ধ্রুপদী কুকুর ।। হোসাইন মাহমুদ

কুকুর কার্নিভোরা (Carnivora) অর্থাৎ শ্বাপদবর্গভুক্ত এক প্রকার মাংশাসী-স্তন্যপায়ী প্রাণী।

১.

মহাপ্রস্থানিকপর্বে আমাদের মুখোমুখি হয়ে যাবে একটি কুকুর। আমরা জানি না, তার জাত-পাত-বর্ণ। কুকুর সম্বন্ধীয় আমাদের স্মৃতি থেকে উঠে আসবে একলব্য। কিন্তু আমরা জানি না, আমাদের নিয়ে কুকুরের কোনও স্মৃতি আছে কিনা। আমরা ধীরে-ধীরে তার স্মৃতি হয়ে যাবো। আমরা শুধু জানবো, কুকুর স্বর্গে প্রবেশ করতে পারে না।

২.

এখানে কালো কুকুর কালভৈরবের বাহন। কালভৈরব হচ্ছে কাল বা, সময়ের শাসক। শিবের প্রতিনিধি তিনি। তিনিও এক রহস্যময় সত্ত্বা।

৩.

তিনি নিজের গায়ে থুতু নিক্ষেপ করলেন। সেই থুতু গিয়ে পড়লো তার নাভি বরাবর। তিনি থুতুসহ মাটি কেঁটে নিলেন। আর থুতুমিশ্রিত মাটি দিয়ে তৈরি করলেন কুকুর। দেহের অংশ থেকে তৈরি বলে তার প্রথম বন্ধু হলো কুকুর।

৪.

পবিত্র গুহামুখে স্মৃতিহীন তিন মাথার কুকুর।

৫.

ঐ সব কুকুর অন্তঃপুরে যত্ন-পূর্বক বর্ধিত হয়েছে।

৬.

তোমার দুই পুত্রের নাম ছিল সারমেয়। তাদের যদিওবা চারটি করে চোখ ছিল, তারপরও তারা নরকপুরীতে অবস্থান করতো।

৭.

কারবেরাসের কথা উঠলেই আমাদের ত্রিশিরার কথা মনে পড়বে। তিন মাথা’ই এক সঙ্গে সব কিছুতে সাঁড়া দেবে এবং উপস্থাপন করবে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ। তাদেরকে সোনার কাঠি-রূপার কাঠি বদলে ঘুম পাড়িয়ে দেয় ইন্দ্র অথবা হারকিউলিস।

৮.

মহর্ষি চাণক্যের উপদেশ: কুকুরের কাছ থেকে ছয়টি গুণ গ্রহণ করো- কর্তব্যে অনড়, স্বল্পে সন্তোষ, সুনিদ্রা, শীঘ্র চৈতন্য, প্রভুভক্তি ও শৌর্য।

৯.

কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশ রাতে কুকুর উপবাস করে। তাই ওই রাতের নাম ‘শ্বনিশা’।

১০.

পম্পেই নগরীতে এক ট্র্যাজিক কবির বাসায়, ফটকের মোজাইক মেঝেতে দেখেছিলাম কুকুরের ছবিসহ ল্যাটিন ভাষায় লেখা- cave canem অর্থাৎ কুকুর থেকে সাবধান।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

Discover more from

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading