আর্টিস্ট জিহান করিমের ইন্টারভিউ | আলাপকারী : মনোরম পলক

জিহান করিম ১৯৮৪ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণকারী একজন অডিও-ভিজ্যুয়াল শিল্পী; মুভিং ইমেজ, ইনস্টলেশন, শব্দ এবং পেইন্টিংয়ের সংমিশ্রনে কাজ করেন। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে পারফরম্যান্স আর্ট নিয়ে কিছু কাজ করেছেন। তিনি ভিডিও, স্থান, মনিটর এবং অবজেক্টের সিনট্যাক্সের মাধ্যমে সময়, স্থান এবং সামাজিক সমস্যাগুলির সূক্ষ্মতা অনুসন্ধান করেন। জিহানের কাজ ভার্চুয়াল এবং বাস্তবতার মধ্যে একটি নতুন কথোপকথন তৈরি করতে চায়। তিনি ‘যোগ আর্ট স্পেস’ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। জিহান ঢাকা আর্ট সামিট ২০১২, আন্তর্জাতিক শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভাল ২০১২, বাংলাদেশ এশিয়ান আর্ট বিয়েনলে ২০১২, ২০১৪, পঞ্চম ফুকুওকা এশিয়ান আর্ট ত্রৈমাসিক ২০১৪ সহ বিভিন্ন প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছিলেন।

জিহান করিম
আলোকচিত্রী : মনোরম পলক
তিনি ছবিমেলা “শূন্য” তে ফেলোজদের নিয়ে একটি সেকশন কিউরেট করেছেন। জিহান করিম এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো “ছবিমেলাতে ” কিউরেট করলেন। “ছবিমেলা শূন্য” শিরোনামে, এই অনুষ্ঠানটি চলতি বছরের ১২ থেকে ২১ফেব্রুয়ারি সদ্য নির্মিত দৃকপাঠ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। পান্থপথে অবস্থিত এই বিল্ডিংটির নকশা করেছেন প্রখ্যাত স্থপতি বশিরুল হক।
 
করিম বিভিন্ন মিডিয়ামের ১৪ জন শিল্পীর সঙ্গে মিলে জীবননানন্দ দাশের “বোধ” কবিতাটি নতুন রকমের ইন্টারপ্রিটেশন করেছেন।
করিম নিজেও, এশীয় অঞ্চলে বড় আকারের ভিডিও ইনস্টলেশনের জন্য পরিচিত, গত কয়েক বছর ধরে কিউরেশনে হাত পাকাচ্ছেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চিত্রাঙ্কন নিয়ে অধ্যয়ন অধ্যয়ন করেছেন, এবং বর্তমানে সেখানে তিনি সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।
 

ছবিমেলা চলাকালীন সময়ে দৃকপাঠে এই ইন্টারভিউ করেছেন মনোরম পলক।


বেসিকালি প্রাকটিসটা শুরু হয় খুব অদ্ভুতভাবে।সেটা হচ্ছে স্কুল লাইফে আমার বন্ধুরা সবাই প্রাক্টিক্যাল খাতা আমার কাছে দিত।


মনোরম পলক :  জিহান ভাই কেমন আছেন?

জিহান করিম :  খুব টেনশনে আছি।

প :  কী নিয়ে টেনশন?

জি :  মানে, যা হয় আরকি এক্সিবিশনের আগে কিছু কাজ এখনো হাতে এসে পৌঁছায় নাই, হাতে সব কাজ থাকলে এক ধরনের স্বস্তি থাকে। এরপর শুধু ডিসপ্লে করা, হ্যাং করা। কিছু কাজ যখন একেবারে গ্রিপে থাকে না তখন অন্যরকম টেনশন কাজ করে।শেষ মুহূর্তে তোড়জোড়টা বেশি হয়ে যায় আরকি। এটাই তো। চাওয়ার টেনশন।

প :  আচ্ছা।আপনার শুরুর দিকটা যদি বলতেন.. আপনি কোথা থেকে পড়াশোনা করেছেন? ভিজুয়াল মিডিয়া নিয়ে যে কাজ করবেন, এটা কি আগে থেকে নিশ্চিত ছিলেন নাকি কোন একটা প্রসেসের মধ্য দিয়ে বুঝলেন?

জি : একদম ছোটবেলা থেকে তো না, ছোটবেলা থেকে যেটা ছিল যে আমি সাইন্সের ব্যাপারে প্রচণ্ড আগ্রহী ছিলাম।যেকোন ধরনের আবিষ্কার আমাকে খুব মজা দিত।ইনফ্যাক্ট ছোটবেলায় সাইন্স প্রজেক্ট বেসিক্যালি আমাকে খুবই টানতো। অনেকভাবেই ভাবার চেষ্টা করতাম যেহেতু আমাদের পারিবারিক অবস্থা অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ভাল ছিল না। আমরা জয়েন ফ্যামিলি ছিলাম। অনেক ফ্যামিলি মিলে একসাথে থাকতাম।একটা মটর দিয়ে ফ্যান চলে এটার জন্য মোটর পার্টস ব্যবহার হয়।ফ্যানের উপরের অংশটা আমি চাইলে পয়সা থাকলে কিনে নিতে পারি। কিন্তু ভাবতাম এটার অল্টারনেটিভ কি হতে পারে। তখন আমি কিছু প্লাস্টিক জোড়া দিয়ে বানাচ্ছি।একটা আমড়া গাছ ছিল, আমরা গাছের আঠা দিয়ে করা যায় কিনা ভাবতাম।

প : শেষমেষ যেটা করেছিলেন সেটা আমড়া গাছের আঠা দিয়ে?

জি :  হ্যাঁ! কিন্তু ওটার  আসলে ইলাস্টিসিটি এত বেশি যে যখন আপ-ডাউন করতো তখন আস্তে আস্তে খুলে যেত।ওয়ার্ক করে নাই।আমি যেটা বলতে চাচ্ছি, একটা কাইন্ড অফ অল্টারনেটিভ জায়গা থেকে কোনো কিছু তৈরিকরার এই জিনিসটা চলে আসছে বারবার আমার জীবনে। তো আমার মনে হয় ওইটার একটা প্রভাব পরবর্তীতে আমার কাজে পড়েছে।

প :  আচ্ছা।

জি :  আমি যখন প্রাক্টিসে (আর্ট) যাই তখন ভাবার চেষ্টা করি এটার আসলে অল্টারনেটিভ বা কোন কাউন্টার প্রাক্টিস হতে পারে কিনা।ওটার কোনো ল্যাঙ্গুয়েজ ডেভলপ হতে পারে কিনা।আমি যখন চারুকলায় ভর্তি হলাম, নিয়মিত বিভিন্ন প্রদর্শনীতে যাওয়া শুরু করলাম।বিভিন্ন আর্টিস্টের কাজ দেখা শুরু করলাম।ইনফ্যাক্ট যখন আমরা দলবেঁধে ইউনিভার্সিটি থেকে ঢাকায় আসতাম এশিয়ান এবং  বড় এক্সিবিশনগুলো দেখতে, তখন এক ধরনের ব্যাপার ছিল যে আমার মনে হতো এই জায়গায় আমি কখনও পৌঁছুতে পারব কিনা! এক একটা পেইন্টিং বা ইনস্টলেশন হিউজ। যখন ইনস্টল করছে, দেখছি আর ভাবছি যে আসলে এটা তো আমার দ্বারা কখনো করা সম্ভব হবে না। এটাই মাথায় আসতো। 

এই ধরনের চিন্তাগুলো নিয়ে আবার চিটাগাং ব্যাক করতাম এবং ভাবতাম এটা এখানে ওটার মতো করে করলে কেমন হয়? 

মানে অল্টারনেটিভ-ভাবে করলে কী হয়? এই আর কি! এর একটা হাস্যকর উদাহরণ হচ্ছে আমরা ফারুকীর (মোস্তফা সরয়ার ফারুকী) একটা ওয়ার্কশপ করছি সিনেমার।ফারুকী ভাই তখন বলছিল যে, একটা স্ট্রাকচার চিন্তা করেন যেখানে যেকোনো স্ক্রিপ্টে হলিউড একটা ফিল্ম বানালে তারা দেখা যাবে ওদের সর্বোচ্চটা দিয়ে বানাচ্ছে। মানে যেটা দিয়ে করলে পারফেক্ট হবে। ধরেন হাফ ইঞ্চি স্ক্রু লাগবে এবং ২ মিলিমিটার প্রোডাক্ট এর দরকার পড়বে।হলিউড হাফ ইঞ্চি স্ক্রু এবং ২ মিলিমিটার প্রোডাক্টই দিবে।এটা যদি বলিউড করে তাহলে ওটা হয়তো ওরা কাঠ দিয়ে করবে, কিন্তু করবে ভালো। এক ধরনের মেকআপ দিবে। একটা হচ্ছে একেবারে রিয়েল অবজেক্ট আরেকটা হচ্ছে ইমিটেশন।এক ধরনের ইমিটেশন দিয়ে মোটামুটি ওরা ভালো করে ফেলার চেষ্টা  করবে।আর যদি বাংলাদেশ করে তো ডেফিনিটলি সেটা আলিফ লায়লা করবে। হা হা হা!

প :  হা হা হা!

জি :  আমাদের পুরোটাই হচ্ছে ইমিটেশন। ধরেন কাগজ-টাগজ লাগানো আছে, উড়তেছে।ওইটা খুব ফানি উদাহরণ ছিল। কিন্তু আমি ভাবছিলাম যে আসলে এটা কি এক ধরনের রিয়েলিটি নয় যে সবকিছু মিলিয়ে শুধু অর্থনৈতিক জায়গা থেকে দেখলে, আমাদের দেশের রিসোর্স সবকিছু মিলিয়ে ইমিটেশনটাই বেশি রিয়েল। 

চোখ (এক), ঢাকা আর্ট সামিট
আর্টিস্ট : জিহান করিম

প : একদম ঠিক!

জি : যখন আমি ইউনিভার্সিটিতে পড়ানো শুরু করি তখন আমি বুঝতে পারি আসলে যে আমাদের প্রতি ব্যাচে স্টুডেন্টগুলো আসে ওরা অনেক স্তর থেকে আসে। দেখা যায় ত্রিশ ভাগ আসে হিল থেকে।তো তাদের ইকোসিস্টেম, এক ধরনের বেড়ে ওঠা, তাদের আন্ডারস্ট্যান্ডিং ভিন্ন হবেই।তারা কোনো একটা কাজ প্রডিউস করার জন্য যে ম্যাটেরিয়ালস কিনবে, পয়সা সবকিছুর যোগান করবে, সবকিছুর একটা সাইকোলজি আছে। সবাইকে একভাবে বুঝতে চেষ্টা করা ঠিক না। এটা অথেনটিক না।যে যেই সোর্স থেকে আসছে তাকে আসলে ওইভাবে বুঝতে চেষ্টা করলে সেটা অনেক বেশি বেটার হয় এবং ওটা অনেক বেশি অথেনটিক। আমার এই আন্ডারস্ট্যান্ডিংগুলো বেসিক্যালি অনেক আস্তে ধীরে ছোটবেলা থেকে ডেভলপ হচ্ছিল।আমার যেহেতু সাইন্সের ব্যাপারে আগ্রহ ছিল, বরাবরই সাইন্সের সাবজেক্ট নিয়ে পড়াশোনা করেছি। কিন্তু অনেক কিছু হওয়ার ইচ্ছা ছিল।একসময় ভাবছিলাম সাইন্টিস্ট হব। মানে আমার আসলে খুব মজা লাগতো যে আমি কাউকে বলতে শুনতাম না আমি সাইন্টিস্ট হবো। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিবিএ-তে পড়বো, ব্যাংকে জব করব এগুলো তো ভুরিভুরি! মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হব, পুলিশ-টুলিশও আছে! আমার এক বন্ধু ছিল খুব ইন্টারেস্টিং! ওর ব্যান্ড পার্টি করার ইচ্ছা। মানে একেবারে যারা কুচকাওয়াজ করে।

 : একেবারে স্ট্রিটে?

জি : হ্যাঁ! যদিও সে এরকম কিছুই করেনি কিন্তু ওর ভয়াবহ আগ্রহ ছিল।তো আমার একটা চিন্তা ছিলো যে কেউ সাইন্টিস্ট হতে চায় না তাহলে এটা ইন্টারেস্টিং হয় কিনা।কিন্তু যাই ভাবছি পরিবারের জন্য…. বাবা-মায়ের খুব ইচ্ছা ছিল যে ছেলে নির্ভরযোগ্য কোনো একটা দিকেই যাবে।এবং এটাতে কোনো ভুল হবে না। মানে নির্ভেদ তীর গিয়ে ঠিকঠাক মতো পয়সার ঘাটেই লাগবে এই সবকিছু করতে করতে কলেজে লাইফটা কেটে গেল। এর মধ্যে আসলেই আমি কি করতাম মানে গ্রামের ছোটবেলা থেকেই কিছু কিছু পেইন্টিং করতাম।ভয়াবহ করতাম তা না। খুব প্রাক্টিস হত আমার….. বেসিকালি প্রাকটিসটা শুরু হয় খুব অদ্ভুতভাবে। সেটা হচ্ছে স্কুল লাইফে আমার বন্ধুরা সবাই প্রাক্টিক্যাল খাতা আমার কাছে দিত। এবং বলতো যে আমাকে এঁকে দে। তো ওটা একটা হিউজ প্রাকটিস ছিল আমার জন্য। আমি খুব আনন্দ পেতাম। সত্যি কথা বলতে অনেকে এক পাতার জন্য ৫ টাকা করে দিত। তো আমার তো তখন খুব ইয়ে ছিল, মানে পয়সা জমিয়ে বই কেনা। আমি খুব তিন গোয়েন্দা, মাসুদ রানা ওগুলো ওই সময়টাতে একদম…  হা হা হা.. তো আমি এটলিস্ট একটা খাতা ধরলে দুটো বই কিনতে পারছি, খারাপ না ভালো ইনকাম হচ্ছে।

 :  আপনার সবদিক থেকেই লাভ। যেটা করতে চাচ্ছেন সেটা হচ্ছে আবার প্র্যাক্টিসও হচ্ছে।

জি :  ইনফ্যাক্ট আরো প্রসারও হচ্ছে। এমন দেখা গেল যে, এমন একটা দিন ঘটছে যে আমার বাসায় আসে একজন। আমি চিনি না। বলল, আপনি নাকি প্র্যাকটিক্যাল খাতা আঁকেন। 

 :  নীলক্ষেতের মত একটি সিস্টেম হয়ে গেছিল।

জি :  আমাদের চিটাগাংয়েও ছিল। একটা জায়গায় একটা দোকানে করত সেটা। কিন্তু আমি তো আসলে ওভাবে পরিচিত না কিন্তু দেখা গেছে যে এটা কেমনে কেমনে ছড়িয়ে গেছে। কলেজ লাইফটা আসলে এভাবে কেটেছে, কলেজ লাইফে প্র্যাকটিক্যাল খাতা দিয়েই…. ওই প্রাকটিক্যাল খাতার পর আমার আসলে খুব ইন্টারেস্ট জাগে যে…ইনফ্যাক্ট আমি যখন একটা কোচিংয়ে পড়তাম তখন ওখানে কিছু টিচার ছিল যারা তখন ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট ছিল।

প : এটা কলেজে ছিল? কলেজে কোচিং করতেন?

জি : এটা স্কুল-কলেজ সময়কালটা ১৯৯৯ থেকে ২০০৩। এ সময়টা।

প : কোচিং এর নামটা কি ছিলো?

জি : কোচিংটার নামটা অদ্ভুত, নিবা। এটার কোন ইলাবোরেশন নাই আসলে, NIBA। যাই হোক, কোচিংটা যে খুবই প্রচার-প্রচারণা পাইছে তা না। একজনের বাসায় দুই-তিনজন সিনিয়র টিচার ছিল সে আরও কয়েকজন ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট মিলে জাস্ট পড়াত এই আরকি। তো ওখানে যারা ছিলেন তারাও পরবর্তীতে ইউনিভার্সিটিতে জয়েন করেন। কিন্তু কয়েকজন টিচার পেয়েছিলাম যারা আসলেই অনেক মজার ছিলেন। পাঠ্যবইয়ের বাইরে অন্যান্য বই এবং অন্যান্য বিষয়ে কথা বলার ইন্টারেস্ট তারাও ফিল করত এবং আমরাও খুব ফিল করতাম। তো ওখানে একজন সাইন্সের টিচার ছিল।আমার মনে আছে, মোশারফ হোসেন। উনার আসলে সাইন্সের ব্যাপারে খুব আগ্রহ ছিল।যে কোনো প্রশ্নের জবাব চাইলে ওনার কাছে সেই উত্তরটা আছে।একেবারে যে কোনো প্রশ্ন! মানে হঠাৎ দেখা যাচ্ছে, স্টিফেন হকিন্সের “অ্যা ব্রিফ হিস্ট্রি অফ টাইম” যে বইটা বের হলো ওটার তো আগা-মাথা কিছু বুঝতে পারছি না।কিন্তু আমি জিজ্ঞেস করছি যে আপনি একটু বলেন না ব্লাকহোল নিয়ে।তো ওনার ক্লাস শেষে, দেখা যাচ্ছে ক্লাস শেষে ১ ঘণ্টা উনি আমাদের ব্লাকহোল বোঝালো। শুধু আমাকে না, আরো কয়েকজন স্টুডেন্ট ছিল। সেই একইভাবে আরো একজন শিক্ষক ছিলেন যিনি বাংলা পড়াতেন।ওনার সাহিত্যের ব্যাপারে খুবই ভালো ধারণা ছিল। উনি আমাদের অনেকগুলো রাইটারের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।ইনফ্যাক্ট সত্যি কথা বলতে পশ্চিমবঙ্গের অনেক রাইটার এবং ওনার কাছে প্রথম পোস্ট মডার্ন কবিতা সম্পর্কে ধারণা পাই। আরেকজন ছিলেন, উনিও বাংলা পড়াতেন। ভাগ করে দুজনেই আমাদের পড়াতেন।উনি ছিলেন চারুকলার। ওনার কাছ থেকে আমি আরো বেশি পেইন্টিংস, কালচার, বিশেষ করে ফিল্মের  ব্যাপারে জানতে লাগলাম। উনি এই মুহূর্তে ফিল্ম নিয়ে স্বল্প পরিসরে কাজ করছেন ঢাকাতে।

তখন  চট্টগ্রাম চলচ্চিত্র কেন্দ্রে আমরা সদস্য হিসেবে জয়েন করি ওনার হাত ধরেই।উনিই বললেন যে তোমরা ফিল্ম সোসাইটিতে যাও। এটলিস্ট ফিল্মটা দেখো।তো ফিল্ম সোসাইটিতে যাওয়ার পর যেটা হলো একেবারে টেক্সট বুকের মতো করে কিছু সিনেমা একেবারে দেখে ফেলা হলো। ঋত্বিক ঘটক দেখলাম, তারপর হচ্ছে…………. 


যখন আপনি একটা জিনিস অবজার্ভ করছেন ওটা অনেকক্ষণ ধরে আপনাকে স্কেচ করতে হচ্ছে এটা কাইন্ড অফ রিয়েলি মেডিটেটিং।


প : ওই ফিল্মগুলো এফেক্ট করল.. 

জি : ডেফিনেটলি! মানে আমাকে যে’কটা ফিল্মমেকার খুব বেশি ইনফ্লুয়েন্স করে এখন বা আমার কিছু কাজে হয়তোচলে আসে। অনেকেই আমাকে বলে তাদের প্রভাব আমার কাজে। তার মধ্যে সবগুলোই ওই সময়ে দেখা ফিল্মমেকার। ওই সময়ে তো এখনকার মত চাপ ছিল না।ব্লেসিং যেটা ছিল যে মোবাইল ছিল না। তখন তো আসলে সময় কাটানোর এটাই আসল মাধ্যম। ফিল্ম দেখা।

প :  কতদিন ফিল্ম সোসাইটির সদস্য ছিলেন?

জি : প্রায় ২-৩ বছর সদস্য ছিলাম। ওরা প্রতি মাসে  শুক্র-শনি শো রাখত।তো এভাবে লাগাতার একেকজনের টানা কাজ দেখাত।

প : তাহলে তো এটা ভালো ছিল যে ওনাদের সাথে এত আর্লি সময়ে ইন্ট্রুডিউস হওয়া।তাও আবার সিলেক্টেড, যাদেরটা দেখলে আরকি ইফেক্ট পড়বেই।

জি :  হ্যাঁ! হ্যাঁ! ওটা ডিফল্ট হয়ে গেছে। নাও হতে পারত। আমি হয়তো দেখতে পারতাম না।কোনো পরিকল্পনা ছিলো না। কিন্তু এটা বাই ডিফল্ট হয়ে গেছে। মাঝে মাঝে ফিল্ম নিয়ে আলোচনাও হয়েছে।স্কুল কলেজটা মোটামুটি উচ্ছন্নে যাওয়ার জন্য পারফেক্ট ছিল। 

প : তারপর যখন ইঊনিভার্সিটিতে গেলেন?

জি : কলেজ লাইফ এভাবে কেটে যাওয়ার পর বাবা-মার প্রচণ্ড ইচ্ছার জন্য আমি সরাসরি বিবিএ- তে এডমিশন নেই। পরবর্তীতে দেখলাম যে এইটাতে আমি পারব না। সম্ভব হবে না। এটলিস্ট যদি আর্কিটেকচার ডিসিপ্লিনে যাই তাহলে হয়তো কিছু করতে পারব।ওটায় সাইন্সও আছে আবার ইমাজিনেশনও আছে। পয়সাও কিছু কামানো যাবে। সার্ভ করা যাবে ফ্যামিলিকে। কিন্তু আমি রেজাল্টের কারণে কোনো ইউনিভার্সিটিতে চান্স কি ফর্মই কিনতে পাই নাই।তখন বুয়েট ছিল আর আহসানুল্লাহ ছিল। আহসানুল্লাহ প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান, বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার জন্য আসলে আমার পয়েন্ট আসেই নাই। আমার রেজাল্ট অতো ভালো ছিলো না ইন্টারে। সব মিলিয়ে বাদ গেল।বিবিএ-তে এক বছর পড়ার পর আমি ভাবলাম শেষ পর্যন্ত আমি চারুকলাই যাব। এটলিস্ট আমি আমার মতো করে কিছু করতে পারব। তো পরিবারকে না জানিয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেই এবং আমি বেশ ভাল রেজাল্ট করি। কিভাবে যেন ফার্স্ট হয়ে যাই। 

 :  প্রথম যে হবেন ভেবেছিলেন পরীক্ষা দেয়ার সময়?

জি : একদমই না। আমি যখন পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলাম, তখন ঢাকার একটা বিশাল ব্যাচ আসছিল।তখন ঢাকাতে কোচিং হয়, আমাদের এখানে কোচিং হয় না। ইনফ্যাক্ট আমার কোনো কোচিং ছিল না।আমার অভিজ্ঞতা ওই প্রাক্টিকাল খাতাগুলাই ।কোচিংয়ের ব্যাচ দেখতাম, ওদের প্রাকটিস দেখে আমি ভয় পেয়ে গেছি। আমার থিওরিটা ভালো পড়া ছিল।এটা একটা প্লাস পয়েন্ট হতে পারে। ৫০-৫০ নাম্বার ভাগ করা। আমার থিওরি পরীক্ষা ভালো হয়।প্রাক্টিক্যাল খারাপ হয়। কিন্তু আমি ভাবছিলাম যে আমি হয়তো টিকতে পারি লাস্টের দিকে।কিন্তু এইভাবে এগিযে যাব ভাবিনি। যাই হোক এরপর আমি ভর্তি হয়ে পরিবারকে জানাই আমি চারুকলায় পড়ি।

 : রিয়েকশন কি ছিল?

জি : আমার মা খুব প্রাকটিক্যালি বলছিলো যে, ঠিকাছে। পাশাপাশি তুই বি.কম’টা শেষ করিস। এরকম একটা পয়েন্ট রাখে আরকি। আমি বলছি ঠিকাছে, আমি চেষ্টা করব।তখন পাস কোর্সের মত করে কলেজে এটা করা যেত আরকি। এখন সেই সিস্টেমটা নেই।তো ফার্স্টে আমি দেখলাম আমার মত আরো ২/৩ জন বন্ধু তারাও তাদের পরিবারকে এই একই কথা বলে চারুকলায় এসেছে।আমরা আসলে বি.কম. ভর্তি হতে চাইনি।লাস্ট পর্যন্ত আমি আর হইনি কিন্ত আমার বাকি বন্ধুদের কিন্তু  বি.কম. পড়তে হয়েছে এবং পড়া শেষ করছে।এরপরের ঘটনা অনেক বড়।

 : ছোট করে যদি একটু বলতেন। স্কুল-কলেজে তো আপনি তখন ওয়ান্ডারিং। কি করব বা করবো না এরকম এক্সপেরিমেন্ট করছিলেন.. কিন্তু চারুকলায় যখন গেলেন তখন তো একটা মনের মতো বিষয়ের মধ্যে চলে গেলেন কাছাকাছি মাইন্ডসেটের সবাই।সবাই ট্রায়িং দ্যা সিমিলার থিংস। আপনার নিজের এনার্জিটা তো বেড়ে গেল যে অনেকের সাথে একসাথে ইনভল্ভড হতে পারলেন। অসুবিধা হলো কিছু?

জি : ভেরি ইম্পরট্যান্ট কোয়েশ্চেন। এটা দুইভাবে আনসার দিতে চাই।আমি যখন চারুকলায় যাই তখন প্রথম যেই অবজারভেশনটা ছিল সেটা হচ্ছে, মানে প্রথম আমি তো অনেক বেশি আগ্রহী… আমি ঘুরে ঘুরে দেখি কারা কিভাবে কাজ করে।ইনফ্যাক্ট চারুকলা আসলেই একটা পরিবারের মত। ফার্স্ট ইয়ার, সেকেন্ড ইয়ার অত বেশি ভ্যারাইটি নাই, ঝামেলা নাই।আমাদের কম্পার্টমেন্টটা এমন ছিল যে আপনাকে সব ইয়ারের রুম পার করে লাস্টে হচ্ছে ফার্স্ট ইয়ারের রুম।আপনি বাধ্য সবাইকে দেখে কথাবার্তা বলতে। যাই হোক, ওটা ছিল একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।কিন্তু অন্য একটা ব্যাপার যেটা প্রথম খেয়াল করি সেটা হচ্ছে যে এখানকার যারা স্টুডেন্ট ছিল চারুকলার তাদের একটা অংশ ছিল যারা চারুকলা ছাড়া বাকি সব কিছুর প্রতি অনেক ইন্টারেস্টেড। যেমন আমি প্রচুর ফটোগ্রাফার দেখলাম, ফিল্মমেকার দেখলাম, খুবই ভাল কবি-সাহিত্যিক দেখলাম। তারা সবাই চারুকলার স্টুডেন্ট। পলিটিশিয়ান দেখলাম, আন্থ্রপলোজি নিয়ে পড়াশোনা করছে, কাজও করার চেষ্টা করছে তাও দেখলাম। আরও অনেক ধরনের ইনফ্যাক্ট কমার্শিয়াল সেক্টর যেমন ব্যাংকারও দেখছি। মানে পরবর্তীতে সে পাশ করে ব্যাংকে জব করছে।       তো ফার্স্ট ইয়ার পার করে সেকেন্ড ইয়ার যাওয়ার পর যখন দেখি আমাদের সিনিয়র ভাইয়েরা আসলে এত দিকে যাচ্ছে, তখন ভাবলাম আসলে এটা হয়তো ডেফিনেটলি একটা পজেটিভ দিক।হ্যাঁ.. ডেফিনেটলি কারণ তার হয়তো এটাই ইচ্ছা ছিল।আরকটা বিষয় হচ্ছে এটা কাইন্ড অফ একটা প্যারামিটার যে আমি এখন চারুকলার! ওটা প্রথম দিকে একটা চাপইছিল। কিন্তু আস্তে আস্তে ম্লান হয়ে যায় যখন আমি ফোর্থ ইয়ারে উঠি। প্রথম তিনটা বছর তো একটু একাডেমিক থাকে, তো আমাদের খুব নিয়মতান্ত্রিক ব্যাপার ছিল যে এই ক্লাস হবে, স্কেচ করতে হবে।যেটা আমার বোর লাগত সেটাও অনেকদিন ধরে করতে হচ্ছে।কিন্তু ওটা যে পরবর্তীতে একটা মেডিটেশনের মতো একটা কন্সেন্ট্রেশন ডেভেলপ করে একটা জায়গায় নিয়ে যায় সেটা অনেক পরে গিয়ে বুঝছি। তখন প্রশ্ন ছিল এই প্রাকটিসগুলো কেন আমাদের জোড় করে করানো হচ্ছে।ওটাকে ডিনাই করে অনেকে কাজ করতে পারে কিন্তু আমি মনে করি ওটা আমার জন্য কাইন্ড অফ কাজে এসছে।

