টাকা টোকানোর ইতিকথা | কামরুল আহসান

এই প্রথম আমি লোকটিকে ভালো করে দেখলাম। পায়ে চামড়া বা র‌্যাক্সিনের স্যান্ডেল, পরনে পুরনো একটা রঙওঠা জিন্সের প্যান্ট, গায়ে ফুলহাটা চেক শার্ট, কোমড়ে একটা বেল্টের ব্যাগ বাঁধা। লোকটিকে দেখে আন্দাজ করা কঠিন ঠিক কী ধরণের লোক হতে পারে। বয়স হবে পঞ্চাশের মতো, স্বাস্থ্য তত ভালোও না, আবার খারাপও বলা যায় না। চোখেমুখে একটা সুখী, আত্মতৃপ্তি ভাব আছে। কবি থেকে বাটপার যে-কোনো ধরণের লোকই হতে পারেন।

লোকটার পেশা শুনে অবাক হলাম।

তিনি টাকা টোকান।

প্রথমে আমি কথাটার অর্থ ঠিকমতো বুঝলাম না। আবার জিজ্ঞেস করলাম, কী করেন?

বললেন, টাকা টোকাই। পথেঘাটে টাকা পইড়া থাকে, সেগুলা টোকাই। কাগজ টোকানি দেখেন নাই, সেইরকম আর কি। কাগজ না টোকাইয়া আমি টাকা টোকাই।

ভাবলাম ফাজলামি করছেন বুঝি। কিন্তু, চোখমুখ দেখে ফাজলামির কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া গেল না।

কচকচ করে আনারস খাচ্ছেন। আমাকে বললেন, আনারস খান একটা। মজা পাইবেন।

শাহবাগ থেকে হেঁটে এসে সচিবালয়ের উল্টো দিকে এক চায়ের দোকানে বসেছি, রোদে দুনিয়াটা পুড়ছে, শরীর থেকে ভাঁপ বেরোচ্ছে। পাশেই ভ্যানে করে আনারস বিক্রি করছে। উঠে গিয়ে একটা আনারস নিয়ে এলাম। লবণ মরিচ মাখিয়ে দিল। কামড় দিয়েই আত্মা শান্তি হয়ে গেল। মধুর মতো মিষ্টি। ছোট্ট একটা আনারস, মাত্র দশ টাকা দাম। আরেকটা খেতে ইচ্ছা করল। কিন্তু, পকেটের অবস্থা ভালো না। গাড়িভাড়া ছাড়া পকেটে আর টাকা নাই। দশটাকা বাঁচানোর জন্যই তো সেই শাহাবাগ থেকে হেঁটে এলাম। আবার ঠিক টাকা বাঁচানোর জন্য না, জ্যাম এড়ানোর জন্যও। জ্যামে বসে থাকার চেয়ে হাঁটতেই ভালো লাগে।

পাশে বসে থাকা লোকটি হঠাৎ বললেন, ব্রাদার কি বেকার?

বলেই হাসলেন। সরি, কিছু মনে করবেন না। সরাসরি এই কথা জিজ্ঞাসা করা ঠিক না। প্রথমে জিজ্ঞাসা করতে হয়, ব্রাদার কী করেন? আপনি বলতেন কিছু একটা করেন, তারপর আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসত তেমন কিছু আসলে করেন না। যাই হোক, আপনার চোখমুখ দেখেই কিন্তু বোঝা যায় আপনি বেকার।

আমার মেজাজ খারাপ করার কথা। করলাম না। কিছুটা কৌতূহলী হয়েই জিজ্ঞেস করলাম, কীভাবে বোঝা যায়?

বেকারদের চোখেমুখে কেমন একটা দিশাহারা ভাব থাকে। তারা কোনোদিকে সরাসরি তাকাতে পারে না। এই অসহায় দশা আপনি আর কারো মুখে দেখবেন না। সাঁতার না জানা মানুষ পানিতে পড়ে গেলেও বোধহয় এমন করুণদশা হয় না। আমি অনেক বছর বেকার ছিলাম। জানি।

হঠাৎ লোকটি খুব গম্ভীর হয়ে পড়লেন। খুব সিরিয়াস। এই প্রথম আমি লোকটিকে ভালো করে দেখলাম। পায়ে চামড়া বা র‌্যাক্সিনের স্যান্ডেল, পরনে পুরনো একটা রঙওঠা জিন্সের প্যান্ট, গায়ে ফুলহাটা চেক শার্ট, কোমড়ে একটা বেল্টের ব্যাগ বাঁধা। লোকটিকে দেখে আন্দাজ করা কঠিন ঠিক কী ধরণের লোক হতে পারে। বয়স হবে পঞ্চাশের মতো, স্বাস্থ্য তত ভালোও না, আবার খারাপও বলা যায় না। চোখেমুখে একটা সুখী, আত্মতৃপ্তি ভাব আছে। কবি থেকে বাটপার যে-কোনো ধরণের লোকই হতে পারেন।

 


কয়েক পা বাড়িয়ে আবার পিছু ফিরে এসে বললেন, টেকা পাইলে কোনোদিকে তাকাইবেন না। আস্তে-ধীরে তুলবেন। তুইলাই পকেটে ভরবেন না। টেকাটা হাতে নিয়া কিছুদূর হাঁটবেন। ভাব ধরবেন নিজেরই টেকা পড়ছে, বা টোকাইয়া পাইছেন, ফকিররে দিয়া দিবেন। আরেকটা কথা, প্রতিদিন এক জায়গায় খুঁজবেন না।

 

আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কী করেন? তিনি কোনো ধানাইপানাই না করে সরাসরিই বললেন, আমি টাকা টোকাই। ব্যাপারটা যখন আমি সহজে বুঝতে পারছিলাম না তিনি সব ভেঙ্গে বললেন, দেখেন, চারদিকের লোকগুলারে দেখেন, সব লোক কেমন আসমানের দিকে তাকাইয়া হাঁটে। পথের দিকে কারো খেয়াল নাই। মানুষ যদি একটু রাস্তার দিকে, মানে মাটির দিকে, মানে নিচের দিকে চোখ নামাইয়া হাঁটতে পারত দেখত পথে পথে খালি টেকা আর টেকা। এইখানে সেইখানে কত টেকা ছড়াইয়া-ছিটাইয়া পইড়া আছে। কেউ দেখে না। সবাই খালি ছুটে আর ছুটে, খালি দৌড়ায়, টেকার পেছনেই ছুটে, কিন্তু, টেকা যে তার চোক্ষের সামনে পইড়া আছে দেখে না।

এবার লোকটির কথায় কথ্যভাষার টান, কথার তোড়ে কথার আসল মানে হারিয়ে গিয়ে কেমন রহস্য বিরাজ করে। আমি তখনো কথাটার আসল মানে ধরতে না পেরে বললাম, একটু আস্তে-ধীরে বলেন, ঠিক কী বলতে চাচ্ছেন একটু বুঝিয়ে বলেন।

লোকটি বললেন, মানুষের হাতে তো অনেক টাকা। আর মানুষ খুব অস্থির। দেখেন না কেমন পাগলের মতো ছুটে। লেনদেন করার সময় হঠাৎ হাত গইলা টেকা পইড়া যায়, খেয়ালও করে না। রাস্তার টাকা রাস্তাতেই পইড়া থাকে তাও অনেকে দেখে না, সেই টাকা কুড়াইয়া নেয়ার কাজ করি আমি।

তাও বোধহয় আমি বুঝতে পারছিলাম না। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলাম। আমাকে বোকার মতো তাকিয়ে থাকতে দেখে তিনি আবার বললেন, পথেঘাটে আপনি কখনো টাকা-পয়সা খুঁইজা পান নাই?

আমি বললাম, পাইছি দুএকবার।

সেইটাই তো বলতেছি। সেইটা তো পাইছেন হঠাৎ, বেখেয়ালে, আচমকা, না জানতেই। আপনি যদি খেয়াল কইরা রাস্তার দিকে তাকাইয়া হাঁটতেন তাইলে আরো অনেক টেকা পাইতেন। অনেক টেকা পইড়া থাকে রাস্তায়। মানুষ রাস্তার দিকে খেয়াল কইরা হাঁটে না বইলাই দেখে না। এমন কি, আচানক ব্যাপার, কাগজ টোকানিরাও দেখে না, কারণ, তাগো তো নজর থাকে কাগজের দিকে। কাগজের পাশেই যে একশ টেকার একটা নোট পইড়া আছে সেই দিকে চোখ যায় না।

তো আপনি টাকা টোকান?

জ্বি। তিন-চারবছর চাকরির পেছনে ঘুরছি। চাকরি না পাইয়া ভাবছি ব্যবসা ধরুম। কিন্তু, ব্যবসা করার টেকা পামু কই? একদিন কেমন দিশাহারা হইয়া রাস্তায় রাস্তায় হাঁটতেছি। এমনই ভাইঙ্গা পড়ছিলাম যে সোজা হাইয়া হাঁটতে পারতেছিলাম না। মাথা নিচা কইরা হাঁটতেছি, হঠাৎ দেখি একটা বিশ টেকার নোট পইড়া রইছে, খাবলা দিয়া তুললাম। পকেটে তখন আমার একটা টেকাও ছিল না। দুপুরে খাইও নাই। বিশ্বাস করবেন না সেই বিশ টেকা দিয়া আমি দুপুরে পেট ভইরা ভাত খাইলাম। তখন বিশ টেকা দিয়া এই ঢাকা শহরে ছালাদিয়া হোটেলে আরামে পেট ভইরা ভাত খাওন যাইত। এখন পঞ্চাশ টেকা লাগে। যাই হোক, ভাতটাত খাইয়া ভাবলাম, দেখি আরো কিছু টেকা খুঁইজা পাই কিনা। আমি পথের দিকে তাকাইয়া তাকাইয়া হাঁটতে লাগলাম। বিশ্বাস করবেন না, সেইদিন বিকালের মইধ্যে আমি পাঁচশ টাকার মতো খুঁইজা পাইলাম। কোথাও একশ, কোথাও পঞ্চাশ, দশ-বিশ টাকার নোটই বেশি। তারপর আর কি, আল্লার নামে এইটারেই পেশা হিসাবে নিলাম। আজ মাশাল্লাহ, পনেরো বছর এই পেশায় নিয়োজিত আছি। ঘর-সংসার সবই ঠিকঠাক চলতেছে। কোনো কোনো মাসে ত্রিশ-চল্লিশ হাজার টাকাও ইনকাম হয়। একমুঠে যদি একবার একটা টাকার বাÐিল পাইয়া যান, তয় তো কপাল খুইলা গেল। তখন সপ্তাহখানে কাজ না কইরা রেস্ট নিবেন, ঘুরবেন-ফিরবেন।

আমার মনে হলো আমার চেহারা কি এতটাই খারাপ হয়ে গেছে যে লোকটি আমাকে নিয়ে মজা নিচ্ছেন। আবার মজা নিচ্ছে বলেও মনে হলো না। লোকটিই পাছা ঘষটে আরেকটু আমার কাছে এসে বললেন, শুনেন, সবাইকে এইসব বলি না। আপনি বিপদে পড়ছেন দেইখা বললাম। আপনি শুধু একবার রাস্তার দিকে তাকাইয়া হাঁইটা দেখেন, সমস্যা তো নাই।

আমি বললাম, কিন্তু, পথেঘাটে টাকা-পয়সা খুঁজে পেলে তো তা তুলে আমরা ফকিরকে দিয়ে দেই। পরের টাকা আমি খাব কেন?

এই কথা বললে আপনি আর পারবেন না। আরে ভাই মানুষ লাখ লাখ কোটি কোটি হাজার কোটি টাকা চুরি-বাটপারি কইরা খাইতেছে। এই শহরে এত গাড়িবাড়ি কি এমনিতেই হইতেছে! বেশির ভাগই তো চোর-বাটপার। আর দুইটা টেকা আপনি টোকাইয়া খাইলে মান যাইব! আপনেরও তো ফকিরের দশা।

মান না, মানের চেয়ে বড় ব্যাপার এটা তো অন্যায়। কারো কিছু না বলে নেয়া তো পাপ।

বুঝছি, আপনি ভালো পরিবারের ছেলে। আপনার বাপ-মা যদি বাঁইচা থাকে তাদের হায়াত বাড়–ক, আর যদি না থাকে তাদের বেহেশত নসিব হোক। কিন্তু, ভাই, এই শব্দগুলা এখন আর শুনি না। অন্যায়, পাপ। আমি নিয়মিত নামায না পড়লেও জুম্মাটা পড়ি। সেইদিন মাপ চাই আল্লার কাছে। তা ছাড়া বেশি ইনকাম হইলে ফকিরদেও কিছু দান করি। কিন্তু, যেই টেকা রাস্তায় পইড়া থাকে তার তো কোনো মালিকানা নাই। সেইটা অন্য কেউ টোকাইয়া নিত। বা বৃষ্টিবাদলায়, গাড়ির চাকার ঘষটায় এমনিতেই নষ্ট হইয়া যাইত। কত টেকা এমনিতে নষ্ট হয় তার কোনো হিসাব আছে!

 


ভাবতে না ভাবতেই দেখি সামনে একশ টাকার একটা নোট পড়ে আছে। ময়লা, পুরনো, জীর্ণশীর্ণ, কিন্তু, চলনসই। কাগজের ভাঁজে এমনভাবে পড়ে আছে যে খেয়াল না করলে আসলেই কারো চোখে পড়ার কথা না। আমার শরীর কাঁপতে লাগল।

 

অনেকে অনেক অন্যায় করে তা ঠিক। অনেকে হাজার কোটি টাকা চুরি করে তাও ঠিক। কিন্তু, সব মানুষই খারাপ এইটা আমি বিশ্বাস করি না। আর যাদের টাকা খুঁজে পান, তারা হয়তো অনেকে দুঃস্থ, গরিব-দুঃখী মানুষ। টাকা হারিয়ে তাদের নিশ্চয়ই খুব অসুবিধা হয়। সেই টাকা তুলে নিয়ে খাওয়া!

আমি তো ভাই আপনার সাথে নীতি-নৈতিকতার আলাপ করতে বসি নাই। আপনি বিপদগ্রস্ত দেইখা বললাম। নইলে কে আর প্রতিযোগী বাড়াইতে চায়! এখন আপনি আমার বিবেক জাগাইয়া দিলে তো হইব না। যা- হোক, আপনার মর্জি। যাই।

বলেই তিনি উঠলেন। কয়েক পা বাড়িয়ে আবার পিছু ফিরে এসে বললেন, টেকা পাইলে কোনোদিকে তাকাইবেন না। আস্তে-ধীরে তুলবেন। তুইলাই পকেটে ভরবেন না। টেকাটা হাতে নিয়া কিছুদূর হাঁটবেন। ভাব ধরবেন নিজেরই টেকা পড়ছে, বা টোকাইয়া পাইছেন, ফকিররে দিয়া দিবেন। আরেকটা কথা, প্রতিদিন এক জায়গায় খুঁজবেন না। একেকদিন একেক এলাকায় ঘুরবেন। ভিড়ের মধ্যে ঘুরবেন বেশি। শুধু রাস্তায় না, বাসে- ট্রেনেও খুঁজতে পারেন। সিটের নিচে ভালো কইরা দেখবেন। বাজারে বাজারে ঘুরবেন। তবে, মার্কেটে, শপিংমলে ঘুরলে কোনো ফায়দা হইব না। হাসপাতালেও ঘুইরা দেখতে পারেন। সরকারি হাসপাতালে। আর ইস্টিশনে ইস্টিশনে।

তিনি পল্টনের দিকে হাঁটা ধরলেন। হাঁটছেন সোজা হয়েই, রাস্তার দিকে তাকিয়ে না, মানে কিছু খোঁজার লক্ষণ দেখা গেল না। হয়তো এখনো কাজ শুরু করেন নাই। আমি আরো কিছুক্ষণ বসে রইলাম। ভাবতে লাগলাম কোন পাগলের পাল্লায় পড়লাম। কিছুক্ষণ পর আমি উঠলাম। গুলিস্তানের দিকে হাঁটা ধরলাম। অনেকটা নিজের অজান্তেই রাস্তার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে হাঁটছি। হাঁটছিই যেহেতু, রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকলে ক্ষতি কী!

ফুলবাড়িয়ার কাছে এসে পঞ্চাশ টাকার একটা নোট খুঁজে পেলাম। লাল রঙের চকচকে নতুন নোটটা আমার দিকে তাকিয়েই ছিল। কেউ এটা কেন দেখছে না তাতেই আমি আশ্চর্য। আমার শরীর কেমন যেন কাঁপতে লাগল। ভাবলাম, দূর, টাকা থাকুক টাকার জায়গায় পড়ে, আমি চলে যাই। কিন্তু, টাকাটা আমাকে চম্বুকের মতো টানতে লাগল। আশেপাশে তাকিয়ে দেখলাম কেউ খেয়াল করছে কি না। লোকটির শেষ কথাগুলো মনে পড়ল। তিনি ধরেই নিয়েছেন আমি এ-কাজ করব, ভালোই ট্রেনিং দিয়ে গেছেন। আমি আলগোছে টাকাটা তুললাম দুআঙ্গুলে চিমটি দিয়ে। মুঠোতেও ভরলাম না। একটু বালু লেগে আছে, প্যান্টের সাথে ঘষে বালুটা ঝারলাম। তারপর টাকাটা হাতে নিয়েই কিছুদূর হেঁটে গেলাম। দশপা আগানোর পর মনে হলো কেউ তো দেখল না। তারপরও টাকাটা আমার পকেটে ভরতে সাহস হলো না। সামনেই এক ফকিরকে দেখে টাকাটা আমি তাকে দিয়ে দিলাম।

গুলিস্তান ফ্ল্যাইওভারের নিচে সারি সারি জুতার দোকান। ভিড়ে ও জ্যামে এদিক দিয়ে হাঁটা যায় না। হঠাৎ দেখি এক জুতার টুকরির নিচে দশ টাকার একটা নোট। জুতা দেখছি এমন ভাব নিয়ে বসে টাকাটা হাতে নিলাম। জুতাওয়ালা এসে বলল, কী, ভাই, কোনটা পছন্দ হয় দেখেন?

আমি টাকাটা তুলে জুতাওয়াকে দিয়ে বললাম, আপনার বোধহয় টাকা পড়ছে, রাখেন।

জুতাওয়ালা বলল, আমার টাকা না, মনে হয় কোনো কাস্টমারের। কোনো ফকিররে দিয়া দিয়েন।

আমি বললাম, আপনি দিয়ে দিয়েন। নেন।

লোকটির হাতে টাকা দিয়ে আমি হাঁটা ধরলাম।

শান্তি লাগছে, কিন্তু, কেমন অস্থির লাগছে। সত্যিই কি রাস্তায় টাকা পড়ে থাকে! একটু খুঁজলেই পাওয়া যায়! দশ-পঞ্চাশ টাকার একটা নোট পেলে হয়তো ফকিরকে দিয়ে দেয়া যায়, কিন্তু, পাঁচশ টাকার একটা নোট পেলে কি আমি ফকিরকে দিয়ে দিতে পারব!

ভাবতে না ভাবতেই দেখি সামনে একশ টাকার একটা নোট পড়ে আছে। ময়লা, পুরনো, জীর্ণশীর্ণ, কিন্তু, চলনসই। কাগজের ভাঁজে এমনভাবে পড়ে আছে যে খেয়াল না করলে আসলেই কারো চোখে পড়ার কথা না। আমার শরীর কাঁপতে লাগল। আমি কি টাকাটা তুলব! কী করব এই টাকা নিয়ে? আমার পকেটে ভরব নাকি কোনো ফকিরকে দিয়ে দেব!  একশ টাকার নোট যেহেতু পেয়েছি, পাঁচশ টাকার নোটও পাওয়া সম্ভব। আর মাত্র এটুকু সময়ে মধ্যেই একশ ষাট টাকা রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখলাম। তার মানে কত টাকা পড়ে আছে রাস্তায় রাস্তায়!  এটা কি কোনো জাদু! আমি কি কোনো বিভ্রমে পড়লাম!

(লেখকের কথা: এই গল্পের বাকি অংশ পরে কখনো জানাব।)


কামরুল আহসান

জন্ম ১৯৮২ সালের ২০ অক্টোবর, কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানায় ধামঘর গ্রামে, মামারবাড়িতে। ছোটবেলা থেকেই ঢাকার মাতুয়াইলে বসবাস। সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু। তারপর নানা অভিজ্ঞতা। জড়িত ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে। টেলিভিশনের জন্য অসংখ্য নাটক লিখেছেন। মাঝখানে  একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। বর্তমানে ভিউজ বাংলাদেশের সিনিয়র সহকারী সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত। কবিতা ছাড়া লেখালেখির সব অঙ্গনে যুক্ত। প্রকাশিত উপন্যাস মহাজীবন (আদর্শ, ২০২২), স্বর্ণমৃগ  গৌরব, ২০২০) সৃজনশীলতা, অনুবাদ, ওশো (দিব্যপ্রকাশ ২০২২), মাই স্টোরি, মেরিলিন মনরোর জীবনী, অনুবাদ (আদর্শ, ২০২৩), আমি কোনো আগন্তুক নই, উপন্যাস (আদর্শ ২০২৪), ডেথ, সদ্গুরু. অনুবাদ (নালন্দা ২০২৪)

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

Discover more from

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading