মিশরের গ্রাফিতি : কয়েকটা নোট | তন্ময় হাসান

১.

আরব বসন্তের কথা উঠলে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব আলোচনা করা হয় বিস্তরভাবেই। কিভাবে এটা সবাইকে এক করে একটা আন্দোলনের রূপ দিয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু ট্রিগারিং কন্টেটটা কী? কী নিয়ে আলোচনা মানুষকে আন্দোলনমুখী করছে?  মানুষকে ঐক্যবদ্ধ আসলে কিভাবে করা সম্ভব!  

এই কথা চিন্তা করলে, প্রথমে নিপীড়ন আর অত্যাচারের দিকে চোখ যায় যা যুগের পর যুগ হয়ে আসে।  মানুষ অনেক সময় তা উপলব্ধি পর্যন্ত করতে পারে না। যারা উপলব্ধি করে, রাষ্ট্রের পরিচালিত সহিংসতা তাদের চুপ করায় দিতে চেষ্টা করে, নানানভাবে মতামত অবদমিত করারও চেষ্টা করে। কিন্তু এসব বাধ্যবাধকতা-নিপীড়ন মানুষ যে সবসময় চুপচাপ মেনে নিতে থাকে, তাও না। যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়, তখন বাধ্য হয়েই সামনে আগাইতে হয়। আর এই সামনে আগানোটা নানান মারফতে ঘটে থাকে। সবাই যে সরাসরি মিছিলে নেমে প্রোটেস্ট করে তা না, নানানভাবে সে তার প্রতিক্রিয়া জানায়। নানান কিছু তখন তার হাতিয়ার হয়ে ওঠে।

কেউ কেউ গেরিলা কায়দাও ফলো করে। আর এ কায়দার একটা  বড় নাম গ্রাফিতি। আমরা জানি, গ্রাফিকাল মাধ্যমে মানুষ খুব সহজে ইন্টারেক্ট করে । সব বয়েসি মানুষ। গ্রাফিতি টেক্সট এবং গ্রাফিক্স মিলিয়ে একটা মাধ্যম হওয়ায়, তা চিন্তাকেও উসকায় দিতে পারে অনেক সহজে। একটা পোস্টারও গ্রাফিকাল মিডিয়া। কিন্তু পোস্টারের যে ইমপ্যাক্ট, একটা গ্রাফিতি তারচেয়ে সহজে , দ্রুত এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে দর্শকের মাঝে। বেশিরভাগ সময় পোস্টার হয় নিউজধর্মী। কোন সময় কী হবে তার বার্তা দেয়। যে কারণে টেক্সট নির্ভর হয় বেশিরভাগ সময়। ফলে একটা পোস্টারের দর্শককে শিক্ষিতও হইতে হয়। কিন্তু গ্রাফিতির দর্শক এসব মুক্ত। গ্রাফিতির টেক্সট পড়তে না জানা দর্শককে টানতে না পারলেও ইমেজ তার ভিউয়ারকে দ্রুতই কাছে নিয়ে আসে। তাই একটা ইমেজ নির্ভর গ্রাফিতিকে আমরা অনেকটা চোরা স্রোতের সাথে তুলনা করতে পারি। মিশর, বিশেষ করে কায়রোতে সাম্প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রামে গ্রাফিতি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেছে। সে ভূমিকাকে বুঝতে আমরা কিছু নোট রাখলাম এখানে— বিস্তারিত কিছু না। আশা করি এসব টোটকা কথাবার্তা মিশরীয় গ্রাফিতি নিয়ে আগ্রহ তৈরি করবে।

 

২.

মিশরে গ্রাফিতির চল খুব পুরানা না।  মিশরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া আন্দোলনের আগে সেখানে গ্রাফিতির চলন খুব একটা দেখা যায় না। ২০১১ সালে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের প্রধান ভাষা ছিলো স্ট্রির্ট আর্ট, মুরাল,  গ্রাফিতি।  

আন্দোলনের শুরুতে, রাষ্ট্রপরিচালিত মিডিয়া এই প্রটেস্ট ভেস্তে দেওয়ার জন্য প্রচার চালায় যে, তাহরির স্কয়ারে কিছু গুণ্ডাজাতীয় লোক সহিংসতার চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে সাধারণ  মানুষের মধ্যে নানা মত দেখা যেতে শুরু করে। ২০১২ সালে চলতি আন্দোলনে মানুষ যখন তাহরীর স্কয়ারে যাওয়ার জন্য ভীড় করে, রাষ্ট্র পরিচালিত মিলিটারি তখন আশেপাশের সব রাস্তায় ব্যারিকেড বসিয়ে তাদের মুভমেন্ট আটকানোর চেষ্টা করে। তখন গ্রাফিতি আর্টিস্ট রা ব্যারিকেডগুলোকে গ্রাফিতি, ম্যুরাল দিয়ে সাজিয়ে তোলেন। তারা এই আন্দোলনের নাম দেন ‘নো ওয়ালস প্রোটেস্ট ‘। আন্দোলন বেগ পাইতে শুরু করলে মানুষ দোকানপাট বন্ধ করে দেয়, ফলত তারা আন্দোলনকে ক্ষুব্ধ দৃষ্টি নিয়ে দেখতে শুরু করে। এই সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে গ্রাফিতি। গ্রাফিতি দিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হয়। কারণ মিডিয়া একসেস তখনো রাষ্ট্রের কাছে। এই যোগাযোগের ফলেই পরে সাধারণ মানুষ আন্দোলনে যোগ দেয়া শুরু করে। 

আন্দোলনের ভাষা হবার পাশপাশি গ্রাফিতিকে ওই সময়ের জার্নাল হিসেবেও দেখতে পারি।  গ্রাফিতির কারণেই মিশরের গলির বাসিন্দা থেকে টিভিতে দেখা মানূষের সবাই আন্দোলন সম্পর্কে জানতে পারে। গ্রাফিতির সাহায্যে আর্টিস্টরা নিজেদের প্রকাশ করছিলো আবার একি সাথে পলিটিক্যাল আর পেইড মিডিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছিলো।  

আন্দোলনে সফলতা আসে। হোসনি মোবারক সরে দাঁড়ায়, তার ৩০ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। মুসলিম ব্রাদারহুড ক্ষমতায় আসে। অবশ্য, মিলিটারি ক্যু’র কারণে ২০১৪ সালে ক্ষমতা চলে যায় ফাতাহ – আল- সিসির হাতে। বড় বড় গ্রাফিতি যা সিম্বলিক ছিলো সে সময়, তা মুছে ফেলা হয়। পলিটিক্যাল আর্টও আর দেখা যায় না তেমন। অথোরিটি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুরো পাবলিক স্পেসকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার। ২০১২-এর আন্দোলনের অধিকাংশ আর্টিস্টই আর এখন মিশরে থাকেন না। গাজনীর, স্যা পান্ডাদের মত আর্টিস্টরা খুব দুঃখের সাথে দেখেন মিশরের বর্তমান পরিস্থিতি। তাদের মতে আন্দোলন-পরবর্তী মিশর এমন অথোরিটি কন্ট্রোলড স্টেট হবার কথা ছিল না।  

 

৩.

মিশরে চলতে থাকা আন্দোলনে নারীদের উপস্থিতি প্রথম শক্ত অবস্থানে আসে ‘ব্লু ব্রা ‘ নামের গ্রাফিতিটি যখন দেখা যায়। এই গ্রাফিতি করা হয়, যখন আন্দোলনে এক সৈনিক একজন মহিলাকে লাথি দিয়ে মারতে মারতে জামা-কাপড় ছিঁড়ে ফেলে।  মিশরে প্রচলিত মিডিয়ায় ভিডিওটি ভাইরাল হলে বরাবরের মতোন ভিক্টিম ব্লেমিং, ক্যারেক্টার ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হতে থাকে। অনেকে দাবি করেন যে এইটাই ওই মেয়েটার প্রাপ্য ছিলো। অনেকে গ্রাফিতিটিকে ‘ভালগার ‘ হিসেবে চিহ্নিত করেন। গ্রাফিতিটি দেখামাত্র মুছে দিতে চেষ্টা করেন।  

ট্র্যাডিশনাল আর পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এইটাই স্বাভাবিক চিত্র; যেখানে আমরা একটা নারী ভিক্টিমকে দেখি অপমানের মধ্যে দিয়ে যেতে, তেমন কোন আইনি সহয়তা ছাড়াই। নারীদের নিয়ে করা গ্রাফিতিগুলা আরো প্রকাশ করে যে, আন্দোলনে নারীদের চিহ্নিত করে আক্রমণ করা হয়, তাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের জন্য। মিশরে ২০০৫ এবং ২০১১ সালে সংঘটিত আন্দোলনে একই ট্রেন্ড দেখা যায়।  

স্ট্রিট আর্টে নারীদের অসহায় আর দরিদ্র হিসেবে তুলা ধরার প্রবণতা থাকলেও ‘ব্লু ব্রা’ এর পর তা পরির্বতন হতে থাকে। ২০১১ সালের আন্দোলনেই পরে প্রায় ১৫০ জন নারী সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন।  

গ্রাফিতি সবসময় একটা গল্প বলতে সক্ষম যা রাষ্ট্র কিংবা মিডিয়া বলতে ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের জীবনের মোড় পরির্বতন হচ্ছে, বা বর্তমানে সেন্সর বা মুছে ফেলা হচ্ছে এমন ঘটনা ইতিহাসের জন্য ডকুমেন্ট করে রাখে গ্রাফিতি। ইতিহাস বই আমাদের পরর্বতী প্রজন্মকে একটা পরিষ্কার, সুন্দর আর স্যানিটাইজড ভার্সন দেখাইলেও, গ্রাফিতি নগ্ন আর সত্য বলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। কারণ গ্রাফিতি শিল্পীরা স্বাধীনতা, সমতা আর সামাজিক ন্যায় বিচারের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 

৪.

( মিশরে গ্রাফিতিকে আর একটু ভালো করে বোঝার জন্য মিশরের গ্রাফিতি আর্টিস্ট গানজিরের সাক্ষাৎকারের প্রাসঙ্গিক কিছু বিষয় এখানে রাখছি। আশা করি,  কাজে আসবে।)

টিমেপ (তাহরিত ইন্সটিটিউট অব মিডল ইস্ট পলিসি) : আমরা কী জনসাধারণের অধিকার দিয়ে শুরু করতে পারি? পাবলিক প্লেসের অধিকারটা কার? যারা ওইখানে উপস্থিত তারাই তো, না? নেজার আল সাইয়েদ (আর্কিটেক্ট) বলেছেন যে মিশরে, পাবলিক স্পেস রাষ্ট্রের সম্পদ হিসেবেই ছিলো। ফুটপাতও। যেখানে মানুষ হাঁটে, দাঁড়ায় কিংবা কেবল উপস্থিতও থাকে— এইটা পাবলিক স্পেসের বৈশিষ্ট্য না। যদি না কোনো জায়গা শুধুই উপযোগ কাজে ব্যবহার হয়, তাহলে জায়গাটা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রনে।

গানজির: কিংবা বড় বড় কোম্পানি। উদাহণ দেখেন যে, কোনো কোম্পানি যখন জিরা পানি বিক্রি করে তখন সে সাবওয়েতে তার বিজ্ঞাপন লাগাতে পারে। কিন্তু সেইম জায়গায় ধরেন যদি কোন আর্টিস্ট কাজ করে তা আইনত দণ্ডনীয় হয়ে যায়। আমার এলাকাতেও অনেকগুলো বিলবোর্ড। কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করে না যে প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার সময় আমি এইসব দেখতে চাই কি না। আমার বসবাসের পরিবেশের মধ্যে হওয়ার পরও কেউ আমার অনুমতি নেয় নাই। তারা আবার ঠিকই উত্তেজিত হয়ে যাবে যদি আমি আমার আশেপাশেই কোন একটা গ্রাফিতি করি, অনুমতি নিয়ে করলেও। এইটা এখনো নিষিদ্ধ।

টিমেপ: একজন আর্টিস্ট হিসেবে মিশর ছাড়ার আগে ছবি আঁকতে গিয়ে কী আপনি কোন হুমকির মুখে পড়ছিলেন?

গানজির: স্ট্রিট আর্টিস্ট হিসাবে আমরা তো ছোট টার্গেট। আমরা এনজিও’র সাথে নাই, না আমরা সনদধারী সাংবাদিক, আমাদের কেউ চাকরিও দেয় নাই, আমরা ক্ষমতাসীন কিংবা বিরোধী কোন দলেও নাই। আমরা কয়েকটা লোক নিজেদের কাজ করতেছি; কোন ধরনের গ্রুপিং ছাড়াই। কারো সাথে জড়িত থাকলে বেশি টার্গেট করা হয়, কিন্তু এমন না যে আপনাকে একবারে ছেড়ে দেওয়া হবে। এই কাজে রিস্ক আছে, সবসময়ই ছিলো, আপনি সেটা জেনেই করেন। এখন এইটা আরো বেশি রিস্কি কারণ পুলিশ আপনাকে দেখলেই আটক করবে- সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে।

টিমেপ: পেনাল কোড অনুযায়ী, রাষ্ট্রের জন্য ক্রিটিক্যাল হইতে পারে এমন যেকোনো কাজই টেরোরিজম। সরকারি স্যোশাল মিডিয়াও প্রচার করে যে স্প্রে পেইন্ট হাতে থাকা মানেই সে টেরোরিস্ট। আমি আপনার ভাষায় জানতে আগ্রহী। আর্টিস্ট হিসেবে আপনারা কী এমন কিছু  করেন যা আসলেই এতোটা হুমকির?

গানজির: আমি চাই রাজনীতিবিদরা এটাকে হুমকি হিসাবে না দেখে একটা তথ্য ভাণ্ডার হিসাবে দেখুক এবং বোঝার চেষ্টা করুক ব্যাপারটা কি, জনসাধারণের দুর্ভোগটা কই। আমি আসলে চাই যে রাষ্ট্রের হয়ে যারা কাজ করছে তারা নতুন পলিসি করার সময় বিষয়গুলা বিবেচনা করবে। কিন্তু তারা আসলে এটা চায় না। তারা চায় সাধারণ মানুষ চুপ করে তাদের কথামত চলুক। আমার মতে এটাকে থ্রেট বা হুমকি হিসাবে দেখার কোনো কারণ নাই।

টিমেপ: সেন্সরশিপের পরিবর্তন সর্ম্পকে জানতে চাই, শুরুতে আপনার চেষ্টা ছিলো স্প্রে পেইন্টের এলোমেলো ব্যবহার; যেটা আপনার কাজের অন্যতম একটা বৈশিষ্ট্যও। এইটা চেঞ্জ হয়ে একটা চুনকাম/একটা স্ট্রাকচারের মধ্যে এসেছে। এইটা সর্ম্পকে একটু বলবেন? কখন এই পরিবর্তন বুঝতে পারলেন? এই পরিবর্তনটা কী সচেতনভাবে ?

গানজির: আমারো তাই মনে হয়। নতুন সরকার খুব ভালো কাজ করছে না পশ্চিমা সংস্কৃতিকে গ্রহণ করে পাবলিক অভিযোগ সমাধান করার ক্ষেত্রে। যেমন- নতুন আইন করতে হলে, পাবলিক প্লেসে আন্দোলন কিংবা গ্রাফিতিকে ভ্যান্ডালিজম হিসেবে প্রমাণ করে এটাকে অপরাধ হিসেবে প্রমাণিত করতে হবে। এখন পশ্চিমা রাষ্ট্রে এই দুইটাই করা হয়েছে কিন্তু মিশরে জনসাধারণের নিরাপত্তার দিকে কোনো নজরই দেওয়া হয় না। এইখানে নতুন আইনই করা হয় পাবলিককে দমবন্ধ করে ফেলার জন্য।

টিমেপ: সরকার পাবলিক স্পেস পরিষ্কার রাখতে চায় এইটা জাস্টিফাই করা কঠিন কারণ পাবলিক স্পেসকে ভালো করে গড়ে তোলার কোনো চেষ্টাই তারা করে নাই।

গানজির: আর একটা বিষয় আছে। কোনটা পরিষ্কার কোনটা না- এইটা কে ঠিক করবে, কীভাবে ঠিক করবে? ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার ক্ষেত্রে কি বলবেন? পশ্চিমা সমাজ হইলে হয়তো এ বিষয়ে অভিযোগ আনতে পারবেন।

টিমেপ: আপনি কী আশা করেন, এক সময় সব ঠিক হয়ে যাবে?

গানজির: হ্যাঁ, অবশ্যই। আমি শুধু ভয় পাই যে মানুষ সহিংস হয়ে যাচ্ছে খুব। মানুষ অনেকদিন ধরে, শান্তিপূর্ণভাবে সরকারকে পদত্যাগ করতে বলতেছে। কিন্তু তার বদলে সরকার পাবলিকের ওপর গুলি চালাচ্ছে। তো, প্রতিবাদে সাধারণ মানুষও তো যেকোন সময় প্রতিশোধপরায়ন হয়ে উঠতে পারে। এই যে ভায়োলেন্স, এটা এখনো একপাক্ষিক আছে। তবে যেকোন সময় এটা বদলায় যেতে পারে। সেটা ভালো কিছু হবে না।

 

৫.

যেসব দেশে গ্রাফিতি কালচার খুব বেশি, তাদের গ্রাফিতিতে  নানান রকম টেকনিক এপ্লাই করার প্রবণতা দেখা যায়। নতুন নতুন স্টাইলের মধ্য দিয়ে তারা যেন এ মাধ্যমের যতরকম সম্ভাবনা সম্ভব সব আবিষ্কার করতে চায়। আর এটা তো বলা বাহুল্য, এই বলার ধরন বদলানোর সাথে সাথে তার রাজনৈতিক ধরনও বদলায় যায়। মিশরের গ্রাফিতিরও এই দিকটা নজরে পড়ার মতন। মিশরের গ্রাফিতি আপনি  দেখলে  বুঝতে পারবেন তা ব্যাঙ্কসি বা হিপহপ থেকে অনুপ্রাণিত। কিন্তু তার মধ্যেও অনেকে অ্যারাবিক ক্যালিগ্রাফি ব্যবহার করে নতুন ফর্ম তৈরি করতে পেরেছে যা সরাসরি মিশরের পপ কালচার থেকে নিঃসৃত। 

আল আওয়াদ, তার করা গ্রাফিতিতে ‘ফারাও’ টেমপ্লেট ব্যবহার করে একটা মর্ডান চেহারা বানায় যা মানুষকে মজা দেয়।  কিংবা আল-জেফ এবং নাজিরের মত আর্টিস্ট যারা একটা নির্দিষ্ট জায়গা সচেতনভাবে ঠিক করে, সেখানে গ্রাফিতি করে এবং সেখানকার সমস্যাগুলো সম্পর্কে ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়। এরকম আরো নতুন নতুন ধরন। তবে নতুন বলে স্থানিকতা-বিচ্যুত— এমনটা মোটেই নয়। তাই প্রাচীন পিরামিডের হায়ারোগ্লাফি যেমন এখানে ভাষা হিসাবে আসে, তেমনি জনপ্রিয় ব্যাটম্যানও তাদের বিষয়। তাদের বিষয় লুপ্তপ্রায় পান্ডা থেকে ভারতীয় গান্ধীও। এমনকি বিখ্যাত সিনেমা পাল্প ফিকশন থেকে হালের জোকারও। তাদের দেশী পপুলার সিংগার-এক্টররাও এর বাইরে নাই। সবাই যেন লিটারারি রাস্তায় নেমে গেছে। সবই যেন রাজনৈতিক।

">

x

লেখা সম্পর্কে মন্তব্য

টি মন্তব্য

%d bloggers like this: