দ্য স্ট্রিটস আর আর আওয়ার্স | প্রিয়ম

“Some people become cops because they want to make the world a better place. Some people become vandals because they want to make the world a better-looking place”- Banksy

যারা গ্রাফিতি নিয়ে একটু হলেও ঘাটাঘাটি করেছেন তারা ব্যাঙ্কসির নাম শুনে থাকবেন। ব্যাঙ্কসির ক্ষেত্রে যে শব্দ ব্যবহার করা হয়ে থাকে তা হলো – ‘Pseudonymous’।

তিনি আবির্ভূত হন ডার্ক স্যাটায়ারের স্ট্রিট আর্ট নিয়ে। তিনি পাব্লিকলি সামনে আসেন না। কিন্তু তার কাজ মানুষ দেখতে পান পুরো পৃথিবীজুড়ে। যেমন – ওয়েস্টব্যাংক, ডিজনিল্যান্ড এবং অসংখ্য প্রাইভেট প্রপার্টিতে।  আজ পুরো পৃথিবীজুড়ে ব্যাঙ্কসির এক বিশাল কাল্ট ফলোয়ার গড়ে উঠেছে। ওনার কাজগুলি আপনাআপনিই এক সাবকালচারে পরিণত হয়েছে। তার আর্টের যে পলিটিক্যাল ভিউ এবং বিকল্প দৃষ্টিকোণ তা বিশ্বজুড়ে মানুষকে প্রভাবিত করেছে । গ্রাফিতির সাথে তিরিশ বছরের বেশি সময় জড়িত থাকা সত্ত্বেও মানুষ আজও তাকে দেখেনি। আর তার এই এনোনিমিটিই তাকে নিয়ে গেছে অন্য এক চূড়ায়।  কম বয়সে ব্যাঙ্কসি একদিন তার গ্যাঙদের সাথে প্রাইভেট প্রপার্টিতে কিছু একটা সন্দেহজনক কাজ করতে গেলে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। ব্যাঙ্কসি তখন একটা ডাস্টবিন ভ্যানে উঠে পড়ে এবং দেখতে পায় ট্রাকের চারিদিকে স্টেনসিল লেটার দিয়ে স্প্রে করা। পরে এই স্টেনসিল লেটার দিয়েই ব্যাঙ্কসি তার গ্রাফিতির যাত্রা শুরু করে। ব্রিস্টলে কাজ করার পর দুই হাজার সালের গোড়ার দিকে তিনি লন্ডনে চলে আসেন। লন্ডনে থেকে কাজ করলেও তিনি এক জায়গায় বসে ছিলেন না।

এবারে আসা যাক সিনেমায়। সিনেমার নাম – ‘Exit through the Gift Shop’.

এটি একটি ব্রিটিশ ডকুমেন্টারি । দুই হাজার দশ সালে এটি মুক্তি পায়। ডিরেক্ট করেন ব্যাঙ্কসি নিজে। কিন্তু থেরি গোয়েটাকেও ডিরেক্টরের ক্রেডিট দেয়া যায়। থেরি একজন ফ্রেঞ্চ ইমিগ্র্যান্ট আর থাকতেন লস এঞ্জেলেসে। ব্যাঙ্কসির সাথে মিলে এই সিনেমাটি বানান তিনি। অথবা বলতে পারেন থেরি গোয়াটে, ব্যাঙ্কসিরই অল্টার ইগো। থেরির অবসেশন ছিল ক্যামেরা নিয়ে। দিনরাত ভিডিও ক্যামেরা নিয়ে ঘুরতেন। যেখানে থাকতেন, তার সাথে ক্যামেরা অন থাকত। সেটা বাসায় হোক বা বাইরে। এভাবে রেকর্ড করতে করতে তার কাছে জমা হয় হাজারের বেশি ক্যাসেট। কিন্তু এসব নিয়ে সে কী করবে বুঝতে পারে না। তাছাড়া এই ভিডিও ক্যাসেটগুলো তার কাছে অর্থহীন মনে হয়। রেকর্ড করার পর সে নিজেও খুলে দেখতো না সে কি রেকর্ড করেছে। রেকর্ডগুলো পড়ে থাকত গার্বেজের মত। হঠাৎ একদিন তার সাথে তার এক কাজিনের দেখা। নাম ইনভেডর। ইনভেডর ততদিনে বিখ্যাত হয়ে উঠেছিল তার পিক্সেলেট আর্টের কারণে, যা সিরামিক টাইল মোজাইক দিয়ে ডিজাইন করা। সে ৮ বিটের যেসব পুরাতন গেমস (যেমন: প্যাকম্যান) ছিল তার ক্যারেক্টারগুলো নিয়ে কাজ করত। তো থেরি ইনভেডরের সাথে কাজ করা শুরু করে। সাথে ইনভেডরের আরো কিছু পরিচিত আর্টিস্টের সাথেও। তাদের মধ্যে ছিলেন আন্দ্রে, জেভস। থেরি ইনভেডরের সাথে সাথে এদের কাজগুলোকেও তার ভিডিও ক্যামেরা দিয়ে রেকর্ড করতে থাকেন । থেরির আগ্রহ দেখে, কয় মাস পর ইনভেডর তার সাথে দেখা করে লস এঞ্জেলেসে। আর তার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় শেফার্ড ফেইরিকে। এখান থেকে থেরির জীবন বাঁক নেয় সম্পূর্ণ অন্যদিকে। থেরি এবার শেফার্ড ফেইরির কাজ শুট করতে থাকে। শেফার্ড থেরির অতি উন্মাদনা দেখে দ্বিধায় পড়ে যায়। সে বুঝতে পারে না থেরির আসল ইনটেনশন কি। পরে থেরি শেফার্ডকে জানায় সে আসলে সমসাময়িক যত স্ট্রিট আর্টিস্ট আছে তাদের ওপর কাজ করতে চায়।

এবার শেফার্ড এবং তার আরো কিছু সহযোগী আর্টিস্টের সাথে কাজ করতে করতে সে প্রথমবার শোনে ব্যাঙ্কসির নাম।  গ্রাফিতি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে সে ব্যাঙ্কসি নামটা এত বেশি শোনে যে, সে সিদ্ধান্ত নেয় ব্যাঙ্কসির সাথে সে কাজ করবেই। তার জন্য সে যেকোনো কিছু করতে রাজি। সমস্যা হলো কেউ জানে না ব্যাঙ্কসি থাকে কোথায় তাকে কীভাবে পাওয়া যাবে। থেরি তাও হাল ছাড়ে না। সে ঘুরতে থাকে, কিছুদিন লস অ্যাঞ্জেলেসে, তো আবার চলে যায় ফ্রান্সে। এভাবে অনেকদিন কেটে যায়। তারপরও ব্যাঙ্কসির কোনো খোঁজ পায় না থেরি। হঠাৎ এক সময় ব্যাঙ্কসি তার এক সহচরের সাথে ’এল এ’ আসার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে তার সহচর আসতে না পারায় শেফার্ডের সাথে যোগাযোগ করে ব্যাঙ্কসি। আর শেফার্ড ফেইরি যোগাযোগ করে থেরির সাথে। আর থেরি হয়ে যায় ’এল এ’ তে ব্যাঙ্কসির গাইড। থেরি ব্যাঙ্কসিকে বলে, তুমি আমাকে যখন ইচ্ছা ফোন দিতে পারবে, যখন ডাকবে আমি হাজির হয়ে যাব সেটা দিনের যেকোন সময় বা রাতের যেকোন সময় হোক। সবসময় মনে করবে আমার  কোনো কাজ নেই। ব্যাঙ্কসি চিন্তা করে যেহেতু স্ট্রিট আর্টের জীবনকালটা খুব সীমিত তাই একে যদি নথিভুক্ত করা যায় তাহলে দারুণ একটা কাজ হবে। ব্যাঙ্কসি চিন্তা করে থেরিকে নিয়ে সে কাজ করবে। এক্সিটে (Exit through the Gift Shop) দেখা যায় কখনও ব্যাঙ্কসি আবার কখনো থেরি হয়ে উঠছে সিনেমার সাবজেক্ট। আমরা থেরি আর ব্যাঙ্কসির মাধ্যমে স্ট্রিট আর্টের এক জার্নি দেখতে পাই। প্রথমে ব্যাঙ্কসি যেটা করে তা হলো ’গুয়েনতেনামো ডিটেনশন ক্যাম্প’- এ যে প্রিজনাররা আছে তাদের আদলে একটা পুতুল তৈরি করে। তারপর থেরিকে নিয়ে পুতুলটা রেখে আসে ডিজনিল্যাণ্ডে। এই পুরো সময় থেরি ব্যাঙ্কসিকে শ্যুট করে। পার্কের সিকিউরিটিরা ব্যাঙ্কসিকে পায় না। ধরে নিয়ে যায় থেরিকে। থেরি কোনোভাবে ছাড়া পায়। সে ইন্টারোগেশনে কোনোকিছু প্রকাশ করে না। আর যা ছবি, ভিডিও ছিল কোনোভাবে ডিলিট করে দেয় ক্যামেরা থেকে। এই ঘটনার পর ব্যাঙ্কসি থেরির উপরে সম্পূর্ণ আস্থা স্থাপণ করে। এরপর থেরি ব্যাঙ্কসির আরো কিছু কাজ রেকর্ড করা শুরু করে। তার মধ্যে আছে – ‘Murdered Phone-box’ আর  ‘Barely Legal Show’।

ব্যাঙ্কসির পর থেরি সিদ্ধান্ত নেয় সেও গ্রাফিতি করবে। দিনরাত এক করে কাজ করে থেরি। তাকে ব্যাঙ্কসির সহযোগীরাই সাহায্য করে। তারা বুঝতে পারে না থেরি এত কম সময়ে এতগুলো কাজ কীভাবে করল। এক মিলিয়নের বেশি বিক্রি হলো তার গ্রাফিতি। যারা প্রদর্শনীতে আসে তারা বলছে,’আমরা কোনো প্রদর্শনীতে এত বেশি পেইন্টিং দেখিনি’। রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে ওঠে থেরি বা মিস্টার ব্রেইনওয়াশ (থেরি নিজের নাম রাখে মিস্টার ব্রেইনওয়াশ)। ব্যাঙ্কসি নিজেও অবাক হয়। থেরির কাজ নিয়ে ব্যাঙ্কসি মন্তব্য করে, আর্ট জিনিশটাই একটা জোক। কখন কাকে কোথায় নিয়ে যায় কিছুই ঠিক নেই। কিন্তু এত সবের পর কিছু প্রশ্ন থেকে যায়। থেরি গোয়েটা নামে কী আদৌ কেউ ছিল? নাকি এটাই ছিল ব্যাঙ্কসি।

অনেকে বলেন থেরি গোয়েটাকে কোনো লাইভ আর্ট করতে দেখা যায় না। তার মানে কি ব্যাঙ্কসিই গোয়েটাকে দিয়ে প্রদর্শনী করিয়েছেন? আর পুরো দুনিয়ার মানুষকে বোকা বানিয়েছেন? আসলেই আর্ট কী সিরিয়াস? আর্ট কী আসলে জোক? হয়তো ব্যাঙ্কসি পুরো সিনেমাটা মজা নেয়ার জন্য বানিয়েছেন। আর যারা আর্টকে চার দেয়ালে বেঁধে রাখতে চেয়েছে তাদের প্রতি ছুঁড়ে দিয়েছেন তার ফুল যেটা প্যালেস্টাইনে ছুঁড়ে দিয়েছিলেন। কে বিচার করবে কোন আর্টটা অথেনটিক কোনটা না! এক সময় আর্টের চেয়ে আর্টিস্টের আইডেন্টিটি বড় হয়ে ওঠে। তখন আর্টের মূল্যায়ন হয় আর্টিস্টের ইমেজ দিয়ে। তখন কী সেই আর্টের কোনো মূল্য থাকে? আমি জানি না থাকে কি না। কিন্তু সিনেমা শেষ হলে আমরা এটা উপলব্ধি করতে পারি ব্যাঙ্কসি আমাদের কি বোঝাতে চেয়েছেন।

তিনি থেরি, শেফার্ড বা সব আর্টিস্টের মাধ্যমে আমাদের আর্টের আসল মূল্য বোঝাতে চেয়েছেন যা টাকা দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না এবং ক্রমবর্ধমান পরিবর্তিত এই সংস্কৃতিতে টিকে থাকার জন্য শিল্পের সব নিয়ম ভেঙেই শিল্প তৈরি করতে হবে। তখনই তা হয়ে উঠবে অথেনটিক। আজ ব্যাঙ্কসিসহ সব স্ট্রিট আর্টিস্টের কারণে প্রতিটা রাস্তা, প্রতিটা অলি-গলি  হয়ে উঠেছে এক একটি আর্ট গ্যালারি। আর্টের জন্য টিকেট কেটে বা পয়সা দিয়ে আপনার কোনো অভিজাত গ্যালারির চার দেয়ালে ঢুকতে হবে না। আপনি রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতেই সম্মুখীন হবেন ‘Murdered Phone-box’-এর। ব্যাঙ্কসির এই দর্শন  ভবিষ্যতের সকল আর্টিস্টকে প্রভাবিত করবে বলেই আশা রাখছি। সিনেমার শুরুতেই আমরা দেখতে পাই একটা মন্তাজ- স্ট্রিট আর্টিস্টরা গ্রাফিতি করছে আর পেছনে গান বাজছে রিচার্ড হাউলি’র – ‘Tonight the streets are ours’। মনে হয় যেন গ্রাফিতি আর্টিস্টদের জন্যই গানটি লেখা।

Do you know why you got feelings in your heart’
Don’t let fear of feeling fool you
What you see sets you apart
And there’s nothing here to bind you
It’s no way for life to start

Do you know that tonight the streets are ours’
Tonight the streets are ours
These lights in our hearts they tell no lies

Those people they got nothing in their souls
And they make our TVs blind us
From our vision and our goals
Oh, the trigger of time it tricks you
So you have no way to grow

But do you know that tonight the streets are ours’
Tonight the streets are ours
These lights in our hearts they tell no lies

And no one else can haunt me
The way that you can haunt me
I need to know you want me
I couldn’t be without you
And the light that shines around you

No nothing ever mattered more than not doubting
That tonight the streets are ours

Do you know how to kill loneliness at last’
Oh, there’s so much there to heal dear
And make tear stains of the past

But do you know that tonight the streets are ours’
Tonight the streets are ours
These lights in our street are ours

Tonight the streets are ours
These lights in our hearts they tell no lies

লেখা সম্পর্কে মন্তব্য

টি মন্তব্য

%d bloggers like this: