Guess Who-এর সাক্ষাৎকার ও গ্রাফিতি | ভাষান্তর : পৌলমী সরকার

গেজ হু ( Guess Who) মানে অনুমান করে নেন কে আমি । হ্যাঁ, অনুমানই করতে হবে, কারণ Guess Who নিজেরে আননৌন রাখতে চান। নিজেরা আননৌন থাকলেও, কোচির দেয়াল, ফেসবুক ওয়াল, ইনস্টাগ্রাম দিয়ে তিনি (তারাও হতে পারেন) এজ এন আর্টিস্ট মোটামুটি নৌনই। বিশেষ করে, আপনি যদি ইন্ডিয়ান গ্রাফিতির খোঁজ-খবর নিতে চান, Guess Who থাকবে শুরুতেই। আর্টিস্ট সাউথ ইন্ডিয়ান রাজ্য কেরালার কোচি’র বাসিন্দা। ওনার গ্রাফিতি’র শুরু ২০১২ নাগাদ। কোচি-মুজেরাস বিয়েনালকে কেন্দ্র করে। এইটা একটা আর্ন্তজাতিক শিল্প-প্রদর্শনী। আমি খোঁজ পাই গুগলের মাধ্যমে। তার কাজ-কারবার দেখে তো তার ফ্যান হয়ে যাই। বিশেষ করে তার যে সেন্স অব হিউমার তা বলার মতোনই। কেন এরকম বলতেছি তা আপনারা তার গ্রাফিতি দেখলেই টের পাবেন। তাকে ডাকা হয় ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কসি বলে। এ ডাকাটাতে কিঞ্চিত আপত্তি আছে। কেন ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কসি হইতে হবে উনাকে! উনার Guess Who এই নামই কি যথেষ্ট না, উনারে ডাকার জন্য! আর মনে হইসে ব্যাঙ্কসির সাথে উনার কাজেরও ভিন্নতা আছে, নানাভাবে। যাক সেইসব, সোশ্যাল মিডিয়ায় উনাকে ফলো এবং নিয়মিত ওনার কাজ দেখে যাওয়ার ধারাবাহিকতায় প্ল্যান করি তার ইন্টারভিউ নিই। নকও করি। বলি বিষয়টা। আর্টিস্ট বলেন, তিনি আপাতত ব্যস্ত পরে রিপ্লাই দিবেন, প্রশ্নগুলা যেন পাঠায়া রাখি। পাঠায়া রাখলাম। কিন্তু তিনি আর ইনবক্স দেখেন না। মে বি  আমার প্রাইমারি কথাবার্তাই উনার ভাল্লাগে নাই ; এ কারণে ওনার এড়ায়া চলা। এসব মেলা আগের ঘটনা। যেহেতু ইন্টারভিউ পাই নাই, অনলাইনে পাওয়া বিবিসির ইন্টারভিউখানার উপরই ভরসা করি। এইটা অনুবাদ করেন পৌলমী সরকার। উনাকে ধন্যবাদ।

— সম্পাদক


 

আপনার বা আপনাদের সম্পর্কে একটু বলুন। আপনারা কি একজন না অনেকজন? পুরুষ না মহিলা?

— এমন একজন যার কাছে গ্রাফিতি ভীষণ ভালোবাসার এক বিষয়।

 

আপনি বা আপনারা যে বিষয়ে কাজ করছেন, তার কী কোনো রাজনৈতিক আঙ্গিক রয়েছে? কী বার্তা পৌঁছাতে চান দর্শকের কাছে?

— আমি একেবারেই মনে করি না যে শিল্পের সর্বদাই কোনো বার্তা বহনের দায়িত্ব থাকে। এটি মূলত দৃষ্টিলব্ধ ভাষা ব‍্যবহারের বিকল্প এক রাস্তা, যার সাথে দর্শন এখনও বিশেষ পরিচিত নয়। কিন্তু তার সঙ্গে-সঙ্গেই এর বিষয়বস্তুতে সামান্য রাজনৈতিক ছোঁয়া থাকায় তারা এই নতুন ভাষার সাথে দ্রুত একাত্মও হয়ে উঠছেন। এর আরও একটি বড় কারণ হলো এই শিল্পের ক্ষেত্র প্রকাশ‍্য পথঘাট যার ফলে তা মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার সুযোগও অনেক বেশি। বিভিন্ন মহান চরিত্র যেগুলির সাথে আমরা বেশ পরিচিত যেমন  ‘শিকারি শম্ভু’-র সাথে আপ্পি-হিপ্পির ছবি (এক বিখ্যাত কার্টুনের চরিত্র) আঁকা হয়েছে, এখানে যে ‘কিস অব লভ ক‍্যাম্পেইন’ চলছে, তার প্রতিভূ হিসেবে। (বিবিসি ট্রেন্ডিং এর আগে ‘ইমমর্টাল অ্যাক্টস্’ নিয়ে হওয়া বিতর্কসভাটি প্রচার করেছিল।) বহু মানুষ প্রতিবাদ করার উদ্দেশ্যে পথে নেমে পরস্পরের সাথে চুম্বনাবদ্ধ হয়েছিলেন, এবং তাদের প্রত‍্যেককেই গ্রেফতার করা হয়। কিন্ত যদি কাল্পনিক চরিত্রগুলিকে সেই একইভাবে প্রত‍্যক্ষ করা যায়? তাহলে তারাও কি সেই একইভাবে গ্রেফতার হবেন?

আপনি ঠিক কি অর্জন করবেন বলে আশা রাখেন?

— দুর্ভাগ্যবশত আমাদের ভারতে গ্রাফিতি সংষ্কৃতি এখনো সেভাবে গড়ে ওঠেনি। এখানে খুব কম সংখ্যক শিল্পীই আছেন যারা তথাকথিত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলির আরোপিত শ্রেণিবিভাগ এবং সংজ্ঞা অতিক্রম করে উঠতে পারেন। শিল্পের নতুন এবং তাৎপর্যপূর্ণ অর্থ আবিষ্কার এবং আরও বেশি মাত্রায় দর্শকদের আকৃষ্ট করতে পারা শিল্পীরই অক্লান্ত প্রয়াসের ফল এবং শিল্পের সার্থকতা সেখানেই, যদি তা আরও প্রাণবন্ত এবং প্রগাঢ় অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

 

ইতোমধ্যে দর্শকদের কিরকম প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন?

— এখনও অবধি খুবই চমৎকার। সত্যি কথা বলতে একদমই অকল্পনীয়। কোনোদিনই ভাবি নি যে যে মানুষরা আদতে শিল্প বা যেকোনো কৃষ্টি নিয়েই বিশেষ ভাবিত নন, তাদের কাছ থেকে কখনো এত প্রাণবন্ত সাড়া পাবো। এর থেকে নিশ্চিতভাবে বোঝা যায় যে শিল্পের এই বিশেষ আঙ্গিকটি সৃজনশীলতার এক নতুন দিক খুলে দিয়েছে।

আপনি ঠিক কি ধরনের ঝুঁকি নিচ্ছেন? অর্থাৎ কখনও কি আপনি গ্রেফতার হতে পারেন?

— যতক্ষণ না পর্যন্ত ছবি এবং তাদের বিষয়গুলি অত্যন্ত উত্তজক এবং অতিব‍্যক্ত হয়ে ওঠে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো সমস্যা হওয়া উচিত নয়। কিন্তু যদি কখনও সেরকম কিছু ঘটে, তাহলে কিছু সমস্যা হলেও হতে পারে।

 

গ্রাফিতি আইনবিরূদ্ধ। যারা বলেন যে গ্রাফিতি কেবলমাত্রই অপসংস্কৃতি, তাদের বিরুদ্ধে আপনি কি বলতে চান?

— কেবল গ্রাফিতির দিকেই অঙ্গুলি নির্দেশ কেন? আমরা দৃষ্টিগতভাবে এক ভীষণ দূষিত সমাজে বসবাস করি। রাস্তার দুপাশের, বাড়ির দেয়াল সিনেমার পোস্টার, ভোটের বিজ্ঞাপনে সয়লাব। এগুলিকেও সেক্ষেত্রে আইনবিরূদ্ধ বা অপসংস্কৃতি বলা উচিত?

 

আপনার কী সত্যিই মনে হয় যে আপনি দীর্ঘদিন আপনার পরিচয় আর গোপন রাখতে পারবেন? ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’-র এক সাংবাদিক দাবি করেছেন যে তিনি নাকি আন্দাজ করে ফেলেছেন আপনি কে এবং আপনাকে ফোনও করেছিলেন?

— কোনো ব‍্যক্তি যদি একান্তই তার নিজস্ব পরিচয় গোপন রাখতে চান, তাহলে তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন ওঠা একেবারেই সমীচীন নয়। বরং বাকিদের কারণটা বোঝা উচিত এবং এই গোপনীয়তাকে সম্মান প্রদর্শন করাই বাঞ্ছনীয়।

আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী- আপনি কী এই গ্রাফিতি সংষ্কৃতিকে কোচির বাইরেও ছড়িয়ে দিতে চান? বা আরও বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করতে চান? নাকি আপনার ছবিগুলি বিভিন্ন চিত্র প্রদর্শনীতে দেখানো হোক, এই আপনার ইচ্ছা?

— আমি অবশ্যই নিজেকে আরও অনেক বিস্তারের চেষ্টা করবো। বিভিন্ন নতুন নতুন সংস্কৃতি আবিষ্কার এবং শিল্পের মাধ্যমে তাদের সংশ্লিষ্ট বৈশিষ্ট্যগুলি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাইবো। হ‍্যাঁ, আরও কিছু পরিকল্পনাও রয়েছে। গ্রাফিতির মতো একটি এখনো অপ্রচলিত শিল্প যদি তথাকথিত মূলধারার, বহুলপ্রচলিত শিল্প প্রদর্শনীতে স্থান করে নেয়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে এক আকর্ষণীয় এবং চর্চার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

 

কোচিতে আপনি আপনার গ্রাফিতি দিয়ে এক রুটম‍্যাপ এঁকে ফেলেছিলেন। তার কোনও অংশ কী ইতিমধ্যে মুছে ফেলা হয়েছে?

— হ‍্যাঁ, কিছু অংশ মোছা হয়েছে বইকি। এটাই তো এই শৈলীর এক বৈশিষ্ট্য এবং 

তাকে কি এই অঙ্কণপদ্ধতিরই একটি অংশ হিসেবে গণ্য করা হয় না?

শেষ প্রশ্ন, আপনাকে এই যে ব‍্যাঙ্কসি’র সাথে তুলনা করা হয়ে থাকে, এতে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

— এটা আমার কাছে প্রশংসারও অধিক পাওয়া। উনি এই গ্রাফিতি শিল্পের সাথে বহুদিন থেকে যুক্ত এবং তার শৈলী অত্যন্ত উচ্চমানের, যা অনেকের পক্ষেই আয়ত্ত করতে পারা যথেষ্ট কষ্টসাধ‍্য। তবে একজন অনভিজ্ঞ, নবশিক্ষার্থী হিসেবে অবশ্যই তার আরও বিভিন্ন কাজ দেখতে চাইবো। এবং একই পথের পথিক হওয়ায় চাইবো ভবিষ্যতে তার সাথে একবার সাক্ষাৎ করার।

x

লেখা সম্পর্কে মন্তব্য

টি মন্তব্য

%d bloggers like this:
Guess Who-এর সাক্ষাৎকার ও গ্রাফিতি | ভাষান্তর : পৌলমী সরকার | শিরিষের ডালপালা । সাহিত্য ওয়েবজিন

Guess Who-এর সাক্ষাৎকার ও গ্রাফিতি | ভাষান্তর : পৌলমী সরকার

গেজ হু ( Guess Who) মানে অনুমান করে নেন কে আমি । হ্যাঁ, অনুমানই করতে হবে, কারণ Guess Who নিজেরে আননৌন রাখতে চান। নিজেরা আননৌন থাকলেও, কোচির দেয়াল, ফেসবুক ওয়াল, ইনস্টাগ্রাম দিয়ে তিনি (তারাও হতে পারেন) এজ এন আর্টিস্ট মোটামুটি নৌনই। বিশেষ করে, আপনি যদি ইন্ডিয়ান গ্রাফিতির খোঁজ-খবর নিতে চান, Guess Who থাকবে শুরুতেই। আর্টিস্ট সাউথ ইন্ডিয়ান রাজ্য কেরালার কোচি’র বাসিন্দা। ওনার গ্রাফিতি’র শুরু ২০১২ নাগাদ। কোচি-মুজেরাস বিয়েনালকে কেন্দ্র করে। এইটা একটা আর্ন্তজাতিক শিল্প-প্রদর্শনী। আমি খোঁজ পাই গুগলের মাধ্যমে। তার কাজ-কারবার দেখে তো তার ফ্যান হয়ে যাই। বিশেষ করে তার যে সেন্স অব হিউমার তা বলার মতোনই। কেন এরকম বলতেছি তা আপনারা তার গ্রাফিতি দেখলেই টের পাবেন। তাকে ডাকা হয় ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কসি বলে। এ ডাকাটাতে কিঞ্চিত আপত্তি আছে। কেন ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কসি হইতে হবে উনাকে! উনার Guess Who এই নামই কি যথেষ্ট না, উনারে ডাকার জন্য! আর মনে হইসে ব্যাঙ্কসির সাথে উনার কাজেরও ভিন্নতা আছে, নানাভাবে। যাক সেইসব, সোশ্যাল মিডিয়ায় উনাকে ফলো এবং নিয়মিত ওনার কাজ দেখে যাওয়ার ধারাবাহিকতায় প্ল্যান করি তার ইন্টারভিউ নিই। নকও করি। বলি বিষয়টা। আর্টিস্ট বলেন, তিনি আপাতত ব্যস্ত পরে রিপ্লাই দিবেন, প্রশ্নগুলা যেন পাঠায়া রাখি। পাঠায়া রাখলাম। কিন্তু তিনি আর ইনবক্স দেখেন না। মে বি  আমার প্রাইমারি কথাবার্তাই উনার ভাল্লাগে নাই ; এ কারণে ওনার এড়ায়া চলা। এসব মেলা আগের ঘটনা। যেহেতু ইন্টারভিউ পাই নাই, অনলাইনে পাওয়া বিবিসির ইন্টারভিউখানার উপরই ভরসা করি। এইটা অনুবাদ করেন পৌলমী সরকার। উনাকে ধন্যবাদ।

— সম্পাদক


 

আপনার বা আপনাদের সম্পর্কে একটু বলুন। আপনারা কি একজন না অনেকজন? পুরুষ না মহিলা?

— এমন একজন যার কাছে গ্রাফিতি ভীষণ ভালোবাসার এক বিষয়।

 

আপনি বা আপনারা যে বিষয়ে কাজ করছেন, তার কী কোনো রাজনৈতিক আঙ্গিক রয়েছে? কী বার্তা পৌঁছাতে চান দর্শকের কাছে?

— আমি একেবারেই মনে করি না যে শিল্পের সর্বদাই কোনো বার্তা বহনের দায়িত্ব থাকে। এটি মূলত দৃষ্টিলব্ধ ভাষা ব‍্যবহারের বিকল্প এক রাস্তা, যার সাথে দর্শন এখনও বিশেষ পরিচিত নয়। কিন্তু তার সঙ্গে-সঙ্গেই এর বিষয়বস্তুতে সামান্য রাজনৈতিক ছোঁয়া থাকায় তারা এই নতুন ভাষার সাথে দ্রুত একাত্মও হয়ে উঠছেন। এর আরও একটি বড় কারণ হলো এই শিল্পের ক্ষেত্র প্রকাশ‍্য পথঘাট যার ফলে তা মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার সুযোগও অনেক বেশি। বিভিন্ন মহান চরিত্র যেগুলির সাথে আমরা বেশ পরিচিত যেমন  ‘শিকারি শম্ভু’-র সাথে আপ্পি-হিপ্পির ছবি (এক বিখ্যাত কার্টুনের চরিত্র) আঁকা হয়েছে, এখানে যে ‘কিস অব লভ ক‍্যাম্পেইন’ চলছে, তার প্রতিভূ হিসেবে। (বিবিসি ট্রেন্ডিং এর আগে ‘ইমমর্টাল অ্যাক্টস্’ নিয়ে হওয়া বিতর্কসভাটি প্রচার করেছিল।) বহু মানুষ প্রতিবাদ করার উদ্দেশ্যে পথে নেমে পরস্পরের সাথে চুম্বনাবদ্ধ হয়েছিলেন, এবং তাদের প্রত‍্যেককেই গ্রেফতার করা হয়। কিন্ত যদি কাল্পনিক চরিত্রগুলিকে সেই একইভাবে প্রত‍্যক্ষ করা যায়? তাহলে তারাও কি সেই একইভাবে গ্রেফতার হবেন?

আপনি ঠিক কি অর্জন করবেন বলে আশা রাখেন?

— দুর্ভাগ্যবশত আমাদের ভারতে গ্রাফিতি সংষ্কৃতি এখনো সেভাবে গড়ে ওঠেনি। এখানে খুব কম সংখ্যক শিল্পীই আছেন যারা তথাকথিত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলির আরোপিত শ্রেণিবিভাগ এবং সংজ্ঞা অতিক্রম করে উঠতে পারেন। শিল্পের নতুন এবং তাৎপর্যপূর্ণ অর্থ আবিষ্কার এবং আরও বেশি মাত্রায় দর্শকদের আকৃষ্ট করতে পারা শিল্পীরই অক্লান্ত প্রয়াসের ফল এবং শিল্পের সার্থকতা সেখানেই, যদি তা আরও প্রাণবন্ত এবং প্রগাঢ় অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

 

ইতোমধ্যে দর্শকদের কিরকম প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন?

— এখনও অবধি খুবই চমৎকার। সত্যি কথা বলতে একদমই অকল্পনীয়। কোনোদিনই ভাবি নি যে যে মানুষরা আদতে শিল্প বা যেকোনো কৃষ্টি নিয়েই বিশেষ ভাবিত নন, তাদের কাছ থেকে কখনো এত প্রাণবন্ত সাড়া পাবো। এর থেকে নিশ্চিতভাবে বোঝা যায় যে শিল্পের এই বিশেষ আঙ্গিকটি সৃজনশীলতার এক নতুন দিক খুলে দিয়েছে।

আপনি ঠিক কি ধরনের ঝুঁকি নিচ্ছেন? অর্থাৎ কখনও কি আপনি গ্রেফতার হতে পারেন?

— যতক্ষণ না পর্যন্ত ছবি এবং তাদের বিষয়গুলি অত্যন্ত উত্তজক এবং অতিব‍্যক্ত হয়ে ওঠে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো সমস্যা হওয়া উচিত নয়। কিন্তু যদি কখনও সেরকম কিছু ঘটে, তাহলে কিছু সমস্যা হলেও হতে পারে।

 

গ্রাফিতি আইনবিরূদ্ধ। যারা বলেন যে গ্রাফিতি কেবলমাত্রই অপসংস্কৃতি, তাদের বিরুদ্ধে আপনি কি বলতে চান?

— কেবল গ্রাফিতির দিকেই অঙ্গুলি নির্দেশ কেন? আমরা দৃষ্টিগতভাবে এক ভীষণ দূষিত সমাজে বসবাস করি। রাস্তার দুপাশের, বাড়ির দেয়াল সিনেমার পোস্টার, ভোটের বিজ্ঞাপনে সয়লাব। এগুলিকেও সেক্ষেত্রে আইনবিরূদ্ধ বা অপসংস্কৃতি বলা উচিত?

 

আপনার কী সত্যিই মনে হয় যে আপনি দীর্ঘদিন আপনার পরিচয় আর গোপন রাখতে পারবেন? ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’-র এক সাংবাদিক দাবি করেছেন যে তিনি নাকি আন্দাজ করে ফেলেছেন আপনি কে এবং আপনাকে ফোনও করেছিলেন?

— কোনো ব‍্যক্তি যদি একান্তই তার নিজস্ব পরিচয় গোপন রাখতে চান, তাহলে তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন ওঠা একেবারেই সমীচীন নয়। বরং বাকিদের কারণটা বোঝা উচিত এবং এই গোপনীয়তাকে সম্মান প্রদর্শন করাই বাঞ্ছনীয়।

আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী- আপনি কী এই গ্রাফিতি সংষ্কৃতিকে কোচির বাইরেও ছড়িয়ে দিতে চান? বা আরও বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করতে চান? নাকি আপনার ছবিগুলি বিভিন্ন চিত্র প্রদর্শনীতে দেখানো হোক, এই আপনার ইচ্ছা?

— আমি অবশ্যই নিজেকে আরও অনেক বিস্তারের চেষ্টা করবো। বিভিন্ন নতুন নতুন সংস্কৃতি আবিষ্কার এবং শিল্পের মাধ্যমে তাদের সংশ্লিষ্ট বৈশিষ্ট্যগুলি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাইবো। হ‍্যাঁ, আরও কিছু পরিকল্পনাও রয়েছে। গ্রাফিতির মতো একটি এখনো অপ্রচলিত শিল্প যদি তথাকথিত মূলধারার, বহুলপ্রচলিত শিল্প প্রদর্শনীতে স্থান করে নেয়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে এক আকর্ষণীয় এবং চর্চার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

 

কোচিতে আপনি আপনার গ্রাফিতি দিয়ে এক রুটম‍্যাপ এঁকে ফেলেছিলেন। তার কোনও অংশ কী ইতিমধ্যে মুছে ফেলা হয়েছে?

— হ‍্যাঁ, কিছু অংশ মোছা হয়েছে বইকি। এটাই তো এই শৈলীর এক বৈশিষ্ট্য এবং 

তাকে কি এই অঙ্কণপদ্ধতিরই একটি অংশ হিসেবে গণ্য করা হয় না?

শেষ প্রশ্ন, আপনাকে এই যে ব‍্যাঙ্কসি’র সাথে তুলনা করা হয়ে থাকে, এতে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

— এটা আমার কাছে প্রশংসারও অধিক পাওয়া। উনি এই গ্রাফিতি শিল্পের সাথে বহুদিন থেকে যুক্ত এবং তার শৈলী অত্যন্ত উচ্চমানের, যা অনেকের পক্ষেই আয়ত্ত করতে পারা যথেষ্ট কষ্টসাধ‍্য। তবে একজন অনভিজ্ঞ, নবশিক্ষার্থী হিসেবে অবশ্যই তার আরও বিভিন্ন কাজ দেখতে চাইবো। এবং একই পথের পথিক হওয়ায় চাইবো ভবিষ্যতে তার সাথে একবার সাক্ষাৎ করার।

x

লেখা সম্পর্কে মন্তব্য

টি মন্তব্য

%d bloggers like this: