জীবনে আমার সত্যিকার উদ্দেশ্য হল বেঁচে থাকা — এসকিফ | ভাষান্তর : ইরফানুর রহমান রাফিন

এসকিফ (Escif) গ্রাফিতি আর্টিস্ট; জন্ম স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায়। স্পেনের রাজনৈতিক-সামাজিক যে বাস্তবতা, তাকে দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতি-ম্যুরাল করে তোলেন এসকিফ। তার গ্রাফিতি কখনো স্যুরিয়েল, কখনো স্যাটায়ার-সেন্স অভ হিউমারে ভরা; আপনাকে বাধ্য করবে আপনার আশপাশকে নতুন করে দেখতে-ভাবতে। তার এ ইন্টারভিউটি ফ্যাটক্যাপে প্রকাশিত হয়, ২০০৯-এ। ইন্টারভিউ নিয়েছেন ভিনসেন্ত মর্গান। আর আমাদের গ্রাফিতি সংখ্যার জন্য এটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন ইরফানুর রহমান রাফিন। রাফিনকে ধন্যবাদ।


আপনি কোথা থেকে এসেছেন? আপনার ব্যাকগ্রাউণ্ড কী?

আমার জন্ম স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় এবং আমি আসলে এখানেই থাকি, যদিও আমি সুযোগ পেলেই চেষ্টা করি ঘোরাঘুরি করার। ভ্যালেন্সিয়া চমৎকার শহর, একটা সমুদ্রসৈকতের পাশেই অবস্থিত, যেখানকার পরিবেশটা নিরন্তরভাবে পরিবর্তিত হয়ে চললেও খাপ খাইয়ে নিতে অসুবিধে হয় না। আসলে, এটা স্পেনের সেইসব বড়ো শহরগুলোর একটি যেখানে আপনি নির্জনে ছবি আঁকতে পারেন রাস্তায়। পুলিশ এসে আপনাকে তাড়িয়ে দিতে পারে, কিন্তু বার্সেলোনা বা মাদ্রিদের তুলনায় এমন ঘটনা এখানে বিরলই বলা চলে। যা-হোক, মাঝেমধ্যে অবশ্য গ্রেফতার এড়ানো যায় না।

 

শিল্পে আপনার আগ্রহের জায়গাটা কী ছিলো আর কেনই বা আপনি এসব তৈরি করতে গেলেন?

শিল্পে আমার আগ্রহটা ছিল সহজাতই, যখন অনুধাবন করতে শুরু করলাম শিল্প অনুসন্ধান চালানো আর গবেষণা করার একটা পদ্ধতি। আমি একটা ব্যক্তিগত তদন্তের জায়গা থেকে কাজ করি, আর সেখান থেকে, আমি একটা স্পিচ তৈরি করি। তারপর, চেষ্টা করি সেটাকে সড়কে সঞ্চারিত করতে।

 

নিজের কাজকে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করেন আপনি?

আমি সড়কে আমার কাজগুলো এক ধরনের সমসাময়িক ম্যুরাল পেইন্টিং হিসেবে দেখি, যা গ্রাফিতি আন্দোলন দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছে, কিন্তু তা আবার এটাকে অবধারিতভাবেই আন্দোলনটির ‘ক্লিশে-হয়ে-যাওয়া’ বিষয়বস্তুর ভেতরে আটকে রাখে না। সড়কে পেইন্ট করা শুরু করেছি আজ প্রায় বারো বছর হয়ে গেলো, আর প্রতিবারই যখন আমি আঁকি, চেষ্টা করি নিজের পক্ষপাতগুলো থেকে মুক্তি পেতে আর স্বাধীন হতে।

 

কীসে অনুপ্রেরণা যোগায় আপনাকে? ভুল হলে আমাকে জানাবেন, কিন্তু আমার মনে হয়, আপনি স্প্যানিশ পেইন্টারদের দ্বারা বেশ ভালোভাবেই প্রভাবিত?

 আমি অনেককিছু দ্বারাই প্রভাবিত, শুধু পেইন্টিংই নয়, কমিক বই ও সিনেমা থেকে শুরু করে, সর্বোপরি, আমার দৈনন্দিন জীবন দ্বারাই। এটা আমার পরম সৌভাগ্য যে গ্রাফিতির ব্যাপারে আমি সবচেয়ে প্রশংসার দৃষ্টিতে তাকাই এমন বেশ কজন শিল্পীর সাথে বন্ধুত্ব হয়েছে আমার। অন্যদের ভেতরে লোগা, দিবো, হানেম, সান বা ব্লু… এঁদের পেইন্টিং থেকে আমি অনেককিছু শিখেছি।

 

আপনার শিল্পকর্ম কোন ধরণের প্রতিক্রিয়া জনগণের ভেতরে জাগরুক করুক বলে চান আপনি? যখন আমি আপনার কাজ দেখি, মনে হয় যেন আমি আরেক দুনিয়ায় এসেছি পড়েছি, সুররিয়ালবাদী এক কার্টুনের দুনিয়ায়। কখনো মজার, কখনো ভয়ংকর

যারা আমার পেইন্টিংগুলো দ্যাখেন, আমি তাঁদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে চাই। লোকে আমাকে বলবে, “আপনি খুব সুন্দর আঁকেন”, বা “ভালোই তো আঁকেন আপনি”, এসবে আসলে আগ্রহ নেই আমার। আমি বরং চাইবো যে দেখতে তাঁর ভেতরে কিছু চিন্তার উদ্রেক হোক। এটা সত্য যে আমি একটা প্যারালাল পৃথিবী তৈরি করতে চাই, কিছুটা সুররিয়াল, কিন্তু আমি চেষ্টা করি এসবে এমন সব প্রতীক আর যোগাযোগ ঢুকিয়ে দিতে, যাতে প্রত্যেকে তাঁর নিজের সংলাপ আর গল্পটা বসিয়ে নিতে পারে।


আপনি আপনার নিজের চরিত্রগুলো কিভাবে নির্মাণ করেন?

আমার নিজের চরিত্রগুলো নির্মাণ করার সময়, আমি সাধারণত একটা নমনীয় ধারণা থেকে শুরু করি। যেমন ধরুন, মস্তকহীন চোখের একটি চরিত্র হচ্ছে এমন কারো প্রতীক, যে শুধু পর্যবেক্ষণই করে যায়, মত দেয়া আর হয়ে ওঠে না যার। এটা এক অক্রিয় লোক, অধিকাংশ মানুষের মতই। কখনো কখনো, আমি একটা বিখ্যাত চরিত্র থেকে শুরু করি যার প্রতিনিধিত্ব সে করে তার থেকে ফায়দা লুটতে, তারপর তাকে একটা ভিন্ন পরিস্থিতিতে প্রেক্ষিতায়িত করি। যেমন, এমন এক মিকির কথা কল্পনা করুন যে আমেরিকায় জন্মায়নি, জন্মেছে আফ্রিকায়। ফলাফল এক কৃষ্ণাঙ্গ মিকি যে ইউরোপে এসে উপস্থিত হয়, আর গাড়ি বা জানলা পরিষ্কার করে জীবিকা নির্বাহ করে।

আপনি কীভাবে আপনার ছবি নির্বাচন করেন এবং সেগুলো রাস্তার কোথায় আঁকা হয়? ছবি আঁকতে গিয়ে কখনো অবৈধ কিছু করেছেন?

শহরে, আমি দেয়াল আর অন্যান্য পরিত্যক্ত স্থানে মনোযোগ দেয়ার চেষ্টা করি। এসব জায়গা পছন্দ করি আমি; বিশেষত যদি দেয়ালের বুনট থেকে ফায়দা লোটা যায়। আমি যেসব দেয়ালচিত্র আঁকি তার ৯০%ই অনুমোদিত নয়।

আমি আমার স্কেচবইয়ে অনেক এঁকেছি। সেখানে জমা হয়ে আছে আমার অনেক ধারণা ও সমূহ নোট। আমি যেখান দেয়ালের মুখোমুখি দাঁড়াই, তখন আমার স্কেচবইয়ের ধারণাগুলো সমন্বয় করার চেষ্টা করি। এতে সত্যিই কাজ হয়।

 

আপনার অনেক শৈলী আছে। কখনো কখনো আপনার রেখাগুলো আসলেই অনেক নিখুঁত আর নান্দনিক দ্যাখায়। ছায়াপ্রভাব এতো পরিষ্কার, আর যদি এটা নোংরা দ্যাখায়, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আবার কখনো কখনো আপনি আঁকেন এসব নান্দনিক প্রভাবের তোয়াক্কা না করেই, সোজাসরল পেইন্টিং। সেটা আবার এক ভিন্ন শৈলী। আপনি কী আপনার নিজস্ব শৈলী খুঁজে পেয়েছেন নাকি শুধু অন্বেষণ করেই যেতে চান?

আমি সবসময় অন্বেষণ করে যেতে চাই। আর কলাকৌশল থেকে দূরে থাকতে চাই যতোক্ষণ পর্যন্ত না সত্যিই এটা অত্যাবশ্যকীয় হয়ে ওঠে। আমি নিজেকে সংজ্ঞায়িত শৈলীতে খোপবদ্ধ করতে চাই না। কলাকৌশল একটা হাতিয়ার মাত্র, উদ্দেশ্য নয় এটা। আমি মনে করি, আমার শৈলী এই গবেষণার ধারাবাহিকতা, তাই এটা ক্রমাগত বদলে যেতে থাকে।

 

পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

পরবর্তী পদক্ষেপ হচ্ছে একই পথ ধরে চলা, রাস্তায় রাস্তায় আঁকতে থাকা, আর যখনই সুযোগ পাই দেশ-বিদেশে ঘোরাঘুরি করা।

 

যাদের সাথে আপনি শিল্প করেন তাদের সম্পর্কে আরও বলুন। আপনার কী ক্রু আছে?

আমি ডিইহ্, এন্ড, সিএসপি, জুলিয়েটা, জেলন, অন লাই আরসিনিয়র এমমোটাটোতের এক্সএলএফ ক্রুতে আছি।এক্সএলএফ কোনো প্রচলিত গ্রাফিতি ক্রু নয়, এটি একসাথে রাস্তায় আঁকতেও পার্টি করতে চাওয়া সমমনাদের একটি গ্রুপ। আমাদের এই ক্রু সাত বছর আগে গঠিত হয়েছে, আর আমরা যতো এঁকেছি তারচেয়ে বেশি হেসেছি… জোশ না? সাধারণত, আমি একাই আঁকি, ভালোবাসি দেয়ালের সাথে দোস্তি পাতাতে। কিন্তু বন্ধুদের সাথে পেইন্ট করতেও পছন্দ করি। অন লাইয়ের সাথে ভালো একটা টিম তৈরি হয়েছে আমাদের। রাস্তায় পেইন্টিং আর হস্তক্ষেপের ব্যাপারে আমাদের একটি সাধারণ ধারণা আছে। আমাদের রাস্তায় পেইন্টিং এবং হস্তক্ষেপের একটি অনুরূপ ধারণা আছে। গ্রাফিলিয়া কালেকটিভের সাথে কাজ করতেও ভালোবাসি আমি। তাঁদের শৈলী আমার চেয়ে পুরোপুরি আলাদা, আর আমরা কিছু চিত্তাকর্ষক যৌথকাজ করেছি।

যদি আপনার শৈলী একটি সঙ্গীত ব্যান্ড বা একটি গান হতো, কী হত এটা?

জবাব দেয়া কঠিন। মেক্সিকোর নুভোস রিকোস আর যুক্তরাজ্যের নিনজা টিউনের (দুটো লেবেল যা আমার সাথে যায়, শতকরা ১০০ ভাগ রিকমেন্ডেবল) মাঝামাঝি কিছু একটা।

 

এমন একজন শিল্পীর নাম বলুন, যাকে আপনি শ্রদ্ধা করেন ও প্রশংসার চোখে দ্যাখেন।

অনেকেই আছেন, যাঁদের মধ্যে মরিতিজিও ক্যাতেলান, সান্তিয়াগো সিয়েরা, তেরেসা মার্গোলস ব্লু, হার্বার্ট বাগলিওর নাম নেয়া যায়।

 

কী ধরণের বইপত্র পড়েন? আপনার প্রিয় গান কী?

শেষ যে বইগুলো পড়েছি : নিকোলাস বোরিয়াদের এসতেসিকে রিলেশনেল, মিশেল ফুকোর মই, পিয়েরে রিভিরে, আর এডগার অ্যালান পোর ন্যারেশন এক্সট্রাঅর্ডিনিয়ারিস। তিনটাই রিকমেন্ডেবল।

আমি সব ধরণের গান ভালোবাসি: জাস্টিস, দি ইথিওপিয়ান্স, সিলভেরিও, আমোন, তোবিন, ওস মুতানসেস… কয়েকটারই নাম নিলাম মাত্র।

 

ড্রাগস নেন? এইসব চরিত্র আর অবচেতন দুনিয়াটার খোঁজ পেতে কিছু নেয়া লাগে? ধ্যান করেন?

আমি মনে করি ড্রাগস নেয়া ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হিসেবে চমৎকার হতে পারে, আমাদের নিজেদেরকে আরো ভালো করে জানবার জন্য। আর হ্যাঁ, কখনো কখনো পার্টি করার জন্যও।

এখন, আমার চরিত্রগুলো খুঁজে পেতে ও তৈরি করতে, ওসব লাগে না। আমি বরং প্রাত্যহিক ধ্যানের ভেতর দিয়েই এদের খুঁজে পাই।

 

আপনার কী মনে হয় আপনি যেসব কাজ করেন সেসব সংরক্ষণ করা উচিত বা এসবের টিকে থাকা উচিত?

আমি আসলেই জানি না, আর এসব নিয়ে আমার মাথাব্যথাও নেই। আমার পয়েন্ট হচ্ছে, আপনাকে পুরো প্রক্রিয়াটার ভেতর দিয়ে যেতে হবে, ফলাফল নিয়ে তেমন মাথা না ঘামালেও চলবে।

 

গ্রাফিতির সাথে সম্পর্কটা কিসের আপনার? সড়কচিত্রের সাথে?

১৯৯৭-তে অ্যালবে, ব্রুট, নাদের মতো আমার কিছু বন্ধুর সাথে, যারা অনেকদিন ধরেই আঁকছিল, আমি আঁকা শুরু করি। সময়ের সাথে আমি অক্ষরের বদলে চরিত্রের দিকে ঝুঁকে পড়ি, আর তারপর বিস্তৃত নান্দনিকায়নের দিকে। আমি সবসময়ই এমন কিছু খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করি যা আমাকে উদ্দীপ্ত করবে। কেউ কেউ মনে করেন, আমি গ্রাফিতি দিয়ে শুরু করেছিলাম, তারপর সড়কচিত্রের দিকে গেছি। এটা একেবারেই সত্য না। আমি মনে করি, শুরু থেকেই, আমি সড়কচিত্র আঁকতাম, আর এখনো তাই এঁকে চলেছি। পরিবর্তন যা এসেছে, সেটা দৃষ্টিভঙ্গি আর পরিপক্কতায়, আর আমার কাজ থেকে অর্জন করা অভিজ্ঞতায়। এখনো, আমার অনেক ভালো বন্ধু আছে গ্রাফিতি আন্দোলনে, আর সড়কচিত্র আন্দোলনেও। আমি যা করি, তা আদৌ গ্রাফিতি কিনা, সেটা প্রতিষ্ঠা করতে গেলে আমরা জটিল এক বিতর্কে জড়িয়ে যাবো।

 

এসকিফের একটা টিপিকাল দিনের বর্ণনা দিন।

ঘুম থেকে ওঠা/ইন্টারনেট/আঁকাআঁকি/কম্পিউটার/খাওয়া/ঘুম/কম্পিউটার/আঁকাআঁকি/বন্ধুদের সাথে চা অথবা বিয়ার/খাওয়া/ইন্টারনেট/আঁকাআঁকি/ঘুমোতে যাওয়া। আর সপ্তাহে এক বা দুইদিন সড়কচিত্র আঁকা।

 

বার্সেলোনার সড়কচিত্রসংক্রান্ত আইনের বিধিনিষেধের ব্যাপারে কী ভাবেন?

বার্সেলোনা এক অর্থে অত্যন্ত আধুনিক আর কজমোপলিটান শহর। সাংস্কৃতিকভাবে, এটা অত্যন্ত শক্তিশালী, আর বছর পাঁচেক আগে, এটা সম্ভবত ইউরোপের গ্রাফিতি রাজধানী ছিলো। এই বড়ো শহরের আত্মপরিচয়ই গ্রাফিতিচিহ্নিত, আর বহু পর্যটক হয়তো এই কারণেই শহরটিতে যেতেন। কিন্তু গ্রাফিতি শুধু ম্যাকবার পাশের সুন্দর দেয়ালটিই নয়। গ্রাফিতি গত কয়েক বছর ধরে ছড়িয়ে পড়া ফ্লপস আর ট্যাগসের একটা বিস্ফোরণও বটে। বার্সেলোনা ভারসাম্য রাখতে পারছিলো না, আর তাই, গ্রাফিতিকে ঠেকাতে চাচ্ছিলো এর সকল রূপেই। ব্যাপক জরিমানা বিস্তৃত উৎপাদনগুলোকে ঠেলে দিয়েছে মফস্বলে, কিন্তু উপকণ্ঠের গ্রাফিতিশিল্পীরা এখনো ফ্লপস আর ট্যাগস করেই চলেছেন।

 

আপনার শিল্প-অভিযানের ব্যাপারে কোনো মজার গল্প বলার আছে?

একদিন, আমি পুলিশকে বোকা বানানোর জন্য আমার এক বন্ধুর দরজায় পেইন্ট করছিলাম, যেনো আমি অবৈধ কিছু করছি ভেবে তারা আমাকে আচমকা ধরে ফেলতে পারে। মুখোমুখি ভবনের প্রথম ফ্লোরে আমি একটি ক্যামরেকর্ডার রেখেছিলাম, এবং রেকর্ড করেছিলাম সবকিছুই… পরে এই ভিডিওটা দেখে খুব হেসেছি!

আগামী কয়েক মাসে কী আসছে? শো, ভ্রমণ ইত্যাদি…

এখনো নিশ্চিত হয় নি, এমন প্রকল্পের ব্যাপারে কথা বলতে ভালো লাগে না আমার। আমি একটু কুসংস্কারগ্রস্ত, কারণ এটা অসংখ্যবার ঘটেছে, যে আমি কোনো প্রকল্পের কথা বলেছি আর সেটা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করতে পারি নি। কিন্তু আমি ছবিগুলো দ্যাখাবো, সত্যি!

 

আপনার সত্যিকার উদ্দেশ্য কী?

জীবনে আমার সত্যিকার উদ্দেশ্য হল বেঁচে থাকা। এই পথের সবচে গুরুত্বপূর্ণ অংশ খোদ পথটাই। এ’ অনুধাবনটা আমার যা আছে তাই নিয়েই সুখে থাকতে প্রেরণা যুগিয়েছে আমাকে, আমি অন্যের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত না করে আমার নিজস্ব স্বাধীনতা খোঁজার প্রয়াস চালাই।

 

প্রজ্ঞার কোনো বাক্য?

শান্তি একটা বাল!!!

আপনাকে ধন্যবাদ, আর ফ্যাটক্যাপ দীর্ঘজীবী হোক!!!

আপনাকেও ধন্যবাদ, এসকিফ!!!

লেখা সম্পর্কে মন্তব্য

টি মন্তব্য

%d bloggers like this:
জীবনে আমার সত্যিকার উদ্দেশ্য হল বেঁচে থাকা — এসকিফ | ভাষান্তর : ইরফানুর রহমান রাফিন | শিরিষের ডালপালা । সাহিত্য ওয়েবজিন

জীবনে আমার সত্যিকার উদ্দেশ্য হল বেঁচে থাকা — এসকিফ | ভাষান্তর : ইরফানুর রহমান রাফিন

এসকিফ (Escif) গ্রাফিতি আর্টিস্ট; জন্ম স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায়। স্পেনের রাজনৈতিক-সামাজিক যে বাস্তবতা, তাকে দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতি-ম্যুরাল করে তোলেন এসকিফ। তার গ্রাফিতি কখনো স্যুরিয়েল, কখনো স্যাটায়ার-সেন্স অভ হিউমারে ভরা; আপনাকে বাধ্য করবে আপনার আশপাশকে নতুন করে দেখতে-ভাবতে। তার এ ইন্টারভিউটি ফ্যাটক্যাপে প্রকাশিত হয়, ২০০৯-এ। ইন্টারভিউ নিয়েছেন ভিনসেন্ত মর্গান। আর আমাদের গ্রাফিতি সংখ্যার জন্য এটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন ইরফানুর রহমান রাফিন। রাফিনকে ধন্যবাদ।


আপনি কোথা থেকে এসেছেন? আপনার ব্যাকগ্রাউণ্ড কী?

আমার জন্ম স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় এবং আমি আসলে এখানেই থাকি, যদিও আমি সুযোগ পেলেই চেষ্টা করি ঘোরাঘুরি করার। ভ্যালেন্সিয়া চমৎকার শহর, একটা সমুদ্রসৈকতের পাশেই অবস্থিত, যেখানকার পরিবেশটা নিরন্তরভাবে পরিবর্তিত হয়ে চললেও খাপ খাইয়ে নিতে অসুবিধে হয় না। আসলে, এটা স্পেনের সেইসব বড়ো শহরগুলোর একটি যেখানে আপনি নির্জনে ছবি আঁকতে পারেন রাস্তায়। পুলিশ এসে আপনাকে তাড়িয়ে দিতে পারে, কিন্তু বার্সেলোনা বা মাদ্রিদের তুলনায় এমন ঘটনা এখানে বিরলই বলা চলে। যা-হোক, মাঝেমধ্যে অবশ্য গ্রেফতার এড়ানো যায় না।

 

শিল্পে আপনার আগ্রহের জায়গাটা কী ছিলো আর কেনই বা আপনি এসব তৈরি করতে গেলেন?

শিল্পে আমার আগ্রহটা ছিল সহজাতই, যখন অনুধাবন করতে শুরু করলাম শিল্প অনুসন্ধান চালানো আর গবেষণা করার একটা পদ্ধতি। আমি একটা ব্যক্তিগত তদন্তের জায়গা থেকে কাজ করি, আর সেখান থেকে, আমি একটা স্পিচ তৈরি করি। তারপর, চেষ্টা করি সেটাকে সড়কে সঞ্চারিত করতে।

 

নিজের কাজকে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করেন আপনি?

আমি সড়কে আমার কাজগুলো এক ধরনের সমসাময়িক ম্যুরাল পেইন্টিং হিসেবে দেখি, যা গ্রাফিতি আন্দোলন দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছে, কিন্তু তা আবার এটাকে অবধারিতভাবেই আন্দোলনটির ‘ক্লিশে-হয়ে-যাওয়া’ বিষয়বস্তুর ভেতরে আটকে রাখে না। সড়কে পেইন্ট করা শুরু করেছি আজ প্রায় বারো বছর হয়ে গেলো, আর প্রতিবারই যখন আমি আঁকি, চেষ্টা করি নিজের পক্ষপাতগুলো থেকে মুক্তি পেতে আর স্বাধীন হতে।

 

কীসে অনুপ্রেরণা যোগায় আপনাকে? ভুল হলে আমাকে জানাবেন, কিন্তু আমার মনে হয়, আপনি স্প্যানিশ পেইন্টারদের দ্বারা বেশ ভালোভাবেই প্রভাবিত?

 আমি অনেককিছু দ্বারাই প্রভাবিত, শুধু পেইন্টিংই নয়, কমিক বই ও সিনেমা থেকে শুরু করে, সর্বোপরি, আমার দৈনন্দিন জীবন দ্বারাই। এটা আমার পরম সৌভাগ্য যে গ্রাফিতির ব্যাপারে আমি সবচেয়ে প্রশংসার দৃষ্টিতে তাকাই এমন বেশ কজন শিল্পীর সাথে বন্ধুত্ব হয়েছে আমার। অন্যদের ভেতরে লোগা, দিবো, হানেম, সান বা ব্লু… এঁদের পেইন্টিং থেকে আমি অনেককিছু শিখেছি।

 

আপনার শিল্পকর্ম কোন ধরণের প্রতিক্রিয়া জনগণের ভেতরে জাগরুক করুক বলে চান আপনি? যখন আমি আপনার কাজ দেখি, মনে হয় যেন আমি আরেক দুনিয়ায় এসেছি পড়েছি, সুররিয়ালবাদী এক কার্টুনের দুনিয়ায়। কখনো মজার, কখনো ভয়ংকর

যারা আমার পেইন্টিংগুলো দ্যাখেন, আমি তাঁদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে চাই। লোকে আমাকে বলবে, “আপনি খুব সুন্দর আঁকেন”, বা “ভালোই তো আঁকেন আপনি”, এসবে আসলে আগ্রহ নেই আমার। আমি বরং চাইবো যে দেখতে তাঁর ভেতরে কিছু চিন্তার উদ্রেক হোক। এটা সত্য যে আমি একটা প্যারালাল পৃথিবী তৈরি করতে চাই, কিছুটা সুররিয়াল, কিন্তু আমি চেষ্টা করি এসবে এমন সব প্রতীক আর যোগাযোগ ঢুকিয়ে দিতে, যাতে প্রত্যেকে তাঁর নিজের সংলাপ আর গল্পটা বসিয়ে নিতে পারে।


আপনি আপনার নিজের চরিত্রগুলো কিভাবে নির্মাণ করেন?

আমার নিজের চরিত্রগুলো নির্মাণ করার সময়, আমি সাধারণত একটা নমনীয় ধারণা থেকে শুরু করি। যেমন ধরুন, মস্তকহীন চোখের একটি চরিত্র হচ্ছে এমন কারো প্রতীক, যে শুধু পর্যবেক্ষণই করে যায়, মত দেয়া আর হয়ে ওঠে না যার। এটা এক অক্রিয় লোক, অধিকাংশ মানুষের মতই। কখনো কখনো, আমি একটা বিখ্যাত চরিত্র থেকে শুরু করি যার প্রতিনিধিত্ব সে করে তার থেকে ফায়দা লুটতে, তারপর তাকে একটা ভিন্ন পরিস্থিতিতে প্রেক্ষিতায়িত করি। যেমন, এমন এক মিকির কথা কল্পনা করুন যে আমেরিকায় জন্মায়নি, জন্মেছে আফ্রিকায়। ফলাফল এক কৃষ্ণাঙ্গ মিকি যে ইউরোপে এসে উপস্থিত হয়, আর গাড়ি বা জানলা পরিষ্কার করে জীবিকা নির্বাহ করে।

আপনি কীভাবে আপনার ছবি নির্বাচন করেন এবং সেগুলো রাস্তার কোথায় আঁকা হয়? ছবি আঁকতে গিয়ে কখনো অবৈধ কিছু করেছেন?

শহরে, আমি দেয়াল আর অন্যান্য পরিত্যক্ত স্থানে মনোযোগ দেয়ার চেষ্টা করি। এসব জায়গা পছন্দ করি আমি; বিশেষত যদি দেয়ালের বুনট থেকে ফায়দা লোটা যায়। আমি যেসব দেয়ালচিত্র আঁকি তার ৯০%ই অনুমোদিত নয়।

আমি আমার স্কেচবইয়ে অনেক এঁকেছি। সেখানে জমা হয়ে আছে আমার অনেক ধারণা ও সমূহ নোট। আমি যেখান দেয়ালের মুখোমুখি দাঁড়াই, তখন আমার স্কেচবইয়ের ধারণাগুলো সমন্বয় করার চেষ্টা করি। এতে সত্যিই কাজ হয়।

 

আপনার অনেক শৈলী আছে। কখনো কখনো আপনার রেখাগুলো আসলেই অনেক নিখুঁত আর নান্দনিক দ্যাখায়। ছায়াপ্রভাব এতো পরিষ্কার, আর যদি এটা নোংরা দ্যাখায়, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আবার কখনো কখনো আপনি আঁকেন এসব নান্দনিক প্রভাবের তোয়াক্কা না করেই, সোজাসরল পেইন্টিং। সেটা আবার এক ভিন্ন শৈলী। আপনি কী আপনার নিজস্ব শৈলী খুঁজে পেয়েছেন নাকি শুধু অন্বেষণ করেই যেতে চান?

আমি সবসময় অন্বেষণ করে যেতে চাই। আর কলাকৌশল থেকে দূরে থাকতে চাই যতোক্ষণ পর্যন্ত না সত্যিই এটা অত্যাবশ্যকীয় হয়ে ওঠে। আমি নিজেকে সংজ্ঞায়িত শৈলীতে খোপবদ্ধ করতে চাই না। কলাকৌশল একটা হাতিয়ার মাত্র, উদ্দেশ্য নয় এটা। আমি মনে করি, আমার শৈলী এই গবেষণার ধারাবাহিকতা, তাই এটা ক্রমাগত বদলে যেতে থাকে।

 

পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

পরবর্তী পদক্ষেপ হচ্ছে একই পথ ধরে চলা, রাস্তায় রাস্তায় আঁকতে থাকা, আর যখনই সুযোগ পাই দেশ-বিদেশে ঘোরাঘুরি করা।

 

যাদের সাথে আপনি শিল্প করেন তাদের সম্পর্কে আরও বলুন। আপনার কী ক্রু আছে?

আমি ডিইহ্, এন্ড, সিএসপি, জুলিয়েটা, জেলন, অন লাই আরসিনিয়র এমমোটাটোতের এক্সএলএফ ক্রুতে আছি।এক্সএলএফ কোনো প্রচলিত গ্রাফিতি ক্রু নয়, এটি একসাথে রাস্তায় আঁকতেও পার্টি করতে চাওয়া সমমনাদের একটি গ্রুপ। আমাদের এই ক্রু সাত বছর আগে গঠিত হয়েছে, আর আমরা যতো এঁকেছি তারচেয়ে বেশি হেসেছি… জোশ না? সাধারণত, আমি একাই আঁকি, ভালোবাসি দেয়ালের সাথে দোস্তি পাতাতে। কিন্তু বন্ধুদের সাথে পেইন্ট করতেও পছন্দ করি। অন লাইয়ের সাথে ভালো একটা টিম তৈরি হয়েছে আমাদের। রাস্তায় পেইন্টিং আর হস্তক্ষেপের ব্যাপারে আমাদের একটি সাধারণ ধারণা আছে। আমাদের রাস্তায় পেইন্টিং এবং হস্তক্ষেপের একটি অনুরূপ ধারণা আছে। গ্রাফিলিয়া কালেকটিভের সাথে কাজ করতেও ভালোবাসি আমি। তাঁদের শৈলী আমার চেয়ে পুরোপুরি আলাদা, আর আমরা কিছু চিত্তাকর্ষক যৌথকাজ করেছি।

যদি আপনার শৈলী একটি সঙ্গীত ব্যান্ড বা একটি গান হতো, কী হত এটা?

জবাব দেয়া কঠিন। মেক্সিকোর নুভোস রিকোস আর যুক্তরাজ্যের নিনজা টিউনের (দুটো লেবেল যা আমার সাথে যায়, শতকরা ১০০ ভাগ রিকমেন্ডেবল) মাঝামাঝি কিছু একটা।

 

এমন একজন শিল্পীর নাম বলুন, যাকে আপনি শ্রদ্ধা করেন ও প্রশংসার চোখে দ্যাখেন।

অনেকেই আছেন, যাঁদের মধ্যে মরিতিজিও ক্যাতেলান, সান্তিয়াগো সিয়েরা, তেরেসা মার্গোলস ব্লু, হার্বার্ট বাগলিওর নাম নেয়া যায়।

 

কী ধরণের বইপত্র পড়েন? আপনার প্রিয় গান কী?

শেষ যে বইগুলো পড়েছি : নিকোলাস বোরিয়াদের এসতেসিকে রিলেশনেল, মিশেল ফুকোর মই, পিয়েরে রিভিরে, আর এডগার অ্যালান পোর ন্যারেশন এক্সট্রাঅর্ডিনিয়ারিস। তিনটাই রিকমেন্ডেবল।

আমি সব ধরণের গান ভালোবাসি: জাস্টিস, দি ইথিওপিয়ান্স, সিলভেরিও, আমোন, তোবিন, ওস মুতানসেস… কয়েকটারই নাম নিলাম মাত্র।

 

ড্রাগস নেন? এইসব চরিত্র আর অবচেতন দুনিয়াটার খোঁজ পেতে কিছু নেয়া লাগে? ধ্যান করেন?

আমি মনে করি ড্রাগস নেয়া ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হিসেবে চমৎকার হতে পারে, আমাদের নিজেদেরকে আরো ভালো করে জানবার জন্য। আর হ্যাঁ, কখনো কখনো পার্টি করার জন্যও।

এখন, আমার চরিত্রগুলো খুঁজে পেতে ও তৈরি করতে, ওসব লাগে না। আমি বরং প্রাত্যহিক ধ্যানের ভেতর দিয়েই এদের খুঁজে পাই।

 

আপনার কী মনে হয় আপনি যেসব কাজ করেন সেসব সংরক্ষণ করা উচিত বা এসবের টিকে থাকা উচিত?

আমি আসলেই জানি না, আর এসব নিয়ে আমার মাথাব্যথাও নেই। আমার পয়েন্ট হচ্ছে, আপনাকে পুরো প্রক্রিয়াটার ভেতর দিয়ে যেতে হবে, ফলাফল নিয়ে তেমন মাথা না ঘামালেও চলবে।

 

গ্রাফিতির সাথে সম্পর্কটা কিসের আপনার? সড়কচিত্রের সাথে?

১৯৯৭-তে অ্যালবে, ব্রুট, নাদের মতো আমার কিছু বন্ধুর সাথে, যারা অনেকদিন ধরেই আঁকছিল, আমি আঁকা শুরু করি। সময়ের সাথে আমি অক্ষরের বদলে চরিত্রের দিকে ঝুঁকে পড়ি, আর তারপর বিস্তৃত নান্দনিকায়নের দিকে। আমি সবসময়ই এমন কিছু খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করি যা আমাকে উদ্দীপ্ত করবে। কেউ কেউ মনে করেন, আমি গ্রাফিতি দিয়ে শুরু করেছিলাম, তারপর সড়কচিত্রের দিকে গেছি। এটা একেবারেই সত্য না। আমি মনে করি, শুরু থেকেই, আমি সড়কচিত্র আঁকতাম, আর এখনো তাই এঁকে চলেছি। পরিবর্তন যা এসেছে, সেটা দৃষ্টিভঙ্গি আর পরিপক্কতায়, আর আমার কাজ থেকে অর্জন করা অভিজ্ঞতায়। এখনো, আমার অনেক ভালো বন্ধু আছে গ্রাফিতি আন্দোলনে, আর সড়কচিত্র আন্দোলনেও। আমি যা করি, তা আদৌ গ্রাফিতি কিনা, সেটা প্রতিষ্ঠা করতে গেলে আমরা জটিল এক বিতর্কে জড়িয়ে যাবো।

 

এসকিফের একটা টিপিকাল দিনের বর্ণনা দিন।

ঘুম থেকে ওঠা/ইন্টারনেট/আঁকাআঁকি/কম্পিউটার/খাওয়া/ঘুম/কম্পিউটার/আঁকাআঁকি/বন্ধুদের সাথে চা অথবা বিয়ার/খাওয়া/ইন্টারনেট/আঁকাআঁকি/ঘুমোতে যাওয়া। আর সপ্তাহে এক বা দুইদিন সড়কচিত্র আঁকা।

 

বার্সেলোনার সড়কচিত্রসংক্রান্ত আইনের বিধিনিষেধের ব্যাপারে কী ভাবেন?

বার্সেলোনা এক অর্থে অত্যন্ত আধুনিক আর কজমোপলিটান শহর। সাংস্কৃতিকভাবে, এটা অত্যন্ত শক্তিশালী, আর বছর পাঁচেক আগে, এটা সম্ভবত ইউরোপের গ্রাফিতি রাজধানী ছিলো। এই বড়ো শহরের আত্মপরিচয়ই গ্রাফিতিচিহ্নিত, আর বহু পর্যটক হয়তো এই কারণেই শহরটিতে যেতেন। কিন্তু গ্রাফিতি শুধু ম্যাকবার পাশের সুন্দর দেয়ালটিই নয়। গ্রাফিতি গত কয়েক বছর ধরে ছড়িয়ে পড়া ফ্লপস আর ট্যাগসের একটা বিস্ফোরণও বটে। বার্সেলোনা ভারসাম্য রাখতে পারছিলো না, আর তাই, গ্রাফিতিকে ঠেকাতে চাচ্ছিলো এর সকল রূপেই। ব্যাপক জরিমানা বিস্তৃত উৎপাদনগুলোকে ঠেলে দিয়েছে মফস্বলে, কিন্তু উপকণ্ঠের গ্রাফিতিশিল্পীরা এখনো ফ্লপস আর ট্যাগস করেই চলেছেন।

 

আপনার শিল্প-অভিযানের ব্যাপারে কোনো মজার গল্প বলার আছে?

একদিন, আমি পুলিশকে বোকা বানানোর জন্য আমার এক বন্ধুর দরজায় পেইন্ট করছিলাম, যেনো আমি অবৈধ কিছু করছি ভেবে তারা আমাকে আচমকা ধরে ফেলতে পারে। মুখোমুখি ভবনের প্রথম ফ্লোরে আমি একটি ক্যামরেকর্ডার রেখেছিলাম, এবং রেকর্ড করেছিলাম সবকিছুই… পরে এই ভিডিওটা দেখে খুব হেসেছি!

আগামী কয়েক মাসে কী আসছে? শো, ভ্রমণ ইত্যাদি…

এখনো নিশ্চিত হয় নি, এমন প্রকল্পের ব্যাপারে কথা বলতে ভালো লাগে না আমার। আমি একটু কুসংস্কারগ্রস্ত, কারণ এটা অসংখ্যবার ঘটেছে, যে আমি কোনো প্রকল্পের কথা বলেছি আর সেটা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করতে পারি নি। কিন্তু আমি ছবিগুলো দ্যাখাবো, সত্যি!

 

আপনার সত্যিকার উদ্দেশ্য কী?

জীবনে আমার সত্যিকার উদ্দেশ্য হল বেঁচে থাকা। এই পথের সবচে গুরুত্বপূর্ণ অংশ খোদ পথটাই। এ’ অনুধাবনটা আমার যা আছে তাই নিয়েই সুখে থাকতে প্রেরণা যুগিয়েছে আমাকে, আমি অন্যের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত না করে আমার নিজস্ব স্বাধীনতা খোঁজার প্রয়াস চালাই।

 

প্রজ্ঞার কোনো বাক্য?

শান্তি একটা বাল!!!

আপনাকে ধন্যবাদ, আর ফ্যাটক্যাপ দীর্ঘজীবী হোক!!!

আপনাকেও ধন্যবাদ, এসকিফ!!!

লেখা সম্পর্কে মন্তব্য

টি মন্তব্য

%d bloggers like this: