পরিচয় ও অন্যান্য কবিতা | হাসান রোবায়েত

পরিচয়   দূরের কাছে টানলে পরে দোষ শাড়ির ভাঁজে লুকিয়ে খরগোশ বললে দানা পানীয় দিও তবে ভেজা শরীর রাত যখন হবে উদল দুটি কালো পাখির ছানা ঘুমায় বুকে আঙুর বনে হাওয়া আলতো করে খুললে ফিতা, ইশ!  বেরিয়ে পড়ে পাহাড়ি কিশমিশ লজ্জারত, তুমি দু চোখ বোঁজা ভাঙবো যেন সারা দিনের রোজা সেহেরি সেই করেছি কোন রাতে  …

সমুদ্র সিরিজ ও মৌলিক মায়ার ফুল | সাগর শর্মা

সমুদ্র সিরিজ    রাস্তা থেকে দ্রুত সরে গেলে ট্রেন  পরিদৃশ্যমান পরছায়া থেকে— পথিকের ছায়া উড়ে আসে ঘাসে অমলধবল বিচালির পাশে। পথ থেকে পথে সরে গেলে ছায়া কেবল ধূসর হয়ে আসে শীতে; কুয়াশাপ্রবণ ভোরের এ-মায়া— ফেলে ট্রেন ছুটেছে ধীর গতিতে। তবু দূর থেকে মনে হয় কেউ— হাতের ইশারা করে ডাকে একা; ভোরের সময় দেখা, আচমকা! সমুদ্র …

‘অন্তঃস্থ ছায়ার দিকে’ বইয়ের কবিতা | হুজাইফা মাহমুদ

কোনদিন না দেখা নদী   যেন কোন মাতৃ-সিঁথি বেয়ে নেমে আসে এই নদী নেমে আসে আমাদের জন্মান্ধ হৃদয় অবধি সমস্ত তুঁতফল পাকে যে বিলোল হাওয়ায় আর, রাতভর নদীটির বুকে জাগে তার হাহাকার   শোনো, এখানে নিযুত নক্ষত্র উপচে টুপটাপ ঝরে অসুখের রাতগুলো বিচূর্ণ নীলের মতো ঢেলে দেয় কেউ এই বিলুপ্ত জানালার কপাট মেলে নিশ্চুপে কোথাও …

‘জেল রোডের প্রেমগীতি’ থেকে কবিতা | আহমেদ মুনির

বসন্তের ভাঙা গান   কিছু গান পড়ে আছে মাঠে পুরোনো তোরঙ্গে কিছু গান দেশান্তরী আজ কিছু গান প্রতিবেশীর উঠোনে ভাঙা করোগেট টিনে কিছু গান পড়ে আছে পুরোনো দিনের ভাঁজে।   তবু ধানখেতে যাই ধানখেত থেকে মাঠে মাঠে মাঠে পড়ে আছে গীতবিতানের গাছ কিছু গান জীবাশ্ম জ্বালানি হয়ে জ্বলে। এই সব ভেবে সমস্ত বেহালা বাদকের কাছে …

‘সাড়ে তিনশ’ বছর’ বইয়ের কবিতা | বীথি সপ্তর্ষি

মানুষ   শরীরের ভাঁজে ভাঁজে বেদনা জমেছে বিশদ তার সব ছেনে তুমি এখন বুনছ কামনা যতটা বেদনা ঢেলে মসৃণ করেছ শিয়র তার চেয়ে কিছু কম উত্তাপ এই শীতে গৃহহীন লোকেরা পায়, তারপর ছেড়ে চলে যায় অন্যখানে, নতুন সন্ধানে। যে চুমু চেয়ে চেয়ে বহুকাল আগে- রুমালে জল ঢেলে মুছেছি যোনি ছেঁড়া দাগ, এঁটো ঠোঁটে চুমু বাকি …

ভ্যানিটি ব্যাগে জাফরান | কামরুল রুমী

হিন ও বিন   আমাদের তেঁতুল গাছে জিন জিনের তেঁতুল গাছে হিন হিনের তেঁতুল গাছে বিন।   তারপর আর কোনো গাছ নেই। সেই (নেই গাছ) গাছের শেকড়ে ভালোবাসা আর মগডালে আযাযিল ফেরেশতা।         আযাযিল ফেরেশতা   হিন ও বিনদের পৃথিবীতে মানুষ নামের ফেরেশতাদের বসবাস। ওগো পৃথিবীর ফেরেশতারা! আযাযিল ফেরেশতারা।         …

শস্য ও পশুপালনের স্মৃতি | বিজয় আহমেদ

দেখেছি শুধু সূর্য হেলে পড়ে; উত্তুরে হাওয়ার ত্রাসে খুলে যায়, আংটি ও রিবন তোমার। এই যে নিখিল-বাথান নিয়েছো কাঁধে তুলে, দেখো এই অভিশাপে নিয়ত তোমাকে চাপ চাপ করে কেটে, করা হবে কিমা— মাংসের। তোমার হাড্ডি খুলে নেওয়া হবে রজ্জু, খুলি দিয়ে বানানো তাঁতে ঘটাং ঘটাং শিস তুলে তুলে প্রদর্শিত হবে অপেরা কোনো। তারপর তোমাকে ভ্রাতৃঘাতী …

মেনিকিনের লাল ইতিহাস | রুদ্র আরিফ

গ্রেনেডের ফুল   দেখো কিছু ফুল ক্যাকটাসের মতো তাজা, কিছু ফুল ওহে সাক্ষাৎ-প্রজাপতি; রিকশার ডানায় কালো উড়ছে ট্রাফিক জ্যাম, কিছু লোকাল বাস রকস্টার মহামতি। ঢাকো মহামারী ও অক্সিজেন সঙ্কট, কিছু মানুষ হৃৎপিণ্ড বেচে বাঁচে; তবু তাগড়া অট্টালিকার প্রহরে, ব্যালকনি ফ্লোরে বনসাই সম্রাট ধুম নাচে। থেকো রাতজাগা চোখ গ্রাফিতি— দেয়ালে, পুরো পৃথিবী আহ্ টাটকা গ্যাসচেম্বার; ফসলের ঠোঁটে …

দশটি কবিতা | সানজিদা আমীর ইনিসী

খোয়াবনামা মন জঙ্গলের পথে সহজে গুঁড়ায়ে যাইতেছি  অনাবাদী বাতাসের সাথে তারপর কত-পর আমাদের ছোট ডিঙি তার বিস্তৃত জীবন  চলতেছে  আমাদের বাঁকে বাঁকে ছোট জীবন— আরও জড়ায়ে আরও-আরও জড়ায়ে একা হইয়া থাকলে বহু বীথি সে পার হইয়া যাবে আমরা  শুধু আমরা থাকব নিরন্তর মাছেদের সাথে ডাঙায় উজায়ে ঘাসেদের সাথে মাছের আঁশটে গন্ধ মুখে নিয়া শরীর বাইয়া …

গুচ্ছ কবিতা ।। অমিত চক্রবর্তী

সো লঙ, গেওর্গে (দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু’কে)                                              উজ্জ্বল গাছগুলো জানাচ্ছে ছুটির মৌসুম। উলেন টুপির ভেতর                                       …