অহম ও অশ্রুমঞ্জরী ।। অনুপম মণ্ডল

‘অহম ও অশ্রুমঞ্জরী’ কবি অনুপম মণ্ডলের একটি কবিতা-সিরিজ। পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত। ‘অহম ও অশ্রুমঞ্জরী’ নামেই বইটি প্রকাশ হবে। পাণ্ডুলিপি থেকে আটটি কবিতা পড়া যাক…                          অহম ও অশ্রুমঞ্জরী / অনুপম মণ্ডল ১৮ মন অন্নময়, কেননা বাতাসে ঘুরে ঘুরে শরশব্দ অন্বেষণ করে। একটি পাতার পাশে অন্য পাতার …

দশটি কবিতা ।। জুলফিকার রবিন

বৈরাগ্য   যেদিন থেকে জেনেছি সাপুড়েরা আমায় সাপ ভাবে এবং সাপেদের কাছে আমি এক মস্ত বড় সাপুড়ে সেদিন থেকেই সাধারণের চিরকালীন কিছু দুঃখ আমার কাছে গুরুত্ব হারিয়েছে মানুষ ভুল বুঝলে এখন বড়জোর আমার ঘুম পায় বস্তুত এমন এক বণিকের সন্ধান আমি পেয়েছি যার কাছে কয়েকটি দুঃখের বিনিময়ে পাওয়া যায় ব্রহ্মাণ্ডের সবটুকু আলোর স্বত্ব তাই সব …

কবিতালাপ ।। সুবর্ণা গোস্বামী

আপনি কবিতা লিখতে শুরু করলেন কিভাবে? সুবর্ণা: কবিতা লেখা শুরু করেছি প্রথম প্রেমে পড়ার পর।মানে সবাই যেমন করে আর কি। কাউকে দেখানোর মত সাহস হয়নি কখনও। পরে ফেসবুক এলো বা আমিই ফেসবুকে এলাম।এখানে দেখি আমার নিজস্ব একখান দেয়াল আছে সেখানে আমি যা ইচ্ছে আঁকতে পারি; কেউ দেখলে দেখুক,না দেখলে না দেখুক। তারপর থেকে কবিতার প্রকাশ শুরু …

গুচ্ছ কবিতা ।। জুননু রাইন

অপেক্ষারা দাঁড়িয়ে   অপেক্ষারা দাঁড়িয়ে; দাঁড়িয়ে আমার জন্য এক ঝুড়ি ক্লান্তির ঝরা ফুল নিয়ে আমার অলসতা দেখে নিরলসভাবে জড়ো হচ্ছে- সারি বেঁধে ঘেরাও করার প্রস্তুতি নিচ্ছে; আমি আমার ক্লান্তিগুলোকে জোড়ালো হতে দেখছি আমাকে জোছনার শীতল ছায়ায় ম্লান করে দিতে…   অপেক্ষারা দাঁড়িয়ে; দাঁড়িয়ে আমার জন্য এক ঝুড়ি ক্লান্তির ঝরা ফুল নিয়ে।     আমি এমনই …

তিনটি কবিতা ।। সঙ্ঘমিত্রা হালদার

যাহা কিছু ঘটে আছে   এখন রাত্রি শেষ করে দিন, না দিন শেষে রাত্রি, এই চিন্তা ফুঁ দিয়ে নামায়। আমার পরবর্তী তিরিশ দেখি হেসে খেলে গড়িয়ে নেয়। মজা করে ও বুদ্বুদ ছড়িয়ে রাখে। কিছুতেই সে পুরোটা মনে পড়তে দেবে না। মজাদের গা থেকে আঁশ- ছাল ছাড়িয়ে নেয়। ও বৃহৎ দংশনের ছবিতে একটা দাঁড়কাক কী অসম্ভব …

গুচ্ছ কবিতা ।। অস্তনির্জন দত্ত

১. কিছু পাতা জুড়ে ঘুম, পাতা জুড়ে জুড়ে  সান্ধ্যআহ্নিক এর পর  আমি বলেছি চোখ তোমার বয়স হচ্ছে…   হয়ত হালকাভাবে আঠা , লাল নীল কাগজ কুচি জোড়া দিতে দিতে কিছু পাতা  আর বৃক্ষসমীপে  আমি বলেছি ঘুম কিছু পাতা জুড়ে তৈরি হয়   যেটুকু টোল ফেললে হাসি তোমাকে স্নিগ্ধ করে , স্নানে নেয়  পুকুরের জলে কুল্কুচি …

কবিতালাপ ।। উপল বড়ুয়া

আপনি কবিতা লিখতে শুরু করলেন কিভাবে? সাহিত্য করার প্রবণতাটা আমার তৈরী হইছে আমার বাবারে দেখে। অনেকটা জ্যানেটিকেলি। আমার বাবারে দেখতাম, বেকার মানুষ সিগারেটের পর সিগারেট জ্বালিয়ে রাত জেগে জেগে লিখে যাচ্ছেন। মাঝে মধ্যে কই যেন কোথায় পালিয়ে যেতেন। তারপর কয়েকমাস পর বই-পুস্তক নিয়ে ফিরে আসতেন। তো এভাবে বাপের লেখালেখি আমার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে পরে। প্রথম …

রোবো ।। মেসবা আলম অর্ঘ্য

রোবো ১. তাকাও। মুছে ফ্যালো। হারিও না। চোখের ভিতরে ওই মুখ তোমার অপেক্ষক। ওই ঠোঁট তোমার ব্যাকরণ। তুমি তোমার তথ্যের কেউ না। তুমি তোমার নিয়মের কেউ না।  ~ ~ নিরবধি চিহ্ন। অলাত চিহ্ন। কেউ জানে না। এক ও এক যোগ করো। আবার যোগ করো। আবার আবার… এই রাশি তোমার শরীর। তুমি তার রোবো’র কেউ না। …

নির্বাচিত ২৫ কবিতা ।। নির্ঝর নৈঃশব্দ্য

সহোদরা ও প্রেমিকার মৃত্যু   যে বাতাসে ভেসে তোমাদের দেশে আসি কিছু মদ আর বিষাদ জমিয়ে রাখি বাতাস ঝড় হবে না বলে আমাকে ভাসায় আমি উদ্ভ্রান্ত দিনের পেটে ঘুমিয়ে থাকি কাঁথার ভিতর জেগে থাকে রোদের পাথর তার উত্তরে ছিলো দীর্ঘ রাতের নিশ্বাস তোমাদের দরোজায় ডাকে শাদা রাজহাঁস এই ভেবে আমি জেগেছিলাম চারশোবছর   ঘুম ভেঙে …

তিন কবির কবিতা ।। নুসরাত নুসিন । মাহী ফ্লোরা । মিতা চার্বাক

নুসরাত নুসিন পশ্চাৎ পথের অভিমুখ নদীর মতো মানুষের আপাত গন্তব্য তবে মোহনা? পশ্চাৎ পথের অভিমুখ ? রঙের বিস্তৃত বাঁকগুলো এক হয়ে উঠলে কেমন নান্দনিক সমুদ্র হয়ে উঠি । তরঙ্গ ঘন হতে হতে একরঙা বরফময়— তারপর ধীরে ধীরে উচ্চতায় সোনালি প্রমিথিউস গান । বাঁকগুলোয় ফিরে যেতে যেতে না বিস্ময়ে দেখি, কবেকার বিরুদ্ধস্রোত আছড়ে পড়ছে অযুত নিযুত …