home কুকুর সংখ্যা নেড়িকুকুর ও তার দৃশ্যাবলী ।। সারাজাত সৌম

নেড়িকুকুর ও তার দৃশ্যাবলী ।। সারাজাত সৌম


প্রতিটি প্রাণের ভেতরই যেন প্রেম একটা মহার্ঘভূত হিসেবে কাজ করে কিংবা তাকে দিয়ে ঈশ্বর তার ভাষার নানান কৌশল পরিচালনা করে থাকেন! তবে মেজাজের দিক দিয়ে কুকুরেরা কম যায় না। এমনকি রাগ-অভিমান আর বাহাসের দিক দিয়েও সে এগিয়ে বলা চলে, যা আমরা দেখতে পাই কেউ কেউ খানিকটা বোধের দৃষ্টি দিয়ে। প্রতিটি আলোর পেছনে যেমন এক একটি অন্ধকার বিদ্যমান কিংবা অগ্রসর হয়ে চারদিকে আছড়ে পড়ে তেমনি তার আচার-আচরণেও থাকে জীবনের’ই কারু কৌশল। এই যে ঘেঁউ ঘেঁউ শব্দগুলো আছড়ে পড়ে পৃথিবীতে আর নানা কম্পনের ভেতর দিয়ে ছড়িয়ে যায় আমাদের চারপাশে সেও তো প্রেমিকের কাছে পৌঁছানোর’ই বার্তা এক। সেও হাঁটু গেড়ে বসে তার সামনে কিংবা লাফিয়ে চড়ে বুকে-পিঠে এমনকি মানুষও তাই! তারও প্রতিটি রাতদিন ঈশ্বর প্রদত্ত। সেও বলতে থাকে তার’ই ভাষা, দিতে থাকে নানান ইশারা ও সংকেত। তেমনই ঘোর অন্ধকার অথবা আলোর ভেতর থেকেও সে বলতে থাকে আমি তোমাকে রোজই দেখি হলুদ-সাদা জামার ভেতর যখন তোমার প্রতিটি লোম দুলে উঠে হাওয়ায়। যেভাবে তুমি তোমার লেজ দোলাতে থাকো আমার চোখের ওপর, প্রেম ও হৃদয়ের ভাষায়। ভীষণ কুক্কুরী তুমি আমার। অথচ ইতরদের পাশেই আছো তুমি, কিন্তু তুমি তাদের মতো নও। তোমার ভেতর যে ছটফটানি সেও তাদের ভাষা নয়। কিন্তু একমাত্র তুমিই তো জানো আমার পিঠে কতোখানি ঘাঁ নিয়ে আমি পথের ওপর পড়ে থাকি আর তা কতগুলো কীটের দখলে চলে গেছে আজ। তারাও তো নিজ নিজ প্রাণের’ই প্রতিনিধি। আমি জানি, সুখগুলো দেখতে বাচ্চাদের চুলের গোলাপী ফিতার মতো এবং দুলে উঠে আচমকা আর বড়জোর ড্রেসিংটেবিলের ওপর লাফিয়ে পড়ে সেই সব মুখ অবান্তর,অপরিচিত! মানুষ ওতেই মুখ রেখে সুখী সুখী ভাব নিয়ে আছে তার জগতে! কিন্তু আজ আমার মেজাজ তারার মতো আকাশে ফুটছে, এমনকি ধূমকেতুর মতো মাথাটা বিগড়ে যাচ্ছে ক্রমশ’ই…

জানি না রাত হলে তুমি কিভাবে আমার দিকে তাকিয়ে থাকো কিংবা লেজ দুলিয়ে দাও আকাশে—বাতাসে, আলোদের ইশারায়। তবে মানুষের মতো লোভ আর করুণা নিয়ে নয়। কেবল’ই আকাঙ্ক্ষার গুলতি ছুঁড়ে মারো আমার হৃদয়ে। অথচ, এই তো আমি অন্ধকার জাহাজে তন্দ্রার ভেতর দেখছি আমাদের হারানো বাচ্চাদের সাদাকালো মুখ। আমাদের মুখ! আর ওই যে ঊর্দি পরা শয়তান ব্যাটারিচালিত লোকটা কি জানে, সেও একটা কুকুর ছিলো গতরাতে মেয়ে মানুষের সাথে। অথচ সে তোমাকে আসতে দিচ্ছে না। তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না । আমি তো তোমাকে ধারণ করেই আছি এবং আমি চাইছি তুমি ওইসব মহিলাদের মতো হও, যারা রাতে পরীর ডামি হয়ে দাঁড়ায় মিহি পোশাকে, নগরে-রাস্তায়-ঘরে আর মদ খায় মেদ ভরে। আমি জানি আমিই তোমার উন্মাদ-করুণ নেশা প্রেমে ও সঙ্গমে যা দূর থেকে দেখতে ঈশ্বরের কৃপার মতো, স্বপনের মতো দীর্ঘ তোমার চোখ আমার ওপর আছে দণ্ডায়মান। এই তো, আমি আসছি চাঁদটাকে তাড়া করতে করতে তোমার দিকেই। তুমি উঠে দাঁড়াও। লেজ দোলাও। আমার দিকে মুচকি হাসো। আমাকে গ্রহণ করো হলুদ-সাদা জামার ভেতর। টর্চের মতো জলজ্বলে আলো ফেলো আমার বুকের ওপর। হে পেলব লোমশ পৃথিবী আমি আসছি আমার অধিক মানুষের ভেতর, তোমার জামার ভেতর যতো বোতামের ঘর আর রঙিন হৃৎস্পন্দন যেন মহাবিশ্বের মতো তোমার দিকে ধেয়ে আসছে আবারও প্রেম-যৌনতা আর হিংস্রতা নিয়ে। আর আমি ঈশ্বরের চোখের ওপর দাঁড়িয়ে দেখছি তুমি ঠিকই লেজ নাড়াচ্ছো তোমার সেই প্রথম দিনটির মতো যেন অন্য পাড়া দিয়ে অন্য কেউ ডেকে ডেকে যাচ্ছে, ঘেঁউ…

 

লেখা সম্পর্কে মন্তব্য

টি মন্তব্য