home কবিতা গুচ্ছ কবিতা ।। শাহ মাইদুল ইসলাম

গুচ্ছ কবিতা ।। শাহ মাইদুল ইসলাম

কামিনী ফুল গাছ
 
কামিনী ফুল গাছ দেখা হলো।
 
বাড়িতে ছিল একটি কামিনী ফুলের গাছ।
সরল কাণ্ড সহজ সবুজ পত্রালি।
আমরা তাকিয়ে ছিলাম পরস্পরের দিকে।
 
সাধ্যাতীত আকৃতির একটি কামিনী ফুল গাছ।
ক্রমশ বেড়ে উঠছিল। আমি তাকে বাড়িয়ে তুলছি।
 
আজকে আহলুদ রোদের দিন।
একটি কামিনী ফুল গাছ।
আমরা তাকালাম পরস্পরের দিকে।
 
 
তোমার চোখ
 
আসমান খচিত চোখ, চোখের কথা হচ্ছে; 
পরপর সাজিয়ে রাখা চোখগুলো, চোখ 
গড়াতে শুরু করে, ছড়িয়ে ছিটিয়ে—
একটা ইষদচ্ছ আচারের বয়ামে, নিচ্ছিদ্র 
মাঠে, ঢেউসবুজ পাতায়, তোমার চোখের 
ভেতরে। তোমার চোখের ভেতর সবুজ 
গাছপালা, তৃনভূমির প্রতি অনুভূতি।
 
আমি তোমাকে দেখার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।
তুমি ঘুমাইতেছ, ঘুমোও; তুমি জানো আমিও 
তোমার মতো ঘুমাই, আসমান খচিত 
চোখের ঘুম। আকাশের নীল, এক রকমের 
ত্বকের অসুখ। বিনিদ্র মাঠ খোলা ও পঠিত না 
হওয়া। অন্ধকারে ছেয়ে আছে, চাঁদও নেই;
তুমি তাকালে—আমি প্রাণ পেয়ে যাই।
 
 
শরীর, আচমকাদাগে ভর্তি  
 
শরীর, আচমকাদাগে ভর্তি—
আমি শেখার চেষ্টা করছি তুমি তোমার ত্বক
অভিন্ন
আমি আশ্চর্যভাবে অনুভব করি
অনুভব করি তুমি ছাড়া কোন জীবন নেই
আমার দুরুদভর্তি হৃদয়ে বেড়ে ওঠো
বেড়ে ওঠো
নিবিড় চওড়া
 
নিবিড়তম হে গাছ
দানবিক দুর্বোধ্যতা মেলে ধরে আছো
চোখ, অসহায় আলিঙ্গন করে তোমার আয়তন
চওড়া এক ফালি
 
প্রতিটি অনায়াস তোমার যাদু করেছে
আমাকে চিৎ
উপুড়
করেছে, আমার চোখ ফেড়ে
জীবনের  সবিনয় ঘুম, তোমার
অত্যুচ্ছল নগ্নতার দিকে  
 
তোমার চোখের দ্বিধার ভেতর
অল্প খোলা তুমি, আঁঠালো ফাঁক গলে চুঁইয়ে
পড়ছো 
দুপুরের অশোক আলোয়   
সরল ও সোনার
থিরবিন্দুতে, টুকরো-টুকরো
গভীর
রক্তবর্ণ ব্যঞ্জনধ্বনি, আমার কণ্ঠস্বরের
দিকে তেড়ে আসে 
আজ ও চিরদিকের জন্য
আমি অর্ধমৃত 
 
শরীর, আচমকাদাগে ভর্তি—
আমি আশ্চর্যভাবে তোমাকে অনুভব করি
অনুভব করি তুমি ব্যতিত শরীরে
সদয় ইচ্ছা অবশিষ্ট নাই
 
 
দৈব বৃক্ষ
 
বড়মুখ করে চোখের পাতা
নির্ণিমেষ তাকিয়ে আছি
হে দৈব বৃক্ষ—পালন করছি তোমারই হুকুমত
রক্তনাড়া দেখছি, হাসিও
কাঠ চেরাইয়ের ঘুমের ভেতর 
 
আমফুলের ছায়ায় মৃত মাছেরা
চোখ মটকে আছে—
লাগাতার ঘুমের শোরগোল থেকে যেন ডাঁই করে রাখা
করাতদুপুরে ফুলকি ছুটছে আহাদের
 
ভারবাহী একটা ঝানু ট্রাক নিঃশব্দে মাড়িয়ে গেলো
হৃদয় নিংড়ানো পথ
 
 
আমার মৃত বোন
 
আমার মৃত বোনকে মনে আসছে 
বাইরে জোড়ভ্রু বৃষ্টি, লালজামা ভিজে 
উঠোনে সপসপে হয়ে যেতো
 
সে ছিল বুক ধড়ফড়ে সুন্দর
সহসা আমার নিকটবর্তী বোন
কাজলটানা হরিণী চোখের
 
সে বিষণ্ন খেলাফত দান করে গেছে আমাকে
বাইরে জোড়ভ্রু বৃষ্টি, সপসপে উঠোন
আমার অবোধ্য বুকে বোন জমছে
 
 
অন্তঃসত্ত্বা মেয়েটি
 
অন্তঃসত্ত্বা মেয়েটিকে দেখছি।
একটা মতোমুখ গাছ, নির্জলা দাঁড়িয়ে—
অস্তিত্বের শেকড় ফলাচ্ছে।
 
আত্মার গহীন ভেতরে তার শব্দহীন
 
প্রতিধ্বনি, নিবিড় চওড়া—
একটি অনুভব সমুদয়, একটি হৃদয় ধুকপুক
নিঃশব্দ
সচল…
আমার মধ্য দিয়ে নিয়ত প্রবহমান
দীর্ঘবাহু কুণ্ডলী—
 
তার পত্রালি সহজ সবুজ।
 
 
 
বাড়ি ফেরার কবিতা
 
বাড়ি ফেরার মাঝে আছি
সারাটা ভেজাদিন আমার মনের ভেতর 
ঝুঁকে আছে শব্দ করা শিশুগাছ
অয়োময় কোলাহল
 
আমার একা মা তীব্র ওইখানে 
নিম্নস্বর বসে আছে
বোনের চাদরে আমার সমস্ত শরীর ঢাকা
প্রতিবেশে সমানে নিম্নচাপ ঘটছে
 
আমার বাবার ভেতর এক সোনাব্যাঙ
স্বেচ্ছাধীন বর্ষায় তারস্বরে চেঁচাচ্ছে
বাবার দুঃখিত মৃত্যুতে কখন লাফ দিয়ে 
ভেতরে ঢুকে গেছে টেরও পাইনি
 
বাড়ি ফেরার মাঝে আছি
সারাটা ভেজাদিন আমার মনের ভেতর 
ঝুঁকে আছে শব্দ করা শিশুগাছ
অয়োময় কোলাহল
 
 
তুমি বাগান ভর্তি
 
চিরদিকের সূর্যের
নিচে
হৃদয় নিংড়ানো দুপুর
বাগান ভর্তি
 
তুমি সবুজ বাগানের ভেতর
হাঁটাহাঁটি করছি
আত্মার চোর ফুঁটো দিয়ে দেখছি
অনাবিল শস্যক্ষেত তিরতির—
কাঁপছে… বাতাসে ছড়ে আছো
আকাশে মিশে আছো
চিল চড়ুই
ফুল
ও পাতার
 
শ্রী পাহাড়ের দিকে
দু’চোখ হাসতে বেরিয়েছি
পরিপূর্ণ দুপুরালোয়
আসবুজ জ্বাজ্বল্যমান বৃক্ষের—  
অবর্ণনীয় শরীর; চিরহরিৎ পত্রালি
দিকফেঁড়ে ডালপালা
খানাখন্দ
উঁচুনিচু গড়াপেটা
 
চিড়বিড়ে দুপুরের ডালপালাগুলো
ছায়াটুক ঝোঁকের উপর
সন্ধ্যা যেন
শংকায় গা গুলিয়ে উঠলে—
কতকটা পাখি এসে
দম ধরে
বসলো
 
কড়া মেশানো চোখে তোমার
ঝগড়া বাড়ছে
ভালো অশান্তি আহা নিরলস সর্বাঙ্গে
দয়া দেখাবার মতন পূর্ণ স্বাস্থ্যবতী
তোমাকে সুখী ঈশ্বরী দেখাচ্ছে
নিয়ত কম্পমান; ছড়ে যাওয়া, সংকোচিত
হওয়া
অনাবিল শস্যক্ষেত
নকশাআঁকা প্রচুর পাখি,
উড়ছে…
 
অপার আয়তনে তোমার
বুদ্ধ দিনের হাসি
চিরভরা ষড়যন্ত্র, চিরভরা ষড়যন্ত্রে
হাসিগুলো জামা-জুতো
পরছে না
হতোদ্যম হয়ে আছি
হাসির তলানীতে জমছি
নিংড়ানো সবুজের
নিচে
মানুষের গুটিয়ে যাচ্ছি
 
সারা-তুমি আকাশ আলোয় ভরা
হাসি হাসো
যে নকশা ও কৌশলে
অস্থির ক্রিয়াবিধি এই
সারানিকটদূর বৃক্ষপনা
তোমার রক্তের ভালোবাসা
দিয়েছ কাহারে
 
ভালো উদ্ভাসিত সূর্যের
নিচে
দুপুরের অনায়াস দেখার আয়তক্ষেত্র
সহসা রঙের পেড়ে বসে আছি আর শবদিকে
আল্লারওয়াস্তে ধক করা
শব্দ
চিরদিকের দিকে বাঁকিয়ে দিচ্ছে 
মনের অবস্থা
ডাঁকসাই
আলামত বেড়ে সঙ্গিন হচ্ছে
 
তোমার গহীনে ক’গুণ
গহীন হ্রদ
কতটা চিলতে মাছ হল্লা করে
নোনা ও মিঠে রোদ
 
তুমি বাগান ভর্তি
তুমি সবুজ

লেখা সম্পর্কে মন্তব্য

টি মন্তব্য