 : তার মানে কারিকুলামটা টোটাল ইউনিভার্সিটির যে ছিল ওটা নিয়ে আপনার কোন কমপ্লেইন নাই।শেষ করার পর মনে হইছে এটা আপনাকে হেল্পই করছে। 

জি : হ্যাঁ! একটা ছোট উদাহরণ দিয়ে বলি। যখন আপনি একটা জিনিস অবজার্ভ করছেন ওটা অনেকক্ষণ ধরে আপনাকে স্কেচ করতে হচ্ছে এটা কাইন্ড অফ রিয়েলি মেডিটেটিং।কারণটা হচ্ছে ওই কন্সেন্ট্রেশনটা আপনাকে প্রেস করবে খুব সততার সাথে জিনিসটা দেখার।এবং ওটা যদি এক নাগাড়ে করতে থাকেন।ধরেন যে এই সুইচবোর্ডটা যদি আমি ১০ দিন টানা স্কেচ করি তাহলে দশম দিনে খুঁজে পাবেন ওর ডেপ্থ অফ ফিল্ড, ওর পার্সপেক্টিভ সব আপনার কাছে আরো ধীরে ধীরে সহজ হতে থাকবে।তো ওটার একটা পজেটিভ পয়েন্ট আমি দেখতে পাই, পরবর্তীতে হয়তো আমার কাজে লাগবে।প্রথম দিকে একটু বোর হলেও পরে গিয়ে বুঝতে পারছি আমি এই এক নাগাড়ে একটা জিনিস দেখে প্র্যাকটিস করেবা শুনে প্রাকটিস করার…. এই জিনিসটা একেবারে হাতের কব্জিতে নিয়ে আসা এইটার একটা আসলে ভ্যালু আছে। এটা পরবর্তীতে কোনো না কোনোভাবে কাজে আসে। আমার কাছে মনে হয়।ফোর্থ ইয়ারে এসে যখন আস্তে আস্তে ম্লান হতে থাকে সবকিছু তখন অনেকগুলো নতুন ফেইসের সাথে পরিচয় হতে থাকি যারা আসলে শুধু যে পেইন্টিং, স্কাল্পচার করে এমন না। এগুলোকে ভেঙেচুড়ে আরো আরো অনেক ধরনের কাজ করছে। ইনফ্যাক্ট অনেকে কোলাবরেশন ওয়ার্ক করছে বিভিন্ন বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের সাথে।তখন আসলে আমার মনে হলো যে সম্ভবত চারুকলা হচ্ছে যে একটা মাধ্যম হতে পারে মাত্র।ইনফ্যাক্ট চারুকলা না শুধু যেকোনো ডিসিপ্লিনের সাথে কোলাবরেশন করে কাজ করার সুযোগ আছে। 

প : এখন তো আপনি প্র্যাকটিসের পাশাপাশি শিক্ষকতা করছেন। প্রাধান্য কোনটাকে বেশি দিচ্ছেন? নাকি একটা আরেকটার পরিপূরক হিসেবে কাজ করে? নাকি অনেক সময় দেখা যায় একটা আরেকটার সাংঘর্ষিক?

জি : বরং এটার একটা সুবিধা যে আমি যেটা প্রাকটিস করি সেটা নিয়েই কথা বলি স্টুডেন্টদের সাথে। এটা আমার দিক থেকে পজিটিভ। ইনফ্যাক্ট সবার দিক থেকেই হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। আমি নিজে খুব বেশি সাংঘর্ষিক মনে করি না। দেখা যায় আমার আইডিয়োলজি থেকে শুরু করে চিন্তা-ভাবনা সব কিছু ইউনিভার্সিটি টাইম এবং বাইরের টাইম সব মিলিয়ে মোটামুটি একই পরিমণ্ডলে থাকি। এখন আমি যদি অন্য কোনো ডিসিপ্লিনে থাকতাম তখন ডেফিনেটলি সাংঘর্ষিক হতো। আই মিন ওই ডিসিপ্লিনটা আমাকে এক ধরনের চাপ দিত। ধরেন যে আমি একটা ফার্মে ভিজুয়ালাইজার হিসেবে কাজ করছি তাদের পারপাস সার্ভ করতেই হতো। এখন যদি আমি আমার আর্ট প্র্যাক্টিসটা একই প্যারালালে বলবৎ রাখি একটা অপরটাকে চাপ দিত। কিন্তু এখন যেহেতু একই বিষয়ে শিক্ষকতা করছি এটা একটা সুবিধা।

: যখন ছাত্রদেরকে পড়াচ্ছেন তখন সম্পর্কটা কি রকম আপনাদের? ফ্রি নাকি একাডেমিক ফর্মালিটি থাকছে বা ওদের প্রভাব কি আপনার প্রাকটিসের ওপর পড়ে?

জি : হ্যাঁ, একটু তো পড়ে। আমি খুব টেনশন ফিল করি ওদের জন্য। ওরা খুব টেনশন-ফ্রি থাকে। যখন একটা এসাইনমেন্ট দেয়া হয় আমাদের মধ্যে অনেক ধরনের কনভার্সেশন হয়। আমি যখন দেখি কেউ হয়তো প্রপারলি করতে পারছে না বা হয়তো কম সময় দিতে চাচ্ছে, যদি আমি দেখি যে এ কাজটা খুব ভাল একটা জায়গায় যায়, তখন আমি খুব টেনশন ফিল করি৷ ইনফ্যাক্ট লাগলে আমি তাকে পুশ করতে থাকি। এই বাহাসগুলো আমার ভিতরে আসলেই খুব প্রভাব ফেলে। আমার যেটা মনে হয় যে একটা জিনিস খুব ভালো হতে গিয়েও হলো না। মনে  হয় সেটা আমার দোষ না হয় তার দোষ।

: এখন আপনি আপনার পার্টনার সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন, উনি কী করেন?

জি : আমার ওইয়াফের নাম হচ্ছে ফিওনা। ও তাইওয়ানিজ। বেসিক্যালি ও পড়াশোনা শেষ করেছে ক্রিটিক্যাল আর্ট রাইটিংয়ের উপর। ও আপাতত অনলাইনভিত্তিক ওদের দেশের কিছু ম্যাগাজিনের সাথে কাজ করে। ও আবার অনুবাদকও। কয়েকটা ভাষা এক সাথে জানে। আমাদের ফুকুওকা এশিয়ান আর্ট মিউজিয়ামে দেখা হইছিল। এরপর থেকে ফ্রেন্ডশিপ।

: আপনারা কী নিজেদের কাজ নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন? আপনি হয়তো আর্ট করেন, উনি হয়তো ওইটা নিয়ে লেখেন। পার্সোনালি শুধু, না আলাদাভাবে কিছু বলছে?

জি : ও আমার কাজ নিয়ে কখনোই লেখে না। তবে ও আমার কাজটা খুব ক্রিটিক্যালি দেখে। এতে আমার সুবিধা হয়। ও আমারটা দেখে একটা দৃষ্টিভঙ্গি দেয়। আমি ওর কাজে একটা দৃষ্টিভঙ্গি দেই। আমরা তো যখনই কোনো শো দেখি একসাথে দেখি। তখন সেটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ইনফ্যাক্ট কাজ ডেভেলপ হচ্ছে, শো ডেভেলপ হচ্ছে এগুলার ব্যপারে ওর ইন্টারেস্ট থাকে। শো ওপেন হওয়ার পর আর দেখা হয় না।

:  আপনারা যেহেতু দুজন দুই দেশের মানুষ, প্যানডেমিক বাস্তবতাটা কেমন ছিল?

জি: এটা কাইন্ড অফ ব্লেসিং ছিল। কারণ ও প্যানডেমিকের সময় এসে আটকা পড়ে এবং এখনো আটকা আছে। আমরা প্রায় পুরো সময় একসাথে। সাধারণত ও যেটা করে ছয় মাস থাকে এখানে এবং দুই মাস তাইওয়ানে। সে জিনিসটা এবার আর হয় নাই।

: আপনি তো এশিয়াতে নিয়মিত আর্ট প্রদর্শনী করছেন বা দেখছেন। কোন দেশে আর্ট করে এবং দেখে  স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন?

জি: স্বাচ্ছন্দ্য ঠিক জানি না তবে আমি খুব ভালো সময় কাটাইছি জাপানে। আমার প্রথম বিদেশ ভ্রমন জাপান। এটাও একটা ফ্যাক্ট। আসলে যতটুকু সময় থাকতে হয় সেইরকম তো আমি ছিলাম না। আমি দেড় মাস ছিলাম। যদি বছরখানিক থাকতাম তাহলে হয়তো বুঝতাম।


দেখা যাচ্ছে  লাস্ট পর্যন্ত ইমেজটা কি দাঁড়াচ্ছে সেটা নিয়ে ভাবনার থেকে ইমেজটা কতো ভালো দাঁড়াচ্ছে এটা নিয়ে ভাবনাটাই বেশি


:  আপনার আর্ট ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্টটা কোথায়? যেখানে গিয়ে সবকিছু বদল হয়ে গেল।

জি: আমরা একটা অর্গানেইজেশন ফর্ম করি “যোগ”। যেটার একটা শো এখানে হচ্ছে। আমরা চারজন সদস্য। আমি, সৌরভ, জাহেদ আলী চৌধুরী যুবরাজ এবং শায়লা শারমিন স্বাতী। আমরা প্রথমে স্ট্রিট শো করি। ওই শোতে আমি “সিম্পল ডেথ” নামে একটা কাজ করি। আমার কাছে মনে হয় যে ওই টোটাল শো, স্ট্রিটে কাজ করা, ওই কাজটা স্পেশালি কাইন্ড অফ টার্নিং পয়েন্ট।

: পাঠশালা একটা ফটোগ্রাফির প্রতিষ্ঠান। চারুকলার প্রতিষ্ঠানগুলো কি ফটোগ্রাফিকে তাদের প্রদর্শনীতে যুক্ত করতে পেরেছে?

