home কবিতা ‘সকল প্রকৃতি জঙ্গলে বসে থাকে’ থেকে কবিতা ।। তালাশ তালুকদার

‘সকল প্রকৃতি জঙ্গলে বসে থাকে’ থেকে কবিতা ।। তালাশ তালুকদার

সূর্যের কপাল

কোনো দরকারই নেই নিজের পায়ে কুড়াল মারার
তার চেয়ে অফিসের ফাইল আটক করে
চোখ রাঙ্গিয়ে;
ঐ হারামজাদার মতন
ঘুষ খেয়ে ডাবর করো পেট
আঙ্গুল ফুলে হও কলা;
শক্ত ভিতের উপর তবেই দাঁড়িয়ে থাকবে তোমার কথা

চাঁদ তার গা থেকে আলো বের করে দিচ্ছে
বাতাস পাল্লাপাল্লি লাগছে গাছের সাথে
সূর্য পুড়ে দিতে চাইছে কপাল;
তখন থাপ্পড় মারার কি দরকার
যখন কোনো কিছুতেই কারো ব্যথা জাগে না!

এখন বলো না কিছুই
নদীর কোমড়ের উপর সাঁতরাও
খুঁজে পাবে কূলের বুক
জলের ঝাপটা পেয়ে
কেঞ্জুল উঠে যাবে চোখ থেকে!

সবাই ভেজা বেড়াল হয়ে আছে
মড়কা ডালে ঝুল্লু খাওয়ার কথা বলো নাকো
ভবিষ্যতকে তার হাতের উপর ছেড়ে দিলে
সূর্য নিজে নিজেই তার কপাল খুঁজে পাবে!

 
ছাইয়ের ছিট

কেশওয়ালা কাশের গাছগুলা
ট্রেন চলে যাওয়ার পরও খানিক মাথা দোলাতে থাকে

হাতের টিকার দাগের উপর পঞ্চাশ পয়সা বসালে
হুবহু কেনো মিলে তা বোঝার জন্য
প্রকৃতির পিঠ দেখার জন্য
মরা জঙ্গলের উপর চুপ করে বসে আছে
একটা কলার মোচা!

তাকে দেখে ইচ্ছের কূপ থেকে অনেক কথা
অনেকের মাঝে উঠে আসতে চাইবে

কিন্তু, কি করবে তুমি?
একটা ছাইয়ের ছিটে বসে গেলে
তোমার চারপাশে চায়ের দোকান গড়ে উঠলে
ভূমি অফিস হাসতে হাসতে
উঠে গেলে উপরে.. ..

 
ফাটা কপাল

মনে হয় তোমার জন্মলাভে
পৃথিবীর পিঠে ময়লার পরল পড়েছে-
যতই সাফ করতে চাও রাতকে
বলবে: সে ভ্যাঁপসা গরমের ভেতর
কাজ করা ছেড়ে দিয়েছে
বলবে: আমার ফাটা কপালের মতো
আরো অনেকের ফাটা কপাল আছে
তারাও পূর্বপুরুষের অপকর্মের প্রায়শ্চিত্ত করে
জরিমানা দিয়ে উঠে গেছে ঘরে-

আমাকে মানতেই পারছে না গোঁসাই
মনে হয় ডিম হয়ে ফুটেছি কাকের বাসায়-
যখন যেখানে নড়াচড়া করি- করি হাঁটাহাঁটি
সেখান থেকে লোকে তুলে নিয়ে যায় মাটি
গাছের গোঁড়ালিতে পানি ধরে রাখতে
গাছের চতুষ্পার্শ্বে মাটিকেই করে ব্যবহার-

আমাকে উবুত করে গাছের ফুল দেখাও
হাতরেখার নির্দেশ আছে
আমার আঙ্গুলের ইশারায় চাঁদ দু’ভাগ হয়ে যাবে!

 
পুরুষের পানি

আমরা এক অদ্ভুত ইভেন্টের আয়োজন করবো আফসানা
সেখানকার প্রতিযোগী শুধু তুমি আর আমি-
একটা ছোট পোটলাকে মুখে পুড়ে নিতে
আমরা দু’জনে মিলে কুত্তার মতো কামড়াকামড়ি করবো-
গা বেয়ে উঠবো দু’জন দু’জনার
আমরা ক্লান্ত হবো- হ্যাঁক হ্যাঁক করবো
আদম আর হাওয়া
মনে হবে পৃথিবীর দু-প্রান্ত থেকে দৌড় দেয়া দু’টি লোক
সমানতালে দৌড়ালেও হারতে পারলেই মনে মনে খুশি থাকে সে!

আমি লর্ড ক্লাইভের রোল প্লে করে করে
তোমার উপনিবেশ রাখবো দখলে
তোমার দেশের উপচে পড়া পানি শুঁষে নেবো টিস্যু পেপারে
সেটেলমেন্ট অফিসে বসে
তোমার ভূ-সম্পত্তির সঠিক পেপারস দেখবো হাতড়ে, হাতড়ে-
তোমাকে ফাঁক করে করে
একটা ফাঁকা উদোম বস্তি দেখবো ভেতরে
যেখানে শুধু তুমিই ধ্বস্ত-বিধ্বস্ত হয়ে
স্বউদ্যোগে হারার জন্য পা ফাঁক করে রয়েছো শুয়ে
তোমার শিরশিরানি থামাতে তাই
মোটা সিরিঞ্জের ভেতর হ্যাপিটাকে রেখেছি ভরে!

বাড়ি, গাড়ি দামী গয়না জমি
কোনোকিছুই চায় না সে-
শুধু ডে বাই ডে
অসুস্থ হওয়ার ছলে-
আমার পাইপ দিয়ে
তার কবরে শিরশিরিয়ে নামাতে বলবে
খাবার স্যালাইনকে!

আমার গলা ধরে দুমড়ে যাবে
আমাকে জেতাতে তুমি বারবার রবার হবে
যেভাবে চাইবে সেভাবেই কাত করা যাবে তেলের শিশি-
এভাবে দু’জন দু’জনের নোংরা আচরণে
-জ্বি,
আগামীতে
জন্ম নেবে
আমাদের
সুশ্রী
কপালের
বাছুরটি!

 

 

গুড আফটারনুন

সুবোধ পালালো দেশ থেকে
বিপ্লবও চলছে ছায়ার সাথে
সুশীলেরা হয়েছে দই;
ভাগাভাগি হয়ে আছে প্লেটে প্লেটে!

সবই উলটপালট হচ্ছে মানচিত্রে
ছোট ছোট জেলা শহর
পরিণত হচ্ছে বিভাগীয় শহরে-
গরুর দুধ লোউটে যাচ্ছে
এক ফোটা লেবুর রসে;
সর্বহারারা আজ বুর্জোয়াদের
ভাই ভাই বলে ডাকছে!

বড় বড় মহিষ জবেহ করার আগে
যেমত কসাই; বিক্রি বাড়াতে
রাস্তায় রাস্তায়; -পশুটাকে দেখায়
আর মাইকিং করায়
তেমতো বড় বড় ভাতা পাওয়ার আশায়
মধ্যবিত্তরা চ্যানেলে-চুনেলে যায়
বড় বড় ভাতারের গান গায়-
ওদিকে মাথার দাম বাড়াতে
বুদ্ধিজীবিরা ফোল্ডিং চেয়ারের মতো
হাঁটুমেলে বসে থাকে চেয়ারে-
এই খেলা, ছিনিমিনি খেলাটা খেলতে
মাচ পিপলেরাও কানের লতিতে
ময়লার মতো আরাম করে বসেছে-

এখন এমনই সময় ভাই
জলে পড়লে সোজা লাঠিকেও বাঁকাই দেখায়
যদি না বাঁকেন -তবে ক্ষমতাজীবীরা
বিভিন্নভাবে ক্ষমতার জানান দিতে পারেনঃ
এই যেমন, বাঘমামারা যখন বশে না এলেন
তখন তাদেরকে নাকানিচুবানি দিতে
নানান ঘাটের পানি খাওয়ালেন!
-মিথ্যা মিথ্যা শাহবাগীদের
মূল্যবোধের কড়ি খাওয়ালেন
-এবার আসেন
মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে
নিয়তিবাদী হয়ে থাকেন
এখন মাস নহে ফাল্গুন-
এখন শুধু পশুদের মিষ্টি খাওয়ার অনুভুতি শুনুন
একটা ছোট ব্যাকটেরিয়াকে খেয়ে
বড় ব্যাকটেরিয়ার ভোগবাদী হয়ে যাওয়া লিখুন!

লেখা সম্পর্কে মন্তব্য

টি মন্তব্য