরোধ করছিল—ঠাকুর তুমি সর্বমঙ্গল। আমার সিঁথির সিঁদুর কেড়ে নিও না ঠাকুর। শুধু একবার ওর গায়ে হাত দিয়ে দাও—আমরা ছোট জাত, দয়া করো ঠাকুর, দয়া করো।

কাঁদতে কাঁদতে কখন যে তার বুকের কাপড় খসে পড়েছে সেদিকে তার ভ্রুক্ষেপ থাকে না। নন্দ শুধু আলগোছে সেদিকে তাকায়। কি পরিপুষ্ট নিটোল বুক! পরক্ষণে দৃষ্টি সরিয়ে ফেলে নন্দ। সে এখন ভগবান—তার ওসব সাধারণ ছোটজাতের মেয়েছেলের বুক দেখা মানায়? তারপর ভগবান মালাকার তার গরম হাত রাখে ঐ শীতল দেহটার ওপরে। প্রশান্তি নেমে আসে সমবেত সকলের মাঝে। মেয়েটার চেহারায় একটা স্বস্তির ছাপ—সান্ত্বনা এই, মরার আগে ভগবানের স্পর্শ পেল তার স্বামী। এ বড় পুণ্যের ফল। তখন ভারি ইচ্ছে হয় নন্দগোপালের নিজের মুখের ছবিটা ভগবানের চেহারায় বসিয়ে দেখতে। এভাবেই গত হয় শরৎ, হেমন্ত, শীত, তারপর বসন্ত।  এভাবে উজ্জ্বলপুরের তরুণ নন্দগোপাল মালাকারের তারুণ্যে ক্রমে ভাটা নেমে আসে। ভগবানের ঘর-সংসার থাকতে নেই। চারিদিকে সম্মান আর মহত্ত বিলিয়ে ভালই দিনগুলো ভালই কাটছিল তার, কিন্তু রাত হলেই ভগবানের মোড়কে লুকিয়ে থাকা মানুষটি বেরিয়ে আসে চোরের মতোন। আর তখন চোখের সামনে ভেসে উঠত সদ্য বিধবার পরিপুষ্ট বুক। কেমন জানি সুড়সুড়ি অনুভূত হয় তার। তারপর চিৎকার করে বলে ওঠে—আমি মানুষ; নিতাইয়ের বেটা নন্দগোপাল। নিস্তব্ধ রাতে তার এই চিৎকার গোঙানির মতো শোনায়। সেই গোঙানি ছাপিয়ে তার কানে আসে শশ্মানযাত্রীদের একঘেয়ে সুর—বল হরি, হরি বল..।

নিশুতিতে আবার কে গেল! ননে মনে ভাবে নন্দ। ভয় পায় সে। নাভির নিচে সুড়সুড়ি লাগা থেমে যায়।

এবার মা আসছেন গজে; আর বিদায় নিচ্ছেন নৌকায়। প্রতিমার গায়ে তুলির চূড়ান্ত আঁচড় টানতে টানতে নন্দগোপাল আবার উদাস হয়ে যায়। তার এই দীর্ঘ জীবন মাটি-কাঁদা-জলের এক বৃত্তে বাঁধা। শক্ত এঁটেল মাটিকে ভেঙেচুরে জল মিশিয়ে নরম তুলতুলে কাদাতে পরিণত করে নন্দ; তারপর সেই নরম কাদা আবার শক্ত হয়; শেষে রঙ তুলির আঁচড়ে সেই শক্ত মাটিকে বাঙময় করে তোলে নন্দগোপাল মালাকার। তারপর ভাসিয়ে দেওয়া হয়। নদীর ঘোলা জলে সব রং ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে শক্ত এঁটেল আবার নরম কাদা হয়। অসুরের বুকের মাংসপেশিতে আরো এক দলা কাদা দিয়ে কিছুটা আপন মনেই নন্দ বলে ওঠে—এবার কাজ করে আরাম পাচ্ছি না। কাজের মাঝে কেমন জানি একটা ছন্দপতন হচ্ছে বারবার। কাজ ফেলে গঙ্গা অবাক বিস্ময়ে নন্দ ঠাকুরের দিকে তাকিয়ে থাকে; তারপর বলে—ঠাকুর চা খাবে? একদণ্ডে বানিয়ে দি-

চেতন ফিরে পায় নন্দ মালাকার। সত্যিই তো সে হল ভগবান। তার তো আর যাই হোক উদাস হওয়া চলে না। ভগবানদের অনেক কিছুই করতে নেই; বিশেষ করে মর্ত্যরে ভগবানদের। যেমন শোকে কাতর হতে নেই—গভীর রাতে কামার্ত হতে নেই; নিচু জাতের বিধবার পরিপুষ্ট বুকের দিকে তাকাতে নেই; সবসময় সৌম্য পরম ব্রহ্ম হয়ে থাকতে হয়। এসব ভাবতে ভাবতে হাতের কাদা ফুরিয়ে আসে নন্দ মালাকারের।

আরো একটু কাদা দে তো। বলতে বলতে সে দিকে উদাস হয়ে গঙ্গার দিকে তাকায়। গঙ্গা প্রবল উৎসাহে এঁটেল মাটিকে ছেনে ময়দার মতো মিহি বানাতে ব্যস্ত। গঙ্গার খাটো কাপড় দায়িত্ব ভুলে এদিক ওদিক সরে গেছে। বিন্দু বিন্দু ঘাম জমাট বেধেছে কাঁধের ওপরে, নাকের ডগায়, বাহুর গোঁড়ায়। পুষ্ট বাতাবি লেবুর মতো উঁকি দিচ্ছে তার বুকের একটা অংশ। নন্দের দৃষ্টি ওখানে আটকে যায়। ভগবানের ভেতরে পুষে রাখা কাল বেড়ালটা হামাগুড়ি কেটে বের হয়ে আসতে থাকে। নন্দেরও শরীরে গোটা গোটা ঘাম জমতে থাকে। সুড়সুড়ি অনুভব করতে থাকে নিম্নাঙ্গে।

এই দিই ঠাকুর। বলে অসঙ্গত কাপড়কে বাগে আনে গঙ্গা। চৈতন্য ফিরে পায় নন্দ। ঠাকুর শব্দটা শোনার সাথে সাথে মনে পড়ে যায় সে আসলে ভগবান। আদ্যাশক্তির মহামায়ার ভর হয় তার ওপর শরৎ শুরুর সাথে সাথে। ভগবানের কি এসব শোভা পায় ? দৃষ্টিকে সংযত করে নন্দ। তবে মনটাকে ও কিছুতেই বাগে আনতে পারে না। যতই বুঝ দিক সে বেয়াড়া ষাঁড়ের মতো গুঁতাতেই থাকে। বাড়িয়ে দেয়া কাদার দিকে না তাকিয়েই নন্দ বলে ওঠে—না। আজ আর না।

এভাবেই দিন পালিয়ে যায়। কাজের ফাকে ফাকে এমনি করে আরও কয়েকবার দেখা পায় গঙ্গার হতচ্ছাড়া বুকের। পুড়তে পুড়তেই প্রতিমা গড়ার কাজও শেষ হয় একদিন। তারপর শরতের সন্ধ্যার বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে ধূপের গন্ধ আর অতি-পরিচিত ঢাকের বাদ্য। এবারও রায় জমিদার নতুন ধুতি-গেঞ্জি দান করেন নন্দগোপালকে ভক্তি করে। নতুন পোশাক গায়ে জড়িয়ে নন্দ নেশা-লাগা চোখে তাকিয়ে থাকে দেবীর পায়ে পূজা দিতে আসা সধবা বৌগুলোর দিকে। মহাষ্টমীর রাত থেকে নন্দগোপালের জাদুবলে দেবী প্রতিমা বাঙময় হয়ে ওঠে যথারীতি। ঠাকুর থাকবে কতক্ষণ, ঠাকুর যাবে বিসর্জন…। ঢাকের এই বোলের সাথে সাথে পুরোহিত সজল চোখে, বাষ্পজড়িত কণ্ঠে পবিত্র ঘট নড়িয়ে মন্ত্র পড়ে দশমীর পূজা শেষ করেন। সবাই চলে যাওয়ার ফাঁকে গঙ্গা এসে গড় হয়ে নন্দ গোপালের পায়ে পড়ে। সাথে সাথে নন্দের ভেতরের কাল মানুষটা দাপাদাপি শুরু করে দেয়। প্রণাম শেষে গঙ্গা বলে—ঠাকুর, আমরা ছোটজাত, অভয় দাও তো বলি…। সংযত হয়ে একটু কেশে গলাটা মোটা করে নন্দ বলে—আজ দশমী। বিজয় দশমী, আজ ছোট বড় সব সমান। বল না কি বলবি? অভয় পেয়ে গঙ্গা বলে ওঠে—আজ যদি আমার ঘরে একটু সেবা নাও ঠাকুর তাহলে আমার নরক ভয়টা দূর হয়ে যাবে টাকুর। চোখের চোখে মুখে আকুতি। ওর দিকে তাকিয়ে নন্দ বলে—কেন যাব না! অবশ্যই যাব, আজ সন্ধ্যায়ই যাবো।

আজ সন্ধ্যাটা যেন একটু তাড়াতাড়িই এসে যায়। নতুন ধূতিটা নিপাট করে পরে ফতুয়াটি গায়ে তুলে তুষের নস্যি রঙের চাদরটা কাঁধে নিয়ে মাথার মাঝ বরাবর আইল কেটে শেষ বারের মতোন ভাঙা আয়নাটা সামনে ধরে নন্দ। আজ তার মনটা বেজায় ভাল। তার সাথে কার্তিক ঠাকুরের বিশেষ একটা মিল খুঁজে পায় সে। তারপর নির্জন রাস্তাটা পেরিয়ে গঙ্গার কুঁড়ে ঘরের ঝাঁপটার পাশে এসে দাঁড়ায় সে। আস্তে করে হাত রাখে ঝাঁপের গায়ে। ঝাঁপ খোলার সাথে সাথে গন্ধমণি তেলের ভারি গন্ধে চারপাশ মেতে ওঠে। ভেতরটা ঢুকেই একটা বিশেষ পরিপাট সে টের পায়। শক্ত চৌকিতে বসে সেই নেশালাগা চোখে গঙ্গার দিকে তাকায় নন্দ। কালো গায়ে নতুন কাপড়টা এঁটে বসেছে গঙ্গার। কাপড়ের ভেতরে তার অবাধ্য যৌবন কিছুতেই আটকে থাকতে চাচ্ছে না। নন্দগোপাল অপলক চেয়ে থাকে। জলের ঘটিটা মাটিতে নামিয়ে লাজুক ভঙ্গিমায় গঙ্গা বলে ওঠে—ঠাকুর এবার বসো। নন্দগোপাল আসনজুড়ে বসে। পটাপট শেষ করে লুচি তরকারি, গ্রামের রসগোল্লা, নাড়ু, মুড়ির মোয়া। নন্দ টের পায় তার ভেতরের দাপাদাপিটা ক্রমেই বাড়ছে। গঙ্গা যখন তার দিকে পান এগিয়ে দিলো তখন চারিদিকে বেশ ঘন ঘোর নেমে এসেছে। কুঁড়ের মধ্যে লণ্ঠনের আলো ছায়াতে গঙ্গাকে ভারি অচেনা লাগে তার। গন্ধমনি তেলের গন্ধটা আরও তীব্র হতেই নন্দগোপালের ভেতরের কাল মানুষটি দপ করে বাইরে লাফিয়ে পড়ল, আর তখনই নন্দ পান সমেত গঙ্গার হাতটা ধরে ফেলে এবং এক ঝটকায় নিজের বুকের কাছে টেনে আনে। প্রাথমিক ধাক্কাটা সামলে নিয়ে অভিজ্ঞ চাপা স্বরে বলে ওঠে—একি করছ ঠাকুর? বিকৃতস্বরের নন্দ বলে—আমি দেবতা নই, আমি মানুষ, কলেরাই মরা তোর স্বামীর মতোই একজন মানুষ। নিটোল হাতটা ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে গঙ্গা বলে—পাঁচ গাঁয়ের লোকে তুমাক দেবতা মানে। আমি নরকবাসী হব ঠাকুর। খারাপ হতে পারি; কিন্তু তুমি আমায় মাফ করে দাও ঠাকুর। চোপ—ধমকের সুরে নন্দগোপাল বলে। যদি দেবতা মানিস তবে আমি সেই দেবতা তোকে আদেশ করছি আমাকে তৃপ্ত কর। তার চোখে ও গলার স্বরে কি ছিল কে জানে—গঙ্গা ভয়ে আতঙ্কে নীল হয়ে যায়। বলে ওঠে—আমি কিন্তু চেঁচাব! ধৈর্যের বাধ ভেঙ্গে যায় নন্দের। দৃঢ় হাতের এক ঝটকায় গঙ্গাকে টেনে আনে শক্ত চৌকির ওপরে। আর এক ঝটকায় উল্টে যায় লণ্ঠনটি। নরকবাসী হওয়ার আতঙ্কে শক্ত বুকের তলা থেকে চিৎকার করতে গিয়ে গঙ্গার চোখ পরে নন্দের মুখে। অবাক হয়ে গঙ্গা দেখে—নন্দ ঠাকুরের মুখটা অবিকল অসুরের মতো দেখাচ্ছে। সে চিৎকার করে ওঠে কিন্তু তার চিৎকার গোঙানির মতো শোনায়। সন্ধ্যার বাতাসের সাথে ভেসে আসে মিষ্টি ধূপের গন্ধ, আর পাগলের মতো বাজতে থাকে ঢাকের বোল—ঠাকুর থাকবে কতক্ষণ, ঠাকুর যাবে বিসর্জন…!

লেখা সম্পর্কে মন্তব্য

টি মন্তব্য