জি:  না, ওভাবে না।

:  আপনার কি মনে হয় আরেকটু করা যেত বা করার স্কোপ আছে, অথবা করা উচিত?

জি : হ্যাঁ, ডেফিনেটলি। এটা নিয়ে কথা বলতে হলে জেনারেশন নিয়ে একটা কথা চলে আসে। সব সময় দেখা যায় যে যেকোনো চারুকলায় অনেক জেনারেশন একসাথে ফ্যাকাল্টি মেম্বার হিসেবে আছে। জেনারেশন ওয়াইজ তারা একেকটা ইজমে বিশ্বাসী। যারা মর্ডানিস্ট তারা একটা একভাবে আঁকলো, অনেক দিক থেকে অনেক এলিমেন্ট দিয়ে ডেভেলপ হতে হতে একটা জায়গায় যাবে। সেটাকে আর্ট হিসেবে ভাববে। বাই অ্যানি চান্স ওরা একটা ইমেজকে ভাবতে চায় না। কনসেপচুয়াল বা পোস্টমর্ডানিজমে বলাই হচ্ছে কাজ একটা কনসেপ্টের ব্যাপার। ওই জায়গাটা থেকেই একটা দ্বান্দ্বিক ব্যাপার তৈরি হয়। তখন ওই দুই-তিনটা জেনারেশন মিলে ট্রানজিশন পয়েন্টে গিয়ে ঝামেলা হয়। অন্যরা হয়তো এখন কিছু প্র্যাকটিসের কারণে সায় দিল কিন্তু মনে মনে মেনে নিচ্ছে না।

: আপনি কী মেনে নিছেন?

জি: ডেফিনেটলি। (হে হে হে ) আমি যে সকল মুভমেন্ট দ্বারা বিচলিত এবং তাড়িত ছিলাম তার অনেকেই বা যারা এই মুভমেন্টের সাথে ছিল তারা ইমেজ নিয়েই কাজ করছে। আমি স্টুডেন্ট লাইফ থেকে ইমেজ বা ফটোগ্রাফি সম্পর্কে অনেক বেশি আগ্রহী ছিলাম। এবং কাজও করার চেষ্টা করেছি। শুরুর দিকে আমার কিছু পেইন্টিংয়ে সরাসরি ইমেজের প্রভাব ছিল।

: আপনি পাঠশালার সাথে পরিচিত হলেন কিভাবে?

জি: পাঠশালার সাথে প্রথম পরিচয় হচ্ছে আমার এক বন্ধু ওখানে পড়াশোনা করতো নাম ফেরদৌস। যদিও এখন ও কমার্শিয়াল ওয়ার্ক করে কিন্তু এখানকার স্টুডেন্ট ছিল। ফেরদৌস এবং আবু নাসের। আবু নাসের এখন দেশের বাইরে আছে। ওরা দুইজন এখানকার ছাত্র ছিল। তখন আমি যখন ঢাকায় আসলাম ওরা বলতো ছবিমেলা হচ্ছে বা ছবিপাড়ায় চলো ঘুরতে যাই। ফটোগ্রাফি নিয়ে এক্সিবিশন, এখানে আমার একটা ইন্টারেস্ট ছিল। চিটাগংয়ে আসলে ফটোগ্রাফি নিয়ে কোনো এক্সিবিশন আমি দেখিনি, দেখলেও শুধু লতা-পাতা। আচ্ছা আমি অবশ্যই যাবো। সম্ভবত আমি প্রথম ২০০৫ বা ২০০৬  সালে যে ছবিমেলা সম্ভবত জাদুঘরে হয়েছিল ওখানে প্রথম গিয়েছিলাম। ঐ শোটা দেখি এবং আমার বন্ধু আমাকে একদিন পাঠশালায় নিয়ে আসে। তখন তো এখানে একটা ছোট ভবন ছিল। একটা বড় আম গাছ ছিল।

:  হ্যাঁ, বটগাছের লোগো দিয়ে আসলে আমগাছ ছিল।

জি: আমি খুব ইন্টারেস্ট বোধ করি। অনেকগুলো মানুষ জাস্ট ইমেজ এবং কনসেপচুয়াল অ্যাপিয়ারেন্স নিয়ে অনেকগুলো সিরিজের কাজ করে এবং ডেডিকেটেডলি কাজ করে। আমার বন্ধুর মাধ্যমে আমি জেনে নিতাম কারা কারা ক্লাস নিচ্ছে এবং আমি জিজ্ঞাসা করতাম যে কারিকুলামটা কি। আমি তো খুব ছোট্ট একটা ধারণা থেকে, কাইন্ড অফ মফস্বলীয় ধারণা থেকে, এখানে দেখতে আসতাম। আমার যেটা ধারণা ছিল ফটোগ্রাফি হচ্ছে মোর টেকনিক্যাল যেটা প্রিন্ট মিডিয়ার মত। আমাদের এখানে ছাপচিত্র যেটা চারুকলায় আছে সেটা হচ্ছে অনেক বেশি টেকনিক। লাস্ট পর্যন্ত দেখা যায় এত বেশি টেকনিক হচ্ছে যে ওতে কি আছে সেটার গুরুত্ব কমে যায়। উডকাঠ বলেন আর অন্য কিছু বলেন এগুলা তো অনেক বেশি টেকনিক্যাল এবং অনেক বেশি অ্যাক্সিডেন্টাল ইফেক্ট সবকিছু মিলিয়ে। দেখা যাচ্ছে  লাস্ট পর্যন্ত ইমেজটা কি দাঁড়াচ্ছে সেটা নিয়ে ভাবনার থেকে ইমেজটা কতো ভালো দাঁড়াচ্ছে এটা নিয়ে ভাবনাটাই বেশি । মানে টেকনিক্যাল গুঁতোগুঁতি বেশি থাকে। আমি প্রথমে ভাবতাম যে কারিকুলামটা এমন হবে যে আমি কত ভালো ক্যামেরা চালাতে পারি। কিন্তু এখানে এসে দেখলাম ঠিক ভিন্ন। কিন্তু এখানে টেকনিকের উপর ভিত্তি করে কোন কোর্স নাই যেটা আছে সেটা অনেক ইন্টারেস্টিং। কোর্সগুলো কাইন্ড অফ ডকুমেন্টারি বেইসড স্টোরিমেকিং, স্টোরিটেলিং বেইজড সিরিজ। আই মিন টেকনিকটাকে শুধু মাথায় রাখে এই ধরনের কোন কিছু নেই। এটা বাই ডিফল্ট করে বা এটার জন্য আলাদা কোনো ক্লাস আছে। আমার কাছে এটা সবচেয়ে বেশি ইন্টারেস্টিং লাগে। এবং আমি বারবার ফেরদৌস থেকে জিজ্ঞাসা করে নিতাম যে কি কি ধরনের ক্লাস হচ্ছে। যেমন ওদেরকে একটা এসাইনমেন্ট দিল একটা সাবজেক্ট খুঁজে বের করে লাগাতার ছবি তুলতে হবে, তিনশো চারশো ছবি তুলে ডেভেলপ করতে হবে। আমার মনে আছে ফেরদৌসের একটা এসাইনমেন্ট ছিল মিরসরাইতে ক্রিকেট খেলা দেখতে গিয়ে একটা ট্রাক অ্যাক্সিডেন্টে বিশ জন বাচ্চা মারা যায়। এটা একটা খুব ব্যাড ইনসিডেন্ট ছিল। একজন হেলপার ট্রাকটা চালাচ্ছিল বলে অ্যাক্সিডেন্টটা হয়। ওদের নামে কেস দেওয়া হলে নাম মাত্র দশ হাজার টাকা জরিমানা করা হলো। ফেরদৌস ওটা নিয়ে একটা ভাল কাজ করেছিল। কাজটা আমার ভাল লেগেছিল কারণ ও অনেক ছোট বয়সে করেছিল যেটা আমার  মনে দাগ কেটেছিল। আরেকটা কারণ যেটা ছিল সেটা হচ্ছে ও আমাকে ম্যাগনাম  ফটোগ্রাফারদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। ও আমাকে বলে “তুই এখন এগুলো দেখ, তাহলে কিছুটা ধারণা পাবি ফটোগ্রাফি কি!”। তো আমার ওই ফুল লতা-পাতা ধারণা ঐদিনের পর থেকে বিদায় হয়ে গেল।

Artist : Zihan Karim
Various Way of Departure, video still, 2017

: এই সময়টা কখন?

জি : আমি তখন থার্ড ইয়ার বা ফোর্থ ইয়ারে পড়ি।

: “১১৩৪, সংখ্যা নয় জীবন” নামে যে আর্ট শো-টা ছিল যেটার মাধ্যমে বৃত্তের সাথে কোলাবোরেশন দিয়ে শিল্পের নানা মাধ্যম একত্রিত হয়ে পাঠশালায় একটা শো হয়েছিল। ওই শো-টা কি দেখেছিলেন?

জি :  হ্যাঁ, দেখেছিলাম।

: কেমন লাগলো? ওটাই তো মনে হয় পাঠশালার আক্ষরিক অর্থে প্রথম এমন ইন্ট্রোডাকশন মিক্স মিডিয়ামের সাথে।

জি : ডেফিনেটলি। ওই শো-টা বেশ ইন্টারেস্টিং এবং প্রভোকিং বেশ কয়েকটা পারফরম্যান্স এখনো মনে পড়ে। একজনের একটা চুলের কাজ ছিল ওটা সম্ভবত নুপুর আপার (আসলে ঋতু সাত্তার) যতটুকু মনে পড়ে। কারণ পারফরম্যান্সটা আমি মিস করছিলাম কিন্তু ইমেজটা আমি দেখছিলাম অয়নের (অয়ন রেহাল) কাছে। আমি এমন সময়ে আসছিলাম যে ওটা সম্ভবত লাস্ট ডে ছিলো। ইন দা মিন টাইম আমরা তখন স্ট্রিট শো করছি। আমি খুব আশা করছিলাম শোটা ওইরকম স্পেসে হবে।

আর্টিস্ট : ঋতু সাত্তার
ছবি : অয়ন রেহাল

:  আপনার জন্য প্যান্ডেমিক বাস্তবতা কেমন?

জি : খুব বেশি না তো আসলে। আমার দিক থেকে খুব বেশি না। যদি আরো ছয় মাস আগে প্রশ্নটা হতো তাহলে হয়তো এক ধরনের সাফোকেশন থাকতো। এখন টিকা চলে আসছে। মানুষও মাস্ক পরে না। পরলেও ওইভাবে করে হয়তো খুব বেশি না। তবে হ্যাঁ, শুরুর সময় এক ধরনের চাপ ছিল। আমি ব্যক্তিগতভাবে তখন কোনো আর্ট ভাবতে পারিনি। আমি যেটা করতাম সেটা হচ্ছে পুরোনো ডায়েরি পড়তাম। এবং একটা কাজ করতাম যেমন আমাদের ২৫ তারিখ থেকে লকডাউন শুরু হয়, ২৫শে মার্চ ডায়েরিতে লিখেছিলাম ওই দিনটা কেমন ছিল। এটাই বারবার  পড়ছি।

: আপনি তো এইবার কিউরেট করছেন। আপনার সেকশনে এবার কাদের কাদের রাখছেন একটু যদি বিস্তারিত বলতেন। সিলেক্ট করলেন কীভাবে, এটার জন্য কোনো প্রসেস ছিল নাকি?

জি: গতবার যেটা ছিল সেটা অনেকটা লম্বা একটা সময় নিয়ে রিসার্চ করা ছিল। কিন্তু এবার করোনাসহ সবকিছু মিলিয়ে ঢাকা আসা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার ছিল। আমাদের ছাত্রদের কিছু কাজ ছিল শিল্পকলায় তাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। আমি আসছি এটা শুনে তানজিম ভাই আমাকে বলেন আপনি একটু পাঠশালায় আসেন এক ঘণ্টার জন্য। আমি আসার পর তানজিম ভাই আমাকে নিয়ে আট তলায় রুমটা দেখায় এবং বলে এখানে শোটা হবে এবং আপনি কিউরেট করতেছেন।

: হা হা হা

জি : এটাই আমার প্রথম জানা। এটা বলার পর আমি থতমত। গতবারের প্লেসটা ছিল একেবারেই নিচে এবার একেবারে উপরে। তানজিম ভাই বলল আপনি একটু চেষ্টা করে দেখেন আপনি পারবেন। আমি বললাম আপনি তাহলে আপনাদের ওভারঅল কনসেপ্টটা একটু দেন। প্রতিবারই  একটা ধারণা থাকে আমি ওটার প্যারালাল একটা ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করি। আমার মতো করে বা ইনস্ট্যান্ট আমার মাথায় যখন যেটা কাজ করে। লকডাউনের সময় আমি স্টুডেন্টদের সাথে বিভিন্ন প্রজেক্ট চালাচ্ছিলাম যাতে ওরা প্রাক্টিস থেকে বের হয়ে না যায়। আর্টিস্টদের কাজ দেখানো, বিভিন্ন টক অ্যারেঞ্জ করা, ওটা একটা ভালো সময় ছিল আমাদের বন্ধুবান্ধব যারা বিদেশে আর্টিস্ট আছে তাদের সাথে এটলিস্ট আমার স্টুডেন্টদের পরিচয় করিয়ে দেয়া। তাদের কাজ দেখিয়ে ওদের প্র্যাকটিসের মধ্যে নিয়ে আসা। তখন আমি এবং আমার কয়েকজন কলিগ মিলে কিছু টেক্সট নিয়ে কাজ শুরু করি। কিছু টেক্সট নিয়ে স্টুডেন্টদের দিতাম এবং বলতাম এই লেখা নিয়ে কোনো কনসেপ্ট ডেভলপ করা যায় কিনা বা কোনো কাজ, তা যেকোনো মাধ্যমেই  হোক। এমন হতে পারে সেই লেখাটাকে তুমি আবার নিজের মত করে লিখলে এমনও হতে পারে। আমার বিভিন্ন কলিগ একেকজন একেকটা টেক্সট তাদেরকে দিচ্ছিল। আমি আমার স্টুডেন্টদেরকে জীবনানন্দের একটা কবিতা দিয়েছিলাম। ওই কবিতাটি দিয়ে বলি যদিও এটা একটা নির্দিষ্ট টাইমলাইন এবং অনেকভাবে হচ্ছে উনি কিন্তু শূন্যতাকে কাউন্টার করার চেষ্টা করেছেন বা অনেকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং জানান দেওয়া ওনার জীবন থেকে, ওনার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। এখন সময়টা অনেকটুকুই এটার সাথে রিলেট করা যায়। এই শূন্যতাটাকে কিভাবে ব্যক্ত করতে পারো সেইটাই তাদেরকে জানলাম। তো আসলে ওটা এক ধরনের কিউ-এর মত ছিলো। তো ভাবলাম কেনো নয় ছবিমেলার জন্য সেইম জিনিসটাই ভাবি। যেহেতু আমার স্টুডেন্টরা কাজ করছিলো, কিছু কাজ দেখলাম আমি ওদের। তো ভাবলাম যে ফেলোজদের নিয়ে একটা গ্রুপ এক্সিবিশন অ্যারেঞ্জ করি, দেখি ওরা এরকম ভাবতে পারে কিনা। ওভাবেই শুরু। আমি প্রতিবারই যেটা করি আমি ছবিমেলা সময়ে এখনকার যে স্টুডেন্টরা কাজ করছে তাদের কিছু কাজ দেখতে চাইলাম। তাদের মধ্য থেকে কিছু নিয়ে আবার এই মুহূর্তে অন্য মিডিয়ামে প্র্যাকটিস করছে এরকম আর্টিস্ট কয়েকজনকেও বেছে নেই। আমি জিনিসটাতে খুব মজা পাই, সরাসরি আর্ট প্র্যাকটিস করছে তাদের বাইরেও যেকোনো ডিসিপ্লিন থেকে কাজ নিতে থাকি, সেটা আর্ট হোক আর নাই হোক, এই কনসেপ্টকে ভেবে কোনো একটা কিছু করতে চায় এমন কয়েকজনের সাথে কথা বলি। তারা কিভাবে করবে, কিভাবে কবিতার ব্যবচ্ছেদ হবে এইটা নিয়ে ভাবি।

আমরা যখন ধরেন কোনো একটা বিল্ডিং ডিজাইন করি, সেখানে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার বা আর্কিটেক্ট ইনভল্ভড থাকে। তবে আমি খুব বেশি দেখি না যে আমাদের দেশে কোনো আর্কিওলজিস্ট অথবা এনথ্রোপোলজিস্ট ইনভল্ভড থাকে, সে হয়ত একটা মতামত দিতেই পারে যে এটা কোন জনপদের জন্য এবং কেমন হতে পারে। যাই হোক সেটা খুব ভাবগত হতে পারে এবং এমন অন্য কেউ হতে পারে। এমন অনেক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখার জন্য আমি বিভিন্ন ডিসিপ্লিন থেকে নেওয়ার চেষ্টা করি। যেমন আমাদের শোতে একজন আর্কিটেক্ট আছেন যিনি এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভারসিটিতে পড়ান। মাশরুর মাহবুব মিথুন, উনার সাথে বেসিকালি আমার যখন পরিচয়, উনার ভাবগত চিন্তার দিকটা খুব পরিষ্কার আছে যেটা আমার খুব ভালো লাগে এবং তিনি অনেকভাবে চেষ্টা করেন যে একটা স্পেস নিয়ে কিভাবে একধরনের প্লে করা যেতে পারে। সে জায়গা থেকে আসলে, আমার মিথুন সারের সাথে প্রথম কনভারসেশন, এবং উনাকে বলা যে আমি এই ধরনের একটা কাজ করছি আপনি কিভাবে দেখছেন? উনি সময় নিয়ে ভাবলেন। স্পেসে আসলেন। এরপরে আস্তে আস্তে আস্তে ডেভেলপ, বাই দিজ টাইম আমার হাতে পাঠশালার স্টুডেন্টদের পোর্টফোলিও আসলো। সেগুলো দেখতে থাকি এবং তাদের সাথে জুমে আমার প্রতিনিয়ত আলাপ হতে থাকে। তাদেরকেও আমি কবিতার কথাটা বলি।

তাদের নিয়ে একটা ছোটো প্র্যাকটিসের মত করি। তাদেরকে ছোট একটা কবিতা দেই, বলি আপনাদের যে কয়েকটি লাইন অথবা শব্দ গুরুত্বপূর্ণ লাগে আমাকে জানান। আমি বুঝতে চেষ্টা করি তারা কে কোথায় বেশি টাচড হয়। এরকম হয়ত দশ জনের মত কাজ দেখি সেখান থেকে পাঁচ জনের মত নেই।


এখন অনেক অল্টারনেটিভ স্পেস ডিপে যেয়ে কাজ করার চেষ্টা করছে, সোশ্যাল আর্ট করছে


: ওদের কোন ব্যাপারগুলো স্ট্যান্ডআউট করল?

জি : যেটা সবচেয়ে মজার একদিক থেকে, ছবিমেলার ফেলোজ যারা আছে তাদের বেশিরভাগ কাজগুলোই খুব পার্সোনাল। কেউ হচ্ছে তার বাবাকে নিয়ে কাজ করেছে, যে বাবার সাথে তার মায়ের সেপারেশন। এবং অই শুন্যতাটা সে অনেকদিন ধরে নিজের ভিতরে কাল্টিভেট করছে, সেখান থেকে তার একধরনের ট্রমা। এবং ওইখান থেকেই সে একধরনের ম্যাপিং করার চেষ্টা করছে। ফয়সালের কাজের কথা বলছি। সে কারণে মনে হয় যে সে তার কাজটাকে একটুখানি ডেভেলপ করতে পারে কবিতাটার সাথে মিলে। যদিও আমি এইধরনের কোনো কাজ আগে দেখিনি।

সুমির সাথে যখন কথা হয় তখন ও পারসোনাল জায়গা থেকে বলতে থাকে যে একজন নারী হিসেবে পরিবার থেকে বিভিন্ন বিষয় ফেস করত, কিভাবে সেগুলো একটা একটা করে সল্ভ করার চেষ্টা করে। 

এবং “জেন্ডার ডাইভার্সিটি” কমিউনিটির সাথে যখন ওর আস্তে আস্তে সম্পর্ক হয়, ও যখন তাদের সাথে কথাবার্তা বলতে শুরু করে, এবং প্যান্ডেমিকের সময় তারা কি কি ধরনের সিচুয়েশনে ছিলো। কারণ তখন সবকিছু লকডাউন, অনেকের চাকরি বন্ধ এবং অনেকের চাকরি চলে যায়, তারা তো মুলত পরিবার থেকে একটু আলাদাই থাকে, কারণ পরিবার হয়ত এক্সেপ্ট করতে পারছে না। তো লকডাউনের সময় যেটা হয় সেটা হচ্ছে সবাইকে পরিবারের কাছেই ব্যাক করতে হয়েছে। আমরা তো ভাবছি আমাদের জন্য এটা একধরনের ব্লেসিং। কিন্তু তাদের জন্য এটা ঠিক উল্টাটা। ইনফ্যাক্ট একজন সম্ভবত সুইসাইড করে। এই ঘটনাগুলো যখন বলছিল তখন আমি ভাবলাম ও এই কাজটা নিয়ে অনেক বেশি ইনভল্ভড।

আমি যখনই যার সাথে এই সময় কথা বলেছি তাদের সাথে এরকম ধরনের কাজ বা চিন্তা আলোচনা করেছি, জিজ্ঞেস করেছি যে এরকম করে একভাবে দেখা, দেখো তুমি কিরকম করে দেখতে পারো। এভাবে আস্তে আস্তে ডেভেলপ হতে থাকে। প্রথমে আসলে ছবি দেখছি তাদের থেকে এরপরে আরো কিছু ফিজিকাল রিসোর্সের ব্যাপার আছে। কিছু লেখা।

এরপরে ফারজানা আসে। তার কাজ তার ছেলেকে নিয়ে। তার ছেলে জন্মানোর পরে তার স্বামীর সাথে সেপারেশন। এরপরে থেকে ছেলে নানির কাছে থাকত। এরপরে সেও আলাদা থাকত। এবং বাই এনি চান্স ওর ছেলের সাথে ওর গ্যাপ হয়ে যায় কিন্তু ও সবসময় ছেলের সাথে এটাচড ফিল করত। তবে বিয়ের সম্পর্ক এবং আলাদা থাকা সব কিছু মিলিয়েই একটা নগদ শুন্যতা। ওর অনেক দিন ধরে ওর ছেলেকে নিয়ে তোলা বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে বিভিন্ন ইভেন্টে অনেকগুলো ছবি আমাকে দেখানোর চেষ্টা করে। আমি জিজ্ঞেস করি তাকে, যে এই খুবই টাচড ইমশনাল কাজটা ডিল করতে পারবেন কিনা। ও তখন বলে যে এই কাজটা তাকে করতে হবে কারণ এই কাজটা সে তার ছেলেকে গিফট করতে চায়।

ওর ছেলে এখন ক্লাস নাইনে পড়ে। বড় হয়ে গেছে। চিটাগং থাকে। ব্যাপারটা হচ্ছে অনেকটা গর্ত খোঁড়ার মত। কারণ প্রতিদিনই অনেক ছবি বের হয়। অনেক কথা অনেক গল্প। পরে আস্তে আস্তে দেখতে থাকি যে এই কাজটা অনেকটা ডায়েরির মত । কারণ অনেক গ্যাপ আছে। পরে আমি ভাবি যে এই কাজটা আমি কখনোই ওয়ালে দেখতে চাই না, এটা কাউকে প্রথাগত দেখাতেও চাই না। কারণ আমার কাছে মনে হয় যে অনার করা হচ্ছে না। তো বেটার যে একটা বই এর মত করে করি। যেহেতু দেখা গেল ওর লাইফে অনেকগুলো গ্যাপ ছিল তো এই এ্যালবাম বা ডায়েরিতেও ব্ল্যাংক পেজ আছে। আলাদা আলাদা সতেরোটা ফর্মার মত করা। যেটা বিভিন্ন লাইফ ইভেন্ট বা সময়কে রিপ্রেজেন্ট করে। আবার ফিজিকাল অংশও আছে। তো এটা অনেকটা বুক-স্কাল্পচার, বুক-অবজেক্টের মত হবে যেটা ওর এই লম্বা সময়টাকে বোঝাবে। ও ওর শুন্যতাটাকে এভাবেই অব্জেক্টিভভাবে দেখবে এবং এটা একটা ওর ছেলের জন্য গিফট। একটা কম্পাক্ট গিফট আকারে ওর ছেলেকে দিতে চায়।

এরপরে আমার ফটিকের সাথে কথা হয়। ওর সাথে যখন আমার কথা হয়, আমার ওর পার্সোনালিটিটা আমার দেখার খুব ইচ্ছা হয়, মানে প্রথমে যেটা আমার চোখে পরে ও খুব চঞ্চল ছোট একটা ছেলে। একদমই কাইন্ড অফ বাচ্চা ছেলে ওর কাছে সবই মিনিংফুল এবং সব কিছু দেখে।  আমি ওর অনেক কাজ দেখতে চাই। যেই কাজটা খুব বেশি আকর্ষণ করে সেটা হচ্ছে ও রেফ্রিজারেটর নিয়ে একটা কাজ করে। রেফ্রিজারেটরের কাজটা হচ্ছে যে প্যানডেমিকের সময় বরফে জমা অনেক পুরোনো বরফ, অনেক ব্লাড, মাংস, ফ্লাশ জিনিসপত্র। ছবিগুলা এমনভাবে তোলা সেই ছবিগুলা প্যানডেমিকের স্পেসকে ইন্ডিকেট করে। তারপর আরেকটা জিনিস আমি দেখা শুরু করি যে প্যানডেমিকের সময় ও বাসার মধ্যে ছিল, ওর মোবাইলে অনেক ধরনের ছবি তুলতো এবং অনেক অবজেক্টের। ক্যামেরার মধ্যে চিয়ংগাম আটকে গিয়েছে, টিকটিকি মারা গেছে , এন্ড অনেক কালারফুল। আমি মনে করলাম যে এই দুই কাজকে একসাথে করে কিছু করা যায় নাকি। একটা রেফ্রিজারেটরকেও যেভাবে ইভেন্ট করে এন্ড অনেকদিন ধরে তোলার ফলে  ইমেজ চেঞ্জ। মনে হয় যে একটা ফিজিক্যাল বডি। কাইন্ড অফ এক সিস্টেম, যে একটা পার্ট যেভাবে আমরা ফুডগুলা নিচ্ছি, রেগুলার যে ফুডগুলো খেতাম প্যানডেমিকের সময়, সব কিছু মিলিয়ে দেখা যায় একটা ফুড হ্যাবিট চেঞ্জ। যেহেতু বাজার একবারে অনেক করে করা হতো, সব মিলিয়ে এধরনের একটা ছোট ইন্ডিকেশন ছিল। শেষ পর্যন্ত রেফ্রিজারেটরে কাইন্ড অফ প্যানডেমিক ডায়েরিজ একটা সিরিজ করে এবং ওইভাবেই  আমি  ইনস্টল  করি। 

এরপর হচ্ছে কথা হয় সৌনকের সাথে। “তার” নিয়ে কাজ করতে চায়। কিন্তু পুরোনো কাজের  রেফারেন্স থাকবে না। সম্পূর্ণ নতুন করে ডেভেলপ করবে। আমি ওর কনসেপ্টটা বোঝার চেষ্টা করি। ইনফরমেশন যে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পাস হয়, এটাই  সে তার কাজে ধরতে চায়। ওয়াইরের মধ্য দিয়ে ইনফরমেশন ট্রান্সফর্ম হচ্ছে। ও ভাবে এভাবে ইনফরমেশন যেমন পাস হয়ে তেমনি ইমোশনও তো পাস হয়। এভাবেই ওর কাজটা ৫০ পার্সেন্ট পার্সোনাল আর বাকিটুকু বলা যায় একটা সাইট স্পেসিফিক কাজ। ফ্রেমওয়ার্কগুলা কুড়িয়ে পাওয়া যেভাবে একটা গাছ হয় সেভাবে। একটা ইমোশনকে কোনো একটা ফর্ম দেওয়ার মত। যেখানে ওয়্যারগুলো হলো রেফারেন্সের মত।

এরপর খুব অল্প কথা যার সাথে হয় সে হচ্ছে হাদি, তার ইমেজগুলা খুব দেখার মতো। তিনি কাজ করছেন ওনার বাবার পুরনো একটা স্টুডিও আছে ওটা নিয়ে। ওনার পার্সোনাল কাজ বলা যায়। ওনার বাবা মারা যাওয়ার পরে, লকডাউনের সময় উনি আসলে স্টুডিওটাতেই থাকেন আর ওখানেই নানা ধরনের ইনভেন্ট করতে থাকেন। স্টুডিওটি যশোরে ক্যান্টনমেন্টের পাশে ছিল।  ক্যান্টনমেন্টের অনেক ইভেন্টের ছবি ওনার বাবা তুলতেন। ওনাদের ডেড বডির ছবিও তুলতো।  শুধু তাই না, ওনার বাবা ম্যানুয়ালি ফটো ম্যানিপুলেট করতো তখনকার আমলেই। ধরেন  একজনের মাথা কেটে অন্য ব্যাকগ্রাউন্ডে বসানো। কালেকশন করতো। ঠোঁটে লিপস্টিক লাগানো। আমি ভাবলাম যে এটাকে আলাদা আলাদা সেগমেন্টের নেগেটিভ আকারে দেখা যায় কিনা, অবজেক্ট দেখানো যায় কিনা। কারণ নিজেরাই অনেক টাইমে হোল্ড করে আছে, ইমোশন হোল্ড করে আছে যেটা এখনকার সেন্সে শূন্য। একটি স্টোরি বিল্ডআউট করা, একটা আউটলুক তৈরি। 

এরপর  মার্জিয়ার সাথে কথা হয়, মার্জিয়া হচ্ছে লাস্ট। ওর আর্টের ব্যাপারে খুব ইন্টারেস্টিং একটা স্ট্রাটেজি আছে, আর্টওয়ার্কটার সাথে অনেকজন ইনভল্ভ থাকবে এন্ড আর্টের পার্ট হয়ে যাবে এরকম চায় এবং ওরা থাকতে থাকতে নিজেরাই কিছু জায়গা ডেভেলপ করতে থাকবে।  অনেক দিন ধরে একটা টেবিল একটা জায়গায় রেখে দেখবে, ছাপ ফেলবে, ওই জায়গাগুলো ধরার চেষ্টা করে যেটা ক্ষণস্থায়ী হয়। টেনশনে ফেলার ও ক্রিয়েট করার কাজ করে। যখন ওর সাথে কবিতা নিয়ে কথা হয় আমার, এই কবিতাটার সঙ্গে তখন অনেক বেশি সরাসরি মিলে যাচ্ছে। ও যখন কেরালাতে যায়, কোচি বিয়্যান্যালে কাজ করে কিন্তু ও তখন অনেক বেশি গ্লোবাল ইস্যুজ নিয়ে ইনভল্ভ হয়ে কাজ করার চেষ্টা করে, ও কাইন্ড অফ অনেক বেশি এনভায়রনমেন্ট ইস্যুজকে মাথায় রাখে। এখনকার পারসেপশনে পোস্ট কোভিড সিচুয়েশনে, প্রতিনিয়ত অথনৈতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক অনেকগুলা ঘটনা ঘটে যাওয়া এবং নিভে যাওয়া এটার একটা মেটাফোরিক করতে চায়। যেটা এখানে ডেভেলপ হয়েছে; অর্থাৎ সরাসরি না বলা কিছু তবে ভিউয়ার্স পলিটিকালি দেখতে পারবে। এটাও অনেকটা সাইট স্পেসিফিক কাজ। আমারও এরকম পছন্দ অনেক।

বোধ, ছবিমেলা “শূন্য”
আর্টিস্ট : মার্জিয়া ফারহানা
কিউরেটর: জিহান করিম

: ছোট করে যদি প্রধান কনসেপ্টটা যদি শেয়ার করতেন….

জি : অনেকগুলো দৃষ্টিভঙ্গি একসাথে কবিতাটাকে কাউন্টার করবে। দেখার চেষ্টা করবে এবং দেখানোর চেষ্টা করবে। এই কবিতা নিয়ে এক ধরনের সমালোচনা আছে। ‘বোধ’-কে ঘিরে। দূর থেকে দেখে একটা কাজ আছে, একজন পেইন্টারের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখার কাজ আছে, একটা ফটোগ্রাফারের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা কাজ আছে, পলিটিক্যাল ইনভল্ভড মানুষের দৃষ্টি থেকে দেখার কাজ আছে। কবিতাটা খুব যান্ত্রিক একটা প্রাণ। এইসব মিলিয়ে খুব ক্রিটিকালি আমরা এই কবিতাটির একটা পুনঃপাঠ দেখতে পাব।

: ছবিমেলাকে কমপ্লিমেন্ট করছে কিভাবে?

জি : এক হচ্ছে ফেলোজগণ এই শূন্যতাকে ক্রিটিক্যালি দেখতেও পারে আবার এই শূন্যতাকে পজিটিভলি দেখতে পারে। আমরা এই প্যানডেমিকের সময় সৃষ্ট ভ্যাকুয়ামটাকে পজিটিভভাবেও দেখাতে পারি। আমি অনেক গ্রিন দেখতে পাইছি এই সময় প্রকৃতির থেকে। অনেক কষ্টেরও দেখাতে পারে। এর মিশ্রণও দেখাতেও পারে। শোককে শক্তিতে পরিণত করতে পারে।

:  আপনার কি মনে হয় এই ছবিমেলা সোশাল এলিটিজম ? পাঠশালা এবং ছবিমেলায় এখানে নির্দিষ্ট স্তরের মানুষ বাদে নানা স্তরের মানুষ আসতে পারবে?

জি : পাঠশালা অলওয়েজ ওপেন ফর দিজ। ছবিমেলা তো পুরো ঢাকায় ট্যুর করে। আমি অনেক স্তরের মানুষ দেখতে পেয়েছি। এখন এটাকে যদি খুব স্থানিকভাবে ভাবি, যেকোনো কারণেই হোক এই গ্যালারিতে হচ্ছে তাহলে হয়তো এই ঘটনাটা নাও ঘটতে পারে (নানা স্তরের মানুষ আসা)।  কিন্তু আমার মনে হয় যে ছবিমেলার কখনোই এই ইনটেনশন ছিলো না। সে কারণে সে অলরেডি অনেক স্পেস নিয়ে ডিল করে ফেলেছে, এটা জাস্ট এই সময়ের একটা ক্যারেকটার হিসেবে ধরতে পারি। সময়ের প্রয়োজনে।

: বাংলাদেশে শিল্প কী এক ধরনের নির্দিষ্ট শ্রেণিকে সার্ভ করে?

জি : এক সময় করতো কিন্তু এখন এই হায়ার্কিগুলো ভেঙে আসছে। এখন অনেক অল্টারনেটিভ স্পেস ডিপে যেয়ে কাজ করার চেষ্টা করছে, সোশ্যাল আর্ট করছে। যখনই সোশ্যাল আর্ট প্রাকটিসের টার্মটা চলে আসে আমার মনে হয় এই প্রশ্নটা তখন সামনে আর করতে হবে না।

:  আপনার কি মনে হয় এইসব প্রদর্শনীতে নেপোটিজম কাজ করে? ভাই-ব্রাদার্স সংস্কৃতি চোখে পড়ে?

জি :  হুম, নেপোটিজম! …একটা লেভেলে হয়তো কাজ করে ডেফিনেটলি আমি মনে করি। সততার সাথে ভাবলে। বাট এটা নিয়ে অতো উৎকণ্ঠার কিছু নেই।

: আপনি বর্তমানে কি নিয়ে কাজ করছেন?

জি : টোটাল করোনার সময় যেহুতু আমি খুব বেশি কাজ করতে পারিনি, জাস্ট একটাই কাজ করেছিলাম একজনের রিকোয়েস্টে। অনলাইনের শোয়ের জন্য কাজ করেছি। তখন আমি ভাবছিলাম আমি যে কাজটা করি, সবকিছু মিলিয়ে রিফ্লেক্ট করার চেষ্টা করছিলাম খুব বেশি ক্ষতি হচ্ছে নাকি আমার কাজের দ্বারা। বা আমার কাজগুলো দিয়ে কোনো লাভ হচ্ছে কিনা। তখন যেটা ভেবে দেখলাম যে আসলে অনেক ইলেক্ট্রিসিটি কনজিউম করি। আমার কাজগুলো অনেকটাই এনভায়রনমেন্টাল না। আমার এটা নিয়ে খুব বেশি কনসার্ন হতে হবে, তো এখন আমি চিন্তা করছি কি করে সোলার নিয়ে কাজ করা যায়। 

:  আমরা এই নতুন কাজগুলো কখন দেখতে পারি ?

জি : খুব শিগগিরই!  আমি অনেক কাছাকছি পর্যায়ে আছি শেষের।

: আপনাকে ধন্যবাদ।

জি : আপনাকেও।

শেয়ার করুন

লেখা সম্পর্কে মন্তব্য

টি মন্তব্য

%d bloggers like this: