home গদ্য বব মার্লে আবার জেগে উঠবেন রাস্তাফারি গানে ।। উপল বড়ুয়া

বব মার্লে আবার জেগে উঠবেন রাস্তাফারি গানে ।। উপল বড়ুয়া

“উলঙ্গ এক শ্বেতাঙ্গ এক

বারবারিয়ান, গাইতেছে গান

রাস্তাফারি রাস্তাফারি”

—(রাস্তাফারি। হিজল জোবায়ের)

 

‘রাস্তাফারি’ শব্দ শুনলেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে বিনি বাঁধা লম্বা জটা চুলের, স্বতঃস্ফূর্ত হাসির বব মার্লের (Bob Marley) ছবি। বব মার্লে (জন্মঃ ০৬ ফেব্রুয়ারী ১৯৪৫ ও দৈহিক মৃত্যুঃ ১১ মে ১৯৮১)। মাঝের এই কয়টা বছর পৃথিবী ছিল মার্লেময়। সাম্রাজ্যবাদী ও পুঁজিবাদী বিশ্বের বিপক্ষে জ্যামাইকান বাফেলোর যুদ্ধ। যখন গিটার নিজেই এক বিপ্লব আর মার্লে হতশ্রী, দুর্বল, নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে গাইতেছেন—

 

‘Get up, stand up: stand up for your rights!

Get up, stand up: stand up for your rights!

Get up, stand up: stand up for your rights!

Get up, stand up: don’t give up the fight!’

 

       —[Get Up, Stand Up]

 

বব মার্লে বিশ্বাস করতেন রাস্তাফারি কালচারে। বব মার্লে বিশ্বাস করতেন ‘রাস্তাফারি’ ধর্মে। মার্লেকে এই ধর্ম নিয়ে সাক্ষাৎকারগুলোতে প্রচুর বলতে হয়েছে। বলতে হয়েছে কেন তিনি রাস্তাফারি, কেন রাস্তাফারি হয়ে ওঠে সাদা-কালো, শোষক-শোষিত বৈষম্যের বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ের হাতিয়ার। রাস্তাফারি কেবল ধর্ম নয়; তা মানব ও একটি জাতির ইতিহাস ও ক্ষমতার ‍বিরুদ্ধ লড়াইও বটে। কালো বলে আফ্রিকা শোষিত আজ। মহান দেশ ইথিওপিয়া যেখানে শোষিত সেখানেই রাস্তাফারিয়ানদের যুদ্ধ। শোষিত রাস্তাফারিয়ান ও মার্লে বিশ্বাস করতেন, একদিন রাস্তাফারিয়ানদের গড ইথিওপিয়ান সম্রাট হেইলে সালাসসিয়ে কালো মানুষের পক্ষে পুনর্বার জেগে উঠবেন। বব মার্লে জানতেন, কিভাবে দস্যু আমেরিকানরা দখল ও চুরি করে নিয়ে গেছে আফ্রিকানদের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য।–

 

“Buffalo Soldier, Dreadlock Rasta:

There was a Buffalo Soldier in the heart of America,

Stolen from Africa, brought to America,

Fighting on arrival, fighting for survival.”

 

—[Buffalo Soldier]

 

বব মার্লে মানে বিপ্লব, র‌্যাগে, উইড, ফুটবলপ্রেমী ও একজন বিশ্বস্টার। যাঁর গান সাদা-কালো মানুষকে নির্বিভেদে দিয়ে গেছে বেঁচে থাকার প্রেরণা। মার্লে দেহকে তুলে ধরেন মাত্র ছত্রিশে। কিন্তু তাঁর গান ছত্রিশ কোটি মানুষকে দিয়ে গেছে লড়াই ও বেঁচে থাকার প্রেরণা। ‘Won’t you help to sing/These songs of freedom?’ কিংবা ‘No, woman, no cry’ কিংবা Rise up this mornin’,/Smile with the risin’ sun,/Three little birds/Pitch by my doorstep/Singin’ sweet songs/Of melodies pure and true…/’Cause every little thing gonna be all right! “,” বা I wanna love you and treat you right/I wanna love you every day and every night/We’ll be together with a roof right over our heads/We’ll share the shelter of my single bed/…Is This Loveএসব গান মানুষের সামনে তুলে ধরে একটা বেঁচে থাকার স্পর্ধা।

 

আফ্রিকার মাঠের কৃষক ও শ্রমিকরা একসময় কাজের ফাঁকে ফাঁকে তাদের সুখের দুঃখের বৈষয়িক ও অবৈষয়িক জীবন নিয়ে ফসল মাড়াই কিংবা তোলার সময় সম্মিলিত সুরে সুরে গাইতো কিছু গ্রামীণ গান। পরবর্তীতে তাই র‌্যাগে (Reggae) নামে পরিচিত পায়। এবং মার্লে তার জন্ম ও বিশ্বাসসূত্রে র‌্যাগের উত্তরাধিকারী। ফলে র‌্যাগে তাঁর কাছে বিশ্বাস ও গান ও জীবন। ফলে মার্লে জ্যামাইকা ও তাবৎ বিশ্বে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য গাইতেছেন—

“One Love! One Heart!/Let’s get together and feel all right./Hear the children cryin’ (One Love!);/Hear the children cryin’ (One Heart!),” [One Love]

 

বব কিংবদিন্ত। ববকে নিয়ে গুজবের শেষ নেই। সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় মার্লে যেমন মারমুখী ও পাল্টা প্রশ্ন করতেন তেমনি সাংবাদিকরাও তাঁর জীবনদর্শন নিয়ে ব্রিবত করতে চাইতেন। একবার এক সাংবাদিক জিজ্ঞেস করেছিল— “গাঞ্জা তো খারাপ নেশা। গাঞ্জা টানেন ক্যানো? আপনের দেখাদেখিতে তো জ্যামাইকাতে আপনার বহু ইয়াং ফলোয়ার অধঃপতনে চলে যাইতেছে।”

বব মার্লেঃ এই অসুস্থ সমাজে সুস্থ থাকার একমাত্র টনিক হইলো গাঞ্জা। জ্যামাইকান সরকার গাঞ্জা নিষিদ্ধ করছে কারণ সরকার চায় সবাই তার অনুগত হোক। আমরা রাস্তাফারিয়ান; গাঞ্জা আমাদের কাছে পুজার ফুলের মতো। একদিন আমাদের গড জেগে উঠবেন। তারপর মার্লে গাইলেন তাঁর বিখ্যাত ‘গাঞ্জা গান’ গানটি।

 

“I’m gonna smoke’a de ganja until I go blind.

You know I smoke’a de ganja all a de time.

Smoke’a de ganja when I’m with friends.

We gonna smoke’a de ganja until the very end

—[Ganja Gun]

 

বব মার্লে যখন সাম্রাজ্যবাদী ও পুঁজিবাদীদের শত্রু হয়ে উঠছেন তখন তাঁকে মেরে ফেলার জন্য তাঁর ঘরেই হামলা করা হয়। মার্লে পালিয়ে বাঁচেন। মার্লে হাল ছাড়েননি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গান গেয়ে বেড়িয়েছেন বিভিন্ন জায়গায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ও ষাটের দশক ছিল পৃথিবীর জন্য একটি শ্রেষ্ঠ সময়। যখন পৃথিবীব্যাপী সঙ্গীত চিত্রকলা সাহিত্যের জয় জয়কার। যখন মানুষ চোখ খোলে দেখতেছে পৃথিবীতে এখনও মার্লেগণ আছেন। যখন কর্পোরেটকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে হিপ্পিরা ‍বুঝিয়ে দিচ্ছে বেঁচে থাকার জন্য রয়েছে হাজার উপাদান। যখন শ্বেতাঙ্গরা বুঝতে শুরু করেছে কালোরাও মানুষ। এখনও মার্লে আছেন। জ্যামাইকাতে প্রচুর কিংবদন্তি এসেছেন। মাঝেমধ্যে একজন শিল্পী একটা দেশের চেয়ে অধিক যোগ্য হয়ে উঠেন। বব মার্লে মানেই জ্যামাইকা। জ্যামাইকার কালচার। হয়তো মার্লে নিজেই হেইলে স্যালাসি। হয়তো তিনিই… গুরু। চলুন আবার উইডের তালে তালে গায় মাতাল গলায়—

 

উঠো, দাঁড়াও: দাঁড়াও তোমার অধিকারের জন্য

উঠো, দাঁড়াও: দাঁড়াও তোমার অধিকারের জন্য

উঠো, দাঁড়াও: দাঁড়াও তোমার অধিকারের জন্য

উঠো, দাঁড়াও: ছেড়ে দিও না বন্ধু বাঁচার যুদ্ধ।

                                                                        —বব মার্লে

 



বব ডিলানের পাঁচটি গান

লেখা সম্পর্কে মন্তব্য

টি মন্তব্য