পাঁচটি কবিতা | ওয়াহিদ রোকন


খালি ঘরের সংখ্যা


জাপানের পিছন থেকে সূর্য উঠলে
ক্লাশ-থিরিতে পৌছে গেল আলো

পাঠশালার উঠানে তেজি মুখে
নামতা পড়লো রইদ-রাজারা
মুখস্ত করে চলে গেল একদল-
ধনুষ্টঙ্কার টিকা নিতে,
পশ্চিম-মুখে উদ্যান-বনে ।

আর বটতলার নরম মাটির স্লেটে
অংক মুছে ফাজিল বাল-বাচ্চারা,

খালি ঘরের সংখ্যারা গেল কই?

বলল না, গেল উদয় থেকে অস্তে
ভাগফল না মিলায়ে তারা
চলে গেল সূর্যাস্তের দেশে ।


পুঁজি


বনিজ নাই, নাই বাপ-দাদার সম্পত্তি
তবু কতো টাকা কে গুনে, কে বা জানে
কোথায় ব্যাংক, কোথায় যে বাড়ি
ঢাকা শহর, নিউইয়র্ক, এই দুনিয়ার মাঝে!

অথচ লোকে কতো খবর না জাইনাই
অভাবের কথা বলে, দেশের কথা বলে
আসমানে মেঘ আসলে কয়- ফলনের কথা
কথাসব রাইখা আসি রসুলপুরে ।

৯ নভেম্বর, ২০২৩ 


আর্ট-কাল্চার


তারা আর্ট কাল্চার করে
আমারে বনবাদাড়ে রেখে
ঘুরিফিরি বড় একলা

যাই কই আহা আমি?
টিএসসিতে খালি আর্টিস্ট
মাগরিবে ঝাপসা মুখ দেখাদেখি

দুপুর বেলায় আছে চারুকলা
পরজন্মের গাছের ষড়যন্ত্রে
ইহজন্মের গাছ আঁকছে
একলা আচানক বকুলতলা

আরও কাল্চারাল…

আরও ফুল, সূর্যমুখীর মত
হইলদা হইবার লাগি
রংতুলির দিকে চেয়ে থাকি

চেয়ে থাকে প্যাঁচার মুখ
আকালে দোয়েল পাখির ঠোঁট
ভুলে গিয়ে দূর গাঙুড়
দূরে ভাসা মাঝির দাঁড়
ছায়ানটে পৌছাতে পারে না

ক্লাসিক্যাল হইতে থাকে
জংলায় না-ফোটে,
ফোটে কবরী খোপায়

হইলো রে আর্ট-কাল্চার

যেকারণে আর্টিস্ট হইলায়-
অকারণে সময়ের বাইরে ।

১৭/ ০৮ / ২০২১


নাইওরি মেঘ


ঝরবানি রে আসমানের পানি
আইবানি নাইওরি মেঘের দিনে
তোমার-আমার একলা দিন
ভাবতে ভাবতে যেমন দুকলা,
মেঘলা সাঁঝে আমার অবসরে
ঘন বর্ষণ আটকাইতে পারি না

উত্তরের মন দক্ষিনে জ্বালাতন করে
বে অব বেঙ্গলে লাই খেলে
মেঘ-গরল মনে করে কানাকানি
হইয়া নাইওরি, আইলো রে মেঘ

ইয়ান-কোণায় জোয়ানকিরে ভিজাইতে
সাগর-কোণের বান লইয়া বুকে
আম্মা যে ডাঙায় আইছিলা নাইওর
আর তো ফিইরা গেলা না!

তুমিও বাষ্পভাব ভুলে
ঝরতে থাইকো,
পেটভারি হইতে থাকুক
মেঘের আকালে,
উতলিছে বাঁকা গাঙ
নাইওরি মেঘের দিনে ।

৯ আগস্ট, ২০২৩ 


নিদানকালে খান্দান ভনে


গেঁথে আছি গাঁউয়ে, হাওরে,
গাঙের গহিনে
আমরা তাই আলগা হই না ।
ভুলতে পারি না স্বজনরে
সমুদ্র জিতে তারা আসছে এই পাড়ে
মিশছে কায়া ও মন ধুলায়-কাদায় ।
আর্যত্ব বহুদূর–দূরান্তের কালো ছায়া,
অনার্য ভুমিতে, শিকড়ে বৃথাই খোঁজ তার চিন্
যেমন-  তোমার তৃণ-রুপ-মুখে অস্ট্রিক ছায়া ।

আলমপানার তত্ত্বাবধানে জনবল হলে
ব্রাহ্মণপাড়ার অচ্যুত জলের শোকে
ভাইসা আসছে দাসপাড়া-চাড়ালপাড়া
সেই স্বর জ্ঞাতি হইয়া ঢুকার আগে
ছিল বৌদ্ধবিহারে নীরব সাধনা ।

জনপদে জন্মাইছে শাহজাদা, দেশের বেগম,
জুলেখার গর্ভ ছিঁড়ে আসছে জবান-
ইতিহাসের এমন সন্নিকটে বাঙাল ।
তাই নাই কোনও ভাষার সংকট
নিদানকালে খান্দান ভনে; মেহেরবা রুপবান,
আর মানব না- নিজভূঁয়ে তোমার বনবাস ।

২৭ এপ্রিল ২০২৩ 


ওয়াহিদ রোকন
গ্রামঃ মোল্লার গাঁও
জালালাবাদ, সদর সিলেট

প্রকাশিত কবিতার বই
‘গহিন ডুবির মাছ’, এবং ‘আর্য দ্রাবিড় নই বাঙালের ছাওয়াল’।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

Discover more from

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading