রোবায়েতের আলাপে শোয়েবের মারমেইড বিষ্যুদবার

ইটের জঞ্জাল আর বিষাক্ত শীসার ঢাকা নগরীর বাইরে গিয়ে সপ্তাহান্তে ফুসফুস ভরে শ্বাস নেয়ার চেষ্টা করলে কেমন হয়? সঙ্গে যদি কবিতা থাকে, কবিতা প্রসঙ্গে আড্ডা জমানো যায়, ব্যাপারটা মন্দ হয় না। কবির ফুসফুস তো তার কবিতা। এরকম ভাবনা থেকেই সপ্তা দুই আগে বন্ধুরা সিদ্ধান্ত নেই, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ঘুরতে যাবো। প্রথম সপ্তাহে আমরা যাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে, যে জায়গাটা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। সিদ্ধান্ত হয়, কবি হাসনাত শোয়েব তার প্রকাশিতব্য কাব্যগ্রন্থের পাণ্ডুলিপি ‘ব্রায়ান অ্যাডামস ও মারমেইড বিষ্যুদবার’ থেকে কবিতা পড়বেন এবং কবি হাসান রোবায়েত সমালোচনা করবেন। আলোচনায় অন্যরাও অংশ নেবেন। কবির কবিতাপাঠ এবং আলোচনা পুরোটাই ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর শোয়েব, রোবায়েত, মোস্তফা হামেদী ও হুজাইফা মাহমুদ সকালেই জাহাঙ্গীরনগরে চলে যান। ব্যক্তিগত অসুবিধায় আমি যাই কয়েক ঘণ্টা পরে। অতিথিদের বেশ আপ্যায়ন করেছেন জাহাঙ্গীরনগরের ছাত্র কবি মাসুম মুনাওয়ার ও কবি নাইমুল আলম মিশু। বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপের মতো এক মাঠে শোয়েব কবিতা পড়েছেন, রোবায়েত সমালোচনা করেছেন, অন্যরাও আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। হাসনাত শোয়েবের কবিতা নিয়ে হাসান রোবায়েতের সেই আলাপটি এখানে তুলে দেয়া হলো। রোবায়েতের এই আলাপ থেকে শোয়েবের কবিতা সম্পর্কে বেশ পরিস্কার ধারণা পাওয়া যায়। কথাটি শোয়েবের লেখা যারা পড়েননি, তাদের জন্য প্রযোজ্য। যারা পড়েছেন, তারা সকলেই জানেন শোয়েবের কবিতার স্বর পুরোপুরি তার নিজস্ব। ব্রায়ান অ্যাডামস ও মারমেইড বিষ্যুদবার শোয়েবের দ্বিতীয় কবিতার বই। প্রকাশ করছে জেব্রাক্রসিং প্রকাশন। প্রচ্ছদ এঁকেছেন রাজীব দত্ত।

-রুহুল মাহফুজ জয়


আজকে আসলে আমাদের প্রথম ধোঁকাটা খাওয়াইছে জয় ভাই নিজে। আমরা মনে করেছিলাম এখানে এসে কি একটা অবস্থা-টবস্থা করে ফেলব। সেটা শেষ পর্যন্ত আর হয়নি। পরে অবশ্য মাসুম মুনাওয়ার ভাই এসে আমাদেরকে তখন থেকে সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছেন। যার কারণে আমরা তার কাছে থ্যাংকফুল।

রুহুল মাহফুজ জয় : মাসুম মুনাওয়ার ভাইয়ের জন্য তালি হবে।

তার আগে খাবারের কথাটা বলতে হয়। জয় ভাই খাওয়াইলেন। তবে মূল ব্যাপার হলো বটতলায় আমরা যা খেলাম, অসাধারণ। এত সজীব খাবার-দাবার অনেকদিন মনে হয় খাইনি আমরা। এবার আসি কবিতায়। জাহাঙ্গীরনগর প্রসঙ্গটা এখানে কেন আসলো আমি একটু ব্যাখ্যা করি। আমরা যখন জাহাঙ্গীরনগরে ঢুকি তার একটু পরেই  প্রচুর অতিথি পাখি উড়ছিল আকাশে। অতগুলো পাখি আমি একবারে একসাথে আকাশে কখনো দেখি নাই। দেখার সম্ভাবনাও নাই মনে হয়। আমি পাখির ভিডিও করছিলাম পাশে শোয়েব-হামেদী ভাই ওরা পাখি দেখছিল। আমি যখন পাখির ভিডিও করছিলাম, পাখিগুলো অনেকদূরে ছিল। মনে হচ্ছিল আকাশে এক ঝাঁক মশা উড়ছে। ঠিক তার একটু পরেই আমাদের পাশে সাত-আট বছরের এক পিচ্চি ছিল। তার মাকে সে বলছে, আকাশে সে বাঘ দেখছে। সে বলছে, বাঘের মতো উড়ে বেড়াচ্ছে পাখি। এর মানে সে পাখিকে রিপ্লেস করতেছে বাঘ দিয়ে। আমার মনে হয়, শোয়েবের কবিতা নিয়ে বলতে গেল আমাকে এই কথাটা বলতেই হবে। কারণ, শোয়েবের কবিতা সম্ভবত কোন প্রি-ডিটারমাইন কোন ব্যাপারে কথা বলে না। ওর মস্তিষ্কে যখন যা আসে সম্ভবত তাই লেখে। ভাষার ক্ষেত্রে সে হয়তো এডিট করতে পারে, কিন্তু সে সম্ভবত তার কল্পনাকে এডিট করে না। যেভাবে ওই পিচ্চিটা এডিট করেনি তার কল্পনাকে। যার কারণে ওইটা আমার কাছে গ্রেট কবিতা বলে মনে  হয়েছে। আমি তখন একটা কথা বলছিলাম যে, নতুন কবিতার ধারণা আসলে কি হতে পারে? তখন আমি বলছিলাম, পূর্বের যত পড়া কবিতা আছে আমাদের সব ভুলে যেতে হবে। তা না হলে এরকম আসলে বলতে পারা যাবে না। ওই পিচ্চিটার মস্তিষ্কে এই যে, বাঘ বা পাখির ইমেজটা, এই ইমেজটা কিন্তু ও কোথাও পড়েনি। নিশ্চয় ওর বইয়ে কোথাও ছিল না। যার কারণে ও নিজের থেকে বলতে পারলো। যাই হোক, এই পিচ্চির কথা বললাম মূলত শোয়েবর কবিতাকে বোঝার জন্য।


অরিজিনাল সিন

— ঘাস হল তোমার পৃথিবীর কেশ। পোলাপান বালেগ হলে যেমন কেশপ্রাপ্ত হয় তেমনি পৃথিবী বালেগ হলে তার উঠে ঘাস।
বলেই বিজ্ঞান স্যার জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাল।
বিজ্ঞান স্যারকে আমি বাসায় বাবা বলে ডাকতাম।
প্রতিদিন স্কুলের মাঠে গিয়ে ঘাসের উপর হাত বুলিয়ে দিতাম। মনে হতো পৃথিবীর বুকে হাত দিয়ে আছি।

— আচ্ছা মালা কি কখনো কাঞ্চনজঙ্ঘার মেঘ দেখতে গিয়েছিলো?
— মালা মূলত মাছের জীবন সম্পর্কিত ধর্মের বিধান বুঝতে চেয়েছিলো।
— এই শহরের বাচ্চাদের মুখোশ পড়িয়ে রাখা হয় কেন?
— প্রশ্নটা অধিবিদ্যক নাকি সায়েন্টিফিক?
— ধর প্রশ্নটা থিয়োলজিক্যাল।
— তবে সকল ধর্মেই বাচ্চাদের বিশেষ ছাড় দেওয়া আছে। যদিও মুখোশ পাঠ প্রতিটি ধর্মের অরিজিনাল সিনের একটা।
এভাবে কনক-আমার সংলাপ চলতো মধ্যরাত পর্যন্ত। অতঃপর নদীটাকে বুক পর্যন্ত টেনে দিয়ে শুয়ে পড়তাম।
শেষ রাতের দিকে জোয়ার শুরু হতো। আমরা ভিজে একাকার হয়ে যেতাম। কখনো কখনো দেখতাম বাবাও ঘুমোতে আসতো আমাদের সাথে।
— আহা! আমাকেও ভিজিয়ে দিলি।
— তুমি আসলা কেন, তুমি জানো না প্রতি রাতে এখানে বান ডাকে?
— আমি তো তোদের থেকে আলাদা নারে। তুই কি জানিস! এখানে না আসলেও আমিও প্রতি রাতে ভিজে যাই। এভাবেই হয়তো ভিজে যেতে হয়।


শোয়েবের কবিতা  অনেকদিন ধরেই পড়ছি। ওর সূর্যাস্তগামী মাছ পড়া আমার। আমার খুব ভালো লাগা একটা বই। ওর কবিতাকে একটা বাক্যে আমি বলতে চাই, এগুলো আসলে ফেইরিটেলসের মতো। এগুলোকে আপনি চাইলে কবিতা আসলে নাও বলতে পারেন। কোন বাচ্চাকে আপনি এগুলো আপনি শোনান, আমার ধারণা সে আসলে মজা পাবে। এর কারণটা শোয়েব আসলে ফেইরিটেলসের মতো করে কথা বলে। তো কবিতা যখন ফেইরিটেলসের মতো করে কথা বলে, সেটা নিশ্চয় একটা নতুন ব্যাপার। আমার কাছে মনে হয় আর কী! যদিও শোয়েব যে ধরনের কবিতা লিখে তার একটা হিস্ট্রি  আছে। একদমই যে নাই তা না। হয়তো শোয়েবের সাথে সেই টেক্সটগুলোর কোন মিল নেই। তো আমি একটু কৃতজ্ঞতার মতো করেই বলি, পোস্টমর্ডান কবিতা বলে যে ধরনের কবিতার কথাবার্তা বলা হয় সেগুলো অনেকটা এরকমই। ওপার বাংলার প্রভাত চৌধুরীরা হয়তো এ ধরনের কবিতা লিখছেন অথবা লিখেছেন। এরপর ঐ কবিতার ধারায় প্রচুর বাজে কবিতা লেখা হয়েছে। কারণ, প্রভাত চৌধুরীরা যে ধরনের কবিতা লিখেছেন একটা সময় ওইগুলো আসলে মেশিনের মতো হয়ে যায়। মানে আমার একটা কবিতা বানানোর মেশিন আছে আমি সেখানে কিছু শব্দ ঢুকায়ে দিলাম,  শব্দগুলো আবার সিনট্যাক্স হয়ে প্রিন্ট আউট হয়ে বের হচ্ছে। এরকম আর কী! শোয়েবের কবিতা আসলে ঐ ঘরানার হয়েও শেষ পর্যন্ত আসলে শোয়েবের কবিতা। শোয়েবের কবিতায় যেটা আছে সেটা সম্ভবত প্রাণ। ওই যে, ফেইরিটেলসের যে ব্যাপারটা, ওইগুলো কিন্তু খটমটে হলে পিচ্চিরা পড়বে না। আপনি বিশ্বের সেরা রাইটারের ফেইরিটেলস এনে দিলেও সে পড়বে না। আমি আরেকটু ক্রিটিক করি, ‍যদিও ক্রিটিক দিয়ে আসলে কবিতার কিছু যায় আসে না। টি এস এলিয়টের  মোমেরি এন্ড ডিজায়ারের একটা ব্যাপার ছিল। কবিতাকে উনি হয়তো মেমোরি এবং  ডিজায়ারের সাথে রিলেট করছেন। শোয়েবের কবিতাও আসলে তেমনটাই। শোয়েব এখানে প্রচুর মেমোরি লিখছেন। ওর মেমোরি এবং ডিজায়ারগুলো রিয়েলিটির মধ্যে ঘুরপাক খায় না। ও হয়তো লিখছে, তোমার কথার চারভাগের পৌনে তিনভাগই বুঝি না। চারভাগের পৌনে তিনভাগ কেন? আসলে চারভাগই বোঝা যাবে না। কারণ, এগুলো আসলে একধরনের কল্পকথা কিংবা রূপকথার মতো ব্যাপার। যেটা আসলে আমার নিজের কাছে অনেক ভালো লাগে। ওর যে প্রথম কবিতাটা, যেখানে হরিণীর কথাবার্তা বলতেছিল। প্রথমদিকে হঠাৎ করে আমি শোয়েবকেই শুনছিলাম। কিন্তু একটা জায়গায় আমার  জীবনানন্দকে মনে পড়ে যাচ্ছিল। মজার ব্যাপার হলো, জীবনানন্দের বিখ্যাত কবিতা ‘ক্যাম্পে’, ওটার কথা মনে পড়ছিল। সেখানে ঘাইহরিণীর ব্যাপার-স্যাপার ছিল।

হাসনাত শোয়েব: ওই কবিতাকে মাথায় রেখেই এই কবিতাটা লেখা। ওই ক্যাম্পের ভিতর আমার নিজের একটা এক্সিসটেন্স তৈরি করে নেয়ার ব্যাপার থেকেই এই কবিতাটা।

আমার ভালো লাগতেছে যে, আমি ধরতে পারছি। কবিতা সাধারণত আমি ধরতে পারি না। আমি নিজের কবিতাই বুঝি না আসলে! এই কবিতাটার মজার ব্যাপার হলো,  জীবনানন্দকে মনে করিয়ে দেওয়ার পরও শোয়েব আসলে শোয়েব থেকে যায়। এর পিছনে একটা কারণ আছে, জীবনানন্দের ‘ক্যাম্পে’ কবিতাটাতে আসলে কার্যকারণের ব্যাপার আছে। জীবনানন্দের ঐ কবিতায় পুরুষের যে কষ্ট, তার যে পরাধীনতা এবং পুরুষকে শিকার করার যে একটা ব্যাপার সেটা সম্ভবত ছিল। এখানে আসলে  শোয়েবের ঐ ধরনের কোন ধান্দাই নাই। শোয়েরব ব্যাপারটা এমন যে, পৃথিবীতে  আজ কেয়ামত হলে আমার কী? আমি কবিতা লিখতেছি বা আমি বাঁইচা আছি কিংবা আমি একটা সুন্দর চশমা পরে ঘুরে বেড়াচ্ছি। এটা আসলে খুব মজার ব্যাপার। যেমন ও খুব অ্যাবসার্ড ব্যাপার-স্যাপার বলতেছে, মানুষ ছাড়া আর সবাই হাসে। আসলে মানুষ হওয়া সবাই হাসে এটা দেখার জন্য কবি হওয়া খুব ইম্পর্টেন্ট। আমি অবশ্য দেখিনি কখনো। আরেকটা কখা বলা দরকার, ওর ‘সূর্যাস্তগামী মাছ’ এবং এই ‘ব্রায়ান অ্যাডামস ও মারমেইম বিষ্যুদবার’ এর মধ্যে সুন্দর একটা মিল আছে। এটা যে ওর পরবর্তী টেক্সট – সেই মিলটা হলো যীশুর যে ব্যাপার এবং ওল্ড টেস্টামেন্টের যে ব্যাপার এবং ক্রিশ্চিয়ান মিথের যে ব্যাপার এইগুলো ওর ওই বইয়ে হয়তো এইভাবে ছিল না, কিন্তু হালকা কিছু ব্যাপার-স্যাপার ওইখানে ছিল। যার ফলে, আমার যেটা মনে হয়েছে একজন কবির যে ধারাবাহিকতা সেটা থাকা জরুরি সম্ভবত, কিংবা না থাকলেও কোন সমস্যা নাই। কিন্তু এখানে আছে। শোয়েবকে এখানে চিনে নিতে আমাদের কোন সমস্যাই হয় না।


কাঠবাদামের কান্না

সেটা খুব সম্ভবত যীশুকাল। যখন ময়ূরের সাথে নেচে-গেয়ে আমার বাবা ঘরে ফিরেছিল। আর আমরা রাত গভীর হলেই কাঠবাদামের কান্না শুনতে পেতাম। বাবা তার ঘুঙুর খুলতে খুলতে বলত
— যেখানে মোরগের পালক উলটে পড়ে থাকে অথবা শিশুদের মুখস্থবিদ্যার পাশে শুয়ে থাকে যাযাবর ঘ্রাণ সেখানে গিয়ে নাচবি না। পাপ হয়।
অতঃপর বিবিধ ঘ্রাণ এবং পাপ মাথায় নিয়ে আমরা ঘুমাতে যেতাম। শহরে নানা রকম পাপীদের সাথে আমার প্রায় দেখা হতো। যাদের বেশিরভাগই ঘুড়ি উড়াতে জানতো না। আরেকদল ছিল যারা কখনো পাহাড়ে উঠেনি। আমি দেখেছিলাম একদল যুবক মৌমাছির ঘ্রাণ শুষে নিয়ে নিজেদের পাপ স্বীকার করে নিয়েছিলো বলে যাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। সেখানেই আমি কনকের খোঁজ পেয়েছিলাম।
আমাকে ওই দলে দেখে কনক বলেছিল
— শেষ পর্যন্ত তোর তাহলে সাহস হলো। অথচ আমি মরে যাওয়ার সময় শেষবারের মত হাতটা ধরার সাহস তোর ছিলো না। খুব হাসি পাচ্ছিল যখন দেখলাম তুই দেয়ালঘড়ির ঘণ্টার কাঁটাটা ধরে কাঁদছিলি। স্রেফ মৃত মানুষের হাসার নিয়ম নাই বলে হাসিনি।
— কিন্তু সেদিন তুই মরেছিলি কেন? অথচ তোকে আমি ময়ূরের জীবন সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য ফিরিয়ে দিয়েছিলাম।

— এরপর দীর্ঘঃশ্বাস ছায়া ও ছায়াহীনভাবে দীর্ঘ হতে থাকে।
আয়নার সামনে গিয়ে মুখোমুখি দাঁড়াই আমি, তুমি এবং সে। আয়না থেকে কেবল একটিমাত্র মুখোশের প্রতিচ্ছবি ভেসে আসছিল। যার বাদামি কেশর থেকে জাফরানের সুগন্ধে ভেসে যাচ্ছিল মাতামহীর নাচঘর।

— শেষবারের মতো আবারো কাঠবাদামের কান্না শুনতে শুনতে হয়তো ঘুমিয়ে কিংবা না ঘুমিয়ে পড়ি।


এখন শোয়েবের কবিতাকে আমি কেনো পছন্দ করি এটার একটা ডিসক্লেইমার দেওয়া উচিত। আমি বাংলা কবিতায় লিখিত অজস্র ভালো কবিতার মতো ভালো কবিতা যখন পড়ি, সেটা যদি ভালোও হয়ে ওঠে, তখন আমি ওইটার মধ্যে কোন মজা পাই না। কারণ, অজস্র ভালো কবিতার মতো ভালো কবিতা লেখার কোন প্রয়োজন অন্যের কাছে থাকলেও আমার নিজের কাছে নাই। আপনারা দেখেছেন, অনেকের কবিতার নিচে বলেও আসি ভালো লাগেনি। আমার এই ভালো লাগা কিংবা না লাগা ডিপেন্ড করে কবিতাটা নতুন কিনা তার ওপর। কারণ, একজন নতুন কবি কেনো পুরোনো কবিতা লিখবেন তা আমার মাথায় ঢোকে না। আমি যদি একটু ধর্মীয়  দিকে যাই – যেমন দেখবেন যে, পৃথিবীর একটা মানুষের চেহেরার সঙ্গে আরেকজনের চেহারার কোন মিল নেই। যদিও মঙ্গোলিয়ানদের একটু আছে। তারপরও খুঁজলে ওদের মধ্যে প্রচুর অমিল পাওয়া যাবে। কারণ স্রষ্টা প্রত্যেককে আলাদা আলাদাভাবে তৈরি করেছেন। তাহলে আলাদা মানুষ আলাদা কবিতা কেন লিখবে না? যেহেতু সে ক্রিয়েটর। যদি সে আলাদা কবিতা না লিখতে পারে তবে সে অনুকারক। ক্রিয়েটর কখনো অন্যের মতো করে লিখেন না। শোয়েবের কবিতা ভালো লাগার পিছনে আসলে নতুন কবিতার যে কনসেপ্ট তার কারণে। শোয়েব বাক্য বলতেছে এমন যেগুলো আসলে আমি শুনিনি। সে সিনট্যাক্স বলতেছে এমনভাবে যেগুলো আমরা এভাবে চিন্তা করি নি। যার কারণে শোয়েবকে আমার ভালো লাগে। তার কবিতাকে আমার ভালো লাগে। যে কবিতাগুলো ভালো লাগে না, সেগুলো নিশ্চয় পুরাতন কবিতা। এই বইটার আসলে সফলতা কামনাটামনা করার কিছুই নাই। ওর সফলতা কামণা করে আমার লাভ কী! ওরই বা লাভ কী! শোয়েব প্রায়ই বলে, কবিতা নিয়ে  আমার আসলে অত ভাবনা নাই। সম্ভবত নাইও। আরেকটা কথা হলো, কোন কোন জায়গায় একটু অতিকথন আছে কিনা, কারণ এই কবিতাগুলো টানা গদ্যে লেখা। টানা গদ্যের সবচেয়ে বড় সমস্যা আমার ধারণা অতিকথনের জায়গাটা। সেটা হয়তো আরো বড় সমালোচকের টেবিলে গেলে তারা বলতে পারবেন। আমার পক্ষে বলা খুবই  মুশকিল। তবে আমি একটা ক্লু দিয়ে রাখলাম আর কী। থ্যাংকিউ।

৩০.১২.২০১৬

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

Discover more from

